Raqi khaled Saifullah

Raqi khaled Saifullah Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Raqi khaled Saifullah, Alternative & holistic health service, Comilla Road, Chandpur Sadar, Chandpur.

জ্বিন-যাদু, বদনজর, হাসাদ এবং এগুলোর কারণে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক সমস্যার শরীয়তসম্মত চিকিৎসায় কুরআন-সুন্নাহর আলোকে রুকইয়াহ সেবা।

📱 WhatsApp: 01836657887

Raqi khaled Saifullah

গুনাহে পতিত হওয়ার কারণসমূহ━━━━━━ • পর্ব - ০৪ • ━━━━━━ ইমাম গাযযালী রহিমাহুল্লাহ বলেন, জেনে রাখ, কলব হলো দূর্গের মত। আর শ...
28/08/2026

গুনাহে পতিত হওয়ার কারণসমূহ
━━━━━━ • পর্ব - ০৪ • ━━━━━━

ইমাম গাযযালী রহিমাহুল্লাহ বলেন, জেনে রাখ, কলব হলো দূর্গের মত। আর শয়তান এমন শত্রু, যে দূর্গের ভেতর প্রবেশ করতে চায়। তারপর সে তাদেরকে পরিচালিত করে কর্তৃত্ব করতে চায়। আর দূর্গ রক্ষা করা যাবে না যদি দূর্গের ফটক, প্রবেশপথ এবং ছিদ্রের স্থানগুলোতে পাহারাদারি না করা হয়। আর ফটক ও দরজার পাহারাদারি সে করতে পারবে না, যে তা না জানে। সুতরাং ক্বলবকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করা আবশ্যক এবং প্রত্যেক মুকাল্লিফ ব্যক্তির জন্য ফরজে আইন। আর যে জিনিস ব্যতীত ওয়াজিব পর্যন্ত পৌঁছা যায় না তা অর্জন করাটাও ওয়াজিব। শয়তানকে কলবের ভেতরে প্রবেশ করা থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তার প্রবেশপথের ব্যাপারে অবগত না হওয়া যায়। সুতরাং প্রবেশপথ জানাটাও ওয়াজিব। আর শয়তান ক্বলবে প্রবেশ করার পথ ও রাস্তা হলো বান্দার অভ্যাস, স্বভাব বা দোষগুণ। আর সেগুলো অনেক। তন্মধ্যে কিছু নিম্নবর্ণিত-

❍ ক্রোধ ও শাহওয়াত: মানুষ যখন রাগান্বিত হয় তখন শয়তান তাকে নিয়ে খেলাধুলা করে, যেমনিভাবে ছোট বাচ্চারা বল নিয়ে খেলাধুলা করে।

❍ লোভ-লালসা: বান্দা যখনই কোনো জিনিসের লোভ করে বা কোনো জিনিসের প্রতি লালায়িত হয় তখনই তার লোভ তাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়। তাই শয়তান লোভীকে তার শাহওয়াত তথা কামনা-বাসনার দিকে পৌঁছার প্রতিটি জিনিসকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পায়, যদিও তা গর্হিত ও ফাহেশা কাজ হয়ে থাকে।

❍ খাবারে পরিতৃপ্ত হওয়া/পেট ভরে খাওয়া: খানা স্বচ্ছ হালাল হওয়া সত্ত্বেও পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করলে শাহওয়াত শক্তিশালী হয়ে যায়। আর এটিই হলো শয়তানের অস্ত্র।

❍ কোনো কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা এবং ধীরস্থিরতা ও সাবধানতা অবলম্বনকে পরিহার করা: যখনই কোনো কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার আশ্রয় নেওয়া হয় শয়তান তখন মানুষের মাঝে তার অনিষ্টতার আমদানি করে থাকে। অথচ তা ব্যক্তি জানতেও পারে না। বুঝতেও পারে না।

