30/03/2026
মিসড অ্যাবরশন (Missed Abortion) বা মিসড মিসক্যারেজ হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে গর্ভের শিশুটির মৃত্যু হয়েছে কিন্তু তা জরায়ু থেকে বের হয়ে আসেনি। এটি একটি "Silent Miscarriage" বা নীরব গর্ভপাত, কারণ অনেক ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণই বোঝা যায় না।
নিচে মিসড অ্যাবরশনের কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
মিসড অ্যাবরশন কেন হয়? (Causes)
মিসড অ্যাবরশনের সুনির্দিষ্ট কারণ সবসময় জানা যায় না, তবে কিছু সাধারণ কারণ হলো:
১। ক্রোমোসোমাল অস্বাভাবিকতা: গর্ভের ভ্রূণের ক্রোমোসোমে ত্রুটি থাকলে, যা প্রায় ৫০% ক্ষেত্রে ঘটে।
২। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: বিশেষ করে প্রোজেস্টেরন হরমোনের ঘাটতি।
৩। জরায়ুর গঠনগত সমস্যা: জরায়ুতে টিউমার বা অন্য কোনো গঠনগত ত্রুটি।
৪। সংক্রমণ: গর্ভাবস্থায় কোনো ধরনের গুরুতর সংক্রমণ।
৫। বয়স: মায়ের বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে।
৬। জীবনধারা: অতিরিক্ত ধুমপান বা অন্যান্য বাজে অভ্যাস।
লক্ষণ ও উপসর্গ (Signs and Symptoms)
মিসড অ্যাবরশনে অনেক সময় রক্তপাত বা ব্যথা হয় না। প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
১। গর্ভাবস্থার লক্ষণ কমে যাওয়া: হঠাৎ করে বমি বমি ভাব, স্তনে ব্যথা বা ক্লান্তি কমে যাওয়া।
২। হালকা বাদামী রঙের স্রাব: কোনো কোনো ক্ষেত্রে যোনিপথে হালকা বাদামী বা কালচে স্রাব দেখা দিতে পারে।
৩। আল্ট্রাসাউন্ডে শনাক্তকরণ: রুটিন আল্ট্রাসাউন্ড চেকআপের সময় দেখা যায় ভ্রূণের হৃৎস্পন্দন নেই।
৪। গর্ভপাতের লক্ষণ না থাকা: পেট ব্যথা বা ভারী রক্তপাত সাধারণত শুরুতে থাকে না।
চিকিৎসা (Treatment/Management)
মিসড অ্যাবরশনের চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো জরায়ুর ভেতর থেকে মৃত টিস্যুগুলো নিরাপদে বের করে দেওয়া। এর জন্য চিকিৎসকরা প্রধানত তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করেন:
১. অপেক্ষমাণ ব্যবস্থাপনা (Expectant Management): যদি কোনো সংক্রমণের লক্ষণ না থাকে, তবে শরীর নিজে থেকেই টিস্যু বের করে দেওয়ার জন্য ১-২ সপ্তাহ অপেক্ষা করা যেতে পারে।
২. ওষুধের মাধ্যমে (Medical Management): ওষুধের মাধ্যমে জরায়ুর মুখ খুলে দেওয়া হয় এবং টিস্যু বের করে দেওয়া হয়।
৩. সার্জারি বা ডিএন্ডসি (Surgical Management - D&C): যখন ওষুধের মাধ্যমে কাজ হয় না বা দ্রুত টিস্যু বের করা প্রয়োজন হয়, তখন 'ডাইলেটেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ' (D&C) বা ভ্যাকুয়াম অ্যাসপিরেশন করা হয়।
সতর্কতা: যদি হঠাৎ তীব্র পেটে ব্যথা, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বা প্রচুর রক্তপাত হয়, তবে দ্রুত গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
(দ্রষ্টব্য: এই তথ্যগুলো শুধুমাত্র সচেতনতার জন্য। যেকোনো চিকিৎসায় অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।)
Healthcare Advice