CDCC- Chronic Diseases Care & Cure

CDCC- Chronic Diseases Care & Cure XYZ

07/05/2026
04/11/2025

এফসিপিএস হেমাটোলজি বুলেটিন-১
---------------------------------------------------

অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে শেষে এফসিপিএস (ফাইনাল) পরীক্ষা দেয়ার প্রথম সুযোগ পেয়েছিলাম ২০১০ সালের জানুয়ারি সেশনে। যদিও আমার পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল ২০০৬ সালের জানুয়ারি সেশনে। তারপর জুলাই সেশনেও দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম, সেবারও ক্লিয়ারেন্স পেয়েছিলাম না। তখন চাকুরিও ছিল না। বিনা বেতনে ২০০৩ - ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তখনকার বিএসএমএমইউ (বর্তমানে বিএমইউ) কাজ করেছিলাম। তখন অনারিয়ামের কোন সিস্টেম ছিলো না। রিজিক ও জীবিকার মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা। তাই হঠাৎ করে আইসিডিডিআর'বির একটি চাকরির বিজ্ঞাপন চোখে পড়লো এবং অনলাইনে আবেদন করেছিলাম এবং তারপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ (প্রথম) হয়েছিলাম। চাকরিটা পেয়েছিলাম এবং সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার হিসাবে যোগদান করেছিলাম ২০০৬ সালের ১লা নভেম্বর। পরবর্তীতে আবার ২০০৮-২০০৯ সাল পর্যন্ত এক ব্ছর ইন্টারনাল মেডিসিনে ট্রেনিংয়ের পর পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি যখন পার্টি ওয়ান (২০০৩ জানুয়ারী) তখন নিয়ম ছিল তিন বছরের ট্রেনিং অথবা এক বছরের কোর্স করা থাকলেই যে কেউ পার্ট টু (অর্থ্যাৎ ফাইনাল) পরীক্ষা দিতে পারবে। অথচ আমাকে তারা (হেমাটোলজি বিভাগের তখন চেয়ারম্যান ও কসাই ইউনুস) আমাকে জোর করে নতুন কারিকুলামে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছিলো। সে ময়ের এফসিপিএস হেমাটোলজি পরীক্ষা OSPE এবং মেডিসিনের ট্রেনিং এর বাধ্যবাধকতা ছিলো না কারণ তখন এটা ছিলো ফ্যাকাল্টি অফ বেসিক সায়েন্সের (Faculty of Basic Sciences) অধীনে। তখনো ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজিস্ট হিসেবে এটার মূল্যায়ন হতো না।

তবে আমাকে পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ না দিলেও ২০০৬ জুলাই সেশনে এফসিপিএস (হেমাটোলজি) পরীক্ষায় একটি অনন্য রেকর্ড হয়েছিল যেটা আগামী ২০০ বছরেও মনে হয় কখনো ভাংগবে না। পাশের হার শতভাগ (১০০%) অর্থ্যাৎ ৬ জন পরিক্ষার্থীর সবাই একযোগে পাশ। যারা পরীক্ষক ছিলেন তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল কে কাকে পাশ করাতে পারলেন তা নিয়ে এবং কয়জনকে কে পাশ করালেন। যারা পাশ করেছিলেন তারা সবাই সৌভাগ্যবান।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশে প্রথম পরীক্ষা হয়েছিল ১৯৭২ সালে। সে সময় যেমন চেয়ার টেবিল পর্যন্ত পাশ করেছিল অনেকটা সেরকমই। প্রবাদ আছে যে ইংরেজি পরীক্ষায় একটা ঐতিহাসিক ঘটনা ১৯৭২ সালের পরীক্ষায় ঘটেছিল। একজন পরিক্ষার্থী খাতায় লিখছে, আর একজন পাশে থেকে বলে দিচ্ছে। একসময় হেলপার (যে বলে দিচ্ছিলো) বলেছিলেন ফুলস্টপ (fullstop) লিখতে একটা লাইন বা sentence এর শেষে। তখন পরিক্ষার্থী জানতে চেয়েছিলেন হেল্পারের কাছে যে ফুলস্টপের মানে কি বা কিভাবে দিতে/লিখতে হয় তা সে জানে না। তখন পাশের হেলপার বলেছিল ফুলস্টপ মানে কলম দিয়ে জাতা দে। ইংরেজি পরিক্ষার ওই খাতায় পরিক্ষার্থী ফুলস্টপের জায়গায় সুন্দর করে লিখে দিয়েছিলো "কলম দিয়ে জাতা দে"।

