নারী স্বাস্থ্য কথা By ডা. কামরুন নেসা রুনা

  • Home
  • Bangladesh
  • Chittagong
  • নারী স্বাস্থ্য কথা By ডা. কামরুন নেসা রুনা

নারী স্বাস্থ্য কথা By ডা. কামরুন নেসা রুনা প্রফেসর ডা. কামরুন নেসা রুনা।
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ,
ন্যশনাল হাসপাতাল
নারী স্বাস্থ্য কথা

16/07/2026
 #কন্যা_কাহিনীডা. কামরুন নেসা রুনা- আপা কি বাচ্চা হলো? সিজার করার সময় যেই না বাচ্চাটা এ বিপদসংকুল পৃথিবীতে এসে প্রথম চিৎ...
23/06/2026

#কন্যা_কাহিনী

ডা. কামরুন নেসা রুনা

- আপা কি বাচ্চা হলো?
সিজার করার সময় যেই না
বাচ্চাটা এ বিপদসংকুল পৃথিবীতে এসে প্রথম চিৎকার দিল-
তখনই রোগীর ব্যাকুল প্রশ্ন।

প্রথমে একটু ইতস্তত করলাম -
কারন তার অলরেডি তিনটা মেয়ে আছে--এবারেরটা ও মেয়ে।
জরায়ুর প্রথম লেয়ার সেলাই করে নিলাম ঝটপট।
এর মাঝে একটু ভেবে নিলাম এখনি জানাব কিনা।

পরে জানানোটাই ভাল মনে হল-
সত্যের মুখোমুখি হতে তো হবেই।
বরং দরকার পড়লে কিছুটা কাউন্সেলিং করা যাবে।
অবশেষে উত্তর দিলাম --
আপনার ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছে।

শুনে রোগীর মুখে শ্রাবনের মেঘ-
বর্ষণ হয় হয় অবস্হা।
সেই যে চোখ বন্ধ করলো আর খুললো না।বেগতিক দেখে এনেস্থেশিয়োলজিস্টকে
বললাম ঘুম পাড়িয়ে দিতে।

# পরের দিন রাউন্ডে রোগী দেখতে কেবিনে গিয়ে জানতে পারলাম-
তার স্বামী দূবাই থাকে -পরপর মেয়ে হচ্ছে দেখে শাশুড়ি চায় ছেলে আর একটা বিয়ে করুক।

আমি জিগ্যেস করি -
স্বামী ও কি তাই চায়?

রোগীর সকরুণ উত্তর-
চায় তো,কি করবে আপা সবাই
তো বংশ রক্ষা করতে চায়।

অনেক চেষ্টা করলাম বোঝাতে
ছেলে হওয়া তো স্বামীর অবদান।
তার অপারগতার জন্যই তো মেয়ে হচ্ছে।

রোগী উদাহরন দিল-
ওদের কোন আত্বীয়ের-
প্রথম স্ত্রীর চার মেয়ের পর -
২য় বিয়ে এবং প্রথম বারেই ছক্কা
মানে প্রথম সন্তান ছেলে ইত্যাদি।

বুঝাতে চেষ্টা করলাম
-মেয়ে হওয়া মন্দ কি?
-লেখাপড়া শেখাবে ভাল মতোন।

রোগী বলে -
বিয়ে দিলে পরের ঘরে চলে যাবে।বংশের বাতি দরকার।

মনে হলো যেন স্বামীকে বিয়ে করার অনুমতি দিয়েই ফেলবে এবার।

সবাই ছেলে চাইতে চাইতে আর যেহেতু মেয়ে হচ্ছে পর পর সে মানসিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়েছে।
এবং সে বিশ্বাস করে এটা তারই অপারগতা।

# ব্যাপারটা সত্যিই উদ্বেগজনক।
আসলে কি তাই??
পরের ঘরে যাক বা নিজের ঘরই
বানাক -
বাবা মায়ের দায়িত্ব আজকাল অনেক মেয়েই নিচ্ছে।

# আমার এক আত্বীয়ের দশটা
ছেলেমেয়ের মাঝে ডাক্তার,
উকিল, টিচার সব থাকা সত্বে ও
ছেলেরা বাবার অবর্তমানে
বৃদ্ধা মায়ের ঠিকমতো ভরণপোষণ
চিকিৎসা ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করেনি।
বরং ডাক্তার মেয়েটাই চেষ্টা করেছে যথাসাধ্য দায়িত্ব পালনের।

# আর একটা পরিবারের তো আরো ভয়াবহ অবস্থা।
দশছেলে মেয়ের মাঝে নয়জন আমেরিকা থাকা সত্বে ও
অসুস্হ মায়ের (যিনি ওখানকার স্বয়ং সিটিজেন) দায়িত্ব না নিয়ে
বাংলাদেশে যে একটি মেয়ে তার কাছে আমেরিকা থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে।
টেলিফোন বাজি করে খবরা খবর নেয় মাঝে মাঝে।

# কাজেই মেয়ের মা বাবাদের জন্য-

- মেয়ে হলে খুশী হওয়া দরকার।
- ছেলের জন্য মনে কষ্ট না রেখে
- মেয়েদেরকেই নিজের পায়ে দাড়াতে
সাহায্য করা উচিত।
যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
-নিজের স্বাদ আহ্লাদের জন্য কারো
মুখাপেক্ষী হতে না হয়।
- এমনকি বাবামাকে প্রতিপালনে ও
যেন কোন প্রতিবন্ধকতা পোহাতে
না হয়।

 ্তব্যের_তীব্র_নিন্দা_প্রতিবাদ_জানাই। একটি পেশা সম্পর্কে এধরনের ঢালাও মন্তব্য করা কি কোন সুশীল বা ভদ্রলোকের পরিচায়ক? প্র...
09/06/2026

্তব্যের_তীব্র_নিন্দা_প্রতিবাদ_জানাই।
একটি পেশা সম্পর্কে এধরনের ঢালাও মন্তব্য করা কি কোন সুশীল বা ভদ্রলোকের পরিচায়ক?
প্রত্যেক পেশায় ভালমন্দ আছে।
#যেমন এই লোকের পেশাতে ও রয়েছে হলুদ সাংবাদিকতা, টাকার বিনিময়ে রং চড়িয়ে কেউ কেউ সংবাদ পরিবেশন করেন।
তাই বলে পুরো সাংবাদিক কমিউনিটি যেমন খারাপ নয়,সমাজের সব ডাক্তার একই রকম নন।
#টকশোতে গেলেই হুশ হারিয়ে যা খুশী তা বলে যাবেন, এটা তো গ্রহন যোগ্য নয়,তদুপরি ডাক্তারির মতন একটি মহান পেশা সম্পর্কে এধরনের মন্তব্য অসভ্যতার নামান্তর মাত্র।
এর একটা বিহীত হওয়া উচিত।

 #অভিজ্ঞতার_গল্প_অল্পসল্প( #প্লাসেন্টা_প্রিভিয়া_উপাখ্যান) সময়কাল: মে ২০২২। #এক রোগী মিসেস হাবিবা (ছদ্মনাম)  ৪ নং প্রেগনে...
27/05/2026

#অভিজ্ঞতার_গল্প_অল্পসল্প
( #প্লাসেন্টা_প্রিভিয়া_উপাখ্যান)
সময়কাল: মে ২০২২।

#এক রোগী মিসেস হাবিবা (ছদ্মনাম)
৪ নং প্রেগনেন্সি নিয়ে আমার চেম্বারে রোগী হিসাবে নাম এন্ট্রি করলেন।
তার আগের ৩টা সি সেকশন
-এটা হবে ফোর্থ।
তার স্বামীর খুব সখ -
আর একটা ছেলে হয়, যদি ও আগে দুই মেয়ে ও একটা ছেলে আছে।

যথারীতি এন্টিনেটাল চেকআপ শুরু হল।
আমি সাধারনত ফোর্থ সি সেকশন করতে হলে টেনশনে থাকি-
প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল নীচের দিকে, আগের সি সেকশনের সেলাইয়ের উপর ইমপ্ল্যান্ট করল কিনা।

