Bd Health Shop.

Bd Health Shop. Healthy and organic food and medicine shop

We are here to serve you, contact us anytime.

সজনে পাতার গুড়া আপনাদের জন্য প্রস্তুত👉 সজনে পাতার উপকারিতা ⬇️✅ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।✅ নিয়মিত সজনে পাতা খেলে মুখে র...
04/08/2023

সজনে পাতার গুড়া আপনাদের জন্য প্রস্তুত
👉 সজনে পাতার উপকারিতা ⬇️
✅ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
✅ নিয়মিত সজনে পাতা খেলে মুখে রুচি বাড়ে।
✅ শরীরে কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
✅ লিভার ও কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
✅ উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
✅ শরীরে বয়সের ছাপ সহজে পরে না।
✅ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
✅ ওজন কমানোর জন্য দারুণ সহায়ক হবে।
✅ জ্বর,কাশি ও ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করে।
✅ ৩০০+ রোগের ঔষধ হিসাবে কাজ করে।
✅ এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক নিয়ন্ত্রণে রাখে।
✅ শরীরে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের মত কঠিন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।
📞বিস্তারিত জানাতে কল করুনঃ 09611853371

খালি পেটে পানি খাওয়ার ৯ উপকারিতাপানির অপর নাম জীবন। টিকে থাকতে প্রত্যেক জীবের পানি গ্রহণ অত্যাবশ্যক। যখন আমরা তৃষ্ণার্ত ...
11/07/2023

খালি পেটে পানি খাওয়ার ৯ উপকারিতা

পানির অপর নাম জীবন। টিকে থাকতে প্রত্যেক জীবের পানি গ্রহণ অত্যাবশ্যক। যখন আমরা তৃষ্ণার্ত হই বা ঝালজাতীয় খাবার গ্রহণের পর তৎক্ষণাৎ এক গ্লাস পানি খুঁজি। শরীরের বর্জ্য বের হতে, শরীরের তাপমাত্রা রক্ষায়, সংবেদনশীল টিস্যু সুরক্ষাসহ বহু কারণে পানি দরকার।

কিন্তু, আপনি কি জানেন, খালি পেটে পানি পান করলে কী স্বাস্থ্য উপকারিতা মেলে? ভারতের জীবনধারা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের এক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

আসুন, এক ঝলকে দেখে নিই—

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরের রিহাইড্রেশনের জন্য পানি দরকার। কারণ, রাতে আপনি যখন ঘুমান, ছয় থেকে আট ঘণ্টা আপনার শরীর পানি পায় না। তাই ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করলে শরীর রিহাইড্রেট হবে।

ওজন কমায়
পানি ও ওজন কমার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। খালি পেটে পানি পান বিপাকক্রিয়ার উন্নতি সাধন করে। ফলে ওজন কমে।

দূষিত পদার্থ বের করে
সকালে খালি পেটে পানি খেলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়। বর্জ্য বের করতে কিডনির পানি দরকার হয়। পানি খেলে প্রস্রাবের সঙ্গে বর্জ্য বের হয়ে যায়।

ক্যালোরি কমায়
নাশতা খাবার আগে পানি পান করলে ক্যালোরি কমাতে সাহায্য করে। পানি পানের কারণে পেট ভরা অনুভব হয়, এতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ হয় না। সকালে নাশতা খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে পানি পান করুন।

মানসিক স্বাস্থ্যে
ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করলে তা মানসিক বিকাশে সাহায্য করে। যেমন—স্মরণশক্তি বাড়ে, নতুন কিছু শেখা বাড়ে।

হজমে সহায়তা
সকালে ঘুম থেকে উঠে হালকা গরম পানি খেলে তা হজমে সাহায্য করবে। গরম পানি খাদ্য উপাদানকে ভাঙতে সাহায্য করে। এভাবে হজমপ্রক্রিয়ার উন্নতি হয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
খালি পেটে পানি খেলে শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। বর্জ্য ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে পানি, যা থেকে সংক্রমণ ও অসুস্থতা হয়।

ভেতরের অঙ্গকে সুস্থ রাখে
খালি পেটে পানি পান করলে শরীরের অভ্যন্তরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকে। শরীরের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমকে উন্নত করে এবং শরীরের তরলে ভারসাম্য আনে।

ত্বক উজ্জ্বল করে
সকালে খালি পেটে পানি পান করলে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এতে ব্রণ কমে। ত্বকের শুষ্কভাব দূর করে আর্দ্রভাব এনে দেয়।

শক্তি জোগায়
সকালে পানি পান করলে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তির মাত্রা বাড়ে। কারণ, সকালে যদি আপনার শরীর ডিহাইড্রেটেড থাকে, তাহলে আপনি ক্লান্তিবোধ করবেন।

সকালে ঘুম থেকে উঠে চার গ্লাস পানি পান করা দরকার। কিন্তু প্রথম দিকে যদি কঠিন মনে হয়, তাহলে এক গ্লাস পানি দিয়ে শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে পানির পরিমাণ বাড়ান।

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা জানুনচিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন বর্তমান সময়ে মানুষের খাবা...
11/07/2023

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন
বর্তমান সময়ে মানুষের খাবার নিয়ে সচেতনতা অনেক। প্রতিদিনের খাবারে কি কি পুষ্টিগুণ আছে, আর কি কি খেলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি পাওয়া যাবে তা নিয়ে সচেতন অনেকেই। আর তাই নিত্য নতুন খাবারে মনোযোগ সবার।

ঠিক তেমনই এক সুপারফুড চিয়া সিড। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাবারের তালিকায় এখন বেশ জনপ্রিয় 'চিয়া সিড'।

চিয়া সিড কি?

চিয়া সিড মূলত মরুভূমিতে জন্মানো সালভিয়া উদ্ভিদের বীজ। এটি মধ্য আমেরিকার অনেক অংশে পাওয়া যায়। এটি সাধারণত শস্যের তালিকায় পড়লেও একে এক ধরণের ভেষজও বলা হয়। প্রাচীন অ্যাজটেক জাতির প্রধান খাদ্য তালিকায় এটি অন্তর্ভুক্ত বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করে থাকে। চিয়া সিড দেখতে অনেকটা তিলের দানার মতো।

পুষ্টিগুণ

পৃথিবীর পুষ্টিকর খাবারগুলোর মধ্যে চিয়া সিড অন্যতম। প্রাচীন অ্যাজটেক জাতি একে সোনার চেয়েও মূল্যবান মনে করতো।

বীজ জাতীয় যেকোনো খাবারই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। চিয়া সিডে আছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, কোয়েরসেটিন, কেম্পফেরল, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড ও ক্যাফিক এসিড নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় খাদ্য আঁশ। চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন

উপকারিতা

১. চিয়া সিডস এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।

২. চিয়া সিডে থাকা ওমেগা-৩ হৃদরোগের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে

৩. বিশেষজ্ঞদের মতে মুরগির ডিম থেকে ৩ গুণ বেশি উচ্চমাত্রার প্রোটিন আছে চিয়া সিডে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও উপকারী।