আমার প্রথমবার পরীক্ষায় বসার উদ্দেশ্য ছিলো পরীক্ষাটার একটা ধারণা নেয়া। আমার পাশ করার কোন‌ উদ্দেশ্যও‌ ছিলো না। কোন প্রস্তুতি নিতে পারি নি। সেবারের পরীক্ষার ২দিন আগে ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিলাম একজন হেমাটোলজির অধ্যাপক আমাদের দেখা করতে বলেছিলেন একটা ক্লাস নিবেন বলে এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে মোটামুটি ধারণা দিবেন বলে। তাই আমরা যারা পরীক্ষার্থী ছিলে তারা অত্যন্ত আগ্ৰহ নিয়ে অধ্যাপক সাহেবের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। ওনি পরীক্ষা সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দিয়েছিলেন এবং আমরা লিখিত পরীক্ষার জন্য একটু ধারণা (সাজেশন) চাইলাম। উনি অনেক চিন্তাভাবনা এবং ধ্যান -সাধনা করে আমাদর কিছু কিছু বলে দিয়েছিলেন। "Postgraduate Hematology, 6th Edition" বা আটা সামনে নিয়ে (৭৫০ পৃষ্ঠার বই) এপাতা ও পাতা উল্টিয়ে শেষমেশ ১০ টা Topics এর মতো বলেছিলেন যা এখনো আমার মনে আছে, সে লেখাটা এখনো আছে এবং সেগুলো ভালোভাবে দেখতে বলেছিলেন। কি আশ্চর্য!
যখন পরীক্ষা হলে জুলাই মাসের ১ তারিখে আমরা প্রশ্নপত্র হাতে পেলাম তখন আমাদের সকল পরীক্ষার্থীদের চক্ষু চড়ক গাছ। অধ্যাপক সাহেব যে এতো ভালো সাজেশন দিতে পারেন তা দেখে আমরা বিমোহিত, বিস্মিত। তিনি কোন সাধারণ কোন মানুষ নন, উনি আধ্যাত্মিক গুরু। তার সাজেশনের তুলনা হয় না অর্থাৎ ১০০% কমন পড়েছিলো তার সাজেশন থেকে। একটি বা দুইটি সর্ট (short) নোট ছিল তার অলৌকিক মুজেজার বাইরে। তবে তিনি বহু চিন্তা ভাবনা করে ও আধ্যাতিক সাধনার পর আমাদের যা দেখতে বলেছিলেন লিখিত পরীক্ষার জন্যে তার কোনটাই মিস হয়নি। বন্ধুকের/কামানের গুলি মিস হতে পারে, কিন্তু মগর অধ্যাপক সাহেবের সাজেশন মিস হয় না। এটা অধ্যাপক সাহেবের মুজেজার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। তবে তিনি কিন্তু সেবার বিসিপিএস (BCPS) এর লিখিত পরীক্ষার মডারেটর (Moderator) হিসেবে ছিলেন এবং লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নটা উনিই ফাইনাল করেছিলেন। তার আরো আরো মুজেজা আছে সেগুলোও পরে জানতে পারবেন।

OSPE পরিক্ষার সময় দেখলাম একটা karyotype এর ইমেজ দিয়েছিলেন। সেবার OSPE দায়িত্বে ছিলেন সেই অধ্যাপক সাহেব এবং সেই টার্মের পরীক্ষার কোঅর্ডিনেটর ছিলেন। সেই OSPE এর সবকিছুই আমাদের পরিক্ষার্থীরা আগেভাগেই জেনেছিলেন যারা ঢাকা মেডিকেল থেকে পরীক্ষা দিয়েছিলেন মানে OSPE-এর প্রশ্নপত্রও আউট। আরও হাস্যকর বিযয় যে একজন‌ পরীক্ষক বলেছেন যে সবাই আলাদা আলাদাভাবে নম্বর দেন এবং যা অত্যন্ত গোপনীয়। পরীক্ষার আগেই লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন বলে দিয়েছিলেন, OSPE প্রশ্ন বলে দিয়েছিলেন অবশ্য আধ্যাত্মিক এবং সাধনার মাধ্যমে, একই প্রশ্ন একজনকে বার বার জিজ্ঞেস করছেন, যাদেরকে পাশ করিয়েছিলেন তারা এফসিপিএস পাশের পর HPLC দিয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় করতে চাই।‌‌ আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে মৌখিক পরীক্ষায় তাকে কি কি জিজ্ঞেস করেছিলেন সেগুলোও আগেই বলে দিয়েছিলেন।

