17/07/2026
Writer Dr Rabin barman sir
কেস টেকিংয়ের ধাপগুলি
একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের রোগীকে কেসটেকিং করতে হলে নিম্নলিখিত ধাপগুলি অবলম্বন করতে হয়।
ক) প্রেজেন্ট কমপ্লেনস বা বর্তমান কষ্ট সমূহ কি,
আমি আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেখেছি রোগী সামনে এসে বসলে যদি বলা হয় বলুন কি বলবেন, বা যদি কিছু না বলা হয়, তাহলে রোগী নিজের থেকে নানা রকম লক্ষণ বলতে আরম্ভ করে। যখন একজন রোগী অনেক কমপ্লেন নিয়ে আসে, তার কোন লক্ষণটির গুরুত্ব কতটা, কোনটি আগে বলবে, কোনটি পরে বলবে, সে বুঝে উঠতে পারে না, বা অনেকগুলি লক্ষণ কাগজে লিখে আনে, দেখে দেখে একটার পর একটা বলতে থাকে। এভাবে বলার মধ্যে রোগীর অনেক অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা লক্ষণ ঢুকে যায়। সেইজন্য অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি বর্তমানে রোগীদেরকে বলি --বলুন আপনার এক নাম্বার কষ্ট কি? এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে রোগীর বর্তমানের আসল সমস্যাটা বোঝা যাবে। এক নম্বর কষ্ট বলা হয়ে গেলে তারপরে জিজ্ঞাসা করি, বলুন আর কি বলবেন? রোগী যদি আরো কিছু বলতে চায় তা পরপর নোট করি।
রোগী যদি আলাদা আলাদা কমপ্লেন বলতে চায়, যেমন এক নম্বর মাথা ব্যথা, দুই নম্বর পেট ব্যথা, ইত্যাদি, তাহলে একটি কষ্ট বা কমপ্লেন লেখার পরে দ্বিতীয়টি লেখার মাঝে অন্তত দুই ইঞ্চি গ্যাপ রাখতে হবে, অর্থাৎ খালি জায়গা রাখতে হবে। কারণ রোগী যখন একটি কমপ্লেন বলবে তখন তাকে কোন ডিস্টার্ব করা যাবে না। ডিস্টার্ব করলে পরের কমপ্লেনগুলো ঠিক মতন বলতে পারবে না, বা মনে করতে পারবে না, বা খেই হারিয়ে ফেলবে।
রোগী যখন থেমে যাবে বুঝতে হবে তার আর কিছু বলার নেই। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে আর কিছু বলবেন?আপনার আর কিছু বলার আছে? রোগী যদি জানায় - না ডাঃ বাবু, আমার আর কিছু বলার নেই। তাহরে এবারে ফাঁকা জায়গায় রোগীর লক্ষণগুলির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যতা পূরণ করতে হবে। রোগী যখন একটি কষ্ট বা কমপ্লেন বলে তা হল একটি সিমপটম বা লক্ষণ, কিন্তু একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে এটি সম্পূর্ণ সিমপটম বা সম্পূর্ণ লক্ষণ নয়।
তাহলে সম্পূর্ণ সিমপটম বা সম্পূর্ণ লক্ষণ বা কমপ্লিট সিমটম কাকে বলবো? একটি সিমপটমকে সম্পূর্ণ করতে হলে ছয়টি পয়েন্টের দরকার। সেই ছয়টি পয়েন্ট এবারে রোগীকে জিজ্ঞাসা করে পরপর লিখতে হবে। কি সেই ছয়টি পয়েন্ট?