#সাধারণত প্রথমে ফিটাস বা গর্ভস্হ শিশু নীচে জরায়ুর মুখের কাছে থাকে আর গর্ভফুল উপরে থাকে।
বেবী ডেলিভারির পর প্লাসেন্টা ডেলিভারি হয়।
কিন্তু এর উল্টোটা হলেই কমপ্লিকেশন। প্ল্যাসেন্টা-যা একটি প্লেট এর মত জরায়ুর মুখের উপর অবস্থান করে বিধায় বেবী বের হবার পথ পায়না।
তাই সি সেকশন করে বেবী ডেলিভারি করাতে হয়।
যার ডায়াগনোসিস "প্ল্যাসেন্টা প্রিভিয়া"।

#হাবিবা চেকআপে আসে
আর আমি টেনশনে থাকি প্ল্যাসেন্টার অবস্থা কি জানি হয়।
ও মা!
যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত্রি হয়।আলট্রাসাউন্ড করাতে দেখা গেল প্ল্যাসেন্টা আসলেই নীচের দিকে।
আমার বুক ঢিপ ঢিপ করে ওকে দেখলেই।
এর মাঝে সপ্তম মাস থেকে শুরু হল
মাঝে মাঝে ব্লিডিং।
রেষ্ট এ থাকলে - ব্লিডিং কমে, বাড়ে।রোগীর রক্তশুণ্যতা ও ডেভেলাপ করল।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা চলছিল।
মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতন
আটমাসে যখন এল-
তখন ব্লাডপ্রেশার ও বাড়তি পেলাম।
উল্লেখ করতে ভুলে গেছি -
তিনি আগে থেকেই থাইরয়েডের ঔষধ খান।

#আলটিমেট ডায়গনোসিস দাড়াল-
Central Placenta Previa with severe PE with mild anaemia with hypothyroid.

কালার ডপলার স্ক্যান এ দেখা গেল
সেলাইয়ের উপরে প্ল্যাসেন্টার অবস্থান যার ইউনারি ব্লাডারে ও ইনভেশন রয়েছে।

#যথারিতী কাউন্সেলিং -
৩৬ সপ্তাহে সি সেকশান করতে হবে এমন কি পেরিপার্টাম ( ডেলিভারির সময় জরায়ু ফেলে দেয়া)
হিস্টারেকটমি ও লাগতে পারে।
৪ জন ব্লাড ডোনার লাগবে।

সেইসময় পতি দেবতার ভাবখানা এমন গদগদ - যেন ভাজামাছটি ও উল্টে খেতে জানেনা।
উপরে আল্লাহর পরেই নাকি আমার স্হান তাদের মনে।

#অতএব দিন ক্ষণ দেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা সহকারে সি সেকশন করতে গেলাম। বাড়তি সতর্কতা -
ইউরোসার্জন ও সাথে যেহেতু আগের অপারেশন গুলো বিভিন্ন এনজিও (যেমন মমতা) তে হয়েছে ও ব্লাডারের উপর প্ল্যাসেন্টার অবস্থান।
যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই হলো।
প্লাসেন্টা আগের স্কার ভেদ করে ব্লাডার পর্যন্ত পৌছে গেছে- কনসেন্ট নেয়া ছিল জরায়ু ফেলার-
তবু ঝটপট ফেলা গেলনা-
কারন বেবী বের করার পর
ইউরো সার্জন ইউরিনারী ব্লাডারকে ইউটেরাসের লোয়ার সেগমেন্ট থেকে আলাদা করতে করতে বেশ অনেক ব্লাড লস হয়ে গেল।
যাই হোক এরপর জরায়ু ফেলতে ফেলতে রোগী হাইপোভলিউমিক শকে।

#ট্রাজেডি হলো কোনভাবে দুই ইউনিট ব্লাড তেনারা যোগাড় করতে পেরেছেন আর বাকী দুইজন ডোনারের খবর- শুধু পথে- আসতেছে।
অগত্যা আমার ওটির এক সিস্টার, একজন রোগীর এটেন্ডেন্ট ডাক্তারের বউকে রিকোয়েস্ট করে আরো দুই ইউনিট ব্লাড জোগাড় করে রোগীনীকে কোনভাবে রিকভারী করলাম।
তবু সন্কট তখনো পুরোপুরি কাটেনি ভেবে আর ফলোআপ ভাল হবার জন্য রোগীনীকে HDU তে পাঠালাম।

#এইবার শুরু আসল ক্লাইমেক্স-
সেই বোকা সোকা কাঁচুমাচু স্বামী
ভদ্রলোকের রূপ বদল দেখলাম বিস্মিত চোখে!
তার হাজারো প্রশ্ন -
কেন রোগীর এত রক্ত লাগছে,
কেন HDU তে রাখতে হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি।
#এদিকে বাসার সবাই বলছে -
কি দরকার এসব ঝামেলার রোগী প্রাইভেট ক্লিনিকে করার।
কি এক টেনশন!
মেডিকেল কলেজ থেকে ছুটি নিলাম।
HDU তে রোগীর তদারকি করছি
আর পালপিটিশন এর জন্য নিজে
ইনডেভার ট্যাবলেট খাচ্ছি।
সিনিয়র আপাকে কল দিলাম দেখতে আমার চিকিৎসায় কোন ঘাটতি রইল কিনা।
নফল নামাজ পড়ছি যেন রোগী ভাল হয়ে যায়।
যাই হোক আল্লার অশেষ রহমতে, আমাদের চেষ্টায় রোগীনী ভাল হয় বটে।
#কিন্তু ডাক্তার আমি নিজেই হয়ে যাই অসুস্হ। টেনশনে আমার Arythmic heart.হল্টার ইসিজি করতে হল।

#পুত্র কোলে নিয়ে যাবার সময় আর
এক কাহিনি। এইচডিইউ তে থাকার দরুন বিল বেশী হওয়াতে নানান বাহানা।

#দিনশেষে আমার একান্ত ভাবনা-
আমার লেভেলের ডাক্তারেরই যদি এ দশা হয়, এরপর এসব রোগীর গায়ে হাত দিতে কেউ সাহস করবেনা
হেনস্থার ভয়ে।
কি হবে এসব অসহায় রোগীদের??

#মোরাল: সাধু সাবধান!
Central Placenta Previa with bladder’ invasion with 3,4 C/S ভয়ংকর রুপ ধারন করতে পারে।
শত অনুরোধে ও প্রাইভেট ক্লিনিকে করা উচিত হবেনা।
সেখানে ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস,
কাউন্সেলিং,
কনসেন্ট ফরম,
ব্লাড হাতে নিয়ে,
মাল্টি ডিসিপ্লিনারি টীম সহ

#রোগী_বাঁচানোর_যুদ্ধে_নামতে_হবে।

ডা. কামরুন নেসা রুনা
২৩-০৬-২০২৩.

 #যে_ক্যান্সার_প্রতিরোধ_করা_যায়( #জরায়ু_মুখের_ক্যান্সার) #ভূমিকা ১৯ -২৫  জানুয়ারি জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ  সপ্তাহ প...
27/05/2026

#যে_ক্যান্সার_প্রতিরোধ_করা_যায়
( #জরায়ু_মুখের_ক্যান্সার)

#ভূমিকা
১৯ -২৫ জানুয়ারি জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ সপ্তাহ পালিত হচ্ছে সারা দেশে।
এবার প্রতিপাদ্য
" আপনার কিশোরীকে এইচপিভির টীকা দিন"।
আমাদের দেশের নারীরা আক্রান্ত হবার পরিসংখ্যান স্তন ক্যান্সারে বেশী - তার পরবর্তী স্থানে রয়েছে
জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রায় ১৯.৩%।
বাংলাদেশে প্রতিবছর ৮০৬৮ নারী নতুন করে জরায়ু মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৫২১৪ জন নারী মৃত্যু বরন করেন (২০১৮ র বি এস এম এম ইউ র পরিসংখ্যান) ।

#জরায়ু নারী শরীরের প্রজনন অঙ্গ সমূহের মধ্যে একটি অঙ্গ যার কাজ প্রতিমাসে ওভারি বা ডিম্বাশয় হতে নিঃসরিত হরমোনের প্রভাবে ১২- ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক রক্তক্ষণ ও গর্ভধারন করা।
সোজা কথায় মানবশিশুর জন্য ভ্রুন থেকে ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত কন্টেইনার বা পাত্র হিসাবে কাজ করা যেই কন্টেইনার স্বয়ংক্রিয়ভাবে জীবন ধারনের যা প্রয়োজন যোগান দিয়ে যায়।
কন্টেইনারের মত জরায়ুর ও একটি মুখ আছে যেটি যোনীপথের উপরের দিকে অবস্হান করে থাকে এবং এর মাধ্যমে জরায়ু থেকে নিঃসৃত রক্ত প্রতি মাসে বা গর্ভের শিশু জরায়ুর মুখ খোলা ও যোনীপথ দিয়ে প্রসব বা জন্মগ্রহন করে।
জরায়ু মুখ যেহেতু ভিতরের কোন অংগ নয় কাজেই এটি যোনীপথে খালি চোখে দেখা বা পরীক্ষা করা যায় - কিংবা যে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাথা হীন ভাবে করা যায়।

