12/08/2025
জ্বরের হোমিওপ্যাথিক ওষুধ
আর্সেনিক এ্যাল্ব (Arsenic Alb) 30:- সবিরাম, স্বল্প বিরাম, অবিরাম ও বাত শ্লেষ্মা প্রভৃতি জ্বরে রোগীর জিহ্বা শুষ্ক, লাল, কটা বা কাল বর্ণ, অত্যন্ত অবসাদ ছট্ফটানি, অন্তর্দাহ, সামান্য পরিমাণ জল পানের স্পৃহা ও মৃত্যু ভয়। রোগী মাথায় ঠান্ডা চায়, কিন্তু অন্য সব স্থানে গরমে উপশম। যে কোন সময় বিশেষতঃ মধ্য দিবা বা মধ্য রাত্রিতে লক্ষণাবলীর বৃদ্ধিতে ইহা কার্যকরী।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে দিনে ২ বার কয়েক মাত্রা সেব্য। প্রয়োজনে আরো উচ্চ শক্তি।
আর্টিষ্টা ইন্ডিকা (Artista Indi) 0:- ইহা পালা জ্বরে বিশেষ ফলপ্রদ ঔষধ। সকালে শীত করে জ্বর আসে, আবার বিকালে জ্বর ছেড়ে যায়।
সেবন বিধিঃ- ৫-১০ ফোঁটা (বয়স অনুসারে) ঠান্ডা জলসহ দিনে ২/৩ বার কয়েক মাত্রা সেবনে উপকার হয়।
'ইউক্লিপটাস (Eucaliptus) 0 বা 1x:- ইহা সবিরাম, অবিরাম এবং টাইফয়েড জ্বরেও ব্যবহৃত হয়। ডাঃ হেরিং বলেন- যে জ্বর "জার্মা" সম্ভূত অত্যন্ত গোলমেলে ও জটিল; রোগী সারিয়াও সারিয়া উঠে না, পুনঃ পুনঃ আক্রান্ত হয় এবং জ্বর অনেক দিন স্থায়ী হয়, তৎসহ প্লীহার দোষ থাকে" ইত্যাদিতে ইহা উৎকৃষ্ট ঔষধ।
সেবন বিধিঃ- ৫/৬ ফোঁটা মাত্রায় ঠান্ডা জলসহ দিনে ৩/৪ বার কয়েক দিন সেবনে অব্যর্থ ফলপ্রদ।
একোনাইট (Aconit Nap) 3x :- রোগের প্রাথমিক অবস্থায় এই ঔষধ প্রয়োগ করলে হয় জ্বর ছেড়ে যাবে, না হয় অন্য ঔষধের লক্ষণাবলী স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলবে। ইহার রোগী শুষ্ক ঠান্ডা বা শীতকালীন হাওয়া লেগে জ্বরে আক্রান্ত হয় এবং খুবই অস্থির। ঘাম না হওয়া পর্যন্ত ইহা ব্যবহার করা দরকার, পরে সালফার।
সেবন বিধিঃ- এক মাত্রা করে ২/১ ঘন্টা পর পর প্রয়োগে ঘাম দেখা দিলে ইহা বন্ধ করে সালফার 30 শক্তি দু'এক মাত্রা সেবনীয়।
চায়না (China) 30:- ইহার জ্বর কখনও রাতে আসে না। জ্বরের প্রকোপ প্রতিবারে ২/৩ ঘন্টা পূর্বে প্রকাশ পায়। ইহার জ্বর মধ্যাহ্নে কিম্বা ভোর ৫ টায় বা সন্ধ্যা ৫ টায় আসে। জ্বরের পূর্বে অত্যন্ত পিপাসা, ক্ষুধা ও মাথা ব্যথা হয়। অত্যন্ত উত্তাপ, গায়ে কাপড় রাখতে পারে না, মোটা সোটা ও অপরিষ্কার, নোংড়া ধাচের লোকদের পীড়ায় অধিক উপযোগী।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে দিনে ৩ বার কয়েক দিন সেবনীয়।
জেলসিমিয়াম (Gelsemium) 3x :- সবিরাম, স্বল্প বিরাম, অবিরাম, সদ্ধি জ্বর এক জ্বর, প্লীহাযুক্ত জ্বরে ইহা ফলপ্রদ। জড়ত্ব (Dullness), শিরঃঘূর্ণন (Dizziness), নিদ্রালুতা (Drowsiness) ইহার বিশেষ লক্ষণ। রোগীর চোখ মুখ ছলছল করে, চোখের পাতা ভারী, জলের মত সর্দি ঝরে, হাঁচি হয়, খুক খুক করে কাশি, ইত্যাদিতে অমোঘ।