১) ডিউরেশন --কতদিন হয়েছে রোগটা? এক সপ্তাহ, না কি পনেরো দিন, না কি একমাস, না কি দুই মাস, না কি এক বছর, না কি পাঁচ বছর, না কি দশ বছর? বহু চিকিৎসক কেস টেকিংয়ের সময় রোগের স্থায়িত্ব বা ডিউরেশন জিজ্ঞাসা করে না, লেখেও না। রোগী বর্ণিত রোগের স্থায়িত্ব বা ডিউরেশন না জানলে রোগটির গুরুত্ব কতটা, রোগটা কতটা ডিপ-সিটেড, বা সোজা বাংলায় রোগটা কতটা গেড়ে বসেছে, বা জাঁকিয়ে বসেছে, তা জানা যাবে না। রোদে ঘোরার পর থেকে দশ দিন ধরে মাথার যন্ত্রণা হচ্ছে মানে এক্সাইটিং বা রোগের উত্তেজক কারণে একটি তরুণ রোগ, কিন্তু দশ বছর ধরে যখন মাথার যন্ত্রণা চলছে, তখন তা তরুণ রোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তরুণ রোগের চিকিৎসার ঔষধ এক রকম হবে, আর দশ বছরের পুরাতন রোগের চিকিৎসা অন্য রকম হবে। তাই প্রতিটি রোগের ডিউরেশন বা স্থায়িত্ব আমাদের জানার খুব প্রয়োজন এবং তা অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে।
২) কজেশন বা কারণ ---মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসকরা রোগের কারণ নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামান না, যেহেতু যেভাবেই হোক রোগ লক্ষণ গুলিকে আশু চাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যই তাদের চিকিৎসার মূলমন্ত্র। একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে রোগের কজেসন বা কারণ অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। শুধুমাত্র কজেশন বা কারণের উপরে নির্ভর করে আমরা একজন রোগীকে ঔষধ সিলেকশন করি, এবং বহু ক্ষেত্রে সেই ঔষধেই রোগী আরোগ্য হয়। তাই প্রতিটি রোগের কজেশন বা কারণ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং গুরুত্বপূর্ণ বলেই আমি যাবতীয় রোগ উৎপত্তির বা রোগ লক্ষণের কজেশন বা কারণের উপরে একটি রেপার্টরি বই বের করতে চলেছি।
কজেশন বা কারণ যে অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য তার দুই চারটি উদাহরণ আমি বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথিকদেরকেস ডায়েরি থেকে দিচ্ছি।
৪০ বছর ধরে ভুগতে থাকা একজন ক্রনিক ডায়রিয়া রোগীকে মুম্বাইয়ের প্রয়াত ডাঃ এস আর পাঠক ঘন দুধ খেয়ে রোগীর ডায়েরিয়া আরম্ভ হয়েছিল বলে তাকে সিপিয়া ঔষধধটি দিয়ে আরোগ্য করেছিলেন।
কম্পিটিশন করে কয়েকজন বন্ধু একটি পাহাড়ে কে তাড়াতাড়ি উঠতে পারবে সেই চেষ্টা করায় যে মেয়েটি তাড়াতাড়ি উঠে ফার্স্ট বা প্রথম হয়েছিল তার কয়েক দিন পর থেকেই তার শ্বাসকষ্ট আরম্ভ হয়। দুই বছর ধরে সেই শ্বাসকষ্ট চলতে থাকে, কোন চিকিৎসকই তাকে ঠিক মতন আরোগ্য করতে পারছিলেন না। রোগী ডাঃ পি শঙ্করনের কাছে আসলে তিনি দুই বছর আগের ঐ ইতিহাস জেনে অতিরিক্ত পরিশ্রমের জন্য শরীরের সকল মাংসপেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল এবং তার পর থেকে রোগটি আরম্ভ হয়েছিল চিন্তা করে আর্নিকা মন্টেনা প্রেসক্রিপশন করেছিলেন এবং মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছিল।
নানা রকম মানসিক সমস্যায় জর্জরিত, অবসাদ, উদাসীনতা ইত্যাদি রোগে ভুগতে থাকা কুড়ি বছরের একটি মেয়েকে ডাঃ পি শংকরন রোগ উৎপত্তির কারণ অনুসন্ধান করে নেট্রাম মিউর দিয়ে সুস্থ করেছিলেন। এক্ষেত্রে কারণ ছিল শিক্ষিত হিন্দু ঘরের মেয়েটি এমোশনালি তার থেকে বিলো স্টান্ডার্ড একটি বয়স্ক মুসলিমকে বিয়ে করে বসেন। এই বিয়ে সুখের হয়নি, ফলে পরে মানসিক যন্ত্রণায় বিদ্ধ হতে থাকা মেয়েটির এই সব মানসিক সমস্যা এসেছিল। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কজেশন হলো-- বিবাহিত পুরুষের সাথে একটি অবিবাহিতা মেয়ের অসম বিবাহ। এটি নেট্রাম মিউরের একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ।