❍ কৃপণতা করা ও দারিদ্রের ভয় করা: কেননা, কৃপণতা এবং দারিদ্রের ভয় করার কারণে ব্যক্তি দান ও খরচ করতে বাঁধাগ্রস্ত হয়। এগুলো তাকে জমিয়ে পঞ্জিভূত করে রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।

❍ মত-পথ ও মাজহাব এবং নিজের খেয়াল খুশির ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব করা। বিরোধীদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা। তাদের দিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে চাওয়া। এগুলো এমন বিষয়, যা ইবাদতকারী ও ফাসাদকারী সকলকে ধ্বংস করে দেয়।

❍ মুসলিমদের ব্যাপারে বদধারণা বা কৃধারণা পোষণ করা, অতএব এর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

ক্বলবের ভেতর শয়তান প্রবেশ করার এসকল দরজা ও ফটকগুলো বন্ধ করাটা মানুষের জন্য জরুরি। আর জিকরুল্লাহ এসকল দরজা ও ফটক বন্ধ করতে সাহায্য করে।

সুতরাং আমরা বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করব। সর্বাবস্থায় জিকির করলে শয়তানের চক্রান্ত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। নেক আমল করার প্রতি মন আকৃষ্ট হবে।

০৪। খারাপ বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠি

গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়ের মাঝে অন্যতম হলো খারাপ বন্ধু ও অসৎ সঙ্গ। কেননা, খারাপ সঙ্গী তার সৎ সঙ্গীর সামনে পাপ ও গর্হিত কাজগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে। আর মানুষ তার সাথির দ্বারাই প্রভাবিত হয়। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যেমন-

আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে রয়েছে। তিনি বলেন:

"সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত সুগন্ধি বিক্রেতা ও হাপরে ফুতকারকারী ব্যক্তির ন্যয়। সুগন্ধি বিক্রেতা হয়ত সে তোমাকে কিছু সুগন্ধি দিবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে সুগন্ধি ক্রয় করবে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে উত্তম ঘ্রাণ পাবে। আর হাপরে ফুতকারকারী হয়ত সে তোমার কাপড়কে জালিয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে পাবে দুর্গন্ধ।

সুতরাং খারাপ ব্যক্তির সাহচর্য কামারের কাছে সাহচর্য গ্রহণের মত, যে হাপরে হাওয়া ভরে যাতে সে লোহার তৈজসপত্র ইত্যাদি বানাতে পারে। তার আগুন থেকে কেবল তুমি খারাপ জিনিসই পাবে। হাপরের কাছে গেলে, তার আগুন তোমার কাপড়কে জালিয়ে দেবে। অথবা তার থেকে তুমি ধুয়া ও বিশ্রী গন্ধ পাবে। আর ফাসাদপ্রবন ও খারাপ লোকের সাহচর্য হয়ত তোমাকে খারাপকাজে অভ্যস্ত করে তুলবে, অথবা তোমাকে খারাপের দিকে পরিচালিত করে নিয়ে যাবে, কিংবা তুমি তার কাছ থেকে এমন কিছু শুনবে যা ক্ষতিকর ও উপকারহীন। ফলে শয়তান তোমাকে বেষ্টন করে নেবে যেভাবে তাদেরকে বেষ্টন করে নিয়েছে। অথবা কমপক্ষে লোকেরা তোমাকে তাদের দলে ও তাদের অনুসরণকারীদের মধ্যে ফেলে দেবে, তাদের মধ্যে গণ্য করবে যদিও তুমি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নও, তাদের তরিকা ও পথ অবলম্বনকারী নও। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে রহম করেন যারা নেককার সালেহীন ও আহলুল খায়রকে ভালবাসে এবং তাদের সাহচর্য গ্রহণ করে এবং পাপি ও আহলুশ শারকে অপছন্দ করে এবং তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে।