#জরায়ু মুখ ক্যান্সার কোন সংক্রামক ব্যধি নয় -
ইিউম্যান প্যাপিলোমা নামক একটি ভাইরাস (HPV) পরিবারের কিছু দুষ্ট সদস্য ( -16,18) এর প্রধান কারন। প্রায় নারীরা জীবনে একাধিকবার এই ভাইরাস দ্বারা যৌন সংসর্গের মাধ্যমে আক্রান্ত হন।
তবে বেশীরভাগই সহজাত প্রতিরোধ ক্ষমতার মাধ্যমে সংক্রমন মুক্ত হয়ে যান- যারা ঝূকিপুর্ণ অবস্হানে আছেন তাদের মধ্যে এই ভাইরাস ক্যান্সারের পূর্বাবস্হার (CIN) সৃস্টি করে দীর্ঘমেয়াদে অবস্হান করে এবং প্রায় ১০-১৫ বৎসর পর পূর্ণ ক্যান্সারে রুপান্তরিত হয়।

#কারা ঝূকিতে রয়েছেন -

১. অল্পবয়সে বিয়ে ও শারিরীক সম্পর্ক
(১৮ বছরের আগে)।
২. অল্পবয়সে গর্ভধারন ( ২০ বছরের আগে)
ও সন্তান প্রসব।
৩ . ঘনঘন ও অধিক সন্তান প্রসব
৪. একাধিক পুরুষের সাথে যৌন সংসর্গ
৫. স্বামীর একাধিক মহিলার সাথে যৌন সংসর্গ
৬. অপুষ্টি ও অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্হ্যকর জীবন
যাপন ও যারা ধুমপান করেন।
৭. যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।
৮. যারা ক্যান্সারের পূর্বাবস্হা নির্ণয়ের পরীক্ষা
সমূহ করান না।

#নিন্মোক্ত পরীক্ষা সমূহের মাধ্যমে ক্যান্সারের
পূর্বাবস্হা নির্ণয় করা যায়

-Visual inspection with acitic acid)
ভায়া পরীক্ষা- যে কোন প্রশিক্ষত স্বাস্হ্যকর্মী কয়েক মিনিটে এটি করতে পারেন অথবা
#পেপ টেস্ট (PAPs smear test) যেটির জন্য ল্যাব
দরকার হয়।
#কল্পোস্কোপিঃ পূর্বোক্ত পরীক্ষায় সন্দেহজনক কিছু
পাওয়া গেলে কল্পোস্কোপির মাধ্যমে পরীক্ষা করা ও
বায়পসি নিয়ে ক্যান্সারের পূর্বাবস্হা নির্ণয় করা যায়
ও সাথে সাথে চিকিৎসা ও করা যায়।
দেশের বড় হাসপাতাল গুলোতে বিনামূল্যে করার
ব্যবস্হা রয়েছে।
পরীক্ষা - যেটির জন্য ল্যাব দরকার হয়।
তুলনামূলক ভাবে ব্যায়বহুল।
#উপরোক্ত পরীক্ষা সমূহের মাধ্যমে সমন্বিত ভাবে
ক্যান্সারের পূর্বাবস্হা নির্ণয় করা হয় এবং
প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে রোগী সম্পূর্ণ সুস্হ
হয়ে যায়।

#পরীক্ষার_নিয়মাবলীঃ

- যাদের বয়স ৩০ বৎসর বা তার বেশী /
বিবাহিত জীবন ১০ বৎসরের বেশী।
- যারা ঝূকিপূর্ণ অবস্হানে আছেন।
- মাসিকের দশম থেকে বিশতম দিনের মধ্যে
(মাসিক ঋতুস্রাব চলাকালীন করা উচিত নয়)।
- পরীক্ষার আগে স্বামী সহবাস কিংবা যোনীপথে
কোন ঔষধ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
- ভায়া পরীক্ষা নিকটবর্তী যে কোন স্ব্যাস্হকেন্দ্রেই
বিনামূল্যে করা যাবে।
- এই পরীক্ষা নিরাপদ ও ব্যাথামুক্ত, এতে শরীরের
কোন ক্ষতি হয়না।
- পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ হলে ও প্রতি ৩ বৎসর
অন্তর VIA করতে হবে।

#প্রতিরোধ কিভাবে করা যায়-

- সর্বোত্তম পদ্বতি হলো কিশোরী মেয়েদের ১৫ বৎসরের মধ্যে (যৌন সংসর্গের পূর্বেই ২ মাস অন্তর) এইচ পি ভি ভাইরাসের বিরুদ্বে দুই ডোজ টীকা নেয়া। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের টীকাদান কর্মসূচিতে ১০ বছর বয়সে একটি জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টীকা প্রদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
(দুই রকম টীকা-Cervarix ,Gardacil) আমাদের দেশে পাওয়া যায়।
- এছাড়া নারীদের ১৫ -২৬ বৎসর বয়সের মধ্যে
দুই ডোজ নেয়া (১ ও ৬ মাসে)
- বাল্য বিবাহ/অল্পবয়সে শারিরীক সম্পর্ক
পরিহার।
- বিশ্বস্ত জীবনসঙ্গী ও নিরাপদ যৌনজীবন।
- অধিক সন্তান না নেয়া।
- স্বাস্হ্যকর পরিবেশ ওপরিচ্ছন্ন জীবন যাপন।
- নিয়ম মাফিক জরায়ু মুখ ক্যান্সারের পরীক্ষা
করা
(স্ক্রিনিং টেষ্ট সমূহ )।
- নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহন।

#ক্যান্সারের_লক্ষন_সমূহঃ

- স্বামী সহবাসের পরে যোনী পথে রক্তপাত
অন্যতম প্রধান লক্ষন।
- যোনীপথে রক্তমিশ্রিত সাদাস্রাব।
- অতিরিক্ত সাদা স্রাব / ও গন্ধযুক্ত স্রাব যাওয়া।
- মেনোপজ বা মাসিক স্হায়ীভাবে বন্ধের
পরবর্তী রক্তক্ষরণ ।
- দ্রুত ওজন কমা/অতিরক্ত কোমর ব্যাথা।
- যোনীপথে মল-মূত্র বের হওয়া।

#উপরোক্ত সমস্যা সমূহ দেখা দিলে স্ত্রীরোগ
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে যিনি
বায়োপসি ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে
ক্যান্সারের স্টেজ নির্ধারন করে অপারেশন
কিংবা কেমো রেডিয়েশনের পরামর্শ দেবেন।

#উপসংহার

জরায়ুমুখের ক্যান্সারে টীকা দিয়ে(শত ভাগ নয়)
প্রতিরোধ করা যায় এবং পূর্বাবস্হা নির্ণয় করা
যায় ভায়া নামক অতি সহজ একটি পরীক্ষার
মাধ্যমে ।
পূর্বাবস্হা হতে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে
কমপক্ষে দশবৎসর সময় লাগে - এই সময়ের মধ্যে সচেতন হয়ে এই রোগ নির্মূল করা যায়।

কাজেই সর্বস্তরের সচেতনতাই পারে আমাদের দেশের নারীদের এই ক্যান্সারমুক্ত রাখতে এবং
এই ক্যান্সার সচেতনতা সপ্তাহ পালন সার্থক হবে।

প্রফেসর ডা.কামরুন নেসা রুনা
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ
প্রেসিডেন্ট
অবস্ ও গাইনী সোসাইটি, চট্টগ্রাম।

27/05/2026

#গল্প

#অন্য_রকম_ইদ_আনন্দ

ডা. শায়লা ওয়ার্ড রাউন্ড শেষ করে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে রুমে এসে বসল। অতিরিক্ত গরম পড়েছে এবার।
রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে পড়েছে ।

