28/08/2026
গুনাহে পতিত হওয়ার কারণসমূহ
━━━━━━ • পর্ব - ০৪ • ━━━━━━
ইমাম গাযযালী রহিমাহুল্লাহ বলেন, জেনে রাখ, কলব হলো দূর্গের মত। আর শয়তান এমন শত্রু, যে দূর্গের ভেতর প্রবেশ করতে চায়। তারপর সে তাদেরকে পরিচালিত করে কর্তৃত্ব করতে চায়। আর দূর্গ রক্ষা করা যাবে না যদি দূর্গের ফটক, প্রবেশপথ এবং ছিদ্রের স্থানগুলোতে পাহারাদারি না করা হয়। আর ফটক ও দরজার পাহারাদারি সে করতে পারবে না, যে তা না জানে। সুতরাং ক্বলবকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করা আবশ্যক এবং প্রত্যেক মুকাল্লিফ ব্যক্তির জন্য ফরজে আইন। আর যে জিনিস ব্যতীত ওয়াজিব পর্যন্ত পৌঁছা যায় না তা অর্জন করাটাও ওয়াজিব। শয়তানকে কলবের ভেতরে প্রবেশ করা থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তার প্রবেশপথের ব্যাপারে অবগত না হওয়া যায়। সুতরাং প্রবেশপথ জানাটাও ওয়াজিব। আর শয়তান ক্বলবে প্রবেশ করার পথ ও রাস্তা হলো বান্দার অভ্যাস, স্বভাব বা দোষগুণ। আর সেগুলো অনেক। তন্মধ্যে কিছু নিম্নবর্ণিত-
❍ ক্রোধ ও শাহওয়াত: মানুষ যখন রাগান্বিত হয় তখন শয়তান তাকে নিয়ে খেলাধুলা করে, যেমনিভাবে ছোট বাচ্চারা বল নিয়ে খেলাধুলা করে।
❍ লোভ-লালসা: বান্দা যখনই কোনো জিনিসের লোভ করে বা কোনো জিনিসের প্রতি লালায়িত হয় তখনই তার লোভ তাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়। তাই শয়তান লোভীকে তার শাহওয়াত তথা কামনা-বাসনার দিকে পৌঁছার প্রতিটি জিনিসকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পায়, যদিও তা গর্হিত ও ফাহেশা কাজ হয়ে থাকে।
❍ খাবারে পরিতৃপ্ত হওয়া/পেট ভরে খাওয়া: খানা স্বচ্ছ হালাল হওয়া সত্ত্বেও পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করলে শাহওয়াত শক্তিশালী হয়ে যায়। আর এটিই হলো শয়তানের অস্ত্র।
❍ কোনো কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা এবং ধীরস্থিরতা ও সাবধানতা অবলম্বনকে পরিহার করা: যখনই কোনো কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার আশ্রয় নেওয়া হয় শয়তান তখন মানুষের মাঝে তার অনিষ্টতার আমদানি করে থাকে। অথচ তা ব্যক্তি জানতেও পারে না। বুঝতেও পারে না।
❍ কৃপণতা করা ও দারিদ্রের ভয় করা: কেননা, কৃপণতা এবং দারিদ্রের ভয় করার কারণে ব্যক্তি দান ও খরচ করতে বাঁধাগ্রস্ত হয়। এগুলো তাকে জমিয়ে পঞ্জিভূত করে রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।
❍ মত-পথ ও মাজহাব এবং নিজের খেয়াল খুশির ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব করা। বিরোধীদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা। তাদের দিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে চাওয়া। এগুলো এমন বিষয়, যা ইবাদতকারী ও ফাসাদকারী সকলকে ধ্বংস করে দেয়।
❍ মুসলিমদের ব্যাপারে বদধারণা বা কৃধারণা পোষণ করা, অতএব এর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
ক্বলবের ভেতর শয়তান প্রবেশ করার এসকল দরজা ও ফটকগুলো বন্ধ করাটা মানুষের জন্য জরুরি। আর জিকরুল্লাহ এসকল দরজা ও ফটক বন্ধ করতে সাহায্য করে।
সুতরাং আমরা বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করব। সর্বাবস্থায় জিকির করলে শয়তানের চক্রান্ত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। নেক আমল করার প্রতি মন আকৃষ্ট হবে।
০৪। খারাপ বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠি
গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়ের মাঝে অন্যতম হলো খারাপ বন্ধু ও অসৎ সঙ্গ। কেননা, খারাপ সঙ্গী তার সৎ সঙ্গীর সামনে পাপ ও গর্হিত কাজগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে। আর মানুষ তার সাথির দ্বারাই প্রভাবিত হয়। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যেমন-
আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে রয়েছে। তিনি বলেন:
"সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত সুগন্ধি বিক্রেতা ও হাপরে ফুতকারকারী ব্যক্তির ন্যয়। সুগন্ধি বিক্রেতা হয়ত সে তোমাকে কিছু সুগন্ধি দিবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে সুগন্ধি ক্রয় করবে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে উত্তম ঘ্রাণ পাবে। আর হাপরে ফুতকারকারী হয়ত সে তোমার কাপড়কে জালিয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে পাবে দুর্গন্ধ।
সুতরাং খারাপ ব্যক্তির সাহচর্য কামারের কাছে সাহচর্য গ্রহণের মত, যে হাপরে হাওয়া ভরে যাতে সে লোহার তৈজসপত্র ইত্যাদি বানাতে পারে। তার আগুন থেকে কেবল তুমি খারাপ জিনিসই পাবে। হাপরের কাছে গেলে, তার আগুন তোমার কাপড়কে জালিয়ে দেবে। অথবা তার থেকে তুমি ধুয়া ও বিশ্রী গন্ধ পাবে। আর ফাসাদপ্রবন ও খারাপ লোকের সাহচর্য হয়ত তোমাকে খারাপকাজে অভ্যস্ত করে তুলবে, অথবা তোমাকে খারাপের দিকে পরিচালিত করে নিয়ে যাবে, কিংবা তুমি তার কাছ থেকে এমন কিছু শুনবে যা ক্ষতিকর ও উপকারহীন। ফলে শয়তান তোমাকে বেষ্টন করে নেবে যেভাবে তাদেরকে বেষ্টন করে নিয়েছে। অথবা কমপক্ষে লোকেরা তোমাকে তাদের দলে ও তাদের অনুসরণকারীদের মধ্যে ফেলে দেবে, তাদের মধ্যে গণ্য করবে যদিও তুমি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নও, তাদের তরিকা ও পথ অবলম্বনকারী নও। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে রহম করেন যারা নেককার সালেহীন ও আহলুল খায়রকে ভালবাসে এবং তাদের সাহচর্য গ্রহণ করে এবং পাপি ও আহলুশ শারকে অপছন্দ করে এবং তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে।
✦চলবে ইনশাআল্লাহ