✦চলবে ইনশাআল্লাহ

.জুমার দিন মুসলিমদের জন্য এক বিশেষ উৎসবের দিন। এই দিনে কিছু আমল করলে আল্লাহ তাআলা অশেষ বরকত দান করেন:১. পূর্ণ প্রস্তুতি:...
28/08/2026

.
জুমার দিন মুসলিমদের জন্য এক বিশেষ উৎসবের দিন। এই দিনে কিছু আমল করলে আল্লাহ তাআলা অশেষ বরকত দান করেন:
১. পূর্ণ প্রস্তুতি: জুমার সালাতের জন্য গোসল করুন, সুগন্ধি ব্যবহার করুন এবং মেসওয়াক করুন। (ইবনে মাজাহ ১০৯৮)
২. আগে আগে মসজিদে যাওয়া: জুমার দিন আযানের আগে যত দ্রুত সম্ভব মসজিদে যান। প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের নফল রোজা ও নামাজের সওয়াব পাওয়া যায়। (তিরমিযী ৪৯৬)
৩. দরুদ বৃদ্ধি: জুমার দিন ও রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) নবী ﷺ-এর উপর প্রচুর পরিমাণে দরুদ পাঠ করুন। একবার দরুদ পড়লে আল্লাহ দশবার রহমত নাযিল করেন। (সহীহ আল-জামি' ১২০৯)
৪. সূরা কাহাফ তিলাওয়াত: যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ (১৮ নং সূরা) তিলাওয়াত করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত আলো আলোকিত থাকবে। (সহীহ আল-জামি' ২/৬৪৭০)
৫. মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা: খতিব খুতবা দেওয়ার সময় নীরব থাকুন এবং মনোযোগ দিয়ে শুনুন। এ সময় কথা বলা বা সালামের উত্তর দেওয়া নিষিদ্ধ।
৬. দোয়া কবুলের সময়: জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন আল্লাহর কাছে দুআ করলে তা কবুল হয়। আলেমদের মতে, এটি আসরের সালাতের পরের শেষ সময়। (বুখারী ৫২৯৫)
৭. গুনাহ মাফ: এক জুমা থেকে আরেক জুমার মধ্যবর্তী ছোট গুনাহগুলো মাফ হয়ে যায়। (আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ৩৬২৩) তাই আল্লাহর কাছে দুআ করুন তিনি যেন আপনার গুনাহও মাফ করে দেন।
এই আমলগুলো আপনার জুমার দিনকে বরকতময় করে তুলবে ইনশাআল্লাহ।

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের খুব সাধারণ একটি অভ্যাস হলো বাথরুমে দীর্ঘ সময় কাটানো। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন সাথে নিয়...
27/08/2026

আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের খুব সাধারণ একটি অভ্যাস হলো বাথরুমে দীর্ঘ সময় কাটানো। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন সাথে নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু রুকইয়াহর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এটি কেবল সময়ের অপচয় নয়, বরং আধ্যাত্মিকভাবে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বাথরুমে দীর্ঘ সময় কাটানো কেন বিপদজনক? দুষ্ট জিনের আস্তানার গোপন রহস্য।

বাথরুম বা টয়লেট হলো মূলত অপবিত্র জায়গা এবং দুষ্ট জিনদের (খবিস জিন) প্রধান আস্তানা। রাসূলুল্লাহ (সা.) এই স্থানে প্রবেশ করার আগে বিশেষ দুআ শিখিয়েছেন, যা প্রমাণ করে সেখানে শয়তানি শক্তির উপস্থিতি থাকে।

কেন মানুষ সেখানে দীর্ঘ সময় কাটায়?

