Nurture with Ivana

  • Home
  • Nurture with Ivana

Nurture with Ivana শুধু শিশু নয় -মা, বাবা, দাদি-নানু, পুরো পরিবারের সুস্থতার গল্প এখানে। বিজ্ঞান আর সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করে চলে।

30/08/2026

একদিন স্কুল থেকে ফিরে মা জিজ্ঞেস করলেন—

“আজ কী হয়েছে?”

শিশু বলল,

“কিছু না।”

মা আবার জিজ্ঞেস করলেন,

“নিশ্চিত? বলো তো!”

শিশু এবার একটু বিরক্ত হয়ে বলল,

“বললাম তো, কিছু হয়নি!”

মা ভাবলেন—

“বাচ্চাটা এখন আমার সঙ্গে কিছুই share করে না।”

কিন্তু আসল প্রশ্নটা হয়তো অন্য জায়গায়।

শিশু কি সত্যিই কিছু বলতে চায় না?

নাকি সে শিখে গেছে—

“বললে কী হবে?”

হয়তো আগেও সে কোনো কথা বলেছিল,
আর আমরা সঙ্গে সঙ্গে বলেছি—

“এতটুকু ব্যাপার নিয়ে কাঁদছ কেন?”

“এটা নিয়ে মন খারাপ করার কী আছে?”

“তুমি তো ভুলই করেছ!”

“আমি তো আগেই বলেছিলাম!”

শিশু তখন একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখতে পারে—

“আমার অনুভূতিগুলো বড়দের কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

তাই পরের বার সে চুপ করে যায়।

কথা কম বলে।

ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে খেলতে থাকে।

অথবা বিরক্তি, কান্না, রাগ কিংবা জেদ দিয়ে নিজের ভেতরের কথাগুলো প্রকাশ করে।

কারণ ছোট শিশুরা সবসময় বলতে পারে না—

“আজ আমার খুব খারাপ লেগেছে।”

“আমি ভয় পেয়েছিলাম।”

“আমি চাইছিলাম তুমি আমাকে একটু বুঝো।”

তারা অনেক সময় আচরণ দিয়ে অনুভূতিটা প্রকাশ করে।

তাই শিশু যখন হঠাৎ চুপ হয়ে যায়,
শুধু “কী হয়েছে?” জিজ্ঞেস না করে একটু কাছে বসুন।

বলতে পারেন—

“তুমি এখন কথা বলতে না চাইলে সমস্যা নেই। যখন ইচ্ছে হবে, আমি শুনব।”

আর সে যখন শেষ পর্যন্ত কিছু বলে—

সঙ্গে সঙ্গে সমাধান দিতে যাবেন না।

প্রথমে শুনুন।

তারপর বলতে পারেন—

“তোমার জায়গায় থাকলে আমারও হয়তো খারাপ লাগত।”

এই একটা বাক্য শিশুকে শেখায়—

“আমার অনুভূতি এখানে নিরাপদ।”

মনে রাখবেন,

শিশু আপনার কাছে তার জীবনের প্রতিটি ঘটনা বলবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

কিন্তু সে যেন জানে—

যেদিন তার সবচেয়ে বেশি কথা বলার প্রয়োজন হবে, সেদিন আপনি তাকে বিচার না করে শুনবেন।

আজ আপনার সন্তান যদি এসে বলে,
“মা, আজ একটা ঘটনা ঘটেছে…”

তাহলে ফোনটা একটু পাশে রাখুন।

হয়তো সেই ছোট্ট ঘটনাটাই তার কাছে আজকের পুরো পৃথিবী।

আপনার সন্তানও কি কখনো হঠাৎ বলে—“কিছু হয়নি”?

হয়তো সেই মুহূর্তে তাকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন না করে, শুধু একটু পাশে বসে থাকাটাই বেশি দরকার।

আপনি এমন পরিস্থিতিতে আপনার সন্তানকে কী বলেন?

কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন। 👇

আর যদি মনে হয়, এই পোস্টটি কোনো মা-বাবার কাজে আসবে, তাহলে তাদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

Nurture with Ivana-কে Follow করে এমন আরও বাস্তব parenting tips-এর সঙ্গে থাকুন।

“বাহ! তুমি তো অনেক বুদ্ধিমান!”শিশু একটা puzzle শেষ করল।আমরা খুশি হয়ে কথাটা বলে ফেলি।কিন্তু একটা ছোট পরিবর্তন করলে এই প্র...
30/08/2026

“বাহ! তুমি তো অনেক বুদ্ধিমান!”

শিশু একটা puzzle শেষ করল।

আমরা খুশি হয়ে কথাটা বলে ফেলি।

কিন্তু একটা ছোট পরিবর্তন করলে এই প্রশংসাটাই শিশুর জন্য আরও উপকারী হতে পারে।

কারণ—

“তুমি বুদ্ধিমান” বললে শিশুর মনে একটা পরিচয় তৈরি হতে পারে:

“আমাকে বুদ্ধিমান হতে হবে।”

তারপর কোনো কঠিন puzzle এলো।

শিশু পারল না।

তখন?

“আমি তো বুদ্ধিমান… তাহলে আমি পারছি না কেন?”

আর এখান থেকেই কিছু শিশু ভুলকে ভয় পেতে শুরু করে।

তাই শিশুর ক্ষমতাকে শুধু প্রশংসা না করে তার চেষ্টা, কৌশল ও অধ্যবসায়কে লক্ষ্য করুন।

“তুমি অনেক চেষ্টা করেছ।”

“এই অংশটা না পারলেও তুমি অন্যভাবে চেষ্টা করেছ।”

“তুমি কীভাবে এটা বের করলে?”

“আগে যেটা পারছিলে না, এখন সেটা পারছ!”

এই ধরনের কথায় শিশুর মনোযোগ যায়—

ফলাফল থেকে → শেখার প্রক্রিয়ায়।

তবে এর মানে এই নয় যে শিশুকে কখনো “তুমি বুদ্ধিমান” বলা যাবে না।

মূল বিষয় হলো, প্রশংসাটা যেন শুধু শিশুর একটা fixed label হয়ে না যায়।

কারণ আমরা চাই না শিশু শুধু “ভালো” বা “বুদ্ধিমান” প্রমাণ করতে শিখুক।

আমরা চাই সে শিখুক—

“আমি না পারলেও চেষ্টা করতে পারি।”

“ভুল হলেও আবার শুরু করতে পারি।”

“কঠিন কিছু মানেই আমি অযোগ্য নই।”

পরের বার আপনার সন্তান কোনো কাজ করলে শুধু বলবেন না—

“বাহ, তুমি কত বুদ্ধিমান!”

একটু থেমে জিজ্ঞেস করুন—

“তুমি এটা কীভাবে করলে?”

এই ছোট্ট পরিবর্তনটাই শিশুর শেখার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে।

আপনি কি এতদিন শিশুকে “বুদ্ধিমান” বলেই প্রশংসা করতেন?

আজ থেকে একবার চেষ্টা করে দেখুন—
তার ফলাফল নয়, তার চেষ্টা আর শেখার প্রক্রিয়াটাকে প্রশংসা করুন।

আপনার পরিচিত কোনো মা-বাবা যদি শিশুকে বড় করতে গিয়ে এমন ভুল করে থাকেন, পোস্টটি তাদের সঙ্গে শেয়ার করুন।

আর এমন বাস্তব ও research-based parenting tips পেতে Nurture with Ivana-কে Follow করে পাশে থাকুন।

একদিন ৩ বছরের একটা বাচ্চা খেলতে খেলতে গ্লাসটা ফেলে ভেঙে ফেলল।শব্দ শুনে মা দৌড়ে এলেন।— “এটা কী করেছ তুমি! কতবার বলেছি সাব...
29/08/2026

একদিন ৩ বছরের একটা বাচ্চা খেলতে খেলতে গ্লাসটা ফেলে ভেঙে ফেলল।

শব্দ শুনে মা দৌড়ে এলেন।

— “এটা কী করেছ তুমি! কতবার বলেছি সাবধানে থাকতে?”

