21/04/2026
রুকইয়াহ ভিন্ন একটি জগত...এরকম কতশত ঘটনা যে ফেইস করতে হয়...
রুকইয়াহ ইফেক্ট বৈচিত্র্য
১ম রোগী:
প্রথমবার রুকইয়াহ করলেন কিছু হয়নি। দ্বিতীয় বার মাথা ঘুরে পরে যায়, আর কিছু হয়নি। তৃতীয় দফা রুকইয়াহ শুরু করে আউজুবিল্লাহ বলতেই চেঁচামেচি শুরু করে। তারপর চলতে থাকে জিনকে কষ্ট দেয়া, বাধ্য বাচ্চার মতো সরে গেল সামনে থেকে।
২য় রোগী:
বিয়ে হয় না দেখে এসেছিল। পরিবারের ভাষ্যমতে আর কোন সমস্যা নাকি তাদের নাই। কিন্তু রুকইয়াহ শুরু করতেই চেঁচিয়ে উঠল জিন। পরিবার এটাকেই তার স্বভাব মনে করত। কিন্তু যখন জিন বলে উঠল— “১০ বছর ধরে আছি। তুই বললেই চলে যাব নাকি?” তখন বুঝে আসছে সেটা জিন ছিলো। রুকইয়াহ করে দমিয়ে দিলেও যায়নি পুরোপুরি, ১ মাসের আমল দেয়া হলো।
৩য় রোগী:
৫ বছর যাবত জিনের সমস্যায় ভুগছে পরিবার। বাচ্চাকে পড়তে দেয় না, গলায় চিপে ধরে রক্ত বের করে ফেলে। বিছানা থেকে উঠিয়ে উপর থেকে ফেলে। আরো কত কাহিনি…! ৮ বছরে কবিরাজ দেখানো হয়ে গেছে কয়েক ডজন তারপরও সমাধান হচ্ছে না। রুকইয়াহ শুরু করলে প্রথমে একটু কাহিনি করছিল, পয়েন্ট মতো দশ মিনিট ধরে রুকইয়াহ করতেই কসম খেয়ে বের হয়ে গেল। ৫ বছরের সমস্যা ২৫ মিনিটও টিকলো না। আলহামদুলিল্লাহ। ।
৪র্থ রোগী:
বাসায় অনেক ঘটনা। জিন আসে৷ পাগলামি করে৷ লক্ষণও কম না। রুকইয়াহ শুরু করলেও কোন ইফেক্ট হয় না৷ নিয়ে এসেছিল রুকইয়াহ সম্পর্কে জানেন এমনি একজন আলিম। কিন্তু কোন ইফেক্ট হচ্ছে না। এক ঘণ্টা পর জিজ্ঞেস করলাম, ইদানীং কোন হুজুর দেখিয়েছেন? জি। আমাদের একজন ভালো আলিম আছেন। উনি কিছু ঝারফোঁক করেছেন৷ বললাম বাবার নাম নিয়েছে? বলেন- জি। একটা কাইতন বা সুতো পড়াও নাকি আছে সাথে। বললাম, দেখলেন তো কোন ইফেক্ট হচ্ছে না। এবার হাদিসের সে ঘটনা খেয়াল করুন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বলেছে— যে ব্যক্তি কাহিন/আররাফের নিকট যাবে (প্রচলিত অর্থে কবিরাজ বা জিন হুজুর) তাদের ৪০ রাতের ইবাদাত কবুল হবে না। আপনাদেরও ৪০ রাত পর্যন্ত রুকইয়াহ কাজ করবে না। ইস্তিগফার পড়ে দেখুন কিছুক্ষণ৷ আবারও শুরু করলে অল্পতেই কাঁপা-কাঁপি শুরু হয়ে গেল…. ধারাবাহিকতায় শেষ হলো।
৫ম রোগী:
বড় বোন নিয়ে এসেছেন ছোট বোন। মাহরাম উপস্থিত করা সম্ভব না৷ পঞ্চাশোর্ধ বড় বোনের তেমন কোন সমস্যা নাই৷ জাস্ট বাচ্চা হয় না৷ তারপরও কথা শুনে সন্দেহ হলো। সতর্ক করে বসালাম। ৫ মিনিট দোয়া পড়তেই বড় বোনের জিন উঠে গেছে। ছোট বোনের মাত্র শুরু হচ্ছে মাথায় ধরে। দ্রুত রুকইয়াহ ক্লুজ করে সেল্ফ রুকইয়াহ দিলাম। বললাম, মাহরাম নিয়ে আসেন।
৬ষ্ঠ রোগী:
বাচ্চা মাদরাসায় পড়ে। হিফজ ধরেছে কিছুদিন হলো। তারপর থেকে হঠাৎ টয়লেট বন্ধ। গত ৫ মাসে মাত্র ১০ বার টয়লেট হয়েছে ছেলেটার। দেশের সব চিকিৎসা শেষ। কফি এনামা একমাত্র শেষ ভরসা। রুকইয়াহ করাতে বসালাম। আগ থেকেই বলা ছিলো নাবালক বাচ্চাদের সমস্যার জন্য মা নিয়ে আসতে হবে। রুকইয়া শুরু করতেই মা ও ছেলের ইফেক্ট হাল্কা হাল্কা শুরু। কিছু সময় বাচ্চার কাছে, কিছু সময় মায়ের কাছে। এভাবেই জিন ছুটাছুটি করছিল ভিতরে ভিতরে। চাপ দিয়ে ধরাতেই চিল্লাতে থাকল মায়ের বাম হাতে। আয়াতুল কুরসি পড়বে না....! আরো কত কথা। ছেলের বাবা আসমান থেকে পরল। আহলিয়া জিনে আক্রান্ত বিশ্বাস করতে পারছে না।
৭ম রোগী
এক মা তার মেয়ের জন্য হোম সার্ভিস চেয়েছেন। জিনের নজর সমস্যা মিলে। পরীক্ষার আগে পড়াশোনা সমস্যা এবং অত্যাধিক রাগারাগি করছে। মা এক প্রকার অতিষ্ঠ হয়ে কল করে সেন্টারে।