সেবন বিধিঃ- জেলস 3x এবং আর্স আয়োড 3x এক মাত্রা করে ২ ঘন্টা অন্তর পর্যায়ক্রমে সেবনে সম্পূর্ণ রূপে রোগ নিরাময় হয়।
৫ নাক্স ভমিকা (Num Vomica) 6 বা 30:- প্রাতঃকালীন জ্বরে ইহা বেশী উপযোগী। অপরাহ্নে, সন্ধ্যায় বা রাতে জ্বর আসা মাত্রই রোগীর হাত পা অবশ বা অসাড় বোধ হয়। প্রতিদিন ইহার জ্বর ক্রমশঃ এগিয়ে আসে। রোগী শীর্ণকায়, খিটখিটে, হিংসুক, কলহ প্রিয়, মদ্যপায়ী, অলস প্রকৃতির, নিম্নষ্ফল মল ত্যাগের প্রবৃত্তি ইত্যাদি ধাতুযুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতি উৎকৃষ্ট ঔষধ।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে দৈনিক ২/৩ বার সেব্য। প্রয়োজনে আরো উচ্চ শক্তি।
নেট্রাম মিউর (Natrum Mure) 30:- রোগী অতি জীর্ণ শীর্ণ বিশেষ করে ঘাড় গলা খুবই শীর্ণ। ইহার জ্বর বেলা ১১ টায় অত্যন্ত শীত ও পিপাসাসহ আরম্ভহয়, ঠোঁটে জ্বর পুঁটু হয়। রোগী খুব লবণ প্রিয়, কুইনাইন বা আর্সেনিকের অপব্যবহার জনিত জ্বর। ঘর্মাবস্থায় সকল উপসর্গের উপশম ইত্যাদিতে উপযোগী।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে দিনে ৩ বার কয়েক মাত্রা। পুরাতন পীড়ায় 200 শক্তি বা আরো উচ্চ শক্তি প্রযোজ্য।
পালসেটিলা (Pulsatilla) 30:- পাকাশয়িক ক্রিয়ার গোলযোগ জনিত জ্বর। ইহার জ্বর শীত করে বেলা ৩ টায় আসে এবং সারা রাতই থাকে (ভেরেট্রাম), সকালে ছেড়ে যায়। পিপাসা আদৌ থাকে না। শরীরের এক পাশে ঘাম, গরম ঘরে শীত বোধ, কিন্তু খোলা বাতাসে উপশম, কুইনাইনের অপব্যবহার জনিত জ্বর। নম্র, ধীর স্থির, অভিমানী, পরিবর্তনশীল মনোভাব ধাতের ব্যক্তিদের পীড়ায় ইহা অধিক উপযোগী।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে রোজ ৩ বার কয়েক মাত্রা সেব্য। পুরাতন রোগে 200. 1M বা আরো উচ্চ শক্তি।
পাইরোজিনাম (Pyroginum) 30:- দুষ্ট জাতীয় জ্বর, রক্ত দূষিত জ্বর, সৃতিকা জ্বর, সবিরাম জ্বর, অস্ত্রোপচারের পর জ্বর, বিষাক্ত বাষ্প হতে জ্বর, পুরাতন ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া জ্বর, পচা মাছ-মাংস খাওয়ার পর জ্বর, সেপ্টিক জ্বর ইত্যাদি বহুবিধ জ্বরে ইহা উপকারী। রোগীর শরীরে বেদনা (আর্নিকা, ব্যাপ্টি), অস্থি বেদনা (ইউপেটোরি), নড়া চড়ায় ও উত্তাপে উপশম (রাসটক্স), সকল প্রকার স্রাবে অত্যন্ত দুর্গন্ধ, জিহ্বা
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে দিনে ৩ বার কয়েক মাত্রা সেব্য। রোগের পুরাতন অবস্থায় 200. IM. 10M বা আরো উচ্চ শক্তি ব্যবহার্য্য।
