22/05/2026
একবার এক মহিলা ভোরবেলায় একা একা মসজিদে যাচ্ছিলেন ফজরের নামাজ পড়তে। হঠাৎ করে রাস্তায় এক লোক এসে তার উপর চড়াও হয় এবং তাকে রেইপ করে। মেয়েটার চিৎকার শুনে এক লোক এগিয়ে আসলে রেইপিস্ট পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শোরগোল শুনে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে যায় এবং প্রথমে এগিয়ে আসা লোককে রেইপিস্ট ভেবে উত্তেজিত জনতা তাকেই উত্তম-মাধ্যম দিতে উদ্যত হয়।
ঘটনাটি মদীনায় নবীজীর সময়কার। উত্তেজিত জনগণ প্রথমে একজনকে মারতে উদ্যত হলেও শরয়ী আইন বিদ্যমানতার কারণে তারা নিরস্ত হয় এবং মামলাটি নবীজীর আদালতে পেশ করা হয়। নবীজী মহিলাকে ডাকেন, তার অভিযোগ শ্রবণ করেন এবং অপরাধীর দৈহিক বিবরণ জানতে চান। ভীত ও মানসিক বিপর্যস্ত নারীটিও তখন ভুল করে নিরপরাধ লোকটিকে রেইপিস্ট হিসেবে অভিহিত করে। কিন্তু নবীজী যখন লোকটাকে সাজা দিতে যাচ্ছিলেন তখনই প্রকৃত অপরাধী এগিয়ে এসে তার অপরাধ স্বীকার করে। অতঃপর তাকে রজম করা হয়। (হাসান। তিরমিযী)
•
রেইপের বিচার করার জন্য চারজন সাক্ষীর দরকার হয় না, এটা দরকার হয় পারস্পরিক সম্মতি ভিত্তিক যিনার অভিযোগের ক্ষেত্রে। রেইপ যদিও যিনা থেকে উদ্ভূত গোনাহ কিন্তু আইনগতভাবে সাধারণ যিনা থেকেও রেইপ গুরুতর অপরাধ। কারণ রেইপের সাথে সন্ত্রাস ও জননিরাপত্তার ইস্যু জড়িত। কুরআনের পরিভাষায় এটাকে বলা হয় ‘হিরাবাহ্’। এজন্য সন্ত্রাস ও ডাকাতির অভিযোগের ক্ষেত্রে যেমন সাধারণ সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে বিচার করা হয়, রেইপের বিচারও এমন পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতেই হবে।
যিনার সাজা নির্দিষ্টভাবে রজম বা বেত্রাঘাত। কিন্তু রেইপের সাজা আরো বৈচিত্র্যময়। সূরা আল-মায়িদার হিরাবাহ’র আয়াত অনুযায়ী রজম ছাড়াও রেপিস্টকে হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া, শূলে চড়ানো, যৌনাঙ্গ কর্তন ইত্যাদি সাজাগুলোর এক বা একাধিক ইচ্ছেমতো দেয়া যেতে পারে।
•
অবশ্য এটা মনে রাখা দরকার যে রেইপের প্রধান কারণ হলো যিনার সহজলভ্যতা। যদি যিনার ব্যাপারে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিরোধ ব্যবস্থা যথেষ্ট কঠিন করা হয় তাহলে রেইপের হার অবশ্যই শূণ্যে নেমে আসবে।
•
আসুন নবীজীর বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই। তাঁর প্রতি দরূদ পড়ি-
الهم صل على محمد وعلى ال محمد 💚