সে এই হাসপাতালে প্রসূতি বিভাগের
রেসিডেন্ট সার্জন। ভাবল এবার
ডাইরেক্টর স্যারকে ধরে রুমে এসি
লাগানোর ব্যবস্হা না করলেই নয়।
ফ্যানের বাতাসে আর কাজ হচ্ছেনা।
আগামীকাল ইদ , ছুটি শুরু হয়ে গেছে। অনেকে ছুটিতে বাড়ি গেছে।
ইমারজেন্সি রোষ্টারের ডাক্তার কয়েকনজন ওয়ার্ডে আছে।
সে এসেছে রাউন্ড দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগী গুলোকে দেখে যেতে।

শায়লা কলিং বেল চাপল।
সহকারী রেজিষ্ট্রার সানজিদা উঁকি দিল
- আপা ডাকছেন ?
- হুম! ভর্তি রোগী গুলোর দিকে
খেয়াল রেখ। আমি বাসায় গেলাম।

এদিকে বাচ্চাদের জুতা এখনো কেনা বাকী। ভীড় কম থাকলে বাসায় যাবার পথে মিমি সুপার মার্কেট থেকে কিনে নেবে ভাবল।
ওর স্বামী আসিফ একেবারেই মার্কেটে যেতে চায়না।
শায়লা অবশ্য এতে কিছু মনে করেনা।
গাইনী বিশেষজ্ঞ হওয়ায় ওর যে রকম দিন রাত হাসপাতালে থাকতে হয়।
আসিফ ইন্জিনীয়ার ও ঘর কুনো
হওয়াতে বাচ্চাদুটোকে সময় দিতে পারে।

শায়লার বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিল।
মা খুব খুতখুত করেছিল আসিফ ডাক্তার নয় দেখে ।
তবে বিগত একযুগে দেখেছে স্বামী হিসাবে সে অনেক কম্প্রোমাইজিং।
বিশেষ করে শায়লার পোষ্ট গ্রাজুয়েশনের সময় বাচ্চাদের দেখা থেকে শুরু করে অন্যান্য সবক্ষেত্রে তার অনেক সাপোর্ট ছিল।
কোথায় ভেবেছিল উচ্চতর ডিগ্রী হয়ে গেলে চুটিয়ে ঘর সংসার করবে। পারছে আর কই-
টারশিয়ারী লেভেলের এই হাসপাতালে প্রচুর রোগীর চাপ,
দায়িত্ব ও অনেক বেশী।
সন্ধ্যায় আবার চেম্বারে দৌড়াতে হয়।

তবে প্রসূতি ওয়ার্ডে কাজ করতে
পছন্দ করে শায়লা।
এ ওয়ার্ডটি সব সময় পূর্ণ থাকে নুতন
জীবন এবং আশা নিয়ে।
যারা প্রথম মা হতে যাচ্ছে
তারা আকুল ও উৎকন্ঠিত থাকে।
তাদের ভরসাস্হল হতে শায়লার
খুব ভাল লাগে।
ভাবতে ভাবতে মিমি সুপার মার্কটের সামনে গাড়ি চলে এল।
ছেলে ও মেয়ের জন্য বাটা থেকে জুতা কিনে পাশে আগোরা থেকে কিছু বাজার করে নিল শায়লা।

ইদে কিছু স্পেশাল রান্না করবে এবার এবং বিকেলে বাচ্চাদের নিয়ে বেড়াতে বের হবে ভাবল সে,
বাচ্চাদের একেবারে সময় দিতে পারেনা সে।
কতদিন চারজনে একসাথে বেড়ানো হয়না!
বাসায় কলিং বেল দেবার সাথে সাথে ছেলেমেয়ে দুটো দৌড়ে এল।
ছোট মেয়েটিকে কোলে নিয়ে কাজের সাহায্যকারী খালাকে বাজার দিয়ে গোসল করতে ঢুকল শায়লা।

মা বাড়ি থেকে বিঃশ্বস্ত এই মহিলাকে পাঠিয়েছিলেন প্রথমবার প্রেগনেন্ট হবার পর।
সেই থেকেই সাথে আছে -
বাচ্চাদের দেখাশুনা থেকে শুরু করে রান্নাবান্না সামলে নেয়ায় -
সে একরকম নিশ্চিন্ত থাকে
হাসপাতাল ও চেম্বারে।
গোসল সেরে ডাইনিং টেবিলে খেতে বসে সবাই।
আসিফ জানতে চায়
- কাল কি প্ল্যান ইদের ?
- স্পেশাল আইটেম রান্না ও খাওয়া
দাওয়া সেরে বিকেলে বেড়াব সবাই।

ছেলেমেয়ে দুটো আনন্দে লাফায়।
মা বাবার সাথে খুব একটা বেড়ানো
হয়না ওদের।
অথচ পাশের বাসার মিহি,
সুমিতদের দেখে প্রতি উইক এন্ডে
ওরা বাবামার সাথে বেড়াতে যায়।
পরের দিন ইদের প্রস্ততি নিতে সারা
সন্ধ্যা ও আধেক রাত কাটে ওর।

ইদের দিন সকাল থেকেই মনটা
একটু ভারী ।
বাবা, মা, শশুর, শাশুরী
সবাইকে ফেলে কর্মস্হলে ইদ
করতে হচ্ছে।
সকাল সকাল আসিফকে ঠেলে তুলে
ইদের নামাজ পড়তে পাঠিয়েছে ।
ছেলে মেয়ে দুটোকে নুতন জামাকাপড়
পড়িয়ে রেডি করে
নিজে ও হল রেডি ঝটপট ।
আসিফ এলে একসাথে সবাই
সেমাই, ফিরনী খাবে।

এর মাঝে সহকারি রেজিষ্ট্রার
সানজিদার টেলিফোন-
- আপা ২০ নম্বর বেডের রোগীর
অনেক ব্লিডিং হচ্ছে।
- বেবীর হার্টবিট ও ইরেগুলার ,
ব্লাড প্রেশার ও কমে যাচ্ছে।

বিশ নম্বর বেডের রোগী যেন কে?
মনে করার চেষ্টা করল শায়লা।
মনে পড়ল রোগী মারিয়া একজন ৩৫
বৎসর বয়সী মহিলা
যার প্রসবের সময় আরো একমাস
পর। হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি।

তার এটি চতুর্থ গর্ভধারন ও আগের তিনটি এবরশন।
এবার গর্ভকালীন চেক আপে দেখা গেছে- তার প্লাসেন্টা অর্থাৎ গর্ভফুলটি
জরায়ুমুখে থাকায়
ও মাঝে মাঝে অল্প ব্লিডিং দেখা
দেওয়াতে এখন সে হাসপাতলে
ভর্তি ।
রোগীর শশুরবাড়ির লোকজন অত্যন্ত বিরক্ত এবং এবার সুস্হ বাচ্চা
না হলে তার স্বামীকে আবার বিয়ে করানোর পরিকল্পনা ও নাকি রয়েছে।
ওই বেডের দায়িত্ব প্রাপ্ত ডাক্তারের কাছে শুনা।
গতকাল রাউন্ডে ও রোগীর উদ্বিগ্ন মুখ দেখে ভরসা দিয়ে এসেছে এবার সব ঠিকঠাক হবে।

- দ্রুত এম্বুলেন্স পাঠাও ।
সানজিদাকে বলে আসিফের জন্য
চিরকুট লিখল
- রোগী সিরিয়াস,
হাসপাতলে যেতে হচ্ছে,
বাচ্চাদের ম্যানেজ করো।

দশমিনিট পরে ডা. শায়লা রওয়ানা
হয়ে গেল হাসপাতালে।
লিফটে চেপে ছয় তলায় ওয়ার্ডে
যখন ঢুকল তখন দেখে
দুইজন নার্স ও একজন রেসিডেন্ট
বিশ নম্বর বেডের রোগীর
ব্লাড ড্র করার চেষ্টা করছে।

রোগী শকে অজ্ঞান ,পরনের কাপড়
রক্তে সয়লাব ।
দুই লাফে রোগীর বেডের পাশে
চলে এল শায়লা।
ওকে দেখে কিছুটা স্বস্হির নিঃশ্বাস
ফেলল ডিউটিরত ডাক্তার।
পালস দেখল রোগীর -অত্যন্ত দ্রুত ।
প্রেশার ৮০/৫০ মি: মি:।
নার্স শায়লাকে একটি সিরিন্জ এগিয়ে
দিল,
শায়লা দক্ষ হাতে ব্লাড টেনে
রেসিডেন্টকে দিল চার ব্যাগ ব্লাডের
চাহিদা পাঠাতে ব্লাড ব্যাংকে।
স্যালাইন চালু করে দিল শিরায়।

