01/07/2026
একিউট বা ক্রণিক রোগের চিকিৎসায় কীভাবে ঔষধ দিবেন এবং রোগীকে কী কী পরামর্শ দিবেন!
('আপনি কীভাবে ভালো হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হবেন' নামক আমার ৭ম বইয়ের পান্ডুলিপির অংশবিশেষ)
শেয়ার করুন, নিজ টাইমলাইনে রেখে দিন)
অনেক নতুন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার কীভাবে রোগীর চিকিৎসা করবেন, কী কী করবেন কী কী করবেন না তা ভালোভাবে না বুঝার কারণে চিকিৎসায় ভাল ফলাফল পান না। নিম্নে যে সকল পরামর্শ দেয়া হলো তা মেনে চিকিৎসা করলে সফলকাম হবেন ইনশাআল্লাহ।
১) রোগীর কেইস হিস্ট্রি যথাযথভাবে নোট করবেন। রোগীর অদ্ভুত অসাধারণ লক্ষণ থাকলে তা ও মানসিক লক্ষণকে টপ প্রায়োরিটি দিয়ে, Causation of the disease, রোগীর ডিজায়ার এভারশনসহ Totality of the symptom মিলিয়ে ঔষধ নির্বাচন করবেন।
২) প্রথমে একটি এন্টিসোরিক ঔষধ যেমন সালফার (যদি রোগীর শরীরে খোস পাচড়া শ্বেতী না থাকে) ও প্লান্ট সোর্সের অন্য ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা শুরু করবেন। কখনোই রোগীকে প্রথমেই উচ্চ শক্তির ঔষধ দিবেন না। তাহলে রোগীর কষ্ট বেড়ে যাবে এবং আপনার চিকিৎসা এমনকি সারা জীবনের জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পরিত্যাগ করতে পারে।
৩) ক্রণিক রোগের চিকিৎসাকালে রোগীর কষ্টকর একিউট লক্ষণগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রথমদিন Shallow acting remedy অর্থাৎ অগভীর ক্রিয়াশীল ঔষধ যেমন Aconite, Belladonna, Rhust Tox, Arsenic, Bryonia, ইত্যাদি ঔষধের ৬, ৩০ শক্তির ঔষধ পুনঃপুন সেবনের জন্য দিতে পারবেন If the symptoms calls for the remedy.
৪) অগভীর ক্রিয়াশীল ঔষধ যেমন Aconite, Belladonna, Rhust Tox, Arsenic, Bryonia, ইত্যাদি ঔষধের ৬, ৩০ শক্তির ঔষধ ২/৩ দিন পর পর লক্ষণানুসারে প্রয়োগ করতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে ৩ বেলা বা ৪বেলা খেতে পারে সে পরিমান ঔষধ দিবেন তার বেশি নয়।
৫) রোগীর শরীরের কষ্টকর অবস্থাগুলো দূরীভূত হওয়ার পর আপনার সুনির্বাচিত হোমিওপ্যাথিক ঔষধটির উচ্চ শক্তির দুই এক মাত্রা ঔষধ খেতে দিবেন। সেক্ষেত্রে ঔষধের কার্যকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। প্রয়োজনে ফাইটম বা প্লাসিবো দিবেন।
৬) যখন রোগীর তেমন কোন সমস্যা নেই ভালো আছে বলবে তখন হিরিডিটারী বা বংশগত রোগ প্রবণতা তাড়ানোর ঔষধ যেমন বংশে প্রেসার ♥ হার্ট ডিজিজ থাকলে Medorhinum, একজিমা থাকলে Psorinum, ক্যান্সার থাকলে Carcinocin, এ্যাজমা থাকলে Tuberculinum ইত্যাদি ঔষধের উচ্চ শক্তির সিঙ্গেল ডোজ প্রয়োগ করবেন।
৭) ঔষধ সেবনের আগে ও পরে কমপক্ষে আধা ঘণ্টা (৩০ মিনিট) সময় কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় (পানি ছাড়া) গ্রহণ না করার পরামর্শ দিবেন।
৮) কখনো খালি হাতে হোমিওপ্যাথিক বড়ি না ধরার পরামর্শ দিবেন । হাতের স্পর্শে ঔষধের ভেতরের অ্যালকোহল বা স্পিরিট উবে যায়। ঔষধের কার্যকারীতা কমে যায়।
৯) নির্ধারিত ড্রপারে বা শিশির ঢাকনায় করে বা পরিষ্কার চামচে ঢেলে ঔষধ মুখে দিতে পরামর্শ দিবেন। একাধিক বোতলে বিভিন্ন তারিখে খাওয়ার জন্য ঔষধ দিলে একটি ঔষধের ড্রপার দিয়ে অন্য ঔষধ খাবে না।
১০) ঔষধ বাসি মুখে খাওয়ার পরামর্শ দিবেন। পেস্ট দিয়ে দাঁত মেজে সাথে সাথে ঔষধ সেবন করলে বা মুখে লং এলাচ বা অন্য কোন কিছুর কণা থাকাবস্হায় ঔষধ সেবন করলে ঔষধে কাজ করবে না।
১১) তীব্র গন্ধযুক্ত কোন কিছুর কাছাকাছি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রাখা যাবে না। যেমন কর্পূর, কড়া সুগন্ধি, কিংবা কড়া সেন্টের পাশে ওষুধ রাখা উচিত নয়। এগুলো হোমিওপ্যাথিক ঔষধের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে।
১২) ভুল খাদ্যাভ্যাস ও বদভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিবেন। ঔষধ চলাকালীন কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা রসুন, অতিরিক্ত টক, কড়া মসলাযুক্ত খাবার, কফি এবং অ্যালকোহল জাতীয় বস্তু পরিহার করা উচিত।
১৩) অন্য ঔষধের সাথে একত্রে যেমন অ্যালোপ্যাথি, কবিরাজি বা অন্য কোনো তীব্র গন্ধযুক্ত ঔষুধের সাথে একত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রাখা বা খাওয়া উচিত নয়। এতে মূল ঔষধের ক্ষমতা কমে যায়।
১৪) নিজে নিজে উচ্চশক্তির কোন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবন করা সম্পূর্ণ নিষেধ যেমন Sulphur, Psorinum, Medorhinum, Tuberculinum, Bacillinum, Silicea, Phosphorus, Lachesis ইত্যাদির মতো গভীর-ক্রিয়াশীল বা উচ্চশক্তির (High Potency) ঔষধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ব্যবহার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
১৫) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা চলাকালে কোন কষ্টকর লক্ষণের আবির্ভাব হলে প্রয়োজনে রোগী এ্যালোপ্যাথী ঔষধ খাবে কিন্তু নিজে নিজে কিনে বা অন্য কোন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের হোমিওপ্যাথিক ঔষধ খাবেন না।
