15/05/2026
যদিও আমি কোন লেখক না তবে মনে করছি এটা বলা জরুরী।
Voice of sayed ভাই আজ আমাদের মাঝে নেই। দীর্ঘদিন কঠিন অসুস্থতার সাথে লড়াই করার পর তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু চলে যাওয়ার আগে রেখে গেছেন তিনটি নিষ্পাপ ছোট ছোট সন্তান, যারা আজ বাবা-মা হারিয়ে অসহায় এতিম। এই ছোট বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ, পড়াশোনা, চিকিৎসা, খাবার ও নিরাপদ জীবন এখন আমাদের সকলের বিবেকের সামনে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, একই রোগে আবু সাঈদ ভাইয়ের মা-ও ২০২৩ সালে ইন্তেকাল করেছিলেন। অর্থাৎ এই পরিবারটি একের পর এক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আজ বাস্তবতা হলো—এই ছোট ছোট শিশুগুলো এক ভয়াবহ অসহায় অবস্থার মধ্যে জীবন পার করছে।
আমি একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে চিকিৎসাসংক্রান্তভাবে পরিবারটির পাশে থেকে তাদের বাস্তব অবস্থা খুব কাছ থেকে দেখেছি। আমি নিজেও পরিবারের কিছু মেডিকেল পরীক্ষা করেছি। পরীক্ষায় আবু সাঈদ ভাইয়ের বাবার (HBsAg) পজিটিভ পাওয়া গেছে। পরিবারটির বর্তমান অবস্থা সত্যিই অনেক হৃদয়বিদারক।
আবু সাঈদ ভাইয়ের চিকিৎসার সময় দেশ ও বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহ সকল দানকারীদের উত্তম প্রতিদান দান করুন। বিশেষ করে অনেক প্রবাসী ভাই স্পষ্টভাবে বলেছেন—
“আমরা টাকা দিয়েছি আবু সাঈদ ও তার পরিবারের জন্য।”
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিভিন্ন কথা বলছেন। কেউ বলছেন অবশিষ্ট টাকা মসজিদে দেওয়া হোক, আবার কেউ বলছেন পরিবার ও এতিম সন্তানদের জন্য রাখা হোক। এ নিয়ে অনেক কনটেন্ট, পোস্ট ও লেখালেখিও হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সবার আগে ভাবা উচিত—মানুষ কোন নিয়তে সাহায্য করেছিলেন? তারা কি একটি মসজিদের জন্য দিয়েছিলেন, নাকি একটি অসহায় পরিবার ও তিনটি ছোট শিশুর ভবিষ্যতের জন্য সাহায্য করেছিলেন?
ইসলামে মানুষের দেওয়া সাহায্য একটি আমানত। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ
অর্থঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন আমানত যথাযথভাবে তার হকদারের কাছে পৌঁছে দিতে।”
— Al-Quran
আবার আল্লাহ তাআলা এতিমদের ব্যাপারে বলেনঃ
অর্থঃ “এতিমদের কল্যাণ সাধন করাই উত্তম।”
— Al-Quran
আরও এসেছে—
অর্থঃ “সুতরাং এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না।”
— Al-Quran
এবং Muhammad বলেছেনঃ
“আমি এবং এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী জান্নাতে এভাবে থাকব।”
— Sahih al-Bukhari
তাহলে চিন্তা করুন—যেখানে কুরআন ও হাদিস বারবার এতিমদের হক, তাদের কল্যাণ এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলছে, সেখানে ভাইয়ের তিনটি ছোট সন্তান কি আজ সবচেয়ে বড় হকদার নয়? তারা তো আজ সত্যিকার অর্থেই অসহায় এতিম।
তাই ইসলামের দৃষ্টিতে, যদি মানুষের দেওয়া সাহায্যের উদ্দেশ্য আবু সাঈদ ভাই ও তার পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়ে থাকে, তাহলে সেই অবশিষ্ট অর্থ তিনটি এতিম সন্তানের ভরণপোষণ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য ব্যয় করাই অধিক ন্যায়সঙ্গত, মানবিক এবং আমানতদারির কাজ হবে ইনশাআল্লাহ।
আসুন আমরা মতভেদ, তর্ক-বিতর্ক ও কনটেন্ট নয়—শরীয়ত, মানবতা এবং এতিম শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করি।তবে তাদেরকে ধন্যবাদ না জানালে না হয়
RABBY AHMED এবং কিশোকিশোরগঞ্জের সকল কনটেন্ট কিউটর ও দেশ ও প্রবাসী ভাইদের এবং পাসে ছিলেন Bulbul Blogs 03 সবাইকে আল্লাহ জাযা দান করুক
আল্লাহ আবু সাঈদ ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, তার মাকে জান্নাত নসিব করুন এবং তার তিনটি সন্তানকে উত্তম হেফাজতে রাখুন। আমিন।