৪. দুধের চেয়ে ৫ গুণ বেশি ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় চিয়া সিডে। যা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং মজবুত করে তুলতে বিশেষ উপকারী।

৫. গবেষকদের দাবি, চিয়া সিডে এ স্যালমন মাছের চেয়ে ৮ গুণ বেশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে

৬. চিয়া সিড ব্লাড সুগার (রক্তের চিনি) স্বাভাবিক রাখে, যা ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমায়

৭. এ ছাড়া চিয়া সিড শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের হতে সাহায্য করে,গ্যাসের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বক, চুল ও নখ সুন্দর রাখে।

খাওয়ার নিয়ম

চিয়া সিডের নিজস্ব কোন স্বাদ না থাকায় এটা সাধারণত সালাদ, কাস্টার্ড, স্মুদি যেকোন খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

তবে খাওয়ার আগে ৩০ মিনিট পানিতে ভিনিয়ে রাখলে ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে দ্রুত ওজন কমাতে খালি পেটে সকালে ও রাতে ঘুমানোর আগে ১ গ্লাস পানির মধ্যে ২ চা চামচ চিয়া সিড ও ২ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

চিয়া সিড খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা জানুন
অপকারিতা

প্রতিটি খাবারের উপকারিতার পাশাপাশি বিপরীত অপকারিতাও থাকে কিছুনা কিছু। তেমনই চিয়া সিডের ও কিছু অপকারিতা রয়েছে।

১. কয়েকজন বিজ্ঞানীর দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে যে চিয়া সিড প্রোটেস্ট ক্যান্সার এবং স্তন ক্যান্সারকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। সুতরাং এটি সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উচিত।

২. চিয়া সিড বেশি খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে। কারণ চিয়া বীজের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই অল্প পরিমাণে চিয়া খাওয়া উচিত। আর স্বাস্থ্য সমস্যা মনে হলে সাথে সাথে এটি খাওয়া বন্ধ কড়া উচিত।

৩. অতিরিক্ত চিয়া সিড খেলে ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে।

৪. চিয়া সিড দেহের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ কমায়। তাই অতিরিক্ত চিয়া সিড সেবনে রক্তচাপ বেশি কমে যাওয়ান সম্ভাবনা থাকে।

ত্বক ভালো রাখার প্রয়োজনীয় ৫ টিপসত্বক ভালো রাখার প্রয়োজনীয় ৫ টিপসত্বক ভালো রাখার অনেক ধরনের উপায় আছে। কিছু বিষয় আছে যেগুল...
11/07/2023

ত্বক ভালো রাখার প্রয়োজনীয় ৫ টিপস

ত্বক ভালো রাখার প্রয়োজনীয় ৫ টিপস
ত্বক ভালো রাখার অনেক ধরনের উপায় আছে। কিছু বিষয় আছে যেগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে, নাহলে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকর এমন প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা, ত্বকের জন্য মানানসই উপাদান দিয়ে রূপচর্চা করা ইত্যাদি।

এমনও হতে পারে, উপরের সবগুলো বিষয় মেনে চলেও আপনার ত্বক সুন্দর থাকছে না। এর কারণ কী জানেন? এর কারণ হলো
ত্বক ভালো রাখতে হলে আরও কিছু বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আর তা না হলে যতই প্রসাধনী ব্যবহার করুন, লাভ মিলবে না। তাই সময় এবং অর্থের অপচয় রোধ করতে ত্বকের যত্নে এই বিষগুলোর প্রতি খেয়াল রাখুন-

স্পঞ্জ-ব্লেন্ডার নিয়মিত পরিষ্কার করুন

আপনার ব্যবহৃত স্পঞ্জ, ব্রাশ, তুলি, ব্লেন্ডার ব্যবহারের পর সেভাবেই ফেলে রাখবেন না। এগুলো নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখতে হবে। না ধুয়ে দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মে আপনার ত্বকের নানা ক্ষতি করতে পারে। তাই আগেভাগেই সতর্ক হোন।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন

অনেকে মনে করেন, শুধু শীত এলেই বুঝি ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হয়। আসলে তা নয়। শুধু শীতে নয়, বরং অন্য সব ঋতুতেও ব্যবহার করতে হবে ময়েশ্চারাইজার। এটি আপনার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কাজ করে। আর ত্বক ভালো রাখতে এর আর্দ্রতা ধরে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জানেন নিশ্চয়ই?

স্ক্রাব ব্যবহার করুন

ত্বক ভালো রাখার জন্য স্ক্রাব করার বিকল্প নেই। নিয়মিত স্ক্রাব করলে তা ত্বকের মৃত চামড়া তুলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে কাজ করে। তাই মুখে স্ক্রাব করার পাশাপাশি পুরো শরীরেও স্ক্রাব করে নেবেন। নিয়মিত স্ক্রাব করলে ত্বক সুন্দর রাখা অনেক বেশি সহজ হবে।

ধরন বুঝে যত্ন

অনেকে নিজের ত্বকের যত্ন নিলেও সুফল পান না। এর বড় কারণ হতে পারে, নিজের ত্বকের ধরন সম্পর্কে না জানা বা বুঝতে না পারা। যে কারণে তারা ত্বকের জন্য মানানসই নয় এমন কোনো উপাদান দিয়ে রূপচর্চা করে থাকেন। এতে উপকারের বদলে মেলে ক্ষতি। তাই নিজের ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নেওয়ার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন

সব ঋতুতেই ব্যবহার করতে হবে সানস্ক্রিন। যখনই বাইরে বের হবেন, সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। এটি আপনাকে রোদের ক্ষতিকর রশ্নি থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে। শুধু বাইরেই নয়, ঘরেও ব্যবহার করতে পারেন সানস্ক্রিন। এতে ত্বকের রোদে পোড়া বা কালচেভাব অনেকটাই কমবে।

সজনে পাতার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়মসজনে পাতাদেহের অনেক পুষ্টির চাহিদা মেটায় সজনে পাতা। ছবি: সংগৃহীত‘আসলে সজনে পাতাকে এখন ব...
11/07/2023

সজনে পাতার উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

সজনে পাতাদেহের অনেক পুষ্টির চাহিদা মেটায় সজনে পাতা। ছবি: সংগৃহীত
‘আসলে সজনে পাতাকে এখন বলা হচ্ছে অলৌকিক পাতা। বিজ্ঞানীরা সজনে পাতাকে বলছেন অলৌকিক পাতা। কেন? এত কিছু থাকতে সজনে পাতাকে অলৌকিক পাতা বলা হচ্ছে কেন? সজনে পাতার যে ফুড ভ্যালু (খাদ্যমান), এর নিউট্রিশন (পুষ্টি), এর কনটেন্ট যেকোনো মানুষকে বিস্মিত করবে। সে কারণেই বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন যে, এ সময়ের একটি অলৌকিক পাতা হচ্ছে সজনে পাতা।’
পরিণত বয়সী বাংলাদেশিদের মধ্যে সজনের ডাটা বা সজনে শাক খাননি, এমন মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হবে না। মৌসুমে পাতে নিয়মিতই সজনে রাখেন অনেকে, কিন্তু তাদের সবাই কি জানেন সজনে কতটা উপকারী? কীভাবে খেতে হয় সেটিও হয়তো জানা নেই অনেকের।

আজকে আমরা এ সময়ের একটি সুপারফুড নিয়ে আলোচনা করব, যেটি বলা যেতে পারে এ সময়ের আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি গবেষণা। সেটি হচ্ছে সজনে পাতা; সুপারফুড সজনে পাতা।

সজনে পাতার নাম তো আমরা ছোটকাল থেকেই শুনেছি। সজনে খেতে খেতে বড় হয়েছি। সজনে পাতার ভর্তা খেয়েছি, শাক খেয়েছি। এ আবার এমন কিছু কী? এর মধ্যে নতুনত্ব কী আছে, যেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে?

