05/07/2026
হাম (মিজেলস) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত শিশুদের বেশি হলেও, টিকা না নেওয়া যে কোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। রোগটি শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায় এবং দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে সংক্রমিত হয়।
কারণ
হামের কারণ হলো Measles রোগ সৃষ্টিকারী Measles virus।
সংক্রমণ যেভাবে ছড়ায়:
আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে।
আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ বা নাকের নিঃসরণের সংস্পর্শে এলে।
একই ঘরে আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে অবস্থান করলে।
টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
লক্ষণ
প্রাথমিক লক্ষণ (সংক্রমণের ১০–১৪ দিন পর)
১০১–১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর
শুকনো কাশি
সর্দি
চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া
দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা
বিশেষ লক্ষণ
মুখের ভেতরে গালের পাশে ছোট ছোট সাদা দাগ (Koplik spots) দেখা যায়, যা হামের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
ত্বকের র্যাশ
সাধারণত জ্বর শুরু হওয়ার ৩–৫ দিন পর র্যাশ দেখা দেয়।
প্রথমে মুখ ও কানের পেছনে শুরু হয়।
পরে ঘাড়, বুক, পিঠ, হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
র্যাশগুলো লাল, ছোট এবং পরে একে অপরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
রোগ নির্ণয়
রোগীর লক্ষণ ও শারীরিক পরীক্ষা।
প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা যায়।
চিকিৎসা
হামের নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো উপসর্গ কমানো ও জটিলতা প্রতিরোধ করা।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম।
প্রচুর পানি, স্যালাইন ও তরল খাবার।
হোমিওপ্যাথিতে হামের ভাল চিকিৎসা হয় তাই অভিজ্ঞ হোমিও ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের ওষুধ।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Vitamin A দেওয়া হয়, যা বিশেষ করে শিশুদের জটিলতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
জটিলতা
-------------
নিউমোনিয়া
কানের সংক্রমণ
তীব্র ডায়রিয়া
পানিশূন্যতা
মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)
বিরল ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে।
প্রতিরোধ
সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো MMR vaccine গ্রহণ।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা।
কাশি বা হাঁচির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখা।
নিয়মিত হাত ধোয়া।
অপুষ্টি দূর করা এবং শিশুকে সুষম খাদ্য খাওয়ানো।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?
নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে:
শ্বাসকষ্ট
খিঁচুনি
বারবার বমি
অচেতন বা অতিরিক্ত ঝিমুনি
১০৪°F বা তার বেশি জ্বর
শিশু খেতে বা পানি পান করতে না পারা
তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণ।
অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের পরামর্শ নিন,প্রাথমিক পর্যায়ে হোমিওপ্যাথিতে হামের ভাল চিকিৎসা আছে।