18/11/2020
১২ তম ব্যাচ
দিন ৩২...
সেশন ৩২...
কোন বিজনেস আইডিয়া কিভাবে পিচ করতে হয় ফান্ডের জন্য?
আপনার একটি ভালো আইডিয়া আছে কিন্তু বিজনেস করার টাকা নেই। আপনি সেই আইডিয়াকে ইনভেস্টরদের কাছে প্রেজেন্ট করে ও আপনার আইডিয়া সেল করে আপনি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড জোগাড় করতে পারেন।
অনেকের অনেক খুব ভালো ভালো আইডিয়া শুধু মাত্র বুঝিয়ে ও গুছিয়ে ভাবে বলতে না পারার কারণে সুপ্ত থেকে যায় বা হারিয়ে যায়। সেজন্য একজন স্বপ্নবাজ মানুষের অবশ্যই জানা উচিৎ কিভাবে আপনার স্বপ্নের আইডিয়া টা পিচ করতে হয়।
আপনার মাথায় যখনি কোন আইডিয়া আসে তা অন্যকে বোঝানোর জন্য বা প্রেজেন্ট করার জন্য ৫ টা বিষয় আপনাকে তৈরি করতে হবে ঃ
১। সমস্যা ঃ প্রথমেই যে সমস্যাটা সমাধান আপনি করতে যাচ্ছেন তা একটা গল্প আকারে ছোট করে বলবেন।
২। সমাধান ঃ আপনার আইডিয়াটা কোন একটা সমস্যার সমাধান হতে হবে বা কোন একটা পুরনো সমস্যাকে সহজ করে দিতে পারে অথবা কিছুটা আধুনিকীকরণ করতে হবে – সেই সমাধান টার বাস্তব ভিত্তিক ধারণা বলবেন।
৩। ফান্ড ঃ এই আইডিয়া বাস্তবায়ন করতে কত টাকা লাগবে? আপনি নিজে কোন অংশ ইনভেস্টমেন্ট করবেন কিনা, নাকি পুরোটাই ইনভেস্টরের কাছে চাইবেন, নাকি লোণও লাগবে – তা প্রেজেন্টেশানে থাকতে হবে।
৪। মার্কেট এনালাইসিস ঃ যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস টা আপনি বাজারে আনছেন, তা ইতিমধ্যেই মার্কেটে আছে কিনা, থাকলে তাঁরা কেমন করছে? ভালো করলে বা না করলে – কেন ভালো করছে বা করছেনা। আপনার আর কোন কম্পিটিটর আছে কিনা, মার্কেট সেগমেন্ট কি হবে, কারা কাস্টমার হবে? প্রাইস কত হবে? কেন আপনি বেস্ট – এটা নিয়ে তথ্য ও ফিগার থাকতে হবে।
৫। ফিনান্সিয়াল এনালাইসিস ঃ মার্কেটে আসা পর্যন্ত ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল কত লাগবে, কবে ব্রেক ইভেনে আসবে, Return on Investment (ROI) কত? কবে থেকে সেলস শুরু হবে, মাসিক সেলস ও খরচ কত, ৩ বছরের লাভ ও ক্ষতি – এই সব কিছু নিয়ে তথ্য ও ফিগার থাকতে হবে প্রেজেন্টেশানে।
এই আইডিয়া পিচ বানাতে ও প্রেজেন্ট করতে গিয়ে যে ৭ টা বিষয় মাথায় রাখতে হবে ঃ
১। প্রেজেন্টেশান টা অবশ্যই আপনি নিজে বানাবেন এবং যেখানে যেখানে অন্যের সাহায্য নিতে হয় নিবেন।
২। আপনি হয়তো সেলসে ভালো কিন্তু ফাইনান্সিয়াল এনালাইসিসে ভাল না, বিষয়টা ভালো করে বুঝে নিবেন। একেবারেই না বুঝলে টীম হিসেবে প্রেজেন্ট করবেন, যদিও সেই সুযোগ আপনি নাও পেতে পারেন।
৩। এই ৫ টা পয়েন্ট বোঝানোর জন্য আপনি ৩-৫ মিনিট সময় পাবেন তাই পুরো বিষয়টি বার বার প্র্যাকটিস করে নিবেন। এবং সময়ের দিকে লক্ষ্য রাখবেন ও সময় মতো শেষ করবেন।
৪। বিদেশিরা কেউ না থাকলে ইংরেজিতে প্রেজেন্ট করতেই হবে এমন কোন কথা নয়, আপনি বাংলাতেও বলতে পারেন। আমাদের “৩০ দিনের কথা বলার জড়তা কাটানো” সেশান এক্ষেত্রে ব্যাপক কাজে লাগবে।
৫। সারাক্ষণ আপনার পিঠ দেখিয়ে স্লাইডের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন না। তাতে আপনাকে খুব কনফিডেন্ট মনে হবে না। যাদের উদ্দেশ্যে প্রেজেন্ট করবেন, তাঁদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন।
৬। একটা পাঞ্চ লাইন দিয়ে ক্লোজিং করার চেষ্টা করবেন, যাতে আপনার আদর্শ, সততা, দর্শন ও কনফিড্যান্স ফুটে উঠে।
৭। প্রেজেন্টেশান শেষে জাজ বা ইনভেস্টরের যদি কোন প্রশ্ন থাকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তার উত্তর দিবেন যাতে তাঁদের মনে হয় আপনি আপনার স্বপ্নের আইডিয়া নিয়ে যথেষ্ট হোম ওয়ার্ক করেছেন।
#নিজের_বলার_মত_একটা_গল্প