ডঃ পি শংকরন একজন রোগীকে তার দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা থেকে মুক্ত করতে পেরেছিলেন নেট্রাম কার্ব প্রেসক্রিপশন করে। কারণ তিনি কারণ জেনেছিলেন মাথাব্যথা আরম্ভ হয়েছিল সানস্ট্রোকের পর থেকে।
সাড়ে তিন বছরের একটি বাচ্চা কথা বলতে পারছিল না, কথা বলা শিখছিল না। লন্ডনের ডাক্তার ফুবিস্টার তাকে ইনফ্লুয়েনজিনাম ২০০ কয়েক ডোজ দেওয়াতে দ্রুত উন্নতি পেয়েছিলেন। এক্ষেত্রে তিনি কারণ হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন বাচ্চাটির মা গর্ভাবস্থায় সাংঘাতিক ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়েছিল।
ডাঃ পাঠক একবার বেশ কিছুদিন ধরে চলতে থাকা একজন ডায়েরিয়া রোগীকে সুস্থ করেছিলেন গ্রাটিওলা ৩০ শক্তির কয়েকটা ডোজ দিয়ে। কারণ ছিলো তার ডায়রিয়া গরম কালে সারাদিনে অনেক জল পান করার পর থেকে আরম্ভ হয় । এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ডাঃ পাঠক তার রেপার্টরিতে যোগ করেছেন --Diarrhoea, drinking too much water agg -- Gratiola.
ডাঃ পাঠক তার নিজের চোখের গ্লুকোমা সারিয়েছিলেন ফাইজসটিগমা ৩০ কয়েক ডোজ খেয়ে। কারণ তার চোখে আঘাত লেগেছিল, তারপর থেকেই তার গ্লুকোমার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। ফাইজসটিগমায় আছে Glucoma after injury .
মুম্বাইয়ের ডাঃ সরলা সোনাওয়ালা চার বছরের একটি ছেলে যার খাবার খেলে সেই খাবার গলা থেকে মুখ দিয়ে উপরের দিকে উঠে আসতো, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় রিগারজিটেশন অব ফুড, তা জেলসিমিয়াম কয়েক ডোজ দিয়ে সারিয়েছিলেন। এক্ষেত্রে রোগটি হওয়ার কারণ ছিল বাচ্চাটার ডিপথেরিয়া হয়েছিল, যা সেরে যাওয়ার পরেই এই লক্ষণ আরম্ভ হয়েছিল।
ডাঃ এস পি দে একটি শিশুকে তার দূরারোগ্য উইলসনস ডিজিজ আরোগ্য করেছিলেন লাইসিন দিয়ে।এক্ষেত্রে তিনি লক্ষণ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন বাচ্চার জন্মের বহু আগেই তার বাবাকে পাগলা কুকুর কামড়ে দিয়েছিল।
ডাঃ এস পি দে একটি দুরারোগ্য সোরিয়েছিস কেস আরোগ্য করেছেন এক্সরে ২০০ দিয়ে। কারণ হিসেবে তিনি ধরেছিলেন দীর্ঘদিন ধরে অনেক মলম লাগানোর ইতিহাস। তার নিজের কথায় -- I prescribed x-ray 200 one dose on considering there is repeated suppression and palliation. To my utter surprise the patient steadily improved in all. after 8 months I repeated x-ray 200 two doses.
ডাঃ এস পি দে সাহেব একটি ব্রঙ্কিয়াল এ্যাজমা রোগীকে সব লক্ষণ সাইলিসিয়া থাকা সত্ত্বেও পার্টুসিন ২০০, ২ ডোজ দিয়ে সুস্থ করেছিলেন। এক্ষেত্রে রুটিন রোগী পরীক্ষা করাকালীন তিনি দেখেছিলেন তার বুকের খাঁচা পায়রার মতন। তখনই তার সন্দেহ হয়েছিল নিঃসন্দেহে এই রোগী ছোটবেলায় হুপিংকাশিতে ভুগেছে। জিজ্ঞাসায় অনুমান সত্য হলে রোগের উৎপত্তির কারণ অ্যাজমা হুপিং কাশির পর থেকে জেনে তিনি দিয়েছিলেন পার্টুসিন ঔষধ। দেখবেন এ্যালেন কিনোটের প্রথমদিকে লেখা আছে -Astma after partusis.