ফিরল নার্সের দিকে
- অপারেশন থিয়েটারে খবর দাও
টিম রেডি করতে।
ডা.সানজিদাকে বলল
- রিস্কের কথা জানিয়ে অভিভাবকের
সই নাও সম্মতি পত্রে।
একজন রেসিডেন্ট এসে জানায়
- রোগির রক্তের গ্রুপ এবি পজিটিভ ,
আর ডোনাররা ইদের জন্য বাসায়।
- এই মূহুর্তে ব্লাড ব্যাংকে এই
গ্রুপের রক্ত মাত্র এক ব্যাগ পাওয়া
গেছে। রোগীর অবস্হা আরো
খারাপ।
- এনেস্থেশিওলজিষ্ট আরো দুব্যাগ
রক্ত ছাড়া অজ্ঞান করতে
রাজী হচ্ছেন না।
শায়লার মাথায় হাত।
একটু চিন্তা করে একজন ইন্টার্ণ
ডাক্তরকে বলল
– তোমাদের মধ্যে কারো বা
ডাক্তার যারা অন্যান্য ওয়ার্ডে ডিউটি
করছে কার এবি পজিটিভ ব্লাড গ্রুপ
খবর নাও।

রোগীর ভাগ্যক্রমে দুজন পাওয়া গেল
একই গ্রুপের । তাদের বলতেই
রক্ত দিতে ছুটল ব্লাড ব্যাংকে।
আধাঘন্টা পরে রোগী মারিয়াকে
নিয়ে আসা হল অপারেশন
টেবিলে।
ওটিতে ঢুকল একজন জুনিয়র
এনেস্হেশিওলজিষ্ট। মেজাজটা
কিছুটা বিগড়ে গেল শায়লার।
ছুটির মাঝে সব কিছু অবশ্য চাহিদা
মোতাবেক পাওয়া যায়না।

এনেস্হেশিয়া দেবার পর মনিটরে
তাকাল শায়লা
- পালস ১৪০,
- ব্লাডপ্রেশার ৮০/৪০ মিঃমিঃ,
- অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯০ শতাংশ।
অপারেটিং টেবিলে জ্বলতে থাকা
এগারশ ওয়াটের উত্তপ্ত বাতির শাদা
আলোর নীচে অপারেশনের জন্য
রেডি হয়ে দাড়াল শায়লা।

আল্লাহর নাম নিয়ে নিপুন হাতে
স্কালপেল চালিয়ে পেট
কেটে খুলে ফেলল রোগীর জরায়ু।
বের করে আনল মৃতপ্রায়
কন্যাশিশুটি।
রিসাসিটেশনের জন্য বেবীকে
নার্সের হাতে দিয়ে শায়লা প্রানপনে
জরায়ুর রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা চালাতে
লাগল।
প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে রোগীর।
একজন রেসিডেন্ট মনিটরে তাকিয়ে
চেঁচিয়ে উঠল
- ‘ব্লাডপ্রেশার নেমে যাচ্ছে’।
- মনিটরে হার্টবিটের লাইন ও কেমন
ফ্ল্যাট হয়ে আসছে।
- হায় আল্লহ! কার্ডিয়াক এরেষ্ট।

মনে মনে আল্লাহকে স্মরন করে
পেটের ভিতর হাত ঢুকিয়ে হার্টে
প্রান পণে স্টিমুলেশন দেয়া শুরু
করল শায়লা।
এনেস্থেশিওলজিষ্ট সহ সবার
কিছুক্ষনের প্রচেষ্টায় রোগীর হার্ট
আবার সচল হল।
শায়লা তার কাজ শুরু করল।
তিনঘন্টা লাগল অপারেশন এ ।
রোগীর জরায়ু বাঁচিয়ে রক্তপাত বন্ধ
করার সব ধরনের উপায় অবলম্বন
করে যখন অপারেশন সফলভাবে শেষ -
তখন আধা জ্ঞান হারানোর মত
অবস্হা শায়লার।

এনেস্থেশিওলজিষ্ট যখন আশ্বাস দিল রোগী সেটেলড,
তখন শায়লা কিছু না বলে টলতে টলতে নিজের রুমের দিকে গেল।

অফিস রুমে গিয়ে গিয়ে মনে হল
আজ ইদ।
সকালে নুতন জামা পরা ছেলেমেয়ে
দুটোর হাস্যোজ্জ্বল মুখ মনে পড়ল।
কোথায় পরিবারের সবাই আশা করে
ছিল একসাথে ইদ পালন করবে,
খাবে দাবে ঘুরবে -
আর সে কিনা হাসপাতলে পড়ে আছে।

এরকম খারাপ রোগী রেখে বাসায় ও
যেতে ইচ্ছে করছেনা।
নিজের পেশার উপর বিরক্তিতে মনটা
ভরে উঠেছে ডা. শায়লার,
এতক্ষণের টেনশন ও ক্লান্তিতে
টেবিলে মাথা রেখে চোখ বুজে বিশ্রাম
নিতে থাকল।
কতটা সময় কেটেছে ঠিক বলতে
পারবেনা।

হঠাৎ নবজাতকের কান্না শুনে সজাগ
হয়ে বাইরে আসল।
ওয়ার্ডের সিস্টার অত্যন্ত আনন্দিত
হয়ে জানাল
- ম্যাডাম ! বেবী রিসাসিটেশনের পরে
কান্না করছে মোটামুটি ।
তবে ভর্তি করাতে হবে নবজাতক
বিভাগে পর্যবেক্ষণের জন্য।
ডা. সানজিদা দৌড়াতে দৌড়াতে
এসে জানাল
-- আপা রোগীর জ্ঞান ফিরেছে,
পালস্ ব্লাডপ্রেশার স্বাভাবিক
হয়ে আসছে, ব্লিডিং ও কন্ট্রোলড
এবং বাচ্চা দেখতে চাচ্ছে।
- 'চল দেখে আসি’ বলল শায়লা।

নার্স বেবীকে নিয়ে মায়ের বুকে
যখন দিল - রোগী মারিয়ার
মুখের কৃতজ্ঞতা মিশ্রিত
হাসি ও খুদে মানব শিশটির কান্না
দেখে শায়লার এতক্ষণের
ক্লান্তি, বিরক্তি কোথায় যে উবে গেল!
মন ভরে উঠল এক অনির্বচনীয়
ভাল লাগার অনুভূতিতে।
খোদার প্রতি শুকরিয়া জানিয়ে
ভাবতে লাগল
- এই যে যমে মানুষে টানাটানি,
এত অক্লান্ত পরিশ্রমের পর মা ও
নবজাতকের বেঁচে যাবার যে আনন্দ-
এই আনন্দের সাথে আসলে কোন
কিছুরই তুলনা হয়না।

নাই বা হল গতানুগতিক ইদ!
নবজাতকের কাঙ্ক্ষিত কান্না শোনা ও
মরনাপন্ন রোগীর মুখে হাসি দেখার
এই স্বর্গীয় আনন্দই হোক
আজ এই টীমের ইদ আনন্দ!!