অনেকে বাথরুমে বসে দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করেন, গান গোনগুন করেন অথবা বর্তমানে মোবাইলে স্ক্রলিং করেন। শয়তানি ওয়াসওয়াসা বা কুমন্ত্রণার কারণেই অনেক সময় মানুষের কাছে বাথরুমে দীর্ঘ সময় কাটানো আনন্দদায়ক মনে হয়।

দীর্ঘ সময় থাকার ভয়াবহ ক্ষতিসমূহ:

১. জিনের লক্ষ্যবস্তু হওয়া: বাথরুমে জিকির বা আল্লাহর নাম নেওয়া নিষিদ্ধ। দীর্ঘ সময় সেখানে থাকলে আপনি আল্লাহর স্মরণ থেকে বিচ্যুত থাকেন, যা জিনের জন্য আপনার ওপর আক্রমণ করা সহজ করে দেয়।
২. আশিক জ্বিনের উপদ্রব: বাথরুমে উলঙ্গ অবস্থায় দীর্ঘ সময় কাটানো বা আয়নায় নিজের রূপ দেখা ‘আশিক জিন’ (প্রেমিক জিন) আকৃষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
৩. মানসিক অবসাদ: বাথরুমের নেতিবাচক এনার্জি মানুষের মনে বিষণ্ণতা, অহেতুক ভয় এবং অস্থিরতা তৈরি করে।

বাথরুমে জিনের প্রভাবের লক্ষণসমূহ:

#বাথরুমে গেলে অদ্ভূত কোনো শব্দ শোনা বা কেউ দাঁড়িয়ে আছে এমন অনুভব করা।
#বাথরুম থেকে বের হওয়ার পর শরীর প্রচণ্ড ভারী লাগা এবং মাথা ঝিমঝিম করা।
#শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলচে বা কালচে দাগ পড়া (বিশেষ করে বাথরুম থেকে ফেরার পর)।
#নির্জনে বাথরুমে থাকার সময় বিড়বিড় করে কথা বলার ইচ্ছা হওয়া।

আমাদের পরামর্শ ও আমল:

-মাসনুন দুআ: প্রবেশের আগে অবশ্যই এই দুআটি পড়ুন— "আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’উযু বিকা মিনাল খুবুছি ওয়াল খাবাইছ।" এটি আপনার ও জিনের মাঝে একটি পর্দা তৈরি করবে।
-মোবাইল বর্জন: টয়লেটে কখনোই মোবাইল নিয়ে যাবেন না।
-দ্রুত বের হওয়া: কাজ শেষ হওয়া মাত্রই দেরি না করে দ্রুত বাথরুম ত্যাগ করুন।
-পবিত্রতা: বাথরুম থেকে বের হয়ে "গুফরা-নাকা" পড়ে ওজু করে নিন।

আপনার বা আপনার পরিবারের কারো মধ্যে যদি বাথরুমে দীর্ঘ সময় থাকার অস্বাভাবিক প্রবণতা থাকে, তবে এটি জিনের আছর হতে পারে। সঠিক পরামর্শের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

📍 ঠিকানা: চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর ডায়াবেটিক হসপিটালের পাশে।
📞 হোয়াটসঅ্যাপ: 01836-657887
📞 সরাসরি কল: 01714513577

#বাথরুমের_জাদু #জিনের_আস্তানা #রুকইয়াহ #সুরক্ষা #ওয়াসওয়াসা

27/08/2026

সালমান ইবন আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“নিশ্চয় মিসকিনকে সদকা করা একটি সদকা; আর আত্মীয়-স্বজন কে সদকা করা দুটি— সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।”

সুনান আন-নাসাঈ: ২৫৮২ (সহীহ);
তিরমিযী: ৬৫৮; ইবনু মাজাহ: ১৮৪৪; মুসনাদ আহমদ: ১৬২৭৯

26/08/2026

আপনি কি ঋণে জর্জরিত?
তাহলে কমেন্ট চেক করুন।

গুনাহে পতিত হওয়ার কারণসমূহ━━━━━━ • পর্ব - ০৩ • ━━━━━━ ০৩। শয়তানশয়তানের কুমন্ত্রণা ও বনি আদমকে বিভ্রান্ত করার কঠিন পদক্ষে...
26/08/2026