বাচ্চাটা কিছু বলল না।

শুধু মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।

মা ভাবলেন,

“বুঝেছে। এবার থেকে আর করবে না।”

কিন্তু কয়েকদিন পর আবার একটা প্লেট পড়ে গেল।

এবার বাচ্চাটা সঙ্গে সঙ্গে বলল—

— “আমি করি নাই!”

মা অবাক হলেন।

কারণ তিনি তো তাকে মিথ্যা বলতে শেখাননি।

তাহলে বাচ্চা মিথ্যা বলছে কেন?

কারণ অনেক সময় শিশু ভুল করার ভয় থেকে সত্যিটা লুকাতে শেখে।

সে তখন ভাবছে না—

“আমি কীভাবে ভুলটা ঠিক করব?”

সে ভাবছে—

“সত্যি বললে মা রাগ করবেন তো?”

এখানেই parenting-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আছে।

শিশু ভুল করবেই।

গ্লাস ভাঙবে।

দুধ ফেলবে।

দেয়ালে আঁকবে।

খেলনা ছুঁড়ে ফেলবে।

প্রতিবার ভুলের সঙ্গে যদি আমরা ভয় জুড়ে দিই,

তাহলে শিশু ধীরে ধীরে ভুল স্বীকার করার বদলে ভুল লুকাতে শিখতে পারে।

তাই পরেরবার কিছু ভেঙে গেলে চেষ্টা করুন—

❌ “তুমি সবসময় এমন করো!”

❌ “কতবার বলেছি!”

❌ “আবার করলে কিন্তু দেখিয়ে দেব!”

এর বদলে বলুন—

✅ “গ্লাসটা পড়ে গেছে। কেউ আহত হয়েছে কি না আগে দেখি।”

✅ “চলো, একসাথে পরিষ্কার করি।”

✅ “পরেরবার কীভাবে সাবধানে ধরতে পারো, সেটা ভাবি।”

এতে কি শিশু আর কখনো ভুল করবে না?

অবশ্যই করবে।

কিন্তু ধীরে ধীরে সে একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস শিখবে—

“ভুল করলে আমি মায়ের কাছে সত্যিটা বলতে পারি।”

আর এই নিরাপত্তাটাই ভবিষ্যতে তার সঙ্গে আপনার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সম্পদ হতে পারে।

মনে রাখবেন:

শিশুকে ভুল থেকে শেখানো আর শিশুকে ভুলের জন্য ভয় দেখানো—দুটো এক জিনিস নয়।

আপনার সন্তান ভুল করলে আপনি সাধারণত প্রথমে কী বলেন?

কমেন্টে সেই কথাটা লিখুন।

রাফি মায়ের কাছে এসে বলল,— “মা, আমি এখনই চকলেট খাব।”মা বললেন, — “না বাবা, এখন না। খাওয়ার পরে খাবে।”রাফি কাঁদতে শুরু করল।—...
28/08/2026

রাফি মায়ের কাছে এসে বলল,

— “মা, আমি এখনই চকলেট খাব।”

মা বললেন, — “না বাবা, এখন না। খাওয়ার পরে খাবে।”

রাফি কাঁদতে শুরু করল।

— “আমি এখনই খাব!”