#বিশেষ দ্রষ্টব্য :
ঘটনাটি সত্য তবে পাত্রপাত্রী
কাল্পনিক।আমার দৃঢ় বিশ্বাস বেশীর
ভাগ প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞদের
জীবনে এরকম ঘটনা কখনো না
কখনো ঘটেছে।

ডা. কামরুন নেসা রুনা
২০ -০৪ -২০২৩

27/05/2026

#প্রসূতিবিদদের_ইদের_গল্প
( সত্যি ঘটনা অবলম্বনে)
(১)
আজ বাদে কাল ইদ।
এত ভিড় বাট্টায় জার্নি করে ছুটিতে বাড়ি যাওয়া সব সময় অপছন্দ
ডা. শায়লার। তাছাড়া ছুটি ও মিলেনি এবার।এ নিয়ে কাল রাতে রীতিমত কথা কাটাকাটি হয়ে গেল আসিফের সাথে। কেন সে এবারের ইদে ছুটি ম্যানেজ করতে পারল না তাই ।

রেসিডেন্ট সার্জন হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদান করেছে মাস ছয়েক ।
কাল সে জন্য ছুটির জন্য আবেদন নিয়ে গিয়েছিল। প্রফেসর ছুটি দিতে রাজি হননি কারণ এ সময় যাবতীয় খারাপ রোগী আসে, ছুটির ডামাডোলে নানান মিসহেপ হওয়ার সন্ভাবনা থাকে।
এক কথায় নাকচ করে দিয়ে বলেছেন কোরবানি ইদে ছুটি নিতে।
শেষমেশ আসিফ বাচ্চাদের নিয়ে ইদ করতে রওয়ানা দিয়েছে তাদের বাড়িতে।
একা মানুষের রান্না বান্নার ঝক্কি নেই।
সামান্য কিছু দিয়ে ইফতার সেরে ফেলল শায়লা।
আগামীকাল মানে ইদের কর্মপন্থা ভাবতে লাগল।
ওদের একটা সুবিধা আছে,
হাসপাতালের পাঁচতলায় কিছু কেবিন ইমার্জেন্সি ডিউটি ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
শায়লা ভাবল কাল ইদের দিন সকালে হাসপাতালে যাবে আর বাসায় আসবেনা, কেবিনেই থাকবে।
টুকটাক জিনিস গুছিয়ে রাখল সকালে
হাসপাতালে নেয়ার জন্য।

(২)
আজ ইদ।
সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে
চা নাস্তা খেয়ে রেডি হয়ে গেল শায়লা।
একা বাসায় ঘুম ভাল হয়নি রাতে।
না জানি বাচ্চারা কি করছে এখন।
তবে আসিফ খুব কেয়ারিং ফাদার।
তাছাড়া ওদের দাদী জেঠিরা থাকায়
ও একরকম নিশ্চন্ত।
ডিউটি ডাক্তারকে এম্বুলেন্স পাঠাতে বলে কাজের বুয়াকে ইনস্ট্রাকশন দিল কিছু।
- এম্বুলেন্স এসে গেছে বুয়া জানায়।
- খালা অপরিচিত কেউ এলে দরজা
খুলোনা যেন।
ব্যাগ ঝুলিয়ে নেমে গেল শায়লা।
রাস্তা ঘাটে লোকজন তেমন নাই,
সবাই মনে হয় ইদের নামাজে ব্যস্ত।
স্বল্প সময়ে হাসপাতালে পৌঁছে নিজের
কেবিনে গেল।
শায়লা আর রেজিষ্ট্রার দুজনের জন্য
এই ১৮ নং কেবিনটা বরাদ্দ।
রুমমেট ছুটিতে গেছে।দুইটা বিছানা, একটা মান্ধাতার আমলের ড্রেসিং টেবিল, দুইটা চেয়ার, এটাচড বাথরূম ও এক চিলতে বারান্দা। মন্দের ভাল।
রুমে পৌঁছে ডিউটি ডাক্তারের সাথে
ইন্টারকমে কথা বলে নিল।
নাহ্ ওয়ার্ড এখন পর্যন্ত কুল আছে।ওদের ঠিক একতলা উপরেই প্রসূতি ওয়ার্ড।
বাচ্চাদের জন্য একটু মন খারাপই লাগছে। নিজের বিছানায় গা এলিয়ে দিল।
(৩)
ইন্টারকমের কর্কশ শব্দে ঘুম টুটে
গেল শায়লার।
- আপা ! সারভাইকেল এনসারক্লেজ
দেয়া রোগী লেবার পেইন নিয়ে
এসেছে। সেলাই খুলতে পারছিনা।
ডিউটি ডাক্তারের ফোন।
- টেবিলে তোল, আমি এখনি আসছি।
দ্রূূত সিড়ি টপকে প্রসূতি ওয়ার্ডে
ঢুকল শায়লা।


যখন কোন নারীর পর পর মিসক্যারিজ হতে থাকে প্রেগনেন্সির মাঝামাঝি সময়ে,তখন দেখা যায় এটার কারণ জরায়ু মুখের দূর্বলতা বা Cervical Incompetence.
নীচের দিকে চাপ পড়লে অসময়ে জরায়ুমুখ খুলে পেইন শুরু হয়ে এবরশন কিংবা প্রি ম্যাচিউর লেবার
হয়। এর চিকিৎসা জরায়ুমুখে প্রেগনেন্সির শুরুতেই মোটা সিল্ক সূতা দিয়ে পার্স-স্ট্রিং সেলাই দেয়া,
এতে চট করে জরায়ুমুখ খুলতে পারেনা, বেবী ম্যাচিউর হলে সেলাই কেটে দিয়ে ডেলিভারির ব্যাবস্থা করা যায়।
রোগীকে দেখে ইতিহাসটা মনে পড়ে গেল শায়লার।

#হামিদা_বেগম সাদাসিধা গ্রামের মেয়ে। চকরিয়া শশুর বাড়ি।
বিয়ের পাঁচ বছরে ওর চার চারটা এবরশন হয়ে গেছে।
প্রথমটা সাত মাসে পড়তেই
-২য় ছয় মাসের মাঝামাঝি
-তৃতীয়টা পাঁচ মাসে
-চতুর্থটা চার মাস পার করতেই পারেনি
বেচারী।

হামিদার শাশুড়ি তো মহাখাপ্পা। ছেলেকে আরেকটা বিয়ে করাতে একপায়ে খাঁড়া । যেহেতু জরায়ুর দোষে বাচ্চা রাখতে পারছে না হামিদা তাছাড়া
বংশধর দরকার এখন তাদের।

#এবার আবারো গর্ভধারণ আট সপ্তাহ চলছে। বাবা মার একান্ত অনুরোধে শেষ চেষ্টা করতে রাজি হয়েছে হামিদার শাশুড়ি।
হামিদাকে নিয়ে এসেছে তার বড়খালার বাসায় শহরের উন্নত চিকিৎসার জন্য।
বহিঃর্বিভাগে দেখাতে এনেছিল শায়লাকে।
আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখা যায় হামিদার প্রেগনেন্সি আট সপ্তাহের
ও জরায়ু মুখ দৈর্ঘ্যে কমে ১.৫ সেন্টিমিটার,সাধারণত ২.৫ থেকে ৩ সেঃ মিঃ হয়।
শুরু হয় কাউন্সেলিংয়ের পালা। হামিদার জরায়ু মুখে সেলাই দিতে হবে আর রেস্ট এ থাকতে হবে পুরাটা প্রেগনেন্সিতে।
ওরা যা বলে তাতেই রাজি শুধু একটা সুস্থ বাচ্চা চায়।

অতঃপর হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে
১৪ সপ্তাহর সময় তাকে জরায়ুর মুখে সিল্ক সূতা দিয়ে পার্স স্ট্রিং সেলাই দেয়।
এর মাঝে হামিদার যথাযথ চিকিৎসা চলেছে, রেস্টে ও ছিল।আটমাস পার হবার পর এখন গত রাত থেকে একটু ব্যথা, সকালে ব্যথা বাড়ায় হাসপাতালে চলে এসেছে।
ড্রেস চেঞ্জ করে লেবার রুমে ঢুকলো শায়লা।
হামিদাকে লিথোটমি পজিশন করে দেখে তার ডেলিভারি ব্যথার চাপে জরায়ুমুখ একপাশে ছিড়ে ব্লিডিং হচ্ছে।
সেলাইয়ের সূতা চেপে বসে আছে।
সহকারী সহ অনেক কষ্টে হাতড়ে অনেকটা আন্দাজের উপরে সেলাইটা কেটে দিল শায়লা।
যাক বেবীর হার্টবিট ভাল আছে।
শিশু ওয়ার্ডের ডাক্তারকে ও কল দিয়ে রাখল যেহেতু একমাস আগে লেবার পেইন।
এরপর ওয়ার্ড রাউন্ড শুরু করল সে।

(৪)
এর মাঝে ইন্টার্ণ ডাক্তার একজন হাপাতে হাপাতে এসে বলল
- ম্যাডাম! একটা সিরিয়াস রোগী এসেছে খাগড়াছড়ি থেকে, রিসিভিং রূমে জলদি আসুন ।