গুনাহে পতিত হওয়ার কারণসমূহ
━━━━━━ • পর্ব - ০৩ • ━━━━━━

০৩। শয়তান

শয়তানের কুমন্ত্রণা ও বনি আদমকে বিভ্রান্ত করার কঠিন পদক্ষেপের ব্যাপারে কোনো মুসলিম অজানা নয়। আর এই ধারাবাহিকতা তখন থেকেই চলে আসছে, যখন তাকে আমাদের পিতা আদমকে সিজদা করার জন্য আদেশ করা হয়েছিল। তখন সে অহংকার করে ঔদ্ধত্ত হয়ে নিজেকে আদম আলাইহিস সালাম-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণ করার ঘৃণ্য প্রয়াস চালিয়েছিল। অথচ সে আল্লাহর আদেশকে অমান্য করেছিল। এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে বর্ণিত আছে-


قَالَ مَا مَنَعَكَ اَلَّا تَسْجُدَ اِذْ اَمَرْتُكَ‌ ؕ قَالَ اَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ‌ ۚ خَلَقْتَنِىْ مِنْ نَّارٍ وَّخَلَقْتَهٗ مِنْ طِيْنٍ

আল্লাহ বললেন, আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি তখন তোকে কিসে সিজদা করতে বারণ করল? সে বলল আমি তার চাইতে শ্রেষ্ট। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা। (সূরা আ'রাফ; আয়াত ১২)

ফলে সে আল্লাহর হুকুম লঙ্ঘনের কারণে বিতাড়িত হওয়ার যোগ্য এবং অভিশপ্ত হলো। যেমন আল্লাহ তাআলা কালামে পাকের মাঝে বলেন-

قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُوْمًا مَّدْحُوْرًا ‌ؕ لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَاَمْلَــٴَــنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ اَجْمَعِيْنَ

বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথেচলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব। (সূরা আ'রাফ; আয়াত ১৮)

আল্লাহর দুশমন আরও বেশি পরিমাণ ঐদ্ধত্ত হলো। বাড়াবাড়ি করল। বনি আদমকে বিভ্রান্ত করতে ও তাদের মাঝে ফাসাদ ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে দিল। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হচ্ছে-

قَالَ رَبِّ بِمَاۤ اَغْوَيْتَنِىْ لَاُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِى الْاَرْضِ وَلَاُغْوِيَـنَّهُمْ اَجْمَعِيْنَۙ. اِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِيْنَ

সে বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ঠ করে দেব। আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত। (সূরা হিজর; আয়াত ৩৯-৪০)

ঐ সময় থেকে শয়তানের একমাত্র কাজ হলো বনি আদমকে বিভ্রান্ত করা। বিভিন্ন বাহানা ইত্যাদির মাধ্যমে আদমসন্তানকে সত্যপথ সিরাতুল মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত করে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাওয়া। এ কারণে মাওলায়ে কারীম শয়তানের ষড়যন্ত্র ও কূটচাল হতে আমাদেরকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন এবং তার অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

يٰبَنِىْۤ اٰدَمَ لَا يَفْتِنَـنَّكُمُ الشَّيْطٰنُ كَمَاۤ اَخْرَجَ اَبَوَيْكُمْ مِّنَ الْجَـنَّةِ يَنْزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءاٰتِهِمَا ؕ اِنَّهٗ يَرٰٮكُمْ هُوَ وَقَبِيْلُهٗ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ‌ ؕ اِنَّا جَعَلْنَا الشَّيٰطِيْنَ اَوْلِيَآءَ لِلَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ
হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। (সূরা আ'রাফ; আয়াত ২৭)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

يٰۤـاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا لَا تَتَّبِعُوْا خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ‌ ؕ وَمَنْ يَّتَّبِعْ خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ فَاِنَّهٗ يَاْمُرُ بِالْـفَحْشَآءِ وَالْمُنْكَرِ‌

হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। (সূরা নূর; আয়াত ২১)