মা প্রথমে শক্ত থাকলেন।

কিন্তু কান্নাটা যখন আরও বেড়ে গেল, মা বললেন—

— “আচ্ছা, ঠিক আছে। শুধু আজকেই খাও।”

রাফি চুপ করে গেল।

মা ভাবলেন, “বাচ্চাটা তো শেষ পর্যন্ত বুঝল।”

কিন্তু রাফি সেদিন আরেকটা জিনিসও শিখে ফেলল—

“আমি যদি ‘না’ শুনে আরও জোরে কাঁদি, তাহলে ‘না’টা একসময় ‘হ্যাঁ’ হয়ে যায়।”

এখানেই আসল সমস্যা।

একদিন এমন হলে বড় কিছু হয় না।

কিন্তু যদি বারবার একই pattern হয়—

শিশু কিছু চায় → মা ‘না’ বলেন → শিশু কান্না করে → মা সিদ্ধান্ত বদলে দেন

তাহলে শিশু ধীরে ধীরে শিখে যায়, কান্না হচ্ছে তার চাওয়া পূরণের একটা কার্যকর উপায়।

তাই শিশুর কান্না থামানোর জন্য প্রতিবার সিদ্ধান্ত বদলানো প্রয়োজনীয় নয়।

বরং আপনি শান্তভাবে বলতে পারেন—

“আমি জানি তুমি এটা খুব চাইছো। কিন্তু এখন এটা হবে না। তুমি মন খারাপ করতে পারো, আমি তোমার পাশে আছি।”

খেয়াল করুন—

আপনি শিশুর অনুভূতিকে অস্বীকার করছেন না।

আবার তার কান্নার কারণে নিজের সীমাটাও বদলে দিচ্ছেন না।

এই পার্থক্যটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ parenting-এর লক্ষ্য হলো শিশুকে কখনো কাঁদতে না দেওয়া নয়।

লক্ষ্য হলো তাকে ধীরে ধীরে শেখানো—

“আমি যা চাই, সবসময় তা পাব না।
তবুও আমার অনুভূতি নিরাপদ।”

আর একটা কথা মনে রাখবেন—

Boundary মানে কঠোর হওয়া নয়।
Boundary মানে শান্ত থেকে নিজের সিদ্ধান্তে consistent থাকা।

আজ শিশু আপনার “না” শুনে কাঁদতে পারে।

আপনি তার পাশে থাকুন।

কিন্তু শুধু কান্না থামানোর জন্য প্রতিবার “হ্যাঁ” বলে ফেলবেন না।

কারণ আজ আপনি যে ছোট্ট অভ্যাস তৈরি করছেন,
কাল সেটাই তার আচরণের একটা pattern হয়ে উঠতে পারে।

আপনার শিশু “না” শুনে কান্না করলে আপনি সাধারণত কী করেন—অপেক্ষা করেন, নাকি শেষ পর্যন্ত হ্যাঁ বলে দেন?

কমেন্টে আপনার অভিজ্ঞতা লিখুন।
হয়তো আপনার একটা অভিজ্ঞতা অন্য একজন মাকে তার নিজের শিশুকে বুঝতে সাহায্য করবে।

মনে রাখবেন: শিশুর বয়স ও পরিস্থিতি অনুযায়ী সীমা নির্ধারণের পদ্ধতি আলাদা হতে পারে।

একটা বাচ্চা খেলতে খেলতে হঠাৎ খেলনাটা ছুঁড়ে ফেলল।মা সঙ্গে সঙ্গে বললেন,“এই! খেলনা ছুঁড়ে ফেলছ কেন?”বাচ্চা কিছু বলল না।কিছুক...
27/08/2026

একটা বাচ্চা খেলতে খেলতে হঠাৎ খেলনাটা ছুঁড়ে ফেলল।

মা সঙ্গে সঙ্গে বললেন,

“এই! খেলনা ছুঁড়ে ফেলছ কেন?”

বাচ্চা কিছু বলল না।

কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করল।
আবার পারল না।
আবার খেলনাটা ছুঁড়ে দিল।

মা এবার বিরক্ত হয়ে বললেন,

“তুমি তো কিছুই ঠিকমতো করতে চাও না!”

কিন্তু এখানেই একটা প্রশ্ন আছে—

বাচ্চাটা কি সত্যিই খেলতে চাইছিল না?

নাকি সে খেলনাটা দিয়ে কাজটা করতে পারছিল না?

