23/03/2023
রমজান মাস সুস্থতা ফিরিয়ে আনার বিশেষ সুযোগ।
আমাদের শরীরের উল্লেখযোগ্য জটিলতা বা অসুস্থতা দেখা দেয় কোষের অভ্যন্তরে বিষাক্ত বর্জ্যগুলো জমে থাকার কারণে। এ বর্জ্যগুলো দেহ থেকে কিভাবে বের করতে হবে বা দেহে বিষাক্ত বর্জ্য যাতে জমা না হয় সে সম্পর্কে অনেকেরই ধারণা নেই। দেহকে সম্পূর্ণ বর্জ্যমুক্ত করতে হলে ১৪ থেকে ২০ ঘণ্টার বেশি বা প্রায় ২৪ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হবে । এ পদ্ধতি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানসম্মত। সেই কাজটাই রমজান মাসে হয়ে যাচ্ছে । স্থানভেদে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত রমজানে রোজা রাখতে হয় । যা দেহকে বর্জ্যমুক্ত করছে।
খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে একটু সচেতন হলেই রোজার মাস অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে কোষগুলোকে প্রায় নতুনের পর্যায়ে নিয়ে যায় বা একেবারেই সুস্থভাবে কার্যকর করতে সক্ষম করে। প্রাকৃতিক খাবারের প্রতি জোর দিলে তা আরো ভালো। এখানকার পরামর্শগুলো ভেন্টেজ ন্যাচারাল হেলথ ক্লিনিকের নিজস্ব পদ্ধতি ।
সেহরিতে যা খেতে হবে
মেডিসিন্যাল নারিকেলের তেল, অর্গানিক প্রাকৃতিকভাবে বেড় উঠা গাভীর দুধের তৈরি বাটার বা ঘি দিয়ে কালো বা লাল চালের ভাত, বাকহুইট, কিনুয়া ও ওটস। এরসাথে থাকবে আমিষ । যেমন : সালাদের সাথে ডিম, ইলিশ মাছ বা যেকোনো সামুদ্রিক মাছ হলে ভালো বা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠা মুরগি, গরু বা ছাগলের গোস্ত। এ ছাড়া থাকতে পারে মিষ্টি কুমড়ার স্যুপ বা মুসুরের ডালের স্যুপ । মসলা ও লবণ কম দিয়ে মুসুরের ডাল ঘনো করে রান্না করেও স্যুপ হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। সালাদ মাখাতে হবে অর্গানিক কোল্ড প্রেস অলিভ অয়েল, লেবুর রস, কালো গোলমরিচের গুঁড়া, এক চিমটি হিমালয়া পিঙ্ক লবণ ও মধু দিয়ে ।
ইফতারে থাকবে
এক মগ বিশুদ্ধ পানি (অ্যালক্যালাইন ওয়াটার) দিয়ে রোজা ভাঙবেন । বিশুদ্ধ এক মগ পানিতে অর্ধেক লেবুর রস ও এক চিমটি হিমালয়া লবণ ও এক টেবিল চামচ প্রাকৃতিক অপরিশোধিত মধু দিয়ে শরবত পান করুন। এরপর খেজুর, কিউই ফল, আপেল, বেদানা ও ডুমুর খাবেন। এই ফলগুলোর কথা বিশেষভাবে বলছি। কেননা এগুলোতে প্রচুর অ্যানজাইম রয়েছে । অ্যানজাইমের গুরুত্ব অনেক । দেহের অভ্যন্তরে খাবার হজমে এবং এগুলোকে শক্তিতে রূপান্তরে অ্যানজাইমের ভূমিকা অপরিসীম ।
মাগরিবের নামাজের পর সালাদের সাথে আখরোট, কাজু বাদাম, কাঠবাদাম বা মিষ্টি কুমড়ার বা সূর্যমূখীর বিচি খেতে পারেন । অথবা ডিম, মাছ বা গোস্ত খাওয়া যেতে পারে । এ সময় কাঠবাদামের বাসায় তৈরি দুধ উপকার দেবে । বাইরের তৈরি জুস বা ভাজা-পোড়া, মিষ্টি একেবারে পরিহার করতে হবে । এগুলো দেহে বিষাক্ত বর্জ্য উৎপন্ন করে বেশি। এশা ও তারাবির নামাজের পর খুব বেশি ক্ষুধা লাগলে হালকা ফল খেতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি, প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। তা না হলে সারাদিন রক্তে জমে থাকা বর্জ্যগুলো বের হবে না। একমাত্র বিশুদ্ধ পানিই এ ব্যবস্থা করতে পারে । ইফতারের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৩ লিটার পানি পান করুন। মনে রাখা জরুরি, রমজান মাসের প্রধান খাবার হলো ইফতারের পরে খাবার ।
ভেন্টেজ ন্যাচারাল হেলথ ক্লিনিকের পরামর্শ মেনে চললে, রমজান মাস শেষে দেখবেন, আপনার অনেক শারীরিক সমস্যা দূর হয়ে গেছে।