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-

اِنَّ الشَّيْطٰنَ لَـكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوْهُ عَدُوًّا ؕ اِنَّمَا يَدْعُوْا حِزْبَهٗ لِيَكُوْنُوْا مِنْ اَصْحٰبِ السَّعِيْرِؕ

শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়। (সূরা ফাতির; আয়াত ৬)

আর শয়তান মানুষের ক্বলবে প্রবেশ করে তাকে ওয়াসওয়াসা দেবার জন্য প্রবেশপথ রয়েছে।

✦চলবে ইনশাআল্লাহ

দু'আ এক মহা নিআমত। আমার মতো তুচ্ছ মাটির মানুষ বিশ্বজগতের মালিকের কাছে নিজের ছোটবড় সকল প্রয়োজন তুলে ধরতে পারছি, সকল আনন্দ...
26/08/2026

দু'আ এক মহা নিআমত। আমার মতো তুচ্ছ মাটির মানুষ বিশ্বজগতের মালিকের কাছে নিজের ছোটবড় সকল প্রয়োজন তুলে ধরতে পারছি, সকল আনন্দ-বেদনা তাঁর সাথে শেয়ার করতে পারছি-এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! আমাদের দীন-দুনিয়ার কত চাহিদা, দুনিয়ায় চলার পথে প্রতিনিয়ত কত অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি, হৃদয় ভারাক্রান্ত হচ্ছে– যিনি এসব কিছুর সমাধান করতে পারেন, যিনি আমাকে ভালোবাসেন, যিনি দু-হাত ভরে আমাকে দিতে চান, সিজদায় পড়ে, দু-হাত তুলে হৃদয় আকুল করে সব চাওয়া-পাওয়া, সকল আনন্দ-বেদনা তাঁকে বলতে পারার মতো স্বস্তি, শান্তি ও প্রশান্তির আর কী হতে পারে!

আমাদের রূহ বা আত্মা এসেছে মহান রবের নিকট থেকে। তাই তার প্রশান্তিও রবের সাথে সম্পর্কের মাঝেই নিহিত। মাখলুকের সাথে সাহচর্যের যত অবসাদ, কালিমা ও অস্থিরতা রবের সান্নিধ্যের দ্বারা তা মিটে যায়, হৃদয় হয়ে যায় প্রফুল্ল ও প্রশান্ত। রবের সাথে সম্পর্ক যার যত গভীর তার হৃদয় তত প্রশান্ত। পৃথিবীর হাজারো মসিবতের মাঝে সে স্থির অচঞ্চল।

কিন্তু রবের সাথে যার সম্পর্ক নেই, যে নিজের আনন্দ-বেদনা আপন রবের সাথে শেয়ার করতে পারে না দুনিয়ার ভরপুর প্রাচুর্যের মাঝে থেকেও সে অস্থির, অশান্ত, বে-কারার। তাই যে নিজে দু'আ করতে জানে না, আপন রবের কাছে নিজের কষ্টের কথা বলে অন্তরকে শান্ত করতে পারে না তার মতো হতভাগা আর নেই। তার চারপাশে হয়তো আনন্দ-বিনোদনের হাজারো উপকরণ ছড়িয়ে আছে, কিন্তু এসব বিনোদনে ডুব দিয়ে দিনশেষে সে আরো অসুখই খরিদ করে আনে।

বই : সালাত (আল্লাহর সাথে বান্দার মুনাজাত)

25/08/2026

পায়ে থাকা আইন, হাসাদ ও গিঁট ধ্বংসের রুকইয়াহ!