আমরা বড়রা অনেক সময় শিশুর আচরণটা দেখি,
কিন্তু তার আগের ৫ মিনিট দেখি না।

সে হয়তো বারবার চেষ্টা করছিল।

হয়তো কাজটা তার জন্য একটু কঠিন ছিল।

হয়তো সে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল।

অথবা হয়তো সে শুধু চাইছিল—
কেউ একটু পাশে এসে বলুক, “চলো, একসাথে করি।”

শিশুর আচরণ অনেক সময় একটা message।

কিন্তু শিশুর vocabulary এখনও এত বড় হয়নি যে সে বলতে পারবে—

“মা, আমি পারছি না। আমাকে একটু সাহায্য করো।”

তাই সে হয়তো খেলনা ছুঁড়ে ফেলে।

কান্না করে।

চলে যায়।

অথবা হঠাৎ বলে,

“আমি খেলব না!”

এই জায়গাটাতেই parenting-এর একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন দরকার।

পরেরবার শিশু কোনো কাজ করতে গিয়ে বিরক্ত হলে,
সঙ্গে সঙ্গে “জেদি” বা “অমনোযোগী” বলার আগে একবার নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—

“ও কি কাজটা করতে চাইছে না, নাকি কাজটা করতে পারছে না?”

এই একটা প্রশ্ন অনেক সময়
শিশুর আচরণকে দেখার পুরো দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলে দিতে পারে।

কারণ শিশুকে শুধু আচরণ থামাতে শেখানো নয়—

তার আচরণের ভেতরের কথাটাও বুঝতে শেখা parenting-এর অংশ।

আপনার বাচ্চা খেলতে গিয়ে এমন করলে আপনি কী করেন?

“শিশু হঠাৎ নিজের জিনিস আপনাকে দিতে শুরু করেছে? এটা শুধু আদর নয়”সেদিন একটা মা আমাকে বলছিলেন,“আপু, আমার বাচ্চা একটা অদ্ভুত...
25/08/2026

“শিশু হঠাৎ নিজের জিনিস আপনাকে দিতে শুরু করেছে? এটা শুধু আদর নয়”

সেদিন একটা মা আমাকে বলছিলেন,

“আপু, আমার বাচ্চা একটা অদ্ভুত কাজ করছে।”

“কী?”

“ওর হাতে কিছু থাকলে বারবার আমার হাতে দিয়ে দেয়। আবার একটু পর আমার কাছ থেকে নিয়ে নেয়। আমি ভাবছিলাম, ও কি খেলাটা নষ্ট করছে?”

আমি বললাম,

“আপনি জানেন, এই ছোট্ট কাজটার মধ্যেই কিন্তু অনেক বড় একটা শেখা লুকিয়ে থাকতে পারে?”

আমরা বড়রা অনেক সময় ভাবি—

শিশু খেলনা দিল → আবার নিয়ে নিল → আবার দিল।

মানে হয়তো শুধু খেলছে।

কিন্তু শিশুর জন্য এটা হতে পারে একটা social interaction-এর practice।

সে ধীরে ধীরে বুঝতে শিখছে—

“আমি কিছু দিতে পারি।”
“অন্য মানুষ সেটা নিতে পারে।”
“তারপর আবার আমার কাছে ফিরেও আসতে পারে।”

আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার?

কখনো কখনো শিশু জিনিসটা আপনাকে দেওয়ার পর আপনার মুখের দিকে তাকায়।

আপনি কী করছেন?

হাসছেন?

অবাক হচ্ছেন?

জিনিসটা নিচ্ছেন?

তারপর সে আবার সেটা নিয়ে নিচ্ছে!

অর্থাৎ খেলনার পাশাপাশি সে মানুষের সঙ্গে interaction-এর নিয়মও পরীক্ষা করছে।

তাই পরেরবার আপনার শিশু নিজের খেলনা, খাবার বা কোনো ছোট জিনিস আপনার হাতে দিলে—

“না না, এটা তোমারই” বলে সরিয়ে দেবেন না।

বরং একটু সময় নিয়ে বলুন,

“তুমি আমাকে দিলে?”