আসলে সজনে পাতাকে এখন বলা হচ্ছে অলৌকিক পাতা। বিজ্ঞানীরা সজনে পাতাকে বলছেন অলৌকিক পাতা। কেন? এত কিছু থাকতে সজনে পাতাকে অলৌকিক পাতা বলা হচ্ছে কেন? সজনে পাতার যে ফুড ভ্যালু (খাদ্যমান), এর নিউট্রিশন (পুষ্টি), এর কনটেন্ট যেকোনো মানুষকে বিস্মিত করবে। সে কারণেই বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন যে, এ সময়ের একটি অলৌকিক পাতা হচ্ছে সজনে পাতা।

কী আছে সজনে পাতায়

সজনে পাতায় আমিষ আছে ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক কেজি সজনে পাতা যদি আপনি খান, তাহলে এর ২৭ শতাংশ, মানে কত? ২৭০ গ্রাম হচ্ছে আমিষ। ৩৮ শতাংশ হচ্ছে শর্করা (কার্বোহাইড্রেট)। ২ শতাংশ হচ্ছে ফ্যাট। ১৯ শতাংশ হচ্ছে ফাইবার বা আঁশ।

আমরা জানি যে, এখন ফাইবার বা আঁশকে খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আঁশ কোনো ঐচ্ছিক খাবার নয় যে, ইচ্ছা হলে খেলাম; ইচ্ছা না হলে খেলাম না।

ইট ইজ অ্যা ম্যান্ডাটোরি কম্পোনেন্ট (এটা আবশ্যিক উপাদান)। প্রত্যেক দিন আপনার খাদ্যতালিকায় যেন পর্যাপ্ত আঁশ থাকে এবং সেই সজনে পাতায় আঁশ আছে ১৯ শতাংশ।

অ্যামাইনো অ্যাসিডের উৎস

সজনে পাতায় অ্যাসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে আটটি। ভিটামিন ‘এ’ এবং ভিটামিন ‘সি’ আছে। রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম। ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, জিংক, আয়রন এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এতগুলো নিউট্রিয়েন্ট থাকার কারণে বিজ্ঞানীরা বলছেন যে, সজনে পাতা একটি অলৌকিক পাতা।

দুধের প্রায় সমান পুষ্টি

এটি (সজনে পাতা) যদি তুলনা করেন কোনো খাবারের সাথে, তাহলে আমরা সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি খাবারের সাথে তুলনা করতে পারি। সেটি হচ্ছে গরুর দুধ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গরুর দুধের পুষ্টি এবং সজনে পাতার পুষ্টি অলমোস্ট কাছাকাছি।

আমরা উপমহাদেশে বা বাংলাদেশে গরুর দুধ কেন খাই, কিসের জন্য খাই? মূলত কী লক্ষ্যে খাই? গরুর দুধ আমরা খাই মূলত ক্যালসিয়ামের জন্য, প্রোটিনের জন্য, আমিষের জন্য। গরুর দুধ খেয়ে আমরা বলি, এটা একটা সুষম খাবার।

গরুর দুধ এবং সজনে পাতার মধ্যে পুষ্টিগত কোনো পার্থক্য নাই। গরুর দুধে যা আছে, সজনে পাতাতেও তা আছে। যে লক্ষ্যে আমরা মূলত গরুর দুধ খাই, সে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম আছে সজনে পাতায়। পর্যাপ্ত আমিষও আছে।

ঔষধি গুণ

সজনে পাতার কিছু ঔষধি গুণ আছে এবং ঔষধি গুণের কারণে আর্থ্রাইটিস নিরাময়ে এটি দারুণ কার্যকর। ইতোমধ্যেই আমরা এক্সপেরিমেন্ট করেছি। যাদের হাঁটু ব্যথা আছে, সজনে পাতার জুস খান। সজনে পাতার ভর্তা খান অথবা গুঁড়া খান। ছয় মাস খান। দেখেন আপনার আর্থ্রাইটিসের কী অবস্থা হয়।

শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে সজনে পাতা। আমরা জানি যে, আমাদের শরীরে ৭০ থেকে ১০০ ট্রিলিয়ন সেল বা কোষ আছে। প্রত্যেকটা কোষের ভেতরে লক্ষাধিক রিঅ্যাকশন হয় প্রত্যেক দিন; প্রতি মুহূর্তে এবং এই লক্ষাধিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া, বিক্রিয়া হতে গিয়ে ভয়াবহ কিছু টক্সিন, কিছু বিষাণু, কিছু ক্ষতিকর পদার্থ সেলের ভেতরে তৈরি হয়। এগুলোকে আমরা বলি বর্জ্য পদার্থ, টক্সিন, ফ্রি রেডিক্যাল। এগুলো যদি সেলের ভেতরে থেকে যায়, আপনি কোনো দিন সুস্থ থাকতে পারবেন না। কেউ আপনাকে সুস্থ করতে পারবেন না।

এই বর্জ্য পদার্থকে বের করার জন্য আপনি সজনে পাতা খেতে পারেন। এটা দারুণ একটা ডিটক্স হিসেবে কাজ করতে পারে। আপনার শরীরকে ডিটক্সিফাই করবে এবং আপনারা এখন জানেন, আমরা সবাই জানি, বিশ্বব্যাপী এই ডিটক্স প্রোগ্রামগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

সাত দিন, ১৫ দিন আপনি একটা বিশেষ প্রোগ্রাম ফলো করবেন, বিশেষ খাবার খাবেন, আপনার শরীরে জমানো বর্জ্য পদার্থগুলো বেরিয়ে যাবে। তো সজনে পাতা সেই কাজটা করতে আপনাকে সাহায্য করবে। আপনার ভেতরের বর্জ্য পদার্থগুলো বের করে দেবে।

সজনে পাতা কীভাবে খাবেন

আমরা মনে করি যে, ফুল সিজনে সবচেয়ে উত্তম উপায় হচ্ছে এটিকে আপনি জুস করে খাবেন। কিছু সজনে পাতা নিন। ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে এটাকে ব্লেন্ডারে নিন। কিছু পানি যোগ করে টেস্টের জন্য কিছু আদা, কিছু জিরা, একটু বিট লবণ দিতে পারেন। ভালো করে ব্লেন্ড করেন। এরপর ছেঁকে নিন। ছেঁকে নিয়ে খাওয়ার সময় একটু মধু দিয়ে খেয়ে নিন। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ জুসটি আপনার খাওয়া হয়ে গেল।