শায়লা তার সহকারীদের নিয়ে রিসিভিং রূমে যেয়ে দেখে ভয়াবহ অবস্থা।
গত দুইদিন থেকে প্রসব ব্যথা এই রোগীর, এর মাঝে কাল রাতে নবজাতকের মাথা বের হয়েছে
কিন্তু পুরা শরীর আটকে আছে জরায়ুর ভিতর। ধাত্রী চেষ্টা চরিত্র অনেক করেছে কিন্তু ডেলিভারি করাতে পারেনি, এর মাঝে বাচ্চা মারা গেছে, রোগী ও শকে, যায় যায় অবস্থা।

এটা " #সোল্ডার_ডিসটোশিয়া_উইথ #অবস্ট্রাকটেট_লেবার"।

দ্রূূত দুটো আইভি চ্যানেল ওপেন করে রক্তের জন্য ব্লাড ব্যাংকে পাঠানোর পর
দুই হাতে স্যালাইন চালু করে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশান দিয়ে ওটিতে পাঠাল।এনেস্থেসিওলজিস্টকে ইমার্জেন্সি কল দিয়ে আনানো পর অপারেশন শুরু করতে হবে। তাও ভাগ্যিস সন্ধানীর ব্লাড ব্যাংকে O+ve দুই ব্যাগ ব্লাড পাওয়া গেছে।

এরই মাঝে বাচ্চাটা মারা যাবার পর ফুলে ফেপে একাকার।
এটাকে নরমাল ডেলিভারির মত যোণীপথে আনতে গেলে জরায়ু ফেটে যাবার সন্ভাবনা।
আবার সি সেকশন করলে ও
মাথা তো একদিন আগে ডেলিভারী হয়ে জরায়ুর বাইরে ফুলে আছে,
বাচ্চা কেমন করে পেট কেটে বের করবে??
চিন্তায় শায়লার মাথা খারাপ হবার যোগাড়।
অবশেষে একটা বুদ্ধি বের করলো শায়লা।
সহকারী রেজিস্টার ডা.আরজুকে সিজার ও ক্রেনিওটমি 'স' দিয়ে
পায়ের কাছে বসিয়ে দিল,আর সে নিজে সি সেকশনের জন্য রেডি হয়ে গেল।
রোগীকে জেনারেল এনেস্থেসিয়া দেয়ার পর ডা. আরজুকে বলল
- স ও সিজার দিয়ে বের হওয়া মাথাটা কেটে ফেল, তাহলে জরায়ু কেটে বাচ্চার বাকী বডিটা বের করা সহজ হবে।

#তারপর সেকি ভয়াবহ অবস্হা।
মৃত বাচ্চার বের হওয়া মাথাটা কাটতে ডা. আরজু ও ডা.আশুতোষের গলদঘর্ম অবস্থা।
এদিকে শায়লা পেট কেটে দেখে জরায়ু দুইদিন ধরে টানাহেচড়ার জন্য অলমোস্ট ছেড়ার বাকী ও ইনফেকটেট হয়ে কালো বর্ণের ও গন্ধযুক্ত হয়ে আছে ।
তড়িঘড়ি করে সিজারিয়ান সেকশনে বাচ্চার বাকী বডি বের করে দেখে হুড়মুড়িয়ে ব্লিডিং হচ্ছে।
কিছুতেই কন্ট্রোল করা যাচ্ছেনা।
অবশেষে সিদ্ধান্ত নিল রোগী বাঁচানোর জন্য জরায়ু রিমুভ করা দরকার।
একটা সন্তান তো আগের আছেই,
তার জন্য হলে ও সে জানে বেঁচে থাক।
অতঃপর স্বামীর সম্মতি নিয়ে জরায়ু রিমুভ করে ভাল করে নরমাল সেলাইন দিয়ে ওয়াশ করে পেট সেলাই করে দিল।
আরো দুই ইউনিট ব্লাড ট্রান্সফিউশনের কথা বলে আইসিইউতে পাঠাল ।
আদৌ বাঁচবে কিনা বলা যাচ্ছেনা,
তবু চেষ্টা তো করেছে।
এই এক রোগীর পেছনেই ইদের দিন কাবার। এদিকে ডা.আরজুর খুব মন খারাপ। ইদেের দিন এই যে বাচ্চার মাথা কাটাকাটি হোক না মৃত।
ওকে সান্তনা দেয় শায়লা -
- আমাদের তো এমনিতেই কসাই বলে
কেউ কেউ। রোগীর জীবন বাঁচানোর
জন্য না হয় হলে কসাই।

#এর মাঝে ডা. পপি এসে খবর দেয় হামিদা বেগমের একটা ফুটফুটে ছেলে হয়েছে, নরমাল ডেলিভারি,ওজন ২.৫ কেজি, শিশু ডাক্তার দেখে বলেছে তিন সপ্তাহ আগে হলে ও ভাল আছে এনআইসিইউ লাগবেনা।
এত কষ্টের মাঝে ও একপশলা খুশী ছুঁয়ে যায় শায়লাকে।
অবশেষে হামিদা বেগমের কোলজুড়ে একটা সন্তান মানে সংসারে টিকে থাকার চাবিকাঠি।

(৫)
অফিসরুমে যেতে যেতে ওয়ার্ড
রাউন্ড দিল আবার। কেউ ডেলিভারি করাচ্ছে, ডা. আরজু আর একটা সিজার করার জন্য রেডি হচ্ছে। ডিউটিরত ইন্টার্ণ ডাক্তার ক'জন ফলোআপ দিতে দিতে গলদঘর্ম।
অবশেষে পড়ন্ত বেলায় হাসপাতাল কতৃপক্ষের ইদ উপলক্ষে বরাদ্দ
ঠান্ডা উন্নত খাবার ( পোলাও- মুরগী) খেতে বসল শায়লা।

#দিন শেষে আনন্দ একটাই- সারভাইক্যাল এনসারক্লেজ দিয়ে একটা সুস্হ শিশুর জন্ম,
#বেদনা - খাগড়াছড়ির চাকমা মেয়েটির জন্য যে মা হতে গিয়ে এখন আইসিইউতে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।
বাঁচার সন্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

(৬)
এভাবে ডা.শায়লা,ডা. আরজুর মত প্রসূতিরোগ বিশেষজ্ঞদের কত ইদ,
কত পার্বণ হাসপাতালে কাটাতে হয়,
কিভাবে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে
জীবন ছিনিয়ে আনতে হয়,
সেটা একান্ত কাছের লোকজন ছাড়া আর কেউ বিন্দুমাত্র ধারনা করতে পারে কিনা জানিনা।

্রসূতি_মায়ের গর্ভ কালীণ
যাত্রা সুগম ও সহজ হোক এই কামনা।

ডা. কামরুন নেসা রুনা
চট্টগ্রাম।

 #মাদুলি_সমাচারআমি ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ  নই । তবু কিছু রোগী  মাঝে মাঝে  চলে আসে এ সমস্যা নিয়ে। যখন এসে কা...
26/05/2026

#মাদুলি_সমাচার

আমি ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ নই । তবু কিছু রোগী মাঝে মাঝে চলে আসে এ সমস্যা নিয়ে।
যখন এসে কাচুমাচু মুখে বলে স্বামী আর মাত্র দু'মাস থাকবে,
তখন পরবর্তী বক্তব্য বুঝে ফেলি।
প্রবাসী স্বামী বাড়ি এলে যথাসত্বর গর্ভধারণের চেষ্টা।
অসফল হলে গাইনী বিশেষজ্ঞের চেম্বারে আগমন ও যত তাড়াতাড়ি সন্ভব বাচ্চা হবার ঔষধের আব্দার।

#ইনফার্টিলিটি( সাবফার্টিলিটি) বা বন্ধ্যাত্ব হলো-
যারা সন্তান চান কিন্তু কোন কারনে গর্ভধারন করতে পারছেন না।
এই সমস্যার জন্য স্বামী বা স্ত্রী দুজনেই দায়ী হতে পারেন।
নারীদের যে সমস্যার কারনে গর্ভধারণে অসুবিধা হয়:
- এনোভুলেশন বা ডিম্বাণু না ফোটা
- ফেলোপিয়ান টিউবে সমস্যা
- জরায়ুতে সমস্যা
- জরায়ুমুখ বা যোনীপথ সমস্যা।
পুরুষের প্রধান কারনের মাঝে রয়েছে:
- বীর্যে কোন শুক্রাণু না
থাকা(Azoospermia)বা কম
- অন্ডকোষে(Testis) সমস্যা
- স্ত্রী সহবাসে অক্ষম ( Impotent)
- আরো অন্যান্য ।
অবশ্য স্বামী স্ত্রী দুজনেই সম্পুর্ন স্বাভাবিক, কারো কোন সমস্যাই পাওয়া যায়না তবু ১০℅ দম্পতির সন্তান হয়না
এরকম ও দেখা যায়।