ডাঃ জে এন কাঞ্জিলাল সাহেব একটি হিস্টিরিয়া রোগীকে সুস্থ করেছিলেন তার রোগের কারণ ভয় পাওয়া জানার জন্য। তিনি লিখেছেন ১৯৪৫ সালের কথা, তখন তিনি খুলনার মহেশ্বরপাশা গ্রামে প্র্যাকটিস করতেন । একজন মহিলা রাতের বেলা রাস্তার পাশে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বসেছিলেন। হঠাৎ কিছু একটা ছায়া দেখে ভয় পেয়েছিলেন, তারপর থেকে তার নানা রকম মানসিক সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। ওপিয়াম রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করেছিল।
ডাঃ ন্যাশ একজন ডিসপেপশিয়া রোগীকে সুস্থ করেছিলেন আর্নিকা দিয়ে। কারণ হিসাবে তিনি গ্রহণ করেছিলেন বহুদিন আগে লোকটির পেটে তার ঘোঁড়া লাথি মেরেছিল এবং তারপর থেকেই তার ঐ পেটের সমস্যা চলছিল। ডাঃ ন্যাশ তার লিডারস বইয়ের আর্নিকায় এই কেস লিপিবদ্ধ করেছেন।
ব্যাঙ্গালোর শহরের এ ভি কৃষ্ণমূর্তি সাহেব একজন মহিলাকে বিভিন্ন কমপ্লেন থেকে বাঁচিয়েছিলেন পাইরোজেন ১০,০০০ এক ডোজ দিয়ে। কারণ হিসেবে তিনি গ্রহণ করেছিলেন তার সব কমপ্লেন আরম্ভ হয়েছিল একটি আর্টিফিসিয়াল সেপটিক এ্যাবরশনের পর থেকে।
মুম্বাইয়ের ডাঃ সি সি দেশাই, এ্যালোপ্যাথি থেকে আসা একজন নামকরা কনভার্টেড হোমিওপ্যাথ ছিলেন। তিনি একটি মেয়ের তিন দিন ধরে টানা চলতে থাকা মাথার যন্ত্রণা সারিয়েছিলেন স্টাফিসেগ্রিয়া ১০ এম, ২ টি ডোজ দিয়ে। তিনি জানতে পেরেছিলেন ৪৫ মিনিট ধরে মেয়েটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকলেও তার নির্দিষ্ট বাসটি পায়নি। রাগের চোটে সে বাড়ি ফিরে যায়, তারপর থেকেই তার মাথাব্যথা আরম্ভ হয়েছিল।
তাই কজেশন বা কারণের উপরে ঔষধ সিলেকশন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আশা করি উপরের দুই-চারটি কেস পড়ার পরে চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে সম্যক ধারণা পাবেন, এবং প্রতিটি রোগীর রোগ উৎপত্তির কারণ বা কজেশন অবশ্যই ভালোভাবে জানার চেষ্টা করবেন।
কেসটেকিংয়ের ধাপগুলি (২)
কোন রোগ হওয়ার কজেসনস বা কারণ দুই রকম হতে পারে, মানসিক কারণ ও শারীরিক কারণ। আমি যেসব বিখ্যাত হোমিওপ্যাথদের কজেসনের উপরে ঔষধ সিলেকশনের যে কয়েকটি কেস উল্লেখ করেছি তাছাড়া মানসিক ও শারীরিক অনেক রকম কজেসনস আছে।
এখন শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের কজেসনসের কিছু উদাহরণ দেখাতে চাইছি,
মানসিক কজেসনস
১) ভৎর্সনা বা তিরস্কারের পর থেকে রোগলক্ষণ শুরু হয়েছে ( Admonition or reproaches from ) --বেলেডোনা, ইগ্নেসিয়া, ওপিয়াম, প্লাটিনা, ফসফরিক এ্যাসিড, স্টাফিসেগ্রিয়া, ইত্যাদি।
