01/06/2026
জিন-আছর ও ব্ল্যাক ম্যাজিক থেকে সুরক্ষায় মহানবীর (সা.) শেখানো কিছু শক্তিশালী প্রাত্যহিক আমল
পার্থিব জীবনে আমরা অনেকেই জিন-ভূতের উপদ্রব কিংবা কুফরি-কালাম ও জাদুর মতো নানাবিধ অদৃশ্য সমস্যার সম্মুখীন হই।
এসব আধ্যাত্মিক ব্যাধি থেকে মুক্তির সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্র হলো আল্লাহর ওপর অবিচল আস্থা এবং প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও দোয়া।
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাজ যথাসময়ে আদায়ের পাশাপাশি যদি আমরা নিয়মিত এই মাসনুন আমলগুলো ধরে রাখতে পারি, তবে ইনশাআল্লাহ যেকোনো ধরনের অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
বিশেষ করে ফজর ও আসরের সালাত-পরবর্তী সময়টা এগুলোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কুরআনে আমাদের সচেতন করে বলেছেন:
"আর স্মরণ করো তোমার প্রতিপালককে নিজের মনে মনে, অত্যন্ত বিনয়, ভয় ও অনুচ্চস্বরে—সকাল ও সন্ধ্যায়। আর কখনোই উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।" (সূরা আরাফ: ২০৫)
সকাল-সন্ধ্যার জিকিরের মহাত্ম:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই সময়ের জিকিরের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, ফজর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর instru স্মরণে মগ্ন কোনো কাফেলার সাথে বসা, হযরত ইসমাইল (আ.)-এর বংশধরের চারজন ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেওয়ার চেয়েও তাঁর কাছে অনেক বেশি পছন্দনীয় ও উত্তম।
নিচে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার এবং যেকোনো সমস্যা থেকে বেঁচে থাকার একগুচ্ছ শক্তিশালী আমল তুলে ধরলাম
প্রতিদিনের নিয়মিত আত্মরক্ষা ও জিকিরসমূহ
১. তাওবা ও ক্ষমার শ্রেষ্ঠ দোয়া (সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার):
(সকাল ও সন্ধ্যায় ১ বার পাঠ্য)
اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوْءُ بِذَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِيْ فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ
২. সর্বজনীন নিরাপত্তা ও ক্ষতিমুক্ত থাকার দোয়া:
(সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার)
بِسْمِ اللّٰهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
৩. আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আমল:
(সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার)
رَضِيْتُ بِاللّٰهِ رَبًّا، وَبِالْإِسْلَامِ دِيْنًا، وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا
৪. সংকট ও বিপদে আল্লাহর রহমত পাওয়ার ফরিয়াদ:
(সকাল ও সন্ধ্যায় ১ বার)
يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ، أَصْلِحْ لِيْ شَأْنِيْ كُلَّهُ، وَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ
৫. সারাদিন শয়তানের চক্রান্ত থেকে বাঁচার শ্রেষ্ঠ জিকির:
(প্রতিদিন সকালে ১০০ বার অথবা অন্তত ১০ বার)
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
(এটি নিয়মিত ১০০ বার পড়লে দশজন গোলাম আজাদ করার সওয়াব মেলে এবং পুরো দিন শয়তান তার কোনো ক্ষতি করতে পারে না।)
৬. জান্নাতি সম্পদ লাভ ও আত্মিক শক্তি বৃদ্ধির তাসবীহ:
(দৈনিক ১০০ বার)
لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ
৭. সৃষ্টির সমপরিমাণ সওয়াব অর্জনের ভারী জিকির:
(সকালে ৩ বার)
سُبْحَانَ اللّٰهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ، وَرِضَا نَفْسِهِ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ، وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ
৮. দোজখের আগুন থেকে পনাহ চাওয়ার দোয়া:
(ফজর ও মাগরিবের পর ১ বা ৭ বার)
اَللّٰهُمَّ أَجِرْنِيْ مِنَ النَّارِ
৯. তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস):
(সকাল ও সন্ধ্যায় ৩ বার করে)
জিন-ভূতের উপদ্রব এবং যেকোনো জাদুর কুপ্রভাব কাটাতে আল্লাহর রাসুলের শেখানো সবচেয়ে মোক্ষম ঢাল হলো এই তিনটি সূরা।
১০. আয়াতুল কুরসী:
(প্রতিটি ফরয সালাতের পর এবং সকাল-সন্ধ্যায় ১ বার)
اللّٰهُ لَآ إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ ۚ لَا تَأْخُذُهُۥ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُۥ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِيْ يَشْفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذْنِهِۦ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيْطُوْنَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَـُٔوْدُهُۥ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ
১১. সূরা কাহাফের প্রথম ১০ আয়াত:
(প্রতিদিন ১ বার)
ٱلَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَآءٍ عَن ذِكْرِي وَكَانُوا۟ لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا ﴿١٠١﴾
أَفَحَسِبَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوٓا۟ أَن يَتَّخِذُوا۟ عِبَادِي مِن دُونِيٓ أَوْلِيَآءَ ۚ إِنَّآ أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَٰفِرِينَ نُزُلًا ﴿١٠٢﴾
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِٱلْأَخْسَرِينَ أَعْمَٰلًا ﴿١٠٣﴾
ٱلَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي ٱلْحَيَٰوةِ ٱلدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا ﴿١٠٤﴾
أُو۟لَٰٓئِكَ ٱلَّذِينَ كَفَرُوا۟ بِـَٔايَٰتِ رَبِّهِمْ وَلِقَآئِهِۦ فَحَبِطَتْ أَعْمَٰلُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ ٱلْقِيَٰمَةِ وَزْنًا ﴿١٠٥﴾
ذَٰلِكَ جَزَآؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا۟ وَٱتَّخَذُوٓا۟ ءَايَٰتِي وَرُسُلِي هُزُوًا ﴿١٠٦﴾
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ وَعَمِلُوا۟ ٱلصَّٰلِحَٰتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّٰتُ ٱلْفِرْدَوْسِ نُزُلًا ﴿١٠٧﴾
خَٰلِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا ﴿١٠٨﴾
قُل لَّوْ كَانَ ٱلْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَٰتِ رَبِّي لَنَفِدَ ٱلْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَٰتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِۦ مَدَدًا ﴿١٠٩﴾
قُلْ إِنَّمَآ أَنَا۠ بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰٓ إِلَيَّ أَنَّمَآ إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَٰحِدٌ ۖ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَآءَ رَبِّهِۦ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَٰلِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِۦٓ أَحَدًۢا
দাজ্জালের ফিতনাসহ শেষ জামানার যেকোনো আসুরিক শক্তি ও শয়তানি ধোঁকা থেকে বাঁচতে এই আয়াতগুলো দারুণ কার্যকরী।
১২. সূরা ইয়াসীনের প্রথম ৯ আয়াত:
(প্রতিদিন ১ বার)
يس ﴿١﴾
وَٱلْقُرْءَانِ ٱلْحَكِيمِ ﴿٢﴾
إِنَّكَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ ﴿٣﴾
عَلَىٰ صِرَٰطٍ مُّسْتَقِيمٍ ﴿٤﴾
تَنزِيلَ ٱلْعَزِيزِ ٱلرَّحِيمِ ﴿٥﴾
لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّآ أُنذِرَ ءَابَآؤُهُمْ فَهُمْ غَٰفِلُونَ ﴿٦﴾
لَقَدْ حَقَّ ٱلْقَوْلُ عَلَىٰٓ أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ ﴿٧﴾
إِنَّا جَعَلْنَا فِيٓ أَعْنَٰقِهِمْ أَغْلَٰلًا فَهِيَ إِلَى ٱلْأَذْقَانِ فَهُم مُّقْمَحُونَ ﴿٨﴾
وَجَعَلْنَا مِن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَٰهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ ﴿٩﴾
শত্রুর কুদৃষ্টি এবং দুষ্ট জিনের আচমকা আক্রমণ ও ক্ষতি থেকে নিজেকে আড়াল রাখতে এটি একটি পরীক্ষিত আমল।
🟢 শারীরিক ও মানসিক স্পৃহা বাড়াতে অতিরিক্ত আমল
১৩. আইয়ামে বীজের নফল সিয়াম (রোজা):
প্রতি চাঁদের (হিজরি মাসের) ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখা।
আল্লাহর রাসূল (সা.) আমাদের প্রতি চন্দ্র মাসের এই মধ্যবর্তী তিন দিন রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যা সারা বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব এনে দেয়।
(আধ্যাত্মিক ও বিজ্ঞানসম্মত গবেষণায় দেখা গেছে যে, পূর্ণিমার দিনগুলোতে মানবদেহে রক্তের তরল প্রবাহ ও মানসিক উত্তেজনা বাড়ে, যা জিনের নেতিবাচক প্রভাবকে উসকে দিতে পারে। এই দিনগুলোতে রোজা রাখার ফলে শরীরের সেই জৈবিক প্রক্রিয়া ও আধ্যাত্মিক অবস্থা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে।)
রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে জিনের আছর, জাদুর অশুভ প্রভাব এবং যাবতীয় শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি থেকে চিরতরে মুক্ত রাখুন। আমাদের জীবনকে ঈমানি আলোয় আলোকিত ও বরকতময় করুন। আমীন।
চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে যোগাযোগ করুন
কুরআনী চিকিৎসা কেন্দ্র রুকইয়াহ সেন্টার বাংলাদেশ
কামরুল ইসলাম শাকের
01811-879340