07/08/2026
অধ্যায়–৪ : স্বপ্নের দিনগুলো
প্রেমের বয়স তখন প্রায় দুই বছর।
আরিয়ান আর মেহরিনের সম্পর্কের কথা খুব বেশি মানুষ জানত না। তারা দুজনেই চেয়েছিল পড়াশোনা শেষ করে, নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে তারপর পরিবারকে জানাবে।
প্রতিদিনের মতোই সকালে একটি ছোট্ট বার্তা—
"আসসালামু আলাইকুম, ঘুম ভেঙেছে?"
আর রাতের শেষে—
"আল্লাহ তোমাকে ভালো রাখুন।"
এভাবেই দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল।
একদিন শুক্রবার বিকেলে তারা শহরের বাইরে একটি ছোট নদীর ঘাটে গেল।
চারদিকে কাশফুল দুলছে। হালকা বাতাস। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা।
মেহরিন হঠাৎ বলল,
— "আরিয়ান, একটা কথা বলো?"
— "হুম?"
— "যদি কোনো দিন আমি তোমার ওপর রাগ করি?"
— "তাহলে আমি আগে ক্ষমা চাইব।"
— "আর যদি ভুলটা তোমার না হয়?"
আরিয়ান হেসে বলল,
— "তবুও। কারণ সম্পর্ক জেতার চেয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা বড়।"
মেহরিন চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর বলল,
— "তুমি জানো, এই কারণেই আমি তোমাকে ভালোবাসি।"
সেদিন আরিয়ান ব্যাগ থেকে একটি ছোট্ট বাক্স বের করল।
মেহরিন অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— "এটা কী?"
বাক্স খুলতেই দেখা গেল একটি সাধারণ রূপার আংটি।
দামি নয়।
কিন্তু ভালোবাসায় ভরা।
আরিয়ান বলল,
— "এটা কোনো বাগদান নয়। শুধু একটা প্রতিশ্রুতি। আমি একদিন হালালভাবে তোমার হাত ধরতে চাই।"
মেহরিনের চোখ ভিজে উঠল।
সে আংটিটি হাতে নিয়ে বলল,
— "আমি এই প্রতিশ্রুতি কখনো ভুলব না।"
দুজনেই জানত না—জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলো প্রায়ই আসে সবচেয়ে সুন্দর প্রতিশ্রুতির পর।
---
কয়েক সপ্তাহ পরে...
মেহরিনের আচরণে ছোট ছোট পরিবর্তন দেখা দিতে লাগল।
আগের মতো আর নিয়মিত ফোন করত না।
বার্তার উত্তর দিত অনেক দেরিতে।
দেখা করার কথা বললে বলত,
— "আজ একটু ব্যস্ত।"
আরিয়ান প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দিল না।
সে ভাবল, হয়তো পড়াশোনার চাপ।
কিন্তু ধীরে ধীরে সেই দূরত্ব আরও বাড়তে লাগল।
একদিন সন্ধ্যায় আরিয়ান ফোন করল।
ফোন বন্ধ।
পরদিনও বন্ধ।
তৃতীয় দিন রাতে মেহরিনের একটি ছোট্ট বার্তা এল—
"ক্ষমা করে দিও। পরে সব বলব।"
বার্তাটি পড়ে আরিয়ানের বুকের ভেতর অজানা এক শূন্যতা তৈরি হলো।
সে রাতভর ঘুমাতে পারল না।
তার মনে শুধু একটি প্রশ্ন ঘুরছিল—
"কী হয়েছে?"
সে জানত না, এই প্রশ্নের উত্তর তার পুরো জীবনটাই বদলে দিতে চলেছে।
চলবে...
উপন্যাস: শেষ বিকেলের আলো
মেঘদূত কলম