২) প্রচন্ড রাগ বা ক্রুদ্ধ হওয়ার পর থেকে রোগের উৎপত্তি ( Anger from ) --ব্রাইওনিয়া, ক্যামোমিলা, ককুলাস, কলোসিন্থ, ইগ্নেসিয়া, নাকস, ওপিয়াম, প্লাটিনা, স্টাফিসেগ্রিয়া, ইত্যাদি।
৩) দুঃসংবাদ, বা কোন খারাপ খবর শোনার পর থেকে ( Bad news hearing after) এপিস, ক্যালকেরিয়া, জেলস, ইগ্নেসিয়া, মেডো, নেট্রাম, প্যালেডিয়াম, সালফার, ইত্যাদি।
৪) অনেক রক্ত দেখার পর থেকে ( Blood see after ) -- এলুমিনা,
৫) কোন ব্যাপারে সন্তুষ্ট না হওয়ার পর থেকে, অর্থাৎ ডিসস্যাটিশফেকশনের পর থেকে ( Discontented or dissatisfaction from ) ---ক্যাল্কেরিয়া ফস, নেট্রাম মিউর, সালফার, ইত্যাদি,
৬) পুরানো কাহিনী বা ঘটনা রাতদিন চিন্তা করার বা ভাবার পর থেকে ( Dwelling on past disagreeable occurrences from) -- নেট্রাম, প্লাটিনা, সিপিয়া, ইত্যাদি।
৭) বেশী আনন্দ বা উত্তেজক ঘটনার পর থেকে ( Excitement or emotion from) --কফিয়া, জেলস, ফসফরিক এ্যাসিড, পালস, স্টাফিসেগ্রিয়া, ইত্যাদি।
৮) তাকে যেন কেউ দেখে না, ভালোবাসে না, অভাগার মতন হস্টেলে ফেলে রেখেছে, মনে হয় সে যেন বাড়ীর পরিত্যক্ত জীব, এমন সব অবাস্তব ভাবার পর থেকে ( Forsaken or abandoned feeling thinking from) অরাম মেট, ফসফরিক এ্যাসিড, সোরিনাম, পালসেটিলা, ইত্যাদি।
৯) কোন কিছু ভয়ের দৃশ্য দেখে, বা কোন ঘটনায় ভয় পাওয়ার পথ থেকে ( Fright from ) --এ্যাকোনাইট, ইগ্নেসিয়া, লাইকো, নেট্রাম, ওপিয়াম, ফসফরিক এ্যাসিড, ফসফরাস, পালস, সাইলিসিয়া, ইত্যাদি।
১০) কোন ব্যাপারে মনে খুব দুঃখ বা আঘাত পাওয়ার পর থেকে ( Grief or Mortification from) -- অরাম, ক্যালকেরিয়া কার্ব, ক্যাল্কেরিয়া ফস, কষ্টিকাম, ক্যামোমিলা, ককুলাস, কলোসিন্থ, ইগ্নেসিয়া, ল্যাকেসিস, লাইকো, নেট্রাম, প্যালেডিয়াম, ফসফরিক এ্যাসিড, প্লাটিনা, পালস, স্টাফিসেগ্রিয়া, ইত্যাদি ।
কেস টেকিংয়ের ধাপগুলি --(৩)
এবারে কিছু শারীরিক কজেসনের কথা অর্থাৎ শারীরিক কারণে কোন রোগ হয়েছে কিনা আমাদের দেখতে হবে। দুই রকম শারীরিক কারণে রোগ হতে পারে -- সার্বদৈহিক অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে শরীর কেন্দ্রিক, এবং পার্টিকুলার অর্থাৎ শরীরের কোন নির্দিষ্ট পার্ট বা অর্গান ভিত্তিক কারণে। শরীরের কোন পার্ট বা অর্গানভিত্তিক কারণ এখানে আলোচনা করছি না। এখানে আলোচনা করবো সামগ্রিকভাবে শরীরকেন্দ্রিক যখন কোন ঘটনা বা দুর্ঘটনার জন্য রোগের সূত্রপাত হয়েছে বা ঘটেছে, যেমন --বৃষ্টিতে ভেজার পর থেকে জ্বর। এখানে বৃষ্টি শুধু হাতে বা পায়ে বা মাথায় লাগেনি, সামগ্রিকভাবে রোগীটা বৃষ্টিতে ভিজেছিল। এই ধরনের সামগ্রিকভাবে শারীরিক ঘটনার বা শরীরের উপর ঘটে যাওয়ার কারণগুলি আমাদেরকে জানার চেষ্টা করতে হবে। পার্টিকুলার বা অর্গানভিত্তিক কারণও জানতে হবে, তবে তা পরে পার্টিকুলার সিমটম্সস যখন আলোচনা করবো তখন জানাবো।
