30/11/2021
❤️শীতে চুলের যত্ন❤️
চুল নিয়ে ভোগান্তি মেয়েদের সারা বছর। ঋতু ভেদে শুধু তার ধরন বদলে যায়। এখন তো শীত আসছে। অতএব শীতকালে চুলের নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা রয়েছে, যা ইতিমধ্যেই হানা দিতে শুরু করেছে।
শীতে ত্বক শুষ্ক হয়। শীতে চুল পড়া, আগা ফাটা এবং খুশকি হয়। এর পেছনে কারণও রয়েছে। আমরা শীতে বেশ কিছু সাধারণ ভুল করে থাকি।
প্রসাধনী ব্যবহারের ধরন থেকে পানির তাপমাত্রা শীতে চুলের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। আসুন, জেনে নিই শীতে আমরা সাধারণত যে পাঁচটি ভুল করে থাকি, সে সম্পর্কে—
👉গরম পানিতে গোসলঃ
আমরা জানি, শীতকালে গরম পানি দিয়ে গোসল দারুণ স্বস্তিদায়ক অনুভূতি দেয়। কিন্তু এটি সাময়িক আরাম দেয়। গরম পানি চুল থেকে প্রাকৃতিক তেল দূর করে, সে কারণে চুল শুষ্ক হয়ে যায় এবং দ্যুতি হারায়। এটি চুলের অন্যান্য সমস্যাও বাড়িয়ে দেয়। ফলে চুল ফাটে। যদি গরম পানি দিয়ে গোসল করতেই চান, তবে একেবারে হালকা গরম পানি দিয়ে করুন এবং গোসল শেষ করুন ঠাণ্ডা পানি দিয়ে। এতে ফল ভালো মিলবে।
👉ভেজা চুলে ঘর থেকে বের হওয়া
গোসল করার পর ভেজা চুলে ঘর থেকে বের হবেন না। এ ভুলও আমরা করে থাকি। ভেজা চুলে বাইরে বের হয়ে যাই। এতে চুলে নানা সমস্যা দেখা দেয়। বাইরে বের হওয়ার আগে চুল পুরোপুরি শুকিয়ে নিন।
👉লাগাতার হিট স্টাইলিংঃ-
শীতে শুষ্ক ও রুক্ষ চুলের অন্যতম কারণ লাগাতার হিট স্টাইলিং। গরম পানি দিয়ে গোসলের মতোই এটি ক্ষতিকর। প্রতিদিন হিট স্টাইলিং করলে চুল ময়েশ্চার হারায় এবং চুল ফাটা বাড়ে। তাই যতটা সম্ভব কম হিট স্টাইলিং করুন। চুল বাতাসে শুকালে ভালো।
👉ভুল কাপড় ব্যবহারঃ
যদি আপনি হ্যাট পরে থাকেন, তবে অবশ্যই কাপড়ের কথা বিবেচনা করবেন। উল ও সুতির কাপড় চুল থেকে ময়েশ্চার শুষে নেয় এবং শুষ্ক ও রুক্ষ করে তোলে। এসব কারণে চুল ফাটে এবং চুল পড়া শুরু হয়। তাই ময়েশ্চার না হারানোর কথা যদি ভাবেন, তাহলে হ্যাট বা কোট পরার সময় সিল্কের কাপড় ব্যবহার করতে পারেন।
👉ভুল প্রসাধনী ব্যবহারঃ
ঠিক যেমন শীতে আপনি ত্বকের প্রসাধনসামগ্রী বদলান, তেমন করে চুলের প্রসাধনসামগ্রীও বদলাতে হবে। শীতের জন্য আলাদা পণ্য কিনুন, যা এ কালের উপযোগী। প্রসাধনে যেন ময়েশ্চার থাকে। এতে রুক্ষ শীতেও আপনার চুল নরম ও উজ্জ্বল থাকবে।
চুল পরিষ্কার রাখবেন আর চুলে নিয়মিত ভালো একটা তেল দেবেন এবং হেয়ার প্যাক লাগাবেন।
এখন আপনি বলতেই পারেন, তার জন্য হেয়ার প্যাক ব্যবহার করবেন কেন? এতে কি সমস্যার সমাধান হবে?