তারপর নিন।

“ধন্যবাদ।”

আবার তার হাতে দিয়ে বলতে পারেন,

“এই নাও, আবার তোমার।”

এই ছোট্ট আদান-প্রদান শিশুর জন্য হতে পারে একটা সুন্দর social learning moment।

তবে একটা বিষয় মনে রাখবেন—

সব শিশু একই বয়সে একইভাবে এই আচরণ দেখাবে না।
কেউ আগে করবে, কেউ পরে করবে, কেউ অন্যভাবে যোগাযোগ করবে।

তাই শিশুর প্রতিটি আচরণকে milestone-এর পরীক্ষার মতো না দেখে,

তার সঙ্গে যোগাযোগের একটা সুযোগ হিসেবে দেখুন।

কারণ শিশুর হাতে থাকা ছোট্ট একটা খেলনা কখনো কখনো শুধু খেলনা নয়—

সেটাই হতে পারে তার “আমি তোমার সঙ্গে connect করতে চাই”—এর প্রথম দিকের ভাষা।

আপনার শিশুও কি নিজের জিনিস বারবার আপনার হাতে দিয়ে আবার নিয়ে নেয়?

একটা ছোট্ট ঘটনা বলি।মা বললেন,“এখন খেলনা গুছিয়ে রাখো।”শিশু খেলতেই থাকল।মা আবার বললেন,“কতবার বলব? এখনই গুছাও!”শিশু এবারও ন...
24/08/2026

একটা ছোট্ট ঘটনা বলি।

মা বললেন,
“এখন খেলনা গুছিয়ে রাখো।”

শিশু খেলতেই থাকল।

মা আবার বললেন,
“কতবার বলব? এখনই গুছাও!”

শিশু এবারও নড়ল না।

তারপর মা রেগে গিয়ে বললেন,
“তুমি কখনো আমার কথা শোনো না!”

কিন্তু একটু থামুন।

শিশুটি কি সত্যিই “কথা শুনতে চায় না”?

নাকি সে তখনও খেলায় এতটাই ডুবে ছিল যে, খেলা থেকে বের হয়ে নির্দেশ পালন করার জন্য তার একটু সময় দরকার ছিল?

শিশুর মস্তিষ্ক বড়দের মতো করে কাজ করে না।

একটা কাজ থেকে আরেকটা কাজে হঠাৎ পরিবর্তন করা—বিশেষ করে খেলায় মগ্ন থাকার সময়—অনেক শিশুর জন্য কঠিন।

তাই “শোনো!” বারবার বলার বদলে আপনি চেষ্টা করতে পারেন—

“আর ২ মিনিট খেলবে। তারপর আমরা দুজন মিলে খেলনাগুলো গুছাব।”

তারপর সময় হলে—

“চলো, গাড়িগুলো বাক্সে রাখি। তুমি গাড়ি রাখবে, আমি বলগুলো রাখছি।”

এখানে আপনি শুধু তাকে আদেশ মানতে শেখাচ্ছেন না।

আপনি তাকে শেখাচ্ছেন—

→ কাজ পরিবর্তন করা
→ নির্দেশ অনুসরণ করা
→ সহযোগিতা করা
→ নিজের কাজ শেষ করা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?

শিশুকে কথা শোনানো আর শিশুকে শুনতে শেখানো—দুটো এক জিনিস নয়।

আমরা অনেক সময় চাই, শিশু যেন প্রথমবারেই আমাদের কথা শোনে।

কিন্তু parenting-এর লক্ষ্য শুধু “obedient child” তৈরি করা নয়।

লক্ষ্য হলো এমন একজন শিশু তৈরি করা, যে ধীরে ধীরে বুঝতে, সহযোগিতা করতে এবং নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে।

আজ থেকে তাই “কতবার বলব?” বলার আগে একবার ভাবুন—

“আমি কি তাকে শুধু নির্দেশ দিচ্ছি, নাকি কাজটা করতে শেখাচ্ছি?”