একজন রাকি পাঠানো হয়। যেহেতু ছোট মেয়ে পুরুষ না হলেও চলবে। পাশের বাসার মহিলাকে নিয়ে আসে। ১০ মিনিট না যেতে মেয়ের বদলে মায়ের শরীরে জিন উঠে আসে। ৩ ঘণ্টা পজেসড থাকার পর ছাড়ে।মেয়ের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত মা কোনোদিন এমন কিছু ভাবেওনি। তার বংশে এমন ক্যাস নাই, এই মেয়েই প্রথম—এটা ছিলো প্রাথমিক ভাষ্য। তিন ঘণ্টা কী করেছেন জিজ্ঞাস করলে আর বলতে পারেন না এখন৷
৮ম রোগী:
হাসবেন্ড তার ওয়াইফকে নিয়ে বেশ চিন্তিত। নিয়ে এসেছেন বৌকে সুস্থ করার জন্য। আমরাও রুকইয়াহ শুরু করলাম। বিসমিল্লাহতে জিন হাজির, ৩০ বয়সের ছেলে অজোস্রে কান্না করছে৷ তারপর ধীরে ধীরে এগ্রেসিভ হলো৷ কুংফু কারাতে শুরু করল সে, ওয়াইফ এবং বাচ্চারা ভয়ে অন্যরুমে চলে গেল।
৯ম রোগী:
স্ত্রী নিয়ে এসেছেন তার অবাধ্য স্বামীকে। পাগলামি করে। উনারা একসাথে থাকতে পারেন না৷ আলিমা মানুষ তাই স্বামীকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে রুকইয়াহ করেন। স্বামীর নিয়তে অনেক আমল করেন। উনার সাথে লক্ষণ মিলানোর পর অবাক, হিস্ট্রি জিজ্ঞেস করে তো চক্ষু চড়কগাছ। উনার রুকইয়াহ লাগবে বলায় মাইন্ড করলেন, তারপর স্বামীর রুকইয়াহ'র কথা বলেই বসালাম৷ কিছুক্ষণ পর তিনি নিজেই দুলতে থাকলেন। আবোলতাবোল কথাবার্তাও বলা শুরু করলেন কিছুক্ষ পর৷ জিজ্ঞাসা করা হলে পরে বলছে, তাদ কিছুই নাকি হয়নি।
১০ম রোগী:
রোগী নিয়ে এসেছেন কোন ইফেক্ট নাই৷ লক্ষণ দেখে এমনটা হওয়ার কোন সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না৷ ১ মাস আমল করে আসার পর দাম্ভিক মারিদ শয়তান এসে উপস্থিত। গতবার দম খিঁচে বসে ছিলো। পেশেন্ট পক্ষের অভিযোগ, রাকি ভালো না৷ কিছু করতে পারে নাই। এবার সামনে প্রকাশ পেতে বাধ্য হলো। এভাবেই মূলত সমস্যা ধাপে ধাপে প্রকাশ পায় ও সুস্থ হয়।
১১তম রোগী:
পুরো পরিবার রুকইয়াহ করা হলে কারো জিন এবং কারো শুধু জাদু ও নজর সমস্যা প্রকাশ পায়। পরবর্তী সময়ে বাচ্চা না হওয়ার সমস্যাটা সমাধান হয়ে এক মাসের ভিতর প্রেগ্নেন্ট হোন। তারপর দুইমাস গেলে ভাইয়ের সমস্যা দেখা দেয়। এবার রুকইয়াহ করে দেখি ভাইয়ের শরীরে জিন; যা আগে ছিলো না৷ এই কয়েকদিনে ঘটনাচক্রে তার শরীরে জিন প্রবেশ করে৷ এটাই বেশি সম্ভাবনা।
শিক্ষা:
এই-যে কয়েকজন রোগীর ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা দেখতে পেলেন; তাদের যে কোন একজনের ঘটনা শুনে হতাশ বা অতি আশাবাদী হওয়া উচিত না। রুকইয়াহ করলে একেক সময় একেক অবস্থা হয়। যার জ্বর তারা নাপা, ভাইরাস হলে এন্টিবায়োটিক বা ইঞ্জেকশন, রোগ গেড়ে বসলে অপারেশনের দিক যাওয়া লাগে। তাই রুকইয়াহ যারা করবেন তাদের এসব জানা ও বুঝা খুবই জরুরি।
এছাড়া রুকইয়াহ ইফেক্ট মানে নিজের শরীরে জিন আসবে। জ্বরের পেশেন্ট টেস্ট রিপোর্টে ক্যান্সার আশা করে বসে থাকবে। এগুলো অন্যায় আশা। এমন কখনোই করা উচিত না। ইচ্ছাকৃত জিন এক্টিভেট করা, নজরের জিন শরীরে জোরপূর্বক ডেকে নিয়ে আসা এবং রিয়েকশনের নামে অরুচিকর পদ্ধতি অনুসরণ করার নাম রুকইয়াহ না; এগুলো অসুস্থ চর্চা। কারো নিকট এসব পদ্ধতি ভালো লাগলে সালাফদের রুকইয়াহ পদ্ধতি তার জন্য না। সে নিজের খায়েশাত মিটানোর জন্য কবিরাজের কাছে যেতেও দ্বিধাবোধ করার কথা না।
:::রুকইয়াহ এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য যোগাযোগ করুন: 01887753555