হেয়ার প্যাকের গুণ হচ্ছে, মাত্র বিশ মিনিটে এই মিশ্রণ চুলে যে পুষ্টি জোগাবে, তাতে একাধারে কন্ডিশনিং হবে, ঔজ্জ্বল্য আসবে, চুল থাকবে হাইড্রেটেড এবং দৈর্ঘ্যও বাড়বে। তাই চুলের শীতকালীন সমস্যা যদি কোনও রোগ বা ওষুধের কারণে না হয়ে থাকে, তা হলে হেয়ার মাস্কের পরম যত্ন আস্তরণের মতো এমন ভাবে বসে থাকবে যে, তা ভেদ করে শীত চুলে কামড় বসাতে পারবে না।
প্রাকৃতিক কারণেই এই মৌসুমে চুলে অভাব হয় ময়শ্চরাইজ়ারের। চুলে আর্দ্রতা হারানোর পাশাপাশি ড্রায়ারের ব্যবহার বা হেয়ার ট্রিটমেন্টের কারণে সমস্যা আরও বাড়ে। ফলে চুল হয় শুষ্ক। রুক্ষতা বাড়ে, চুল উসকোখুশকো দেখায়। স্ক্যাল্প ড্রাই হয়ে যায় বলে, খুসকির সমস্যা তো শীতকালে ভীষণ ভাবে মাথাচাড়া দেয়। তাই মাস্ক ব্যবহারের আগে দেখে নেওয়া প্রয়োজন, কী কারণে আপনি মাস্ক ব্যবহার করতে চান। সব সমস্যার সমাধান যে একই হবে, তা কিন্তু নয়।
❣️খুসকির জন্য: শীতকালের ভীষণ চেনা সমস্যা। সারা বছর না থাকলেও এই মৌসুমে অত্যন্ত জাঁকিয়ে বসে খুসকি। এর জন্য একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে দু’টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ভাল করে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগান। শুকিয়ে গেলে ভাল করে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন। অথবা হাফ কাপ দইয়ের সঙ্গে দু’টেবিল চামচ লেবুর রস ও এক টেবিল চামচ মধু ব্লেন্ডারে ভাল করে মিশিয়ে নিন। একঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন। লেবু এবং দই চুল খুসকিমুক্ত রাখে, অন্য দিকে মধু ময়শ্চারাইজ় করে। ফলে চুল হয় ফুরফুরে।
❣️চুল পড়ার সমস্যায়: এক টেবিল চামচ নারকেল তেল ও এক টেবিল চামচ মধু একটি পাত্রে নিয়ে ভাল করে মেশান। তার পরে তা গরম করে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত ভাল করে মাখিয়ে পুরো চুল ঢেকে রাখুন শাওয়ার ক্যাপ দিয়ে। পরে ভাল করে ধুয়ে নিন।
নারকেল তেল ও দারচিনি গুঁড়ো— দু’টি উপাদানই এক টেবিল চামচ করে মিশিয়ে নিন। মাঝখান দিয়ে সিঁথি করে চুল দু’ভাগ করে নিন। চুলের মাঝখান থেকে নীচ অবধি প্যাক লাগান। আঙুলের ডগা দিয়ে স্ক্যাল্পে ভাল করে মাসাজ করুন। তার পরে পুরো চুল তুলে মাথায় শাওয়ার ক্যাপ বা তোয়ালে জড়িয়ে রাখুন। ৩০-৪৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার লাগিয়ে নিন। সপ্তাহে একদিন যে কোনও প্যাক লাগাতে পারেন।
❣️তৈলাক্ত চুলের জন্য: একটি ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে হাফ পাতিলেবুর রস ভাল করে মিশিয়ে একটি পাত্রে রাখুন। মিশ্রণটি এতটাই ভাল করে মেশাবেন যাতে তা খুব স্মুদ হয়ে যায়। সম্ভব হলে এর সঙ্গে এক কাপ নারকেলের দুধ এবং দু’টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মেশাতে পারেন। এতে আরও ভাল ফল পাবেন। এ বার মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে ডগা অবধি আঙুল দিয়ে লাগিয়ে নিন। আধঘণ্টা রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি লাগানোর ফলে চুল যেমন পুষ্টি পায়, তেমনই একদম গোড়া থেকে ময়শ্চারাইজ়ডও হয়। চুলের ডগাও ভাঙে কম।
❣️শুষ্ক চুলের জন্য : এ ধরনের চুলের জন্য অলিভ অয়েল খুব উপকারী। কারণ শুষ্ক চুলের ন্যাচারাল কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে এটি। ফলে স্ক্যাল্পের ড্রাইনেসও কমে। একটি পাত্রে দু’টেবিল চামচ ব্রাউন সুগার ও এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল নিয়ে ভাল করে মেশান। তার পরে চুলের গোড়া থেকে ডগা অবধি ভাল করে মেখে মিনিট কুড়ি রেখে দিন। পরে শ্যাম্পু করে নিন। চটজলদি গ্লো আনতে এই প্যাকের জুড়ি নেই।
চুল ভাল রাখতে তাই এবার হেয়ার মাস্কের শরণাপন্ন হয়ে দেখুন। সমস্যা তো মিটবেই, চুলও থাকবে উজ্জ্বল। শুধু দরকার একটু ধৈর্য আর সময়।
চাইলে "করফুল"এর হেয়ার অয়েল এবং হেয়ার প্যাকটিও নিতে পারেন।
আশা করি পোস্ট টি আপনাদের কাজে লাগবে।লাইক,কমেন্ট করে রেসপন্স নাকরলে কোন টিপস দিতে উৎসাহ পাইনা।😔