যদি আপনার জুস বানাতে ঝামেলা হয় অথবা সব দিন যদি জুস খেতে না পারেন, ভর্তা খান, তবে এটা কাঁচা হলে বেস্ট। যখন আপনি সিদ্ধ করলেন, এই যে নানাবিধ যে উপাদানগুলো আছে, এটি নষ্ট হয়ে যেতে থাকবে। সে জন্য কাঁচা পাতা ভালো করে বেটে নিয়ে এটাকে টেস্টি করার জন্য যা যা লাগে…সেখানে আপনি রসুন দেন, আদা দেন, মরিচ দেন, পেঁয়াজ দেন, যা যা দিলে টেস্টি হয়, দেন। তারপর আপনি খান। সিজনে।

অফ সিজনে গুঁড়া। সজনে পাতাকে আপনি সিজনে ভালো করে রোদে শুকান। শুকানোর পর এটাকে ক্রাশ করে ফেলেন। ছয় মাস এটা চমৎকার থাকবে এবং এক থেকে দুই চা চামচ সজনে পাতা যথেষ্ট আপনার পুষ্টির জন্য। তাই আমরা বলব যে, নিজের দেশের এই অ্যাভেইলেবল এই পাতাটিকে অবহেলা করবেন না।

আজ না হলে কাল থেকে শুরু করুন। অফ সিজনে আপনি গুঁড়ো সংগ্রহ করুন। প্রতিদিন এক চামচ সকালে, এক চামচ রাত্রে। ছয় মাস পর আপনি আপনার স্ট্রেংথ, আপনার কর্মক্ষমতা দেখে নিজেই বিস্মিত হবেন।

বাসক পাতার ঔষধি গুণ আদি যুগ থেকেই বাসক পাতা ভেষজ গুণে গুণান্বিত। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায়ও বাসকের ভেষজ গুণাবলি প্রমাণিত হয়েছ...
11/07/2023

বাসক পাতার ঔষধি গুণ

আদি যুগ থেকেই বাসক পাতা ভেষজ গুণে গুণান্বিত। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায়ও বাসকের ভেষজ গুণাবলি প্রমাণিত হয়েছে। তাজা অথবা শুকনো পাতা বহু রোগে ওষুধের কাজ করে। বাসক পাতার নির্যাস, রস বা সিরাপ শ্লেষ্মা তরল করে নির্গমে সুবিধা করে দেয় বলে সর্দি, কাশি এবং শ্বাসনালীর প্রদাহমূলক ব্যাধিতে বিশেষ উপকারী।

আমাদের দেশে অনেক জায়গায় বাসক গাছ বাণিজ্যকভাবে চাষ করা হচ্ছে। এর পাতা অর্থাৎ বাসক পাতা ওষুধ কোম্পানিগুলো কিনে থাকে। এ থেকে বোঝা যায় এই পাতার কত ঔষধী গুণ। দেহের বিভিন্ন রোগ ছাড়াও পানির জীবাণু মুক্ত করতে, হাত-পা ফুলে গেলে, চামড়ার রং উজ্জ্বল করতেও এ গাছের উপকারিতা অনেক।

বাসক একটি ভারত উপমহাদেশীয় ভেষজ উদ্ভিদ। এ উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম আড়াটোডা বাসিকা। ভারত উপমহাদেশের প্রায় সর্বত্র এটি জন্মে। হিন্দিতে একে বলা হয় আডুসা, বানসা অথবা ভাসিকা। তবে সংস্কৃত নামের ভিত্তিতে এটির ব্যবসায়িক নাম ‘বাসক’। আর্দ্র, সমতলভূমিতে এটি বেশি জন্মে। লোকালয়ের কাছেই জন্মে বেশি।KSRM

গাছটি লম্বায় ১-১৫ মিটার (৩-৫ ফুট) পর্যন্ত হয়। কচি অবস্থায় গাছের গোড়া সবুজ হলেও পরিণত অবস্থায় হাল্কা বেগুনি রঙের মতো দেখায়। পাতাগুলো লম্বায় ৫-১২ সেন্টিমিটারের মতো হয়। ফুল সাদা রঙের এবং গুচ্ছাকারে ফোটে। ফলগুলো সুপারি আকৃতির এবং বীজে ভরা।

বাসক পাতার উপকারিতা

১. বাসক পাতার ১-২ চামচ রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিলিয়ে খেলে শিশুর সর্দি-কাশির উপকার পাওয়া যায়।

২. এই পাতার রস গোসলের আধা ঘণ্টা আগে মাথায় মাখলে উকুন মরে যায়। এছাড়া আমবাত ও ফোঁড়ার প্রাথমিক অবস্থায় বাসক পাতা বেটে প্রলেপ দিলে ফোলা ও ব্যথা কমে যায়।

৩. বুকে কফ এবং এর জন্য শ্বাসকষ্ট হয় বা কাশি হয় তখন বাসক পাতার রস ১-২ চামচ মধুসহ খেলে কফ সহজে বেরিয়ে আসে।

৪. প্রস্রাবে জ্বালা-যন্ত্রণা থাকলে বাসকের ফুল বেটে ২-৩ চামচ এবং মিছরি মিলিয়ে সরবত করে খেলে এই রোগে উপকার পাওয়া যায়।

৫. জ্বর হলে বা অল্প জ্বর থাকলে বাসকের মূল ৫-১০ গ্রাম ধুয়ে থেঁতো করে ১০০ মিলিলিটার পানিতে ফুটিয়ে ২৫ মিলিলিটার থাকতে নামিয়ে তা ছেঁকে নিন। এরপর দিনে ২ বার করে খাবেন। তাতে জ্বর এবং কাশি দুটোই চলে যাবে।

৬. বাসকের কচিপাতা ১০-১২টি ও এক টুকরো হলুদ এক সঙ্গে বেটে দাদ বা চুলকানিতে লাগালে কয়েক দিনের মধ্যে তা সেরে যায়।

৭. বাসক পাতা বা ফুলের রস ১-২ চামচ মধু বা চিনিসহ প্রতিদিন খেলে জন্ডিস রেগে উপকার পাওয়া যায়।

৮. পাইরিয়া বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে ২০টি বাসক পাতা থেঁতিয়ে ২ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে উষ্ণ অবস্থায় কুলকুচি করলে এই রোগে উপকার পাওয়া যায়।

৯. যাদের হাঁপানির টান আছে তারা বাসক পাতা শুকনো করে, ওই পাতা বিড়ি বা চুরুটের মতো পাকিয়ে, তার সাহায্যে ধূমপান করলে শ্বাসকষ্ট প্রশমিত হয়।

১০. যাদের গায়ে ঘামের গন্ধ হয় তারা বাসক পাতার রস গায়ে লাগালে দুর্গন্ধ দূর হবে।

১১. বাসক পাতার রস ও শঙ্খচূর্ণ মিশিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করলে রঙ ফর্সা হবে।

১২. এক কলসি পানিতে তিন-চারটি বাসক পাতা ফেলে তিন-চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর সেই পানি বিশুদ্ধ হয়ে যায়। এরপর ব্যবহার করতে পারেন।