আরও দেখেছিলাম সেই অধ্যাপক সাহেব (২০১০ জুলাই সেশন) সাহেব একজন পরিক্ষার্থীকে তিন জায়গায় একই প্রশ্ন করেছিলেন এবং তিনি খুবই সৌভাগ্যবান যিনি একবারে এফসিপিএস (হেমাটোলজি) পাশ করেছিলেন। অথচ তাকে এখন আমরা কোথাও এখন খুঁজে পাই না কোথাও। এতো Meritorious and brilliant হেমাটোলজিস্ট এখন কোথায় আছে, তার সেই মেধার ছিটেফোঁটাও তো আমাদের কারো চোখে পড়ে না। পাশ করাতে হবে কিন্তু এতো নীচে নেমে পাশ করাতে হবে। ছি: ছি: ছি:!

আবার ভালো মানুষ, সকলের মধ্যে গ্ৰহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব বলে পরিচিত একজন অধ্যাপিক যিনি খুবই ভালো মানুষ, সেটা আমিও স্বীকার করি। কিন্তু এফসিপিএস পরীক্ষায় তিনি যা আমাকে বা অন্যদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন তা অত্যন্ত নিম্নমানের। She is not qualified and not maintaining minimum starndard for FCPS exam, not only that she is also unable to burgain with her collegues when someone getting award of FCPS without fullfilling minimum passing criteria. Could I give few examples of such fellow hematlogists?

প্রায়শ: তাকে পরীক্ষক করা হয় বা যারা করেন যেমন কসাই, খান, জাহিদ, তারা তাদের অন্যায় ও অপরাদগুলোকে জায়েজ করার জন্য তাকে সংগী হিসাবে বেছে নেন। যাতে টেবিল-চেয়ার গুলোকেও পাশ করানো যায় বিনা বাধায়, নির্দ্বিধায়, যাতে কোন অসুবিধা না হয়। আসলে তার এফসিপিএস পরীক্ষায় পরীক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নেই বলে আমি বিশ্বাস করি এবং আমি সেটা কখনো দেখিনি। তিনি আমাদের টাকায় চলা BCPS এর কাছ থেকে পরীক্ষক হিসেবে চা-নাস্তা খাবেন, গল্প করবেন এবং পরীক্ষার পর একটা ভালো অনারিয়াম পাবেন ইত্যাদি ইত্যাদি উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্যে পরীক্ষক হয়ে থাকেন।

একটা "হেয়ারি সেল লিউকেমিয়া" আমি ডায়াগনোসিস করেছিলাম ২০১৮ সালে যখন আমি icddrbতে ছিলাম। তার আগে আরও দুজন হেমাটোলজিস্ট এবং একজন প্যাথলজিস্টের কাছ থেকে রিপোর্ট করিয়েছেন সেই রোগী। কিন্তু কেউ বলেনি যে এটা "hairy cell leukemia"। রোগীর ছেলে একটা ফার্মা কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে। তারা ল্যাব এইডে দেখিয়েছেন। সেখান থেকে flow cytometry করতে বলেছেন এবং সেটা লালপ্যাথ ল্যাব থেকে। উনি icddrb এর ল্যাবেই এসেছিলেন। আমরা flow cytometry করি, পাশাপাশি এভার কেয়ার, AFIP and BSMMU ও flow cytometry করে। দেশে যেটা আমরা করছি সেটা কেন লালপ্যাথে যাবে। নিশ্চয়ই ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে বা কমিশন বানিজ্য?