#রুকইয়াহ শোনার নিয়ম হলো- অজু করে, হেডফোন লাগিয়ে, নিয়ত করে, বিসমিল্লাহ বলে চোখ বন্ধ করে, পুরো শরীরের কন্ট্রোল ছেড়ে দিয়ে আওয়াজ বেশি যতটুকু সম্ভব বেশি দিয়ে শুনতে হবে। রুকইয়াহ শোনা অবস্থায় কোনকিছু পাঠ করবেন না এবং কোন রিয়াকশন হলে তা রিলিজ করবেন এবং ঘুম যাতে না আসে।

আল্লাহ আপনাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করুক আমীন।

#পায়েরআইন #হাসাদ #গিঁটধ্বংস #রুকইয়াহ #রুকইয়াহ_শরিয়াহ #আইনধ্বংস #শিফাওয়ে

25/08/2026

মহান আল্লাহর উপর ঈমানহীন, অভাবী, নিঃস্ব-ক্ষুধার্তদেরকে খাদ্য দান করতে উৎসাহ দেয় না এমন ব্যক্তি অপমানিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা বলেন,
"ঐ ব্যক্তিকে ধর এবং গলায় রশি লাগিয়ে দাও অতঃপর নিক্ষেপ কর জাহান্নামে, সে তো ঈমান আনেনি মহান আল্লাহর উপরে আর সে অভাবী-ক্ষুধার্তদেরকে খাবার খাওয়ানোর ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করেনি।"¹

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর হতে বর্ণিত।
একদা এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলেন, 'ইসলামে কোন কাজটি শ্রেষ্ঠ?'
রাসূল বললেন, ইসলামে সবচেয়ে ভাল কাজ হচ্ছে ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে খাবার খাওয়ানো।"²

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
"তোমরা বেশী বেশী ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান কর, তাহ’লে শান্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"³

¹হাক্কাহ ৩০-৩৪
²মুসলিম: ৩৯; মিশকাত: ৪৬২৯
³তিরমিযী: ১৯৮৪; মিশকাত: ১২৩২

কখনো কাউকে এমনভাবে আঘাত করবেন না– যে আপনার কথায়, আচরণে, মিথ্যা অপবাদে সে মানুষটি নীরবে চোখের পানি ফেলতে বাধ্য হয়, ভেতর থ...
23/08/2026

কখনো কাউকে এমনভাবে আঘাত করবেন না– যে আপনার কথায়, আচরণে, মিথ্যা অপবাদে সে মানুষটি নীরবে চোখের পানি ফেলতে বাধ্য হয়, ভেতর থেকে একদম নিঃশব্দ হয়ে যায়।
সব মানুষ কষ্ট পেলে প্রতিবাদ করে না। কেউ কেউ শুধু চুপ হয়ে যায়। মুখের হাসি হারিয়ে ফেলে। হঠাৎ নীরব হয়ে যায়। আর সেই নীরবতার ভেতর লুকিয়ে থাকে অসংখ্য না-বলা অভিযোগ, চাপা কান্না আর ভাঙা হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস। সে মানুষটি হয়তো আপনার বিরুদ্ধে একটি কথাও বলবে না; কিন্তু তার অশ্রুর সাক্ষী থাকবেন স্বয়ং আল্লাহ।

মনে রাখবেন, আপনার বলা একটি কঠিন কথা, মিথ্যা অপবাদ হয়তো আপনার কাছে সামান্য; কিন্তু অন্য একজনের জীবনে সেটিই বছরের পর বছর বয়ে বেড়ানো এক নীরব যন্ত্রণা হয়ে থাকতে পারে। কিছু ক্ষত শরীরে নয়, হৃদয়ে তৈরি হয়– আর সেই ক্ষত চোখে দেখা না গেলেও, তার ব্যথা সবচেয়ে গভীর।

তাই এমন মানুষ হোন– যার উপস্থিতিতে মানুষের হৃদয় প্রশান্তি পায়; এমন মানুষ নয়, যার কারণে কেউ গভীর রাতে আল্লাহর কাছে নিজের অভিযোগ নিয়ে অশ্রু ঝরায়!

লেখা : মাহমুদুল হাছান

Address

Comilla Road, Chandpur Sadar
Chandpur

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Raqi khaled Saifullah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share