তাহলে কিছু সামগ্রিক শারীরিক অর্থাৎ শরীরের উপরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, বা শরীরকেন্দ্রিক, তেমন কারণগুলি আলোচনা করছি।
১) গর্ভপাত হওয়ার পথ থেকে, তা সে ন্যাচারাল অর্থাৎ জরায়ুর দুর্বলতার জন্য বাড়িতে এমনি হয়েছে, অথবা জোরপূর্বক নার্সিংহোমে গিয়ে গর্ভপাত করিয়েছে, তারপর থেকে যাবতীয় রোগের সূত্রপাত ( Abortion after -- আর্নিকা, পাইরোজেন, সিকেলি, স্যাবাইনা)
২) ঠান্ডা শুকনো আবহাওয়া অর্থাৎ শরীরে ঠান্ডা হাওয়া লাগানোর জন্য ( Air cold exposure from ) এ্যাকোনাইট, ব্রাইওনিয়া, কষ্টিকাম, জেলস, হিপার, ইত্যাদি।
কেস টেকিংয়ের ধাপগুলি ( ৪)
ফিজিক্যাল কজেসনস, উদাহরণ
২৩) খুব গরমের মধ্যে ঠান্ডা পানীয় পান করার পর ( Chilling when over heated) ব্রাইওনিয়া,
২৪) এ্যালোপ্যাথিক ক্লোরোমাইসিটিন ক্যাপসুল বেশি খাওয়ার পর ( Chloromycetin large doses taking after) কার্বো ভেজ,
২৫) ক্লোরোফরম দিয়ে চিকিৎসা করার পর ( Chloroform bad effects from) ফসফরাস,
২৬) রজোনিবৃত্তির পর থেকে ( Climaxisor menopause from) এপিস, গ্রাফাইটিস, ল্যাকেসিস, স্যাঙ্গুনেরিয়া, সিপিয়া, সালফার, আস্টি, ইত্যাদি।
২৭) কয়লার ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করার পর থেকে ( Coal gas inhalation from) আর্নিকা, বোভিস্টা, ওপিয়াম, ইত্যাদি
২৮) যৌন সংসর্গ করার পর ( Coition after) ক্যাল্কেরিয়া, গ্রাফাইটিস, কেলি কার্ব, ফস, ফস এ্যাসিড, সিপিয়া, স্টাফি, ইত্যাদি।
২৯) ঠান্ডা পানীয় খাওয়ার পর থেকে ( Cold drinking from) রাস টকস
৩০) ব্রেনে আঘাত লাগার পর থেকে ( concussions of brain from) আর্নিকা, সিকুটা, হাইপেরি, নেট্রাম সালফ, ইত্যাদি।
৩১) অনেকদিন যৌনংসংসর্গে বিরত থাকার জন্য ( Continence from ) কোনি, ফ্লোরিক এ্যাসিড, লাইকো, প্লাটিনা, ইত্যাদি।
৩২) তামা ধাতু থেকে বিষাক্ত হওয়ার পর ( Copper poisoning from) কুপ্রাম,
৩৩) তরল সর্দি কোন অ্যালোপ্যাথিক ঔষধ দিয়ে অবরুদ্ধ করার পর থেকে( Coryza suppressed from) ক্যালি বাই,
৩৪) শরীরের কোথাও ধারালো অস্ত্রে কেটে গেলে, বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোন অপারেশনের পর ( Cutting by sharp instruments from) স্টাফি,
