20/09/2026
শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নিয়মিত কৃমির ওষুধ খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। কৃমি এক ধরণের পরজীবী যা শিশুর অন্ত্রে বাস করে খাদ্যের পুষ্টি উপাদান শুষে নেয়, ফলে শিশু মারাত্মক পুষ্টিহীনতাসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভোগে।
শিশুদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানোর প্রধান উপকারিতাগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
শারীরিক বৃদ্ধি ও সঠিক পুষ্টি গ্রহণ: কৃমি পেটের ভেতরের শোষিত খাবার ও ভিটামিন-মিনারেলস খেয়ে ফেলে। কৃমির ওষুধ খেলে শিশু তার খাবারের সঠিক পুষ্টি পায় এবং স্বাভাবিক উচ্চতা ও ওজন বজায় থাকে।
রক্তস্বল্পতা রোধ: বিশেষ করে ছিপ কৃমি বা হুকওয়ার্ম শিশুর অন্ত্র থেকে রক্ত চুষে নেয়, যা তীব্র রক্তস্বল্পতা (Anemia) তৈরি করে। কৃমিনাশক ব্যবহারে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: কৃমিমুক্ত থাকলে শরীরে অপুষ্টির ঘাটতি হয় না, ফলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মজবুত থাকে এবং ঘন ঘন অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কমে।
মানসিক বিকাশ ও মনোযোগ বৃদ্ধি: কৃমির সংক্রমণে পুষ্টির অভাবে শিশু অলস, ক্লান্ত ও খিটখিটে হয়ে পড়ে। কৃমি দূর হলে শিশুর মানসিক বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ঘটে এবং পড়ালেখায় মনোযোগ বাড়ে।
পেটের উপসর্গ ও অস্বস্তি দূরীকরণ: কৃমির কারণে ঘন ঘন পেট ব্যথা, বমি ভাব, ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা কিংবা পায়ুপথে চুলকানির সমস্যা দেখা দেয়। ওষুধ সেবনে এসব সমস্যা দূর হয়।
ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকা: শরীর পুষ্টি সঠিক উপায়ে গ্রহণ করতে পারায় কৃমিমুক্ত শিশুদের ত্বক সুস্থ থাকে এবং চুল পড়ার সমস্যা হয় না।
প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশনা:
সাধারণত ১ বা ২ বছর বয়সের পর থেকে (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী) প্রতি ৬ মাস পর পর শিশুদের কৃমির ওষুধ খাওয়ানো উচিত।
পরিবারের একজন শিশুর কৃমি হলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও একসাথে কৃমির ওষুধ সেবন করা উচিত, যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
খাওয়ার আগে হাত ধোয়া, শৌচাগার ব্যবহারের পর ভালো করে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা, নখ ছোট রাখা এবং খালি পায়ে মাটিতে না হাঁটার অভ্যাস কৃমি প্রতিরোধে সাহায্য করে।