30/08/2026
একদিন স্কুল থেকে ফিরে মা জিজ্ঞেস করলেন—
“আজ কী হয়েছে?”
শিশু বলল,
“কিছু না।”
মা আবার জিজ্ঞেস করলেন,
“নিশ্চিত? বলো তো!”
শিশু এবার একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
“বললাম তো, কিছু হয়নি!”
মা ভাবলেন—
“বাচ্চাটা এখন আমার সঙ্গে কিছুই share করে না।”
কিন্তু আসল প্রশ্নটা হয়তো অন্য জায়গায়।
শিশু কি সত্যিই কিছু বলতে চায় না?
নাকি সে শিখে গেছে—
“বললে কী হবে?”
হয়তো আগেও সে কোনো কথা বলেছিল,
আর আমরা সঙ্গে সঙ্গে বলেছি—
“এতটুকু ব্যাপার নিয়ে কাঁদছ কেন?”
“এটা নিয়ে মন খারাপ করার কী আছে?”
“তুমি তো ভুলই করেছ!”
“আমি তো আগেই বলেছিলাম!”
শিশু তখন একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখতে পারে—
“আমার অনুভূতিগুলো বড়দের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
তাই পরের বার সে চুপ করে যায়।
কথা কম বলে।
ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে খেলতে থাকে।
অথবা বিরক্তি, কান্না, রাগ কিংবা জেদ দিয়ে নিজের ভেতরের কথাগুলো প্রকাশ করে।
কারণ ছোট শিশুরা সবসময় বলতে পারে না—
“আজ আমার খুব খারাপ লেগেছে।”
“আমি ভয় পেয়েছিলাম।”
“আমি চাইছিলাম তুমি আমাকে একটু বুঝো।”
তারা অনেক সময় আচরণ দিয়ে অনুভূতিটা প্রকাশ করে।
তাই শিশু যখন হঠাৎ চুপ হয়ে যায়,
শুধু “কী হয়েছে?” জিজ্ঞেস না করে একটু কাছে বসুন।
বলতে পারেন—
“তুমি এখন কথা বলতে না চাইলে সমস্যা নেই। যখন ইচ্ছে হবে, আমি শুনব।”
আর সে যখন শেষ পর্যন্ত কিছু বলে—
সঙ্গে সঙ্গে সমাধান দিতে যাবেন না।
প্রথমে শুনুন।
তারপর বলতে পারেন—
“তোমার জায়গায় থাকলে আমারও হয়তো খারাপ লাগত।”
এই একটা বাক্য শিশুকে শেখায়—
“আমার অনুভূতি এখানে নিরাপদ।”
মনে রাখবেন,
শিশু আপনার কাছে তার জীবনের প্রতিটি ঘটনা বলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
কিন্তু সে যেন জানে—
যেদিন তার সবচেয়ে বেশি কথা বলার প্রয়োজন হবে, সেদিন আপনি তাকে বিচার না করে শুনবেন।
আজ আপনার সন্তান যদি এসে বলে,
“মা, আজ একটা ঘটনা ঘটেছে…”
তাহলে ফোনটা একটু পাশে রাখুন।
হয়তো সেই ছোট্ট ঘটনাটাই তার কাছে আজকের পুরো পৃথিবী।
আপনার সন্তানও কি কখনো হঠাৎ বলে—“কিছু হয়নি”?
হয়তো সেই মুহূর্তে তাকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন না করে, শুধু একটু পাশে বসে থাকাটাই বেশি দরকার।
আপনি এমন পরিস্থিতিতে আপনার সন্তানকে কী বলেন?
কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন। 👇
আর যদি মনে হয়, এই পোস্টটি কোনো মা-বাবার কাজে আসবে, তাহলে তাদের সঙ্গে শেয়ার করুন।
Nurture with Ivana-কে Follow করে এমন আরও বাস্তব parenting tips-এর সঙ্গে থাকুন।