৫ ভেরেট্রাম (Veratrum Alb) 30 বা 200:- রোগীর প্রায়ই ভোর ৬ টায় পিপাসাসহ শীতাবস্থা অনেকক্ষণ চলতে থাকে। উত্তাপাবস্থায় কপালে শীতল ঘর্ম, ঘর্ম জ্বরের শেষ পর্যন্ত চলতে থাকে। শীতাবস্থায় নখগুলো নীল বর্ণ দেখায়। অপরাহ্ন ৫/৬ টায় যে জ্বর আসে, তাতে রোগী সারা রাত ভোগে (পালসেটিলা)।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে দিনে ২/৩ বার কয়েক মাত্রা সেব্য।
ব্রায়োনিয়া এ্যাল্ব (Bryonia Alb) 30 বা 200:- রোগীর জ্বরে মাথা ভার ও ব্যথা, সমস্ত শরীরে বেদনা, নড়াচড়ায় বৃদ্ধি, তাই চুপচাপ পড়ে থাকে, গলা, মুখ ঠোঁট শুকিয়ে যায়। একবারে অনেক খানি জল পান করে, অল্প বিস্তর ঘাম, দারুণ কোষ্ঠবদ্ধতা, মল ঝামা ইটের মত শক্ত, শুষ্ক কাশি। রোগী বাড়ি থাকলেও বলে,"আমি বাড়ী যাব" ইত্যাদিতে উপকারী।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে ৪ ঘন্টা পর পর সেব্য। প্রয়োজনে 1M শক্তি। ইহা দ্বারা অনেক রোগী আরোগ্য করেছি।
বেলেডোনা (Belladona) 30:- রোগী রোদে ঘুরাফেরা করে প্রচন্ড ভাবে জ্বরে আক্রান্ত হয়, উচ্চ গাত্র তাপেও স্থির থাকে না। প্রচুর ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যায়, আবার আক্রান্ত হয়। রোগীর মুখমন্ডল ভার, থমথমে, লাল, মাথায় যন্ত্রণা,পিপাসা আছে, জ্বরে প্রলাপ বকে, টক্ খাওয়ার স্পৃহা ইত্যাদিতে উপযোগী।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে দিনে ৩/৪ বার কয়েক মাত্রা সেব্য।
রাস টক্স (Rush Tox) 30:- বর্ষায় ভিজে বা আর্দ্র আবহাওয়ায় অথবা ঘর্মাক্ত
অবস্থায় ঠান্ডা জলে স্নান করে জ্বরে আক্রমণ। শরীরের চাবানি কামড়ানি বেদনায় রোগী এপাশ ওপাশ ও ছট ফট করে। চাপলেও উষ্ণতায় উপশম বোধ করে।
সেবন বিধি:- এক মাত্রা করে ৩/৪ ঘন্টা অন্তর কয়েক মাত্রা সেব্য। ইহা প্রয়োগকরে অনেক জটিল জ্বরের রোগী আরোগ্য করেছি।
লাইকোপোডিয়াম ( Lycopodium) 30:- ইহার জ্বর বিকাল ৪টা থেকেরাত ৮টার মধ্যে আসে, তাতে অত্যন্ত কম্প ও শীত থাকে। রোগীর সর্বাঙ্গে শীতলতা বোধ, কোষ্ঠবদ্ধতা, পেটে প্রচুর বায়ু, যকৃত প্রদেশে বেদনা ও জ্বালা,মূত্রে ইটের গুড়ার ন্যায় তলানী থাকে, উক্ত লক্ষণে অধিক উপকারী।
সেবন বিধিঃ- এক মাত্রা করে দিনে ৩ বার কয়েক মাত্রা সেবনীয়। পুরাতন রোগে 200, 1M বা আরো উচ্চ শক্তি।
৫ সিড্রন (Cedron) 30 বা 200:- নিচু জায়গায় বা জলাশয়ের পাশে বসবাস করে জ্বরে আক্রান্ত হলে, জ্বরে শীত ও কম্প থাকে, কিন্তু ঘাম খুব কম। যে কোন জ্বর হউক না কেন, প্রতিদিন ঠিক একই সময়ে জ্বরে আক্রান্ত হলে 'সিড্রন' নির্দিষ্ট ঔষধ।
সেবন বিধিঃ- এক মাত্রা করে দিনে ৩/৪ বার কয়েক মাত্রায় অব্যর্থ।
স্বাস্থ্য