25/07/2026
পুরুষের জন্য সুন্দর বা অসুন্দর হওয়া মুখ্য নয়,
মুখ্য হলো পুরুষ হওয়া।
অনুরূপভাবে, নারীর জন্যও মুখ্য তার নারীত্ব—
যা তাকে কেবল পোশাকে নয়, তার চলনে-বলনে,
সহজাত মমতায় ও স্বভাবের গভীরতম প্রদেশে এক অনন্য সত্তায় নিজেকে উত্তীর্ণ করায়।
এটাই প্রকৃতি, এটাই সৃষ্টির ছন্দ, যা সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে।
কিন্তু জানেন? প্রকৃতির এই ছন্দ ভাঙার জন্যই একটি সুদূরপ্রসারী এজেন্ডা কাজ করছে।
এই এজেন্ডার প্রথম ধাপ: সংস্কৃতি, শিল্প ও বিনোদনের নামে সেই ধারণাগুলোকে স্বাভাবিক করে তোলা, যা সমাজের ভীতকে দুর্বল করে দেয়।
ঠিক এই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে একজন "সুদর্শন পুরুষ"— যে পায়ে ঘুঙুর বেঁধে, ঘাগড়া পরে, মঞ্চের আলোয় পুরুষত্বকে হত্যা করছে।
এটা নিছক কোনো ব্যক্তির স্বভাবগত বিচিত্রতা নয়।
প্রকৃতিগতভাবে কেউ পুরুষ হয়েও মেয়েলী স্বভাবের হতে পারে,
কেউ বা মেয়ে হয়েও পুরুষ মানসিকতার হতে পারে, এতে কোনো পাপ বা দোষ নেই।
কিন্তু দোষ সেখানেই, যেখানে এই 'বিচিত্রতা'কে পুঁজি করে—
একটি সংগঠিত মহল সুনিপুণ কারুকার্যে সমাজের ভিতরে এক ভয়াবহ বিষ প্রয়োগ করে চলেছে।
তাদের একটাই লক্ষ্য—
মানুষ যেন কখনোই প্রকৃতি প্রদত্ত শক্তিশালী নারী বা পুরুষ আত্মপরিচয় খুঁজে না পায়,
বরং পরবর্তী প্রজন্ম তাদেরই কৃত্রিম সিস্টেমের তৈরি একেকটি ‘মুখোশ’-এর ওপর নির্ভরশীল থেকে নিজেকে 'খুঁজতে থাকে',
কিন্তু কখনো খুঁজে পাবে না।
এটা নিছক একটি সাংস্কৃতিক বিচ্যুতি নয়,
এটি সামাজিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর নিখুঁত এক চক্র। এই চক্রের আসল উদ্দেশ্য:
তারা জানে, একজন নারী যখন তার নারীত্বের গভীর শক্তিকে (লজ্জা, ধৈর্য, মমতা) বুঝতে পারে।
আর একজন পুরুষ যখন তার পুরুষত্বের দায়িত্ববোধ (রক্ষকতা, সাহসিকতা, স্থৈর্য) আয়ত্ত করে, তখন তারা সহজে নিয়ন্ত্রিত হয় না।
"কারণ প্রকৃতি থেকে আসা এই আত্মপরিচয়ই হলো সবচেয়ে বড় স্বাধীনতা।"
তাই তারা এই পরিচয়টিকেই প্রথমে ঘোলাটে করতে চায়।
একজন পুরুষ যখন দেখে মেয়েদের পোশাকে অন্য একজন 'সুদর্শন' হচ্ছে,
তখন তার ভেতরের বিবেক প্রথমে প্রতিবাদ করলেও, পরে ধীরে ধীরে সেই দৃশ্যই স্বাভাবিক লাগতে শুরু করে।
এভাবেই পুরুষ আর পুরুষ থাকতে চায় না,
নারীও তার নারীত্বের অলংকারগুলো ‘অত্যাচারের প্রতীক’ ভাবতে শেখে।
এই সিস্টেমের আসল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে অর্থনীতিতে।
তাদের লক্ষ্য একটি নির্দিষ্ট ধারার ভোগবাদী সমাজ তৈরি করা।
একজন পুরুষ যখন নিজেকে পুরুষ ভাবতে লজ্জা পায়, তখন সে এমন এক শূন্যতায় ভোগে,
যেখানে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি, কসমেটিকস, জেন্ডার-নিউট্রাল পণ্য, সবশেষে অস্ত্রোপচার বিক্রি করা যায়।
আর একজন নারী যখন গর্ভধারণ ও মাতৃত্বকে ‘দুর্বলতা’ ভাবতে শেখে,
তখন সারোগেসি, আইভিএফ, ডে-কেয়ার— সবকিছুই বাণিজ্যে পরিণত হয়।
কারণ তারা মানুষকে প্রকৃতি থেকে ছিঁড়ে এনে—
এক কৃত্রিম ‘লাইফস্টাইল’ এর কাছে জিম্মি করে রাখতে চায়।
তারা খুব ভালো করেই জানে, নারী-পুরুষের যে জৈবিক ও চারিত্রিক পার্থক্য, তা-ই পরিবার নামের মজবুত ইটের গাঁথুনি তৈরি করে।
তাই একজন পুরুষ যখন পুরুষালি দায়িত্ব নিতে কুণ্ঠিত হয়,
আর নারী যখন নারীত্বের কোমলতা ত্যাগ করে পাল্লা দিতে যায়,