১৩. বাসক পাতার রস নিয়মিত খেলে খিঁচুনি রোগ দূর হয়ে যায়।

এছাড়া বাসকের পাতা সবুজ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পাতা থেকে হলদে রং পাওয়া যায়। বাসক পাতায় এমন কিছু ক্ষারীয় পদার্থ আছে যায় ফলে ছত্রাক জন্মায় না এবং পোকামাকড় ধরে না বলে ফল প্যাকিং এবং সংরক্ষণ করার কাজেও ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বিকাশপিডিয়া ও অন্যান্য বইপত্র।

নিয়মিত বাদাম খাওয়ার ১১ উপকারপুষ্টিগুণ এবং শরীরিক উপকারিতার দিক থেকে দেখতে গেলে বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এতে...
11/07/2023

নিয়মিত বাদাম খাওয়ার ১১ উপকার

পুষ্টিগুণ এবং শরীরিক উপকারিতার দিক থেকে দেখতে গেলে বাদামের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এতে রয়েছে শরীরে মজুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ই, ফাইবার, সেলেনিয়াম,ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যামাইনো অ্যাসিড, পটাশিয়াম এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আরও কত কী, যা নানাভাবে শরীরের কাজে লেগে থাকে।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত কেউ যদি এক বাটি করে বাদাম খাওয়া শুরু করেন, তাহলে শরীরে এমন কিছু উপাদানের প্রবেশ ঘটে, যা এই যুদ্ধ শরীরকে চাঙ্গা তো রাখেই, সেই সঙ্গে একাধিক রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

বাদাম খাওয়ার উপকারিতা
১. হাড়ের স্বাস্থ্য়ের উন্নতি ঘটে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে বাদামে উপস্থিত ফসফরাস শরীরে প্রবেশ করার পর এমন কিছু কাজ করে যার প্রভাবে হাড়ের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। তাই তো প্রতিদিন এক বাটি করে বাদাম খাওয়া শুরু করলে জীবনে কোনও দিন কোনও হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

২. ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পায়: আমেরিকার অ্যান্ড্রস ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা এক পরীক্ষায় দেখা গেছে বাদামে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা কগনিটিভ পাওয়া, সহজ কথায় বললে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই তো পরীক্ষার আগে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ম করে বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

৩. ক্যান্সারের মতো রোগ দূরে থাকে: বাদামে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে নানাবিধ সংক্রমণকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও নানা উপকারে লেগে থাকে। যেমন, অ্যাক্সিডেটিভ ট্রেস কমিয়ে কোষেদের ক্ষত রোধ করে, সেই সঙ্গে ত্বকের এবং শরীরের বয়স কমাতেও সাহায্য করে থাকে।

৪. পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়: মধ্যপ্রাচ্য থেকে এসে এদেশে ঝাঁকিয়ে বাসা এই প্রকৃতিক উপাদনটির শরীরে রয়েছে প্রায় ৩.৫ গ্রাম ফাইবার, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৪ গ্রাম ফ্যাট সহ ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি২, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ প্রয়োজনে লাগে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো একাধিক ক্রনিক রোগকে দূরে রাখতেও এই উপাদানগুলি সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, এক মুঠো বাদাম খেলে শরীরে মাত্র ১৬১ ক্যালরি প্রবেশ করে। ফলে এই খাবারটি খেলে ওজন বেড়ে যাওয়ার কোনও ভয় থাকে না।

৫. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটায়: এটি হল এমন একটি উপাদান যা ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মধ্যে দিয়ে নানাবিধ সংক্রমণকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এখানেই শেষ নয়, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আরও নানা উপকারে লেগে থাকে। যেমন, অ্যাক্সিডেটিভ ট্রেস কমিয়ে কোষেদের ক্ষত রোধ করে, সেই সঙ্গে ত্বকের এবং শরীরের বয়স কমাতেও সাহায্য করে থাকে।

৬. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে: গত কয়েক দশকের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখতে পাবেন কীভাবে অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরলের কারণে হার্টের রোগে আক্রান্তের হার বৃদ্ধি পয়েছে। তাই এই বিষয়ে সাবধান থাকাটা জরুরি। শরীরে যাতে কোনও ভাবেই বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আর এই কাজটি করবেন কীভাবে? খুব সহজ! প্রতিদিনের ডায়েটে বাদামের অন্তর্ভুক্তি ঘটান, তাহলেই দেখবেন হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না। আসলে বাদামে উপস্থিত বেশ কিছু কার্যকরি উপাদান শরীরে অন্দরে ভাল কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে কমে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও।

৭. ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে: শুধু ডায়াবেটিস নয়, বাদামে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে শরীরে এই খনিজটির ঘাটতি দেখা দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্লাড প্রেসার মারাত্মক বেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। আর বেশি দিন যদি রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তাহলে হঠাৎ করে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক এবং কিডনির সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই দেহে যাতে কোনও সময় ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা একান্ত প্রয়োজন।

৮. ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসে: বাদাম খাওয়ার পর ক্ষিদে একেবারে কমে যায়। ফলে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। সেই সঙ্গে শরীরে প্রয়োজন অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমে।

৯. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে: বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তে উপস্থিত শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সেই কারণেই তো ডায়াবেটিকদের নিয়মিত বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৫-৩৮ শতাংশ কমে যায়। তাই যাদের পরিবারে এই মারণ রোগের ইতিহাস রয়েছে, তারা সময় থাকতে বাদামকে কাজে লাগাতে শুরু করে দিন। দেখবেন উপকার মিলবে।

১০. কোষেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়: বাদামে উপস্থিত প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই শরীরের প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা কোষেদের কর্মক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটানোর সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরে যাতে কোনও ভাবে ক্ষতের সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে বয়স বাড়লেও শরীরের উপর তার কোনও প্রভাব পরে না।

১১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে: বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত জলে ভেজানো কাজুবাদাম খেলে দেহের অন্দরে বিশেষ কিছু এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার প্রভাবে হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটতে শুরু করে। সেই সঙ্গে গ্যাস-অম্বলের প্রকোপও কমে যায়। এবার বুঝেছেন তো খাদ্যরসিক বাঙালি, আমাদের কেন প্রতিদিন একমুঠো করে বাদাম খাওয়া উচিত!