৩৫) ঠান্ডা স্যাঁতসেঁতে ঘরে বসবাস করার পর থেকে ( Damp cold place in living from) এ্যান্টিম টার্ট, এরানিয়া, ডালকা, নেট্রাম সালফ , ইত্যাদি।
৩৬) অন্ধকার ঘরে থাকলে বা প্রবেশ করলে ( Dark room in entering from) ফসফরাস, স্ট্রামো, ইত্যাদি।
৩৭) পচা বা বাসি খাবার খাওয়ার পর ( Decayed or spoiled food from) আর্সেনিক, কার্বো ভেজ, পাইরোজেন, ইত্যাদি।
৩৮) রাত জেগে মদ্যপান, হৈ-হুল্লোড় করার পর ( Debauchery from ) এগারি, নাকস, রানান, ইত্যাদি।
৩৯) বাচ্চা ডেলিভারির পরে ( Delivery after) এ্যাকো, আর্নিকা, ওপিয়াম, ইত্যাদি।
৪০) বাচ্চাদের দাঁত উঠার জন্য ( Dentition from) ক্যাল্কেরিয়া, ক্যাল্কেরিয়া ফস, ক্যামো, সাইলি, ইত্যাদি।
৪১) কুকুর কামড় দেওয়ার পর থেকে ( Dog bite from) Lyssin
৪২) বৃষ্টিতে ভেজার পর থেকে ( Drenching in rain from) রাস টকস,
৪৩) ইলেকট্রিক তার শরীরে লেগে শক খাওয়ার পর থেকে ( Electric shock from ) ফসফরাস,
৪৪) হাম বা পকসের গুটিগুলি যখন ঠিকমতো বেরুতে পারে না, তারপর থেকে বিভিন্ন রকম সমস্যা বা রোগের সূত্রপাত ( Eruptions of measles, pox etc. when not properly exit) এপিস, ব্রাইও, কুপ্রাম, সালফার, জিংকাম, ইত্যাদি।
৪৫) চর্ম রোগে বহুদিন ধরে মলম লাগানোর পর থেকে অসুবিধা ( Eruptions suppressed from) এপিস, কষ্টিকাম, ডালকা, গ্রাফাই, হিপার, পেট্রো, ফস এ্যাসিড, সোরিনাম, সালফার, জিংকাম, ইত্যাদি।
৪৬) চোখের কাজ বেশী করার জন্য ( Eyestrain from) নেট্রাম, পালস, রুটা, ইত্যাদি।
৪৭) আগুনের উত্তাপ শরীরে বেশি লাগার পর থেকে ( Fire heat from ) কার্বো ভেজ, গ্লোনয়িন, নেট্রাম কার্ব, ইত্যাদি।
৪৮) ফুলের গন্ধ শোঁকার পর থেকে ( Flower smelling from) নাকস, ফস, স্যাংগুনেরিয়া, ইত্যাদি।
৪৯) গ্যাসলাইট দিয়ে কারখানায় কাজ করার পর থেকে ( Gaslight by working from) নেট্রাম কার্ব
৫০) গনোরিয়ার স্রাব পেনিসিলিন ইনজেকশন নিয়ে চাপা দেওয়ার পর থেকে ( Gonorrhoeal discharge suppreed from ) মেডো, নেট্রাম সালফ, থুজা, ইত্যাদি।
৫১) রক্তস্রাবে পর থেকে ( Haemorrhage after) চায়না
৫২) চুল কাটার পর থেকে ( Hair cutting from) বেল, গ্লোনিয়ন, ইত্যাদি।
৫৩) উঁচু জায়গায় উঠার পর থেকে ( High places in ascending from) ক্যাল্কেরিয়া, , কোকা, সালফার, ইত্যাদি।
৫৪) ক্ষুধা পাওয়ার পর ( Hunger from) এনাকা, আয়োডাম, লাইকো, ফস, সিপিয়া, সালফার, ইত্যাদি।
৫৫) সংক্রামিত রোগের পর থেকে ( Infectious disease after) -- পাইরোজেন
( চলবে)
( চলবে)