তেমনি একদিন কাচুমাচু মুখ নিয়ে বন্ধ্যাত্ব সমস্যা নিয়ে আসল রহিমা খাতুন।
তার বিয়ে হয়েছে চার বছর।
মামা মামীর সংসারে মানুষ।
মা ছোটবেলায় মারা যাওয়ায়
তদুপরি বাবা আর একটা বিয়ে করেন।
সৎমার সংসারে তার খুব অনাদরের জন্য মামা দয়া পরবশ হয়ে তার সংসারে স্হান দিয়েছিল ।

মামার অবস্হা ও তেমন ভাল ছিলনা।
মামাতো বোনদের সাথে ক্লাস এইট পর্যন্ত স্কুলে পড়েছে যতদিন বিনা বেতনে পড়া যায়।
লেখাপড়ায় তেমন ভাল না হওয়াতে মামীকে সাংসারিক কাজে সাহায্য করাই তার কাজ ছিল।

দেখতে অবশ্য সে ছিল বেশ ডাগর ডোগর।
এর মাঝে একদিন পুকুর থেকে পানি আনার সময় চোখে পড়ে পাশের গ্রামের রহমান মিয়ার।
তার মেজ ছেলে ছলিম মিয়া দুবাই থাকে। বিয়ের দশবছর পরে ও বউ গর্ভধারণ করতে না পারায় সেই বউয়ের সাথে ছাড়াছাড়ি।
এরপর দেশে এলে তাকে বিয়ে করাতে হবে বলে পাত্রী হিসাবে রহিমাকে পছন্দ করে সে।
এর কিছুদিন পর চোখের জলে বালিশ ভিজিয়ে মামীর সংসারের বোঝা কিছুটা হালকা করে বয়সে তার থেকে দ্বিগুন বড় ছলিম মিয়ার সংসারে তার পদার্পণ।

রহিমার ভাষ্যমতে-
প্রথম দিকে কিছুটা আনন্দেই ছিল। বয়সে বড় হলে ও স্বামী তাকে আদর সোহাগেই রেখেছিল।
সন্ধায় বাজার থেকে ফেরার সময় চুড়ি,ফিতা এসব ও এনেছে প্রথম দিকে।
দেখতে দেখতে ছুটির দুমাস কেটে যাওয়ায় সে দুবাই ফেরত যায়।
এরপর কয়েক বছরে বার কয়েক ছলিম মিয়া দেশে এসেছে।
কিন্তু রহিমা গর্ভধারন করতে পারেনি।
শাশুড়ী, জাদের গন্জনার সীমা নেই।
সারাদিন সংসারের সমস্ত কাজকর্ম সূচারু ভাবে করার পরে ও উঠতে বসতে খোঁটা আর সইতে পারছে না রহিমা ।
- পাশের বাড়ীর বউটা একবছরেই যে বাচ্চার মা হয়েছে, ওর কেন হয়না।
- শশুরবাড়ির দেয়া থোয়া বলতে নেই, তদুপরি গর্ভধারণের ও খবর নাই ইত্যাদি ইত্যাদি।

অথচ ওর স্বামী যে বিয়ের দু'মাস
পরেই বিদেশ চলে গেছিল এটা যেন কোন ব্যাপারই না। এরপর কয়েকবার আসলে ও একমাসের মত ছুটি নিয়ে আসতো।
সেই ছুটিতে এখানে ওখানে আত্মীয় বাড়ি যাওয়া আসায় চোখের নিমেষে ছুটি শেষ।
না কোন ডাক্তার দেখানো, না হল কোন গর্ভধারণ!

এবার একটু লম্বা ছুটি হওয়াতে স্বামীর হাতে পায়ে ধরে বুঝিয়ে শুনিয়ে এবার আমার চেম্বারে নিয়ে এসেছে।

আমি বুঝিয়ে বলি
- বিয়ে চার বছর হলে ও বৈবাহিক
জীবন যাপন মাত্র চার পাঁচ মাস।
এবার নিশ্চয় হবে।
- তবে আপনাদের কিছু পরীক্ষা
নিরীক্ষা করা দরকার।

বলে প্রেসক্রিপশনে সব লিখে দেই।
দুদিন পর যথারিতী সব পরীক্ষা করে
আনে শুধু স্বামীর Semen Analysis
বাদে।
এ পরীক্ষা করতে তার ঘোরতর
অসম্মতি জানিয়েছেন-
কারন তিনি সম্পূর্ণ সবল।
আমি ও নাছোড়বান্দা।
বললাম
- আপনার স্ত্রীর রিপোর্ট ঠিক
আছে তবে আমি আপনার রিপোর্ট ছাড়া যে চিকিৎসা দিতে পারব না।

আমি অসম্মতি প্রকাশ করাতে তারা
আমার কাছে আর আসেনি।
আমি ও তাদের ভুলেই গেছিলাম।

কিছুদিন পর তারা আবার এসে
হাজির।স্বামীর ছুটি শেষের দিকে।
এর মাঝে অন্যান্য ডাক্তারের
প্রেসক্রিপশন/ বিভিন্ন পীর হুজুরের
শরণাপন্ন হয়ে আবার আমার কাছে।

আমি আবারো চাপ দেই স্বামীর
Semen Analysis করানোর
জন্য। বুঝাতে সক্ষম হই-
- আপনার স্ত্রীর পরীক্ষা যেমন
করেছেন তেমনি আপনারটা
করলে তবেই না বুঝতে পারব
অসুবিধা কোথায়।
ছলিম মিয়া মনে হয়
না পারতেই পরীক্ষা করালো।
রিপোর্ট নিয়ে আমার চেম্বারে
আবার আগমন।
ছলিম মিয়ার রিপোর্টে
পাওয়া গেল Azospermia
( বীর্যে কোন শুক্রাণু নেই)।

যতই বুঝাই স্বামীর চিকিৎসা লাগবে
অথবা ART
(Assited Reproductive Technology) চেষ্টা করে দেখ-
- কিংবা একটা বাচ্চা পালতে পার।

কিছুতেই মানবেনা, কারণ হুজুর
বলেছেন হবে।
কোমরে একগাদা তাবিজ মাদুলী
রহিমার,একবুক আশা গর্ভধারনের।
হুজুরের দোয়ার একটা ফলাফল আছেনা !!

কিন্তু এসব তাবিজ তুমারে কিছু হবার নয়।ছলিম মিয়ার আগের বউকে তালাক দিয়েছে বাচ্চা না হবার অপরাধে। এখন তো রহিমা জানল দোষ তার নয়,স্বামীর।
রহিমা কি করবে ??
এমন পরিস্থিতি বা সাপোর্ট রহিমার নাই যে সে এই স্বামীকে তালাক দিয়ে বাপের বাড়ি ফেরত যাবে।
লেখাপড়া ও তেমন করেনি নিজের পায়ে দাড়ানোর মত।
তাই এই ফেইক তাবিজের উপর
ভরসা করে দিন কাটানো ছাড়া আর
উপায় কি??

#দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবছি-
এরকম কত রহিমা আমাদের
চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অথচ তেমন কিছুই আমরা করতে পারছিনা।

#আহা! থাকুক নাহয় আশায় আশায়!!

#মোরাল:
বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হলে কেবল মাত্র স্ত্রীকে দায়ী করা যাবেনা।
৪০% পুরুষের সমস্যা, ৪০% নারীর সমস্যা,১০% শতাংশ দুইজনের সমস্যা ১০% দম্পতির কোন সমস্যা ছাড়াই গর্ভধারণ করতে পারেনা।
কাজেই একবছরের মাঝে গর্ভধারণ
না হলে দূজনের যথাযথ পরীক্ষা ও চিকিৎসার মাধ্যমে সন্তান লাভের চেষ্টা করা দরকার ।

প্রফেসর ডা.কামরুন নেসা রুনা
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ
চট্টগ্রাম

Address

National Hospital, Mehedibag
Chittagong
4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নারী স্বাস্থ্য কথা By ডা. কামরুন নেসা রুনা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share