04/07/2026
#সচেতনতা
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া (যেটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইপারহাইড্রোসিস বা Hyperhidrosis বলা হয়) মূলত দুই ধরনের হতে পারে। একটি হলো কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরের কিছু অংশ (যেমন হাত, পা বা বগল) অতিরিক্ত ঘামা। অন্যটি হলো শরীরের কোনো অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে পুরো শরীর অতিরিক্ত ঘামা।
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া সাধারণত নিচের শারীরিক অবস্থা বা লক্ষণগুলোর ইঙ্গিত দিতে পারে:
১. হরমোনের পরিবর্তন বা ভারসাম্যহীনতা
থাইরয়েডের সমস্যা: শরীরে থাইরয়েড হরমোন বেশি তৈরি হলে (হাইপারথাইরয়েডিজম) মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া খুব বেড়ে যায়। এর ফলে শরীর বেশি উত্তপ্ত হয় এবং অতিরিক্ত ঘাম হয়।
মেনোপজ: নারীদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে যখন পিরিয়ড স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তখন হরমোনের ওঠানামার কারণে হঠাৎ খুব গরম লাগা (Hot flashes) এবং রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
২. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ (Anxiety)
আমরা যখন খুব বেশি দুশ্চিন্তা, ভয়, মানসিক চাপ বা নার্ভাসনেসের মধ্য দিয়ে যাই, তখন শরীরের 'ফাইট অর ফ্লাইট' রেসপন্স সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে হার্টবিট বেড়ে যায় এবং শরীরকে ঠান্ডা রাখতে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়। একে এপিসোডিক হাইপারহাইড্রোসিসও বলা হয়।
৩. রক্তের শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া (Hypoglycemia)
ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার বা চিনির পরিমাণ হঠাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে শরীর থেকে ঠান্ডা ঘাম বের হতে পারে। এটি একটি জরুরি সংকেত, যার সাথে মাথা ঘোরা বা শরীর কাঁপার মতো লক্ষণও দেখা যায়।
৪. ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী ইনফেকশন
শরীরে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সংক্রমণ বা ইনফেকশন থাকলে (যেমন যক্ষ্মা বা টিবি, ম্যালেরিয়া ইত্যাদি) রাতের বেলা শরীর অতিরিক্ত ঘামতে পারে। একে সাধারণত 'নাইট সোয়েটস' (Night sweats) বলা হয়।
৫. ওজনের আধিক্য বা স্থূলতা
শরীরের ওজন অতিরিক্ত বেশি হলে সামান্য পরিশ্রমেই শরীর বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং মেদযুক্ত শরীরকে ঠান্ডা রাখতে ঘর্মগ্রন্থিগুলো বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
৬. হৃদরোগের ঝুঁকি (Heart Problems)
কোনো রকম ভারী কাজ বা গরম ছাড়াই যদি হঠাৎ শরীর থেকে অতিরিক্ত ঠান্ডা ঘাম বের হতে থাকে এবং এর সাথে বুকে ব্যথা, ভারী ভাব বা দমবন্ধ লাগার মতো অনুভূতি হয়, তবে তা হার্ট অ্যাটাকের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: অনেক সময় বিষণ্ণতার ওষুধ (Antidepressants), উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ বা কিছু সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার কারণেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে।
যদি আপনার এই সমস্যাটি হঠাৎ শুরু হয়ে থাকে, বিশেষ করে রাতের বেলা শরীর বেশি ঘামে, কিংবা ঘামের সাথে ওজন কমে যাওয়া, জ্বর বা বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ থাকে, তবে একজন সাধারণ রোগ বিশেষজ্ঞ (Medicine Specialist) বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট (হরমোন বিশেষজ্ঞ) দেখিয়ে পরামর্শ নেওয়া ভালো।
#পুষ্টিবিদ_স্নেহা