08/06/2026
জিন মানুষকে অপহরণও করতে পারে-
সৃষ্টিজগতের এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে জিনের অস্তিত্ব, যা আমাদের সাধারণ দৃষ্টির আড়ালে। পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় জিনের প্রভাব ও ক্ষমতা সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইসলামী ইতিহাসের পাতা উল্টালে এমন কিছু রোমাঞ্চকর ও সত্য ঘটনার দেখা মেলে, যা আমাদের ভাবিয়ে তোলে।
এমনই এক বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছিল ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর ফারুক (রা.)-এর শাসনামলে, যেখানে একজন জলজ্যান্ত মানুষ জিনের দ্বারা অপহৃত হয়ে দীর্ঘ বছর নিখোঁজ ছিলেন।
একব্যক্তি তার গোত্রের লোকদের সঙ্গে ইশার নামায আদায় করার জন্য মহল্লার মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। এরপর আর ফেরত এলো না। তার স্ত্রী উমর রা.-এর নিকট ঘটনা খুলে বললেন। উমর রা. গোত্রের লোকদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন। গোত্রের লোকেরা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করল। তখন উমর রা. রায় দিলেন, মহিলা স্বামীর জন্য চার বছর অপেক্ষা করবে। মহিলা খলিফার রায় অনুযায়ী চার বছর অপেক্ষা করল। কিন্তু স্বামী ফেরত এলো না। মহিলা পুনরায় স্বামী ফিরে না আসার অভিযোগ করলে খলিফা উমর রা. তাকে দ্বিতীয় বিবাহের অনুমতি দিলেন। মহিলা দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করল।
কিছুদিন পর মহিলার প্রথম স্বামী এসে হাজির। তখন সবাই ফয়সালার জন্য খলিফা উমর রা.-এর এজলাসে উপস্থিত হলো। উমর রা. তাকে এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে সে বলল, আমি গোত্রের লোকদের সঙ্গে ইশার নামায আদায়ের জন্য মহল্লার মসজিদে রওনা হয়েছিলাম। তখন কতিপয় জিন আমাকে বন্দি করে নিয়ে যায়। তাদের কাছে আমি বহুদিন বন্দি ছিলাম।
তারপর একদল মুসলমান জিন অপহরণকারী জিনদের উপর আক্রমণ করে এবং তাদেরকে পরাস্ত করে। অনেক জিনকে তারা কয়েদ করল। আমি তো আগেই কয়েদখানায় ছিলাম। বিজয়ী মুসলমান জিনেরা আমাকে জিজ্ঞেস করল, তোমার দীন কী? আমি বললাম, আমি মুসলমান। তখন তারা বলল, তোমার ও আমাদের দীন তো এক, তাই তোমাকে কয়েদ করে রাখা জায়েয হবে না। তোমাকে এখতিয়ার দেওয়া হলো। তুমি ইচ্ছা করলে আমাদের সঙ্গেও থাকতে পারো। আবার ইচ্ছা করলে, দেশেও ফিরতে পারো। আমি দেশে ফিরতে চাইলাম।
তারা সকলে আমাকে নিয়ে রওনা হলো। রাতে তারা মানুষের সুরতে আমার সঙ্গে কথাবার্তা বলত, আর দিনের বেলায় তারা ঘূর্ণিঝড় হয়ে সম্মুখে চলত। আমি ওই ঘূর্ণিঝড়ের পেছনে পেছনে চলতাম। উমর রা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কী খেতে? লোকটির উত্তর— এমন বস্তু, যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হতো না। উমর রা.-এর প্রশ্ন— তোমরা কী পান করতে? লোকটির উত্তর— আমরা জযফ-এর পানি পান করতাম। কাতাদা রহ. বলেন, জযফ-এর পানি বলতে এখানে ওই পানি বোঝানো হয়েছে, যা পাত্রে ঢেকে রাখা হতো না।
ঘটনা বর্ণনাকারী বলেন, উমর রা. ঘটনা শোনার পর লোকটিকে বললেন, এখন তোমাকে এখতিয়ার দিচ্ছি, তুমি ইচ্ছা করলে তোমার স্ত্রীকে ফেরত নিতে পারো, আর ফেরত না নিলে তুমি স্ত্রীকে দেওয়া মোহরানা ফেরত পাবে।
প্রতিকার:
জিনের অনিষ্ট, অপহরণ বা কুদৃষ্টি থেকে বেঁচে থাকতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশিত সুন্নতি আমলগুলোর বিকল্প নেই। এই ঘটনাটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, অসতর্ক মুহূর্তেই মানুষ বিপদে পড়ে।
জিন কেন্দ্রিক সমস্যাগুলোর জন্য অতি দ্রুত সুন্নাহ সম্মত রুকইয়াহ চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। আপনার পরিবার বা পরিচিতদের মধ্যে যাদের জিন কেন্দ্রীক সমস্যা আছে তাদের রুকইয়াহ শরইয়াহ নিতে পরামর্শ দিন।
©️SukunLife