আমাদের প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হরিতকীকে খুবই মূল্যবান একটি ভেষজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পুজোর কাজ থেকে শুরু করে আমাদে...
11/07/2023

আমাদের প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে হরিতকীকে খুবই মূল্যবান একটি ভেষজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পুজোর কাজ থেকে শুরু করে আমাদের বিভিন্ন ওষুধ, হরিতকির ব্যবহার কিন্তু অসীম। আপনাদের হরেক সমস্যায়, বলতে গেলে পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত সব সমস্যার জন্য রয়েছে এই হরিতকী।

কেন হরিতকী এতো গুণসম্পন্ন
হরিতকীর মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি আর আয়রন, সেলেনিয়াম, ম্যাংগানিজ, কপারের মতো খনিজ। এর ফলে আমাদের চুলের সার্বিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে হরিতকীর অবদান অনেক। হরিতকী থেকে যে তেল পাওয়া যায় তা আমাদের গ্যাসের সমস্যা থেকে দারুণ ভাবে মুক্তি দেয়। মলের অনিয়ম বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে দেয়। হরিতকীর পাউডার বা গুঁড়ো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর, এর ফলে আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। আবার কোনও ক্ষত হলে সেখানে হরিতকীর গুঁড়ো একটু নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে তাড়াতাড়ি উপকার মেলে। এতো গুণ রয়েছে এক হরিতকীর মধ্যে। এবার আমরা একটু বিশদে জেনে নেব হরিতকীর গুণাগুণ সম্বন্ধে।

১. হজম ক্ষমতা বাড়াতে
হজম ক্ষমতার সমস্যা হয় যখন আপনার খাবারের মধ্যে থাকা পুষ্টিগুণ ভাল ভাবে শরীরে মেশে না। ভাল করে পাকস্থলী খাবার পরিপাক করতে না পারলে হজমে সমস্যা হয়। তাই হজমের সমস্যা সমাধানের জন্য পাকস্থলীর যাবতীয় কাজ ঠিক ভাবে হওয়া দরকার। হরিতকী ঠিক এই কাজটিই করে। দুপুরে আর রাতে খাবারের পর হরিতকী গুঁড়ো যদি অল্প উষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে খুব ভাল উপকার পাবেন। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও কমবে।

২. কোষ্ঠকাঠিন্য হলে
আলাদা ভাবে এই সমস্যা নিয়েও আলোচনা করা দরকার। হজমের সমস্যা না থাকলেও অনেকের এই সমস্যাটি কিন্তু থেকেই যায়। জল ঠিক করে না খাওয়া বা শরীরে জলের ভাব কম থাকা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার মূল কারণ। তাই জল বা তরল কিছু অবশ্যই খান। তার সঙ্গে হরিতকী খান। এক্ষেত্রে হরিতকী গুঁড়ো আর অল্প আদার রসের একটা পেস্ট করে নিয়ে সেটা রাতে খাবার পর খেলে ভাল উপকার পাবেন।

৩. সর্দি-কাশিতে
সর্দি-কাশি
এই সমস্যা আমাদের সারা বছরের সমস্যা। গরমে ঘাম জমে, বর্ষাকালে বৃষ্টি ভিজে, ঠাণ্ডা লেগে শীতে, আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়ে, সারা বছর অল্প কাশি বা সর্দি হতেই থাকে। তুলসী, মধু এই ধরণের উপাদানের সঙ্গেই নিন হরিতকী। হরিতকী গুঁড়ো আর অল্প সৈন্ধব লবণ বা রক সল্ট মিশিয়ে খেয়ে উষ্ণ গরম জল খেয়ে নিন। হরিতকীর মধ্যে শরীরের কফ উপাদান ব্যাল্যান্স করার ক্ষমতা থাকে। এই অনবদ্য ফল আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই সারা বছর খেলে সারা বছর ভাল থাকবেন।
৪. ওজন কমাতে
কতো কিছুই না করি আমরা ওজন কমিয়ে ছিপছিপে হওয়ার জন্য। তাও কিছু কাজের কাজ হয় না। আচ্ছা, হরিতকী ব্যবহার করেছেন? না করলে একবার করে দেখুন। হরিতকী মেটাবলিজম ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয়। ফলে খাবার ভাল করে হজম হয়। না হজম হয়ে ফ্যাট হয়ে শরীরের নানা অংশে জমে যায় না। তাই চর্বিও কম হয়। কীভাবে খাবেন! হরিতকী ১০টা মতো নিয়ে নিন। অল্প ঘি দিয়ে ভেজে নিন হাল্কা করে আর শুকিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করার পর গুঁড়ো করে রেখে দিন। এই হরিতকী গুঁড়ো রোজ খাবার পর অল্প খান। খুব উপকার পাবেন। সঙ্গে অবশ্যই পরিমিত খাবার খেতে হবে ডায়েট মেনে।

৫. ত্বকের সমস্যায়
ত্বকের সমস্যা মেটাতে হরিতকী ব্যবহার করা খুব বুদ্ধিমানের কাজ। হরিতকী রক্ত শুদ্ধ করে। আর আগেই বলেছি, হরিতকী পেট পরিষ্কারও করে খুব সুন্দর। পেট পরিষ্কার আর রক্ত পরিষ্কার, এই দুটি দিক ঠিক থাকলে ত্বকের প্রাথমিক সমস্যাগুলি এমনিতেই আশি শতাংশ কমে যায় ভিতর থেকে। হরিতকী শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়। সকালে খালি পেটে গরম জলে মিশিয়ে হরিতকী চূর্ণ খেলে ত্বকের সমস্যা অনেক কমে যাবে। ভিতর থেকে আপনি সুন্দর হয়ে উঠতে থাকেন।

৬. আর্থ্রারাইটিস হলে
শুধু বয়স্ক মানুষ নন, আজকাল অনেক কম বয়সের মানুষেরও হাঁটুর ব্যথা, গাঁটের ব্যথা এই সব হয়। এই ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার পাশে হরিতকী যদি আপনি ব্যবহার করেন তাহলে তা হবে সোনায় সোহাগা। হরিতকীর মধ্যে ক্যালসিয়াম আছে প্রচুর পরিমাণে। আর ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করতে, টিস্যু মজবুত করতে সাহায্য করে। আর বোন টিস্যু, হাড় মজবুত হলেই ব্যথা, জয়েন্ট পেইন কম হবে। তাই হরিতকীর তেল, যা যে কোনও ভাল আয়ুর্বেদিক দোকানে বা অনলাইনে পাওয়া যায়, তা কিনে মালিশ করতে পারেন। আর না হলে বাড়িতেই তেল বানিয়ে নিন। হরিতকী ১০টা মতো নিয়ে আগে রোদে এক সপ্তাহ শুকিয়ে নিন। তারপর এই হরিতকী গুঁড়ো করে নিন। সর্ষের তেলের মধ্যে এই হরিতকী গুঁড়ো আর রসুন নিয়ে নেড়ে সেই তেল ঠাণ্ডা করে মালিশ করতে পারেন।
৭. অ্যালজাইমার সমস্যায়
অ্যালজাইমা হল স্নায়ু বা নার্ভের সমস্যা। অনেক সময়ে আমরা ভুলে যেতে থাকি অনেক কিছু। বয়স বাড়লে এটা আরও বেশি হয়। বুদ্ধিভ্রংশের সমস্যা বলা হয় একে। স্নায়ু দুর্বল হলে অনেক সময়ে খিঁচ রোগ হয়, নানা রকম বিকৃতি দেখা যায়। সবের সমাধান আয়ুর্বেদিক মতে হরিতকী। হরিতকী খেলে আমাদের স্মৃতিশক্তি বাড়ে। আমরা অনেক বেশি মন দিয়ে শান্ত হয়ে কাজ করতে পারি। হরিতকী চূর্ণ রোজ দুই বেলা হাফ চামচ করে খেলে উপকার অবশ্যই পাবেন।
৮. ডায়াবেটিস কমাতে
আজকের দিনে ডায়াবেটিস প্রায় মহামারীর পর্যায়ে চলে গেছে। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আজ এই সমস্যা। আয়ুর্বেদ বলছে হরিতকী রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার সমস্যাতেও উপকারে আসে। এর মধ্যে থাকা হাইপোগ্লাইকেমিক উপাদান শর্করার মাত্রা রক্তে ঠিক রাখে। হরিতকী গ্লুকোজের অতিরিক্ত উৎপাদন হতে দেয় না, একটা ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে আমরা ডায়াবেটিসের সমস্যায় কম ভুগি।

