25/05/2026
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু, প্রিয় দ্বীনি ভাই ও বোনেরা।
আজকে আমরা ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ এবং অলৌকিক নিরাময় পদ্ধতি 'হিজামা' (Hijama) নিয়ে আলোচনা করব। আধুনিক বিশ্বে যা 'কাপিং থেরাপি' নামে পরিচিত হলেও, এটি মূলত ১৪ শত বছর আগের আমাদের প্রিয় নবী করীম (সা.)-এর নির্দেশিত একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা।
হিজামা কী?
'হিজামা' শব্দটি আরবি 'হাজম' শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো চোষা বা টেনে নেওয়া। ইসলামী পরিভাষায়, শরীরের নির্দিষ্ট কিছু পয়েন্ট থেকে কাপের সাহায্যে ভ্যাকুয়াম বা বাতাসশূন্যতা তৈরি করে, অত্যন্ত সূক্ষ্ম আঁচড়ের মাধ্যমে চামড়ার নিচে জমে থাকা দূষিত, টক্সিনযুক্ত ও অলস রক্ত বের করে আনার প্রক্রিয়াকে হিজামা বলা হয়।
হিজামার গুরুত্ব ও ফযিলত (হাদিসের আলোকে):
হিজামা সাধারণ কোনো চিকিৎসা নয়, স্বয়ং ফেরেশতারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এই চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
মেরাজের রাতের নির্দেশনা: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মেরাজের রাতে আমি ফেরেশতাদের যে দলের পাশ দিয়েই গিয়েছি, তারা সবাই আমাকে বলেছেন— হে মুহাম্মদ (সা.)! আপনি আপনার উম্মতকে হিজামার নির্দেশ দিন।" (সূনান ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৩৪৭৯)
সর্বোত্তম চিকিৎসা: আল্লাহর রাসূল (সা.) আরও বলেছেন, "তোমরা যেসব পদ্ধতিতে চিকিৎসা করো, তার মধ্যে হিজামা করাই সর্বোত্তম।" (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫৬৯৬)
রোগের শেফা: "নিশ্চয়ই হিজামার মধ্যে শেফা (রোগমুক্তি) রয়েছে।" (সহীহ মুসলিম)
হিজামার শারীরিক ও আত্মিক উপকারিতা:
আল্লাহ তাআলা হিজামার রক্তের মধ্যে এমন এক নিরাময় রেখেছেন, যা মানবদেহের অসংখ্য জটিল রোগ থেকে মুক্তি দেয়:
রক্তের বিশুদ্ধতা: শরীর থেকে বিষাক্ত ও পচা রক্ত (টক্সিন) বের হয়ে যায়, ফলে নতুন ও বিশুদ্ধ রক্ত তৈরি হয়।
তাৎক্ষণিক ব্যথামুক্তি: কোমর ব্যথা, পিঠ ও ঘাড়ের ব্যথা, গিটে বাত এবং মাংসপেশির দীর্ঘস্থায়ী জখম বা খিঁচুনি দূর করে।
মাইগ্রেন ও মাথাব্যথা: প্রিয় নবী (সা.) নিজের মাথায় তীব্র ব্যথার কারণে হিজামা করিয়েছিলেন। মাইগ্রেনের রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী।
মানসিক প্রশান্তি: হিজামা করলে শরীরের অবশ ভাব দূর হয়, স্নায়ু শান্ত হয় এবং অনিদ্রা ও মানসিক চাপ উপশম হয়।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা: এটি লিভার, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
হিজামা করার সুন্নাত সময় (আইয়ামে বিয ও মাসনুন দিন):
যদিও যেকোনো সময় হিজামা করা জায়েয, তবে হাদিস অনুযায়ী চাঁদের নির্দিষ্ট কিছু তারিখে হিজামা করা মোস্তাহাব ও অধিক শেফাদায়ক।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি চাঁদের ১৭, ১৯ এবং ২১ তারিখে হিজামা করাবে, তা তার সমস্ত রোগের শেফা হিসেবে গণ্য হবে।" (সুনানে আবু দাউদ)
বার বা দিনের ক্ষেত্রে সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার হিজামা করার জন্য উত্তম দিন।
দ্বীনি ভাই-বোনদের জন্য জরুরি সতর্কতা:
হিজামা করানোর সময় পূর্ণ পর্দা এবং শরীয়তের বিধান বজায় রাখা আবশ্যক। আল হামদুলিল্লাহ! আমাদের রয়েছে ভাইদের জন্য পুরুষ থেরাপিস্ট এবং বোনদের জন্য অবশ্যই নারী হিজামা থেরাপিস্ট।
আসুন, অবহেলিত এই সুন্নাহটিকে পুনরুজ্জীবিত করি। হিজামা করানোর মাধ্যমে আমরা একই সাথে শারীরিক সুস্থতা লাভ করতে পারি এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ পালনের সাওয়াবও হাসিল করতে পারি। ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নতি জিন্দেগী যাপন করার এবং সুস্থ-সবল থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।
Ruqyah Haven Narayanganj brunch :
মোবাঃ 01883-269615