24/07/2026
আপাতদৃষ্টিতে যা বুঝা যাচ্ছে, ভিডিওতে ছেলেটার ভেতরে থাকা জ্বীন শয়তানের কারণে সে এই অস্বাভাবিক আচরণ/অঙ্গিভঙ্গি করছে। এমন রিয়েকশন হচ্ছে আশপাশে থাকে উচ্চারিত উদ্ভট কিছু শব্দের কারণে।
অনেকেরই প্রথম দেখায় মনে হতে পারে ভালই তদবির হচ্ছে এখানে! জ্বীন কষ্টে কাতর... এসব ঘটনা কিন্তু অহরহ ঘটছে সমাজে। হিন্দু তান্ত্রিকের কাছে গেলে যখন সে কুফরি বাক্য পাঠ করে, তখনও জ্বীন চিৎকার করে, আর্তনাদ করে....
সমাজে অনেকেই আছে যারা কবিরাজ, তান্ত্রিক, বৈদ্য, মগা ইত্যাদি জায়গায় গিয়ে কুফরি-কালামের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠে। অনেক সময় দেখা যায়, এসব জায়গা থেকে চিকিৎসা নিলে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায় মানুষ। এর পেছনে কিছু অপ্রীতিকর সত্য আছে...
১) মানব শরীরে জ্বীন শয়তান কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই প্রবেশ করে। যেমন, জাদুর কারণে আসা জ্বীন শয়তানের টার্গেট থাকে জাদুকরের আদেশ মান্য করা, হিংসার ফলে আসা জ্বীনদের উদ্দেশ্য থাকে হিংসার প্রভাব কে সফল করা ইত্যাদি।
২) স্বাভাবিক অবস্থায়, জ্বীন শয়তানদের এই টার্গেট গুলোর বাহিরেও একটা কাজ থাকে। সেটা হলো, তাদের প্রভু ইবলিস কে সন্তুষ্ট করা। ইবলিসের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য মুসলিমদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা, শিরকে লিপ্ত করা এবং এর উপর মৃত্যু কে নিশ্চিত করা। যখন একজন ব্যক্তির মধ্যে জ্বীন ভর করে, তখন সেই জ্বীন তার সাধারণ উদ্দেশ্য গুলো হাসিল করার পাশাপাশি ইবলিসের উদ্দেশ্য তথা মানুষ কে দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার পেছনেও শ্রম দেয়।
৩) যখন একজন অসুস্থ ব্যাক্তি জেনে/না জেনে ভন্ডদের কুফরি চিকিৎসা নেয়, সে মারাত্মক গুনাহ তো করেই সাথে তার ঈমান সংশয়পূর্ণ হয়ে উঠে। ব্যক্তি এই ধরণের বড় গুনাহ করলে ইবলিস প্রথম ধাপে সফল হয়।
৪) কুফরি তদবির করার পর ইবলিস সেই ব্যক্তির ভিতরে থাকা জ্বীনদের আদেশ করে সমস্যা কমিয়ে দিতে। এর কারণ হলো, অধিকাংশ মানুষ প্যারানরমাল রোগের আরোগ্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা পদ্ধতির উপর সম্পূর্ণ ইয়াক্বিন রাখে না যেহেতু মানুষ এসবের ব্যাপারে খুবই কম জানে। যখন চিকিৎসা পদ্ধতি কাজে দেয়, তখনই পূর্ণ বিশ্বাস আসে। কুফরি পদ্ধতি অবলম্বন করে যখন কেউ দেখে যে, সমস্যা কমে গিয়েছে (বাস্তবে এটা শয়তানের চক্রান্ত), তখন তার এই কুফরের উপর বিশ্বাস স্থাপন হয়। এটা খুবই ভয়াবহ ব্যাপার। প্রথমত শয়তান কুফর করালো, দ্বিতীয়ত সে কুফরের উপর বিশ্বাস স্থাপন করালো। এই প্রোসেস সফল হলে মুসলিমের ঈমান আরো বেশি সংশয়পূর্ণ হয়ে উঠে! যা ইবলিস কে তার চূড়ান্ত সফলতার কাছাকাছি নিয়ে যায়।
৫) বেশিরভাগ কুফরি চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তিদের দেখা যায়, তারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুস্থ থাকে, পরে সমস্যা বাড়ে। আবার ভ্রান্ত চিকিৎসা নেয়, আবার সাময়িক সময়ের জন্য ভাল থাকে, আবার অসুস্থ হয়ে যায়। কারো ক্ষেত্রে কয়েক মাস পর পর এমন ঘটে, কারো ক্ষেত্রে বছর। শয়তান এটা করে, মানুষ কে বার বার এই জঘন্য গুনাহ তে লিপ্ত করানোর জন্য। এমন চক্রের মধ্যে একজন ব্যক্তি যদি জীবনভর ঘুরপাক খায়, তখন তার মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে কিনা আল্লাহ ভাল জানেন। এটাই হল ইবলিসের চূড়ান্ত টার্গেট, যা সফল করার জন্যই তার সকল প্রচেষ্টা।
আল্লাহ আমাদের এমন চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন, রাসূলে কারিম (ﷺ) এর দেখানো পদ্ধতি অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার ও আমল করার তাওফিক দান করুন, আমীন।