Show quoted text

25/10/2025

Iron deficiency anemia ~ causes & prevention:

আয়রন ঘাটতিজনিত (Iron deficiency) রক্তাল্পতাকে আমরা "আয়রনের অভাবজনিত রক্তশূন্যতা" বা "আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা" বলে থাকি।। সারা পৃথিবীতেই এটি সবচেয়ে খুবই বেশি (Common) দেখা যায় এবং আমাদের দেশও এর বাইরে নয়। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি (Common) দেখা যায় গর্ভকালীন মায়েদের মধ্যে এবং শিশুদের মধ্যে (Growing children)। এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে শরীরে পর্যাপ্ত আয়রনের অভাবে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি হতে পারে না, যার ফলে শরীরে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যায়। এর ফলে অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা (Headache) এবং মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় করা (Palpitations) বা শ্বাসকষ্ট হওয়া (Shortness of breath) এবং ফ্যাকাশে চামড়ার (Skin pallor) ইত্যাদির মতো লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে জিহ্বায় ব্যথা বা ফোলা এবং নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।

শরীরে আয়রনের অভাব সাধারণত খাদ্যাভ্যাসে আয়রনের অভাবের কারণে হয়। তাছাড়া রক্তক্ষরণ, যেমন অতিরিক্ত মাসিকের কারণে বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, শরীর আয়রন শোষণ করতে পারে না। খাদ্যনালীর বা অন্ত্রের কৃমির সংক্রমণও এর একটি কারণ হতে পারে। আয়রনের ঘাটতি তবে পূরণে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন খুবই জরুরি। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার, যেমন মাংস (Red meat) , কলিজা (Liver), সবুজ শাকসবজি (Green leafy vegetables) যেমন পালং শাক, পুঁই শাক, কচু শাক, কাঁচা কলা, খেজুর, তরমুজ এবং বাদাম (Nuts) ইত্যাদি বেশি করে খাওয়া। এ সকল খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে।

আমরা ডাক্তাররা অনেক সময় আয়রন সাপ্লিমেন্ট (আয়রন ট্যাবলেট বা সিরাপ) খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি যদি রক্তস্বল্পতা খুব বেশি থাকে এবং শরীরের আয়রন স্টোরেজ একবারে কমে যায়। বিভিন্ন ফরমূলেশনে এগুলো পাওয়া যায় যেমন ferrous sulphate, ferric sulphate, ferric maltol, iron poly maltose ইত্যাদি। অনেক সময় দ্রুত রক্তস্বল্পতার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ধরণের আয়রণ ইনজেকশনও (Parenteral iron) দিয়ে থাকি। তবে যদি রক্তক্ষরণের মতো অন্য কোনও কারণ থাকে, তবে সেই সমস্যার কারণ চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। আবার আয়রণ ট্যাবলেট খেলে কারো কারো পায়খানা কষা (Constipation) এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে আয়রণের ট্যাবলেটের এর সাথে কলা খেলে এসিডিটি যেমন কম হবে তেমনি আয়রণের শোষণ (Absorption) ভালো হবে।

সংখ্যায় খুবই কমই দেখা যায় তবে কিছু রোগী আছে যাদেরকে আয়রণ ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট (Supplements) দিয়ে চিকিৎসা দিলেও কোন লাভ হয় না এবং তাদের রক্তস্বল্পতাকে বলা হয় আয়রণ রিফ্রাক্টরি আয়রণ ডেফিসিয়েন্সি এনিমিয়া (Iron refractory iron deficiency anemia, সংক্ষেপে IRIDA) এবং আরও একটা গ্ৰুপ আছে যাদের আয়রণের ঘাটতি জীনগত কারণে হয়ে থাকে (Genetic causes of iron deficiency)। তবে এগুলো ডায়াগনসিস করা অত্যন্ত জটিল এবং আমাদের দেশে আদৌ ডায়াগনসিস করা হয় না।

জনস্বার্থে: জামালপুর ডায়াবেটিস জেনারেল হাসপাতাল।

Address

Emporium Building, 5th Floor, 14/1, Mirpur Road, Shyamoli
Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when CDCC- Chronic Diseases Care & Cure posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share