৯. সেক্সুয়াল হেলথ মজবুত করে
সেই প্রাচীন যুগ থেকে আজকের প্রজন্ম, সেক্সুয়াল হেলথের দিকে কিন্তু নজর আলাদা ভাবে দিয়েছি আমরা। নারী ও পুরুষ, উভয়ের ক্ষেত্রেই হরিতকী সেক্সুয়াল হেলথ মজবুত করতে পারে। স্ট্রেস কমিয়ে সেক্স হরমোন, মানে টেস্টোস্টেরন বা প্রজেস্টেরন হরমোনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে, নিয়মিত নিঃসরণ বজায় রাখে। ফলে ‘সেক্স আর্জ’ বা চাহিদা তৈরি হতে থাকে। পুরুষের মধ্যে শক্তি, ক্ষমতা আর নারি-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই উৎপাদন শক্তি অনেক বাড়ায় হরিতকী।

১০. চোখও ঠিক রাখে
চোখের নানা রকম সমস্যা, যেমন চোখের নার্ভ শুকিয়ে যাওয়া, চোখে বারবার জল আসা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ জ্বালা, এইরকম অনেক সমস্যার ওয়ান স্টপ সলিউশন এই হরিতকী। চায়ের সঙ্গে হরিতকী গুঁড়ো মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। তারপর ঠাণ্ডা করে ছেঁকে নিন। এই ছেঁকে নেওয়া জল দিয়ে চোখ পরিষ্কার করতে পারেন। এতে চোখের ইনফেকশন, চোখের অনেক প্রাথমিক সমস্যা কমে যাবে। চোখের দৃষ্টিশক্তিও বাড়বে।

১১. হার্টের যত্নে
হার্টের যত্নে
হার্টের অন্যতম কাজ এই হার্টের ওপর। হার্টের বেশ কিছু সমস্যা, যেমন হার্টবিট কম হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, হাল্কা চিনিচিনে ব্যথা, এইসবই হরিতকীর গুণে কমে আসতে পারে। হরিতকী হার্টের মাসল মজবুত করে, রক্ত সঞ্চালন আর পাম্পিং ক্ষমতা বাড়ায়। তার সঙ্গে কোলেস্টেরল হওয়ার মাত্রাও অনেক কমিয়ে আনে। তাই হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ব্লক বা রক্ত জমাট বাধার মতো সমস্যা হওয়ার প্রাথমিক প্রবণতা অনেক কমে আসে। তবে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ কিন্তু অবশ্যই করতে হবে বেশি সমস্যায়।

কীভাবে খাবেন হরিতকী
হরিতকী খাবার কিছু নিয়ম আছে। সেই নিয়ম মেনে যদি খান তাহলে কাজ হবে অনেক ভাল। হরিতকী আপনি চূর্ণ বা গুঁড়ো রূপে, কাথ হিসেবে আবার বড়ি হিসেবেও খেতে পারেন। কিছু জিনিসের সঙ্গে মিশিয়ে হরিতকী খেতে হয় মরসুমের সঙ্গে তাল রেখে। গরমের সময়ে হরিতকী খেলে অল্প গুড় মিশিয়ে খান। আবার বর্ষার সময়ে হরিতকী রক সল্ট আর শরতে চিনির সঙ্গে খেলে ভাল উপকার পাবেন। শীতের শুরুতে অল্প আদা কুচি আর শীতের মধ্যে অল্প গোলমরিচ দিয়ে হরিতকী খেতে পারেন। আর বসন্তকালে মধু দিয়ে হরিতকী খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। আর প্রত্যেকবার হরিতকী খাওয়ার পর খানিক উষ্ণ জল খেতে হবে।

রূপ সম্পর্কীয় নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধানে
শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি আমাদের ত্বক বা চুলের সমস্যায় যে হরিতকী ভাল কাজ করে তার আভাষ আগেই দিয়েছিলাম। এবার কিছু দিক ধরে ধরে আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করব কীভাবে হরিতকী আপনাকে চুল হোক বা ত্বক, হরেক সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।

১২. পোর্স কমিয়ে আনে
অনেকে আছেন যাদের মুখে বড় বড় ছিদ্র দেখা যায়। হয়তো খুব জোরে জোরে স্ক্রাব করার জন্য বা কিছু জিনিস মুখে মাখার জন্য এতো বড় ছিদ্র হয়ে গেছে। এর থেকে কিন্তু হরিতকী উপকার করবে। পোর্স বা মুখের ছিদ্র কমিয়ে আনবে এই পেস্ট।

উপকরণঃ
১ চামচ হরিতকী পাউডার, হাফ চামচ বেসন, হাফ চামচ মুলতানি মাটি, ১ চামচ গোলাপ জল।

পদ্ধতিঃ
সব উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে একটা ঘন পেস্ট তৈরি করে নিন। জল দেবেন না, শুধু গোলাপ জল দিয়ে গুলবেন। এই পেস্ট মুখে মেখে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর সাধারণ জলে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে দু দিন করুন আর একমাস টানা করুন। উপকার পেতে আপনি বাধ্য।

১৩. ডার্ক সার্কেল হলে
চিন্তা বেশি করে বা নিয়ম করে না ঘুমিয়ে এই অবস্থা। চোখের কোলে কালি আমাদের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। এর জন্যও হরিতকীর বিশেষ প্রয়োগ আছে।

উপকরণঃ
১ চামচ হরিতকী গুঁড়ো, হাফ চামচ অ্যালোভেরা জেল, ২ ফোঁটা আমন্ড অয়েল।
পদ্ধতিঃ
সব উপকরণ মিশিয়ে মোটামুটি ঘন একটা পেস্ট বানান। তারপর চোখের নিচের অংশে লাগিয়ে সার্কুলার মোশনে ম্যাস্যাজ করুন হাল্কা হাতে। ১৫ মিনিট রেখে দিন শুকিয়ে যাওয়ার জন্য। তারপর ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিন দিন করুন খুব ভাল ফল পেতে।

১৪. চুলের সমস্যায়
চুলের আমাদের কতো সমস্যা! খুশকি, চুল পড়া, মাথা চুলকুনি, সাদা চুল, সমস্যা কি কম! কিন্তু বিশ্বাস করুন, হরিতকী হতে পারে এ টু জেড সমস্যার একমাত্র সমাধান। চুলের জন্য তো আমরা ত্রিফলা ব্যবহার করিই। আর এই ত্রিফলার অন্যতম উপাদান হরিতকী। তাই নিশ্চিন্তে চুলের জন্য ব্যবহার করুন হরিতকী।

যে কোনও তেলের সঙ্গে মিশিয়ে হরিতকী মাথায় ম্যাস্যাজ করলে যেমন চুলের গড়া মজবুত হয়, তেমন হরিতকী গুঁড়ো মাথায় শ্যাম্পু হিসেবে ব্যবহার করলে স্ক্যাল্পের ময়লা দূর হয় তাড়াতাড়ি। হরিতকী দিয়ে তৈরি একটি ভাল প্যাক আপনাদের জানাই।

উপকরণঃ
২ চামচ হরিতকী পাউডার, ১ চামচ আমলা পাউডার, হাফ চামচ বহেরা পাউডার আর হেনা পাউডার।
পদ্ধতিঃ
একটি পাত্রে সব উপকরণ নিয়ে জল দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। সপ্তাহে এক দিন চুলে এই মিশ্রণ ব্যবহার করে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। তারপর ভাল করে ধুয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করে নিন। শ্যাম্পু আলাদা করে করতে হবে না। এতে চুল ফুরফুরে হবে। চুলের স্বাস্থ্য ভাল থাকবে।

১৫. ব্রণ কমাতে
তেলতেলে ত্বক যাদের তাঁদের র্যারশ, ব্রণ খুবই হয়ে থাকে। আর ব্রণ কমে গেলেও ব্রণর দাগ সহজে যেতে চায় না। কিন্তু হরিতকীর সাহায্যে এই দাগ দূর করা সম্ভব।

উপকরণঃ
২ চামচ হরিতকী গুঁড়ো, ১ চামচ চন্দন বাটা, ১ চামচ কাঁচা হলুদ বাটা।

পদ্ধতিঃ
সব উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে নিন। ব্রণ যে যে জায়গায় হয়েছে সেই সেই জায়গার ওপর দিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট মতো। তারপর সাধারণ তাপমাত্রার জল দিয়ে ধুয়ে নিন। এটি এক দিন ছাড়া ছাড়া করুন খুব ব্রণর সমস্যা হলে। কম ব্রণ থাকলে বা ব্রণর দাগ কম থাকলে সপ্তাহে তিন দিন করলেই হবে। এক মাসের মধ্যে অনবদ্য ফল আপনার চোখের সামনেই থাকবে। হরিতকী আর হলুদ, এই দুইয়ের অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ যাতে কম হয় তা দেখবে। চন্দন অতিরিক্ত তেলতেলে ভাবও কমাবে।

১৬. দাঁতের জন্য
আগেই বলেছিলাম যে হরিতকীর মধ্যে ক্যালসিয়াম আছে। আর আমাদের দাঁত তো ক্যালসিয়াম দিয়েই তৈরি। তাই হরিতকী ব্যবহার করলে দাঁতের বেশ কিছু সমস্যা অনায়াসেই দূর হয়ে যায়। প্রথমে আসি দাঁতে গর্ত হলে বা ক্যাভিটি হলে কি করবেন সেই আলোচনায়।

দাঁতে গর্ত হলে ডাক্তার তো অবশ্যই দেখাতে হবে। কিন্তু ব্যথা যে হয় সেটা প্রাথমিক ভাবে হরিতকী ব্যবহার করে কমিয়ে আনা সম্ভব। তার জন্য হরিতকী দিয়ে একটা পেস্ট বানাতে হবে। হরিতকী রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে তার মধ্যে অল্প জল মিশিয়ে একটি ঘন পেস্ট তৈরি করুন। ব্যথা হলে বা চিনচিন করলে ওই গর্তের জায়গায় এই পেস্ট অল্প দিয়ে রেখে দিন। আস্তে আস্তে দেখবেন ব্যথা কমে আসছে।

১৭. দাঁত পরিষ্কার রাখতে
দাঁতের আরেক প্রধান সমস্যা হল হলদে ছোপ ছোপ পড়ে যাওয়া। অনেক কিছু করেই এর থেকে সহজে মুক্তি মেলে না। হরিতকী একবার ব্যবহার করে দেখুন। হরিতকী গুঁড়ো দিয়ে শুধু দাঁত মাজতে পারেন। এটা করলে সবচেয়ে ভাল হয়। না হলে আপনি যে মাজন ব্যবহার করেন তার সঙ্গে হরিতকী গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। রোজ এই পেস্ট দিয়ে দাঁত মাজুন। দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দাঁত অনেকটা সাদা হয়ে আসবে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অনেক গুণের কথাই তো বলা হল। কিন্তু এতো এতো গুণ যার আছে সেই হরিতকীর কিন্তু আবার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও আছে। যেমন ধরুন খুব বেশি পরিমাণে হরিতকী খেলে আপনার ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। খুব বেশি পরিমাণে আর রোজ যদি হরিতকী খান তাহলে সর্দি-কাশি কমার বদলে বরং বেড়ে যেতে পারে।
গর্ভাবস্থায় হরিতকী খাওয়া একদমই উচিত নয়। হরিতকী খাওয়ার পর অল্প উষ্ণ জল না খেলে সেই হরিতকী সহজে হজম হতে চায় না। তখন আবার হজম না হওয়া হরিতকী বিপরীত ফল দিতে শুরু করে। তাই বারবার করে বলা হয়েছে হরিতকী যে কোনও রূপে খাবার পরই অল্প উষ্ণ জল খেয়ে নিতে হবে।
আর হরিতকী কখনই শুধু শুধু কোনও কাটা বা আঘাত লাগা জায়গায় দিতে নেই। সবসময়ে অন্য কিছু, খুব ভাল হয় অল্প নারকেল তেল সহযোগে যদি সেই আঘাত লাগা জায়গায় ব্যবহার করা যায়।
আমরা এই প্রতিবেদনে সেরকম ভাবেই ব্যবহার করতে বলেছি। যে যে জিনিসের সঙ্গে মিলিয়ে খেতে বলা আছে হরিতকী ঠিক সেই সেই জিনিসের সঙ্গে মিশিয়ে খান সময় অনুযায়ী।
সব কথার ওপর মূল কথা হল বেশি পরিমাণে হরিতকী ব্যবহার করাই আসলে খারাপ। সবসময় পরিমাণ ঠিক রেখে অল্প অল্প করে বেশ টানা কিছু দিন হরিতকী ব্যবহার করলে তবেই উপকার পাওয়া যাবে।
চটজলদি উপকার পাওয়ার জন্য একবারে অনেকটা ব্যবহার করলে লাভের বদলে ক্ষতিই হবে আদতে।
আসা করি আজকের প্রতিবেদন আপনাদের উপকারে আসবে। হরিতকী, যা আমরা সাধারণত খুব কম টাকায় দশকর্মা দোকান থেকে কিনে আনি শুধু পুজোর জন্য, তার যে এতো গুণ আছে আপনারা আগে জানতেন না। কিন্তু শুধু জেনে তো হবে না। এবার আমাদের বলা কথাগুলো মেনে হরিতকী ব্যবহার করা শুরু করুন আর উপকার পেতে শুরু করুন।

Address

Khan Jahan Ali
Bagerhat
9300

Telephone

+8809611853371

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bd Health Shop. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Bd Health Shop.:

Share