25/07/2026
বর্ষা কাল.. ঝরঝর মুখর বাদল দিনের রোমান্টিকতা অথবা খিচুড়ির আনন্দের সাথে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতাও দরকার.. এই সময় ডেঙ্গি জ্বরের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকে, বাড়ছে, জটিল রোগীও পাওয়া যাচ্ছে.. এই বিষয়ে কিছু কথাবার্তা হোক..
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস (Aedes) মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সময়মতো সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডেঙ্গুর লক্ষণ
হঠাৎ উচ্চমাত্রার জ্বর
তীব্র মাথাব্যথা
চোখের পেছনে ব্যথা
শরীর, পেশী ও অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যথা
বমি বমি ভাব বা বমি
ত্বকে লালচে র্যাশ
অতিরিক্ত দুর্বলতা
বিপদজনক সতর্ক সংকেত
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করুন:
তীব্র পেটব্যথা
বারবার বমি
নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া
কালো পায়খানা বা রক্তবমি
শ্বাসকষ্ট
অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঘুম ঘুম ভাব
প্রস্রাব কমে যাওয়া
কী করবেন?
পর্যাপ্ত পানি, ওরস্যালাইন, ডাবের পানি বা অন্যান্য তরল পান করুন।
বিশ্রামে থাকুন।
জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল গ্রহণ করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন বা অ্যাসপিরিন সেবন করবেন না, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা (যেমন CBC) করুন এবং নিয়মিত ফলো-আপে থাকুন।
প্রতিরোধের উপায়
বাড়ির আশপাশে কোথাও পরিষ্কার পানি জমতে দেবেন না।
ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা, বালতি, ড্রাম ও পানির
পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
মশারি ব্যবহার করুন, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য।
পূর্ণ হাতা জামা ও লম্বা পোশাক পরুন।
প্রয়োজনে মশা নিরোধক (রিপেলেন্ট) ব্যবহার করুন।
সাধারণত ৫-৭ দিনের মধ্যে জ্বর কমে আসে.. এর পরের ৪-৫ দিন সতর্কতার সময়.. সঠিক সময়ে পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসায় বেশিরভাগ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেন..
ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং প্রয়োজনে সময়মতো হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।
আতঙ্ক নয়, সচেতনতায় সুস্থ জীবন