04/02/2026
শিশুর হাইপারএকটিভিটি কি এবং কমাতে কি করবেন?🤷♀️
শিশুর হাইপারএকটিভিটি আসলে কোনো “দুষ্টুমি” বা “শাসনের অভাব” নয়, এটা মূলত তার ব্রেইনের Self-Regulation System দুর্বল হওয়ার একটি প্রকাশ। নিউরোসায়েন্স বলছে, শিশুর মস্তিষ্কে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম একসাথে কাজ করে তাকে শান্ত, মনোযোগী ও নিয়ন্ত্রিত রাখে। এই তিনটির যেকোনো একটিতে ভারসাম্য নষ্ট হলে শিশুর আচরণ অস্থির, অতিরিক্ত চঞ্চল ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠতে পারে।
প্রথমটি হলো Impulse Control System। এটি শিশুকে শেখায়, “থামো, ভেবে নাও, তারপর কাজ করো।” এই সিস্টেম মূলত Prefrontal Cortex দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন এটি দুর্বল থাকে, তখন শিশু হুটহাট দৌড়ায়, আঘাত করে, জিনিস ছুড়ে দেয়, কথা না শুনেই কাজ করে। তার ব্রেইন তখন “pause button” ব্যবহার করতে পারে না। ফলে সে নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বারবার ভুল বা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
দ্বিতীয়টি হলো Sensory Processing System। শিশুর ব্রেইন প্রতিদিন হাজারো sensory ইনপুট নেয়, যেমন: শব্দ, আলো, স্পর্শ, রং, স্ক্রিনের মুভমেন্ট। যখন এই ইনপুট অতিরিক্ত হয়ে যায় (যেমন: বেশি টিভি, মোবাইল, শব্দ, ভিড়, চিৎকার), তখন ব্রেইন overstimulated হয়ে পড়ে। এই অবস্থাকে বলা হয় Sensory Overload। তখন শিশুর নার্ভাস সিস্টেম “fight or flight mode”-এ চলে যায়। ফলাফল অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপ, চিৎকার, অস্থিরতা, মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
তৃতীয়টি হলো Prefrontal Cortex-এর কার্যক্ষমতা।
এই অংশটিই মানুষের “thinking brain”—যা পরিকল্পনা, মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অংশটি পুরোপুরি পরিপক্ব হতে ২০–২৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। তাই যদি শিশুর পরিবেশে বেশি স্ট্রেস, চিৎকার, ভয়, স্ক্রিন, কিংবা নিরাপত্তাহীনতা থাকে, তবে এই অংশের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তখন শিশুর ব্রেইন আবেগে ভেসে যায়, যুক্তি দিয়ে আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই তিনটি সিস্টেম একে অপরের সাথে সংযুক্ত। একটি দুর্বল হলে অন্যগুলোকেও প্রভাবিত করে। তাই শিশুর হাইপারএকটিভিটি কমাতে শুধু শাসন নয়, বরং তার ব্রেইনের এই তিনটি সিস্টেমকে ধীরে ধীরে শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে হয়, ভালো রুটিন, কম স্ক্রিন, পর্যাপ্ত ঘুম, সঠিক খাবার, নিরাপদ পরিবেশ ও সংবেদনশীল প্যারেন্টিংয়ের মাধ্যমে।