আপনার যদি মনে হয় এই ছোট্ট পরিবর্তনটা অন্য একজন parent-এরও কাজে লাগতে পারে, পোস্টটি শেয়ার করে তার কাছে পৌঁছে দিন।

সেদিন সকালে তাড়াহুড়ো ছিল।মা দেখলেন, ছোট্ট ছেলেটা নিজের জামার বোতাম লাগানোর চেষ্টা করছে।একটা বোতাম লাগল।পরেরটা লাগাতে গিয়...
23/08/2026

সেদিন সকালে তাড়াহুড়ো ছিল।

মা দেখলেন, ছোট্ট ছেলেটা নিজের জামার বোতাম লাগানোর চেষ্টা করছে।

একটা বোতাম লাগল।

পরেরটা লাগাতে গিয়ে আটকে গেল।

মা একবার তাকালেন।

তারপর বললেন—

“দাও, আমি করে দিচ্ছি।”

কয়েক সেকেন্ডেই সব বোতাম লাগানো হয়ে গেল।

ছেলেটা কিছু বলল না।

পরের দিন আবার জামা পরার সময় সে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল—

“মা, তুমি লাগিয়ে দাও।”

মা ভাবলেন,

“কালও তো নিজে করার চেষ্টা করছিল! আজ আবার পারছে না কেন?”

এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে।

শিশু যখন কোনো কাজ নিজে করার চেষ্টা করে, তখন সে শুধু কাজটা শেখে না।

সে নিজের সম্পর্কে একটা ধারণাও তৈরি করে—

“আমি পারি।”

কিন্তু আমরা যখন তার একটু কষ্ট দেখেই কাজটা নিজের হাতে নিয়ে নিই, তখন অজান্তেই একটা অন্য বার্তা যেতে পারে—

“কঠিন হলে বড় কেউ এসে করে দেবে।”

অবশ্যই, শিশুকে কখনো সাহায্য করা যাবে না—এমন নয়।

কিন্তু সাহায্য করারও একটা সুন্দর উপায় আছে।

পরেরবার সে আটকে গেলে সঙ্গে সঙ্গে কাজটা করে না দিয়ে বলতে পারেন—

“কোন জায়গায় আটকে গেছো? চলো, একসঙ্গে দেখি।”

অথবা—

“তুমি আরেকবার চেষ্টা করো। দরকার হলে আমি সাহায্য করব।”

কারণ শিশুর জন্য সবচেয়ে বড় শেখাটা সবসময়—

“কাজটা হয়ে গেল।”

নয়।

কখনো সবচেয়ে বড় শেখাটা হলো—

“আমি চেষ্টা করেছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত পেরেছি।”

তাই শিশুর কাজ নিখুঁত করার তাড়ায় তার চেষ্টা করার সুযোগটা যেন আমরা কেড়ে না নিই।

আজ সে হয়তো একটা বোতাম লাগাবে।

কাল নিজের জুতা পরবে।

পরশু কোনো সমস্যার সমাধান নিজেই খুঁজবে।

আর ধীরে ধীরে তার ভেতরে তৈরি হবে একটা বিশ্বাস—

“আমি পারি। না পারলেও আবার চেষ্টা করতে পারি।”

আর একটা শিশুর জন্য এই বিশ্বাসটা
শুধু একটা কাজ শেখার চেয়েও অনেক বড়।

আপনার শিশুও কি কোনো কাজ করতে গিয়ে বারবার আপনার সাহায্য চায়?