তখন পরিবারের ভেতরকার ভারসাম্য নষ্ট হয়।
পরিবার ভেঙে গেলে মানুষ হয়ে পড়ে একা,
আর একা মানুষই হয় রাষ্ট্র ও কর্পোরেট কাঠামোর সবচেয়ে বড় ভোক্তা।
কারণ যে মানুষের নিজের ঘর নেই, সে-ই শুধু রাতে নিষিদ্ধ পণ্য কিনতে ক্লাবে যায়,
হতাশায় সোশ্যাল মিডিয়ার ডেটা খরচ বাড়ায়,
কিংবা এন্টিডিপ্রেসেন্টের বড়ি গিলতে গিলতে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির শেয়ার বাজার উপরে উঠায়।
এই এজেন্ডা তাদের কৌশলের সবচেয়ে নিখুঁত দিক।
তারা ধর্ম বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি বিপ্লব ডাকে না,
কারণ তাতে জনগণ একজোট হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তারা বেছে নেয় ‘সংস্কৃতি’ নামের সেই নরম জায়গাটা, যা সবাই ভালোবাসে।
হঠাৎ করে কেউ যদি বলে “লিঙ্গ বলতে কোনো পার্থক্য নেই, পুরুষত্ব ভেঙে ফেলো”, সমাজ তাকে পাগল ভেবে দূরে সরিয়ে দেবে।
কিন্তু সেই একই ঘৃণ্য বার্তা যদি মোবারক করিমের মত অভিনেতার সামনে—
একজন সুদর্শন পুরুষ, ঘুঙুর পায়ে, নিপুণ ভঙ্গিতে নেচে, রঙিন আলো ও করতালির স্রোতে, নারীর বেশে মঞ্চে উপস্থাপন করে,
তাহলে সেটি আর পাগলামি থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে ‘শিল্প’, ‘স্বাধীনতা’, ‘সাহসী প্রকাশ’।
তারা এই চকচকে শব্দবন্ধ ব্যবহার করে ধীরে ধীরে মানুষের রুচিবোধকে নষ্ট করে,
যাতে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এসব আর ‘কদর্য’ না লাগে, বরং লাগে ‘কুল’।
সবচেয়ে কদর্য দানবীয় চাতুর্য এখানেই— তারা বিবেককেই প্রথম লক্ষ্য করে।
কারণ তারা বোঝে, বিবেক জেগে থাকলে মানুষ এই ভাঁড়ামোকে কখনোই মেনে নেবে না।
তাই বিবেককে তারা সেকেলে, গোঁড়া, ধর্মান্ধ, অশিক্ষিত, ফ্যাসিস্ট— এমন সব তকমা দিয়ে চাপা দেয়—
তারপর সেই বিবেকহীন, নরম অথচ উর্বর মাটিতে তারা লাগায় সুদর্শন পুরুষের মেয়ে সাজার মতো বিষবৃক্ষ।
এর পরিণতিতে পুরো একটি প্রজন্ম—
নিজের স্রষ্টাপ্রদত্ত ফিতরাত (স্বভাব) হারিয়ে ফেলার দৃশ্য মঞ্চস্থ হতে দেখে।
আপনিও জানেন— বিবেক একবার ঘুমিয়ে গেলে মানুষ আর লজ্জা পায় না,
তখন এই নর্তন কেবল ‘প্রদর্শনী’ থাকে না, এটি হয়ে ওঠে যৌনতার খেলনা।
নারী আর পুরুষ কেউই তখন মানুষ থাকে না;
তারা হয়ে যায় শুধুই দেহসর্বস্ব জীব, যাদের লালন করা যায় ভোগের জন্য।
ভাবুন, এই জোকারের কারখানায় এখন কী হচ্ছে?
যে পুরুষটি ঘাগড়া পরে নাচছে, সে ভাবে সে ‘সুদর্শন’, সে ভাবে তার নাচে মানুষ মুগ্ধ।
কিন্তু এনজিও-কর্পোরেট-মিডিয়া চক্র তাকে ব্যবহার করে আদতে সমাজের চোখে ‘অভ্যস্ততা’ তৈরী করাচ্ছে।
তারা চায়, আগামীকাল কোনো ছেলে মেয়ের পোশাক পরলে, কোনো পুরুষ আরেক পুরুষকে মেয়েলি সাজে জড়িয়ে ধরলে, সমাজ যেন চমকে না ওঠে।
চমক থেমে গেলেই তাদের খেলা শেষ,
কারণ তখন মানুষ আর ভালো-মন্দ বিচার করার মানসিক শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলবে।
এইভাবে পুরুষত্বকে ‘সুদর্শন ’ করে হত্যা করা হচ্ছে,
আর নারীত্বকে পুরুষত্বের ভিতর ‘অনুকরণ’ করে কদর্য করা হচ্ছে, তবে এর নাম ‘শিল্প’ নয়,
বরং এটি একটি আত্মঘাতী প্রদর্শনী। তাই সময় থাকতে বিবেকটাকে জাগিয়ে তুলি।
আর আমরা যেনও হাততালি দিতে দিতে সেই জোকারের কারখানায় ঢুকে না পড়ি।
—————————
মুক্তগদ্য: বিষবৃক্ষ।
লেখা: সাজিদুল্লাহ ফরহাদ।
"লেখা ভালো লাগলে লেখকের নামসহ প্রকাশ করার অনুরোধ রইলো "
অ্যাডমিন: ইভান।