15/12/2025
তাবিজ কি জায়েজ? তামিমাহ কত প্রকার ও কিকি? ইসলাম এ বেপারে কি বলে? রেফারেন্সসহ বর্ণনা দিন।
উত্তরঃ
১. তাবিজ শব্দটি আরবি। এর অর্থঃ শরীয়ত সমর্থিত ভাবে সাহায্য চাওয়া।
২. তামিমাহ : কুফরি, তান্ত্রিক,মন্ত্র
পারিভাষিক অর্থঃ পবিত্র কুরআন, হাদিস, মাসনুন দোয়া ও শির্কমুক্ত কোনো বাক্য দ্বারা লিখে ব্যবহার করা বা পাঠ করে ফু দিয়ে আল্লাহর কাছে কোনো কিছু হতে সাহায্য প্রার্থনা করাকে তাবিজ বলে।
💢💢মূল শিক্ষা হলোঃ
১। ইসলামিক তাবিজ, ঝাড়ফুক, দোয়া, আমল, তেল,পানি সবই হালাল। ইসলামিক তাবিজ ব্যবহার করা জায়েজ।
২। শির্কি ঝাড়ফুক, তাবিজ, তেল, পানি সবকিছুই হারাম। ব্যবহার করা জায়েজ নেই। শির্কি তাবিজ, ঝাড়ফুক নেওয়া শির্ক।
✔✔তাবিজ ২প্রকার।
১. ইসলামিক তাবিজ ২. শির্ক তাবিজ
💢 ➤ইসলামিক তাবিজ কাকে বলে? জেনে নিন?
পবিত্র কুরআন, হাদিস, মাসনুন দোয়া ও শির্কমুক্ত কোনো বাক্য দ্বারা লিখে ব্যবহার করা বা পাঠ করে ফু দিয়ে আল্লাহর কাছে কোনো কিছু হতে সাহায্য প্রার্থনা করাকে ইসলামিক তাবিজ বলে। এরকম তাবিজ ব্যবহার করাও জায়েজ।
💢💢শির্ক তাবিজ কাকে বলে? জেনে নিন?
আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ব্যতীত। অন্য কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে বা শয়তানের ইবাদত করে শির্কি কথা , বাক্য, তন্ত্র-মন্ত্র লিখে ব্যবহার করাকে শির্কি তাবিজ অর্থাৎ তামিমাহ বলে। এরকম তাবিজ ব্যবহার করা জায়েজ নেই।
💢💢শির্ক-যুক্ত ঝাড়ফুক, তাবিজ সবই হারামঃ
আবু দাউদ শরীফে সহিহ হাদিসে আসছে,
«إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ»
‘‘ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ-কবজ ঝুলানো শির্ক’’।
অর্থাৎ এই সহিহ হাদিসে সবকিছু শির্ক বলা হইছে।
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে, কারো কাছে সাহায্য চেয়ে, তন্ত্র-মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুক, তামিমাহ সবকিছু শির্ক। এরকম তাবিজ ব্যবহার করা জায়েজ নাই। শির্ক বা হারাম।
💢💢ইসলামিক ঝাড়ফুক, তাবিজ সবই জায়েজ দলিলঃ
১. আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সা. বলেছেন,
তোমাদের কেউ যখন ঘুম অবস্থায় ঘাবড়িয়ে উঠে, সে যেন এই দোয়াটি পাঠ করে--
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. তাঁর উপযুক্ত সন্তানদের তা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের গলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।(তিরমিযী ৩৫২৮)
২. সাঈদ ইবনে যুবাইর রাযি.-এর নিকট কেউ এসে তাবিজ চাইলে তিনি তাকে তাবিজ লিখে দিতেন। (মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ ২৩৫১১)
৩. বিখ্যাত তাবিঈ আতা ইবন আবী রাবাহ রহ. সাঈদ ইবন মুসাইয়াব রহ. মুহাম্মাদ ইবন সীরীন রহ. মুজাহিদ রহ. প্রমূখ ফতওয়া দিতেন, তাবিজ কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা দুআয়ে মাসুরা দ্বারা হলে কোনো অসুবিধা নেই। মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ ৫/৪৩-৪৪, কিতাবুত্তিব্ব ৪৩৯/৩২৬১)
৪. একারণে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রহ. বুখারী শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে লিখেন, তামায়েম শব্দটি তামীমা শব্দের বহুবচন। যা পুঁতি বা মালা সাদৃশ্য। মাথায় লটকানো হয়। যেসব তাবীজ-কবচে আল্লাহর নাম বা কালাম থাকে। সেসব তাবিজ শিরক হবে না। (ফাতহুল বারী-১/১৬৬)
৫. আবু দাউদ শরীফের হাদিসে রাসুল সঃ বলেছেন,
اعرضواعَلَىَّ رُقَاكُم لاَ بَأْسَا بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيْهِ شِرْكٌ
ঝাড়-ফুঁক, দোয়া, তাবিজ করতে কোন আপত্তি নেই, যদি তার মধ্যে শিরকী কোনো কিছু না থাকে।
এ কারণেই আমরা কোরআনের আলোকে তাবিজ দিয়ে থাকি। আপনি যখন কোন কুল কিনারা না পাবেন তখন কোরআন নিজেই শিফা/আল্লাহর রহমত হিসেবে কাজ করে। আর সেই কাজে একজন সহযোগী হিসেবে সব সময় আমাদের পাশে পাবেন - ইনশাআল্লাহ।
আপনি বাস্তব জীবনে কি ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সরাসরি আমাদেরকে জানান, ইনশাআল্লাহ সকল সমস্যার সমাধান কোরআন থেকেই করা সম্ভব।
যেকোনো প্রয়োজনে - 01856-561909
#তাবিজ