তাহলে আজ থেকে একবার চেষ্টা করে দেখুন—
সঙ্গে সঙ্গে করে না দিয়ে, একটু সময় দিন।

আপনার কাছে হয়তো এটা সামান্য একটা কাজ,
কিন্তু শিশুর কাছে এটাই হতে পারে—

“আমি নিজে পারি” শেখার প্রথম ধাপ।

এই কথাটা যদি আপনার কোনো parent friend-এর কাজে লাগে,
তাকে পোস্টটা শেয়ার করে দিন।

আর এমন সহজ ভাষায় parenting-এর ছোট ছোট বিষয় জানতে
Nurture with Ivana-এর সঙ্গে থাকুন।

সেদিন মা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বললেন—— “খেলনাগুলো গুছিয়ে রাখো, তারপর হাত ধুয়ে খেতে এসো।”ছেলে মায়ের দিকে তাকিয়ে মাথা ন...
23/08/2026

সেদিন মা রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বললেন—

— “খেলনাগুলো গুছিয়ে রাখো, তারপর হাত ধুয়ে খেতে এসো।”

ছেলে মায়ের দিকে তাকিয়ে মাথা নেড়ে বলল—

— “হ্যাঁ।”

মা ভাবলেন, এবার নিশ্চয়ই কাজটা করবে।

কিছুক্ষণ পর এসে দেখলেন— খেলনাগুলো ঠিক আগের জায়গাতেই পড়ে আছে।

মায়ের মাথা গরম হয়ে গেল।

— “আমি তোমাকে কতবার বলেছি? তুমি কখনো আমার কথা শোনো না!”

শিশুটি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

কিন্তু এখানে একটা প্রশ্ন করা দরকার ছিল—

সে কি সত্যিই কথা শুনতে চায়নি, নাকি একসাথে এতগুলো কথা মনে রাখার মতো প্রস্তুতি তার এখনো হয়নি?

আমরা বড়রা একটা নির্দেশ শুনে তার পরের কয়েকটা ধাপ মাথায় রাখতে পারি।

কিন্তু ছোট শিশুর attention, working memory আর self-control এখনো তৈরি হচ্ছে।

তাই—

“খেলনা গুছিয়ে রাখো, হাত ধুয়ে এসো, তারপর খেতে বসো”—

এই পুরো নির্দেশটা তার কাছে একসাথে অনেক বড় হয়ে যেতে পারে।

তাই এবার একই পরিস্থিতিটা একটু অন্যভাবে দেখুন।

মা বললেন—

“আগে খেলনাগুলো বাক্সে রাখো।”

শিশু খেলনা গুছিয়ে ফেলল।

তারপর মা বললেন—

“দারুণ। এবার চলো, হাত ধুই।”

এবার শিশুর জন্য কাজটা অনেক সহজ।

আর একটা ছোট কৌশল আরও কাজে লাগতে পারে।

“বুঝেছ?” জিজ্ঞেস করার বদলে বলুন—

“এখন তুমি কী করবে, আমাকে বলো তো?”

শিশু যদি বলতে পারে, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন সে আসলে নির্দেশটা ধরতে পেরেছে কি না।

কারণ শিশুকে কথা শোনানো আর শিশুকে কথা বুঝতে শেখানো—এক জিনিস নয়।

আমরা অনেক সময় চাই—

“আমি বলব, আর সে সঙ্গে সঙ্গে করবে।”

কিন্তু শিশুর মস্তিষ্ক তখনো শিখছে—

শোনা → বোঝা → মনে রাখা → নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা → কাজ করা।

এই পুরো প্রক্রিয়াটাই সময় নেয়।

তাই পরেরবার আপনার শিশু “হ্যাঁ” বলেও কাজটা না করলে, সঙ্গে সঙ্গে “কথা শোনে না” বলার আগে একবার ভাবুন—

“আমি কি তার বয়স অনুযায়ী নির্দেশটা সহজ করে দিয়েছি?”

কারণ ভালো parenting মানে শুধু শিশুকে আমাদের কথা মানানো নয়।

তার মস্তিষ্ক যেভাবে শিখছে, সেভাবে তাকে শেখানো।

আপনার শিশুও কি “হ্যাঁ” বলে, তারপর কিছুক্ষণ পর কী করতে হবে ভুলে যায়?

তাহলে পোস্টটা save and Share করে রাখুন—পরেরবার কাজে লাগবে।

Address


1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Nurture with Ivana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

  • Want your business to be the top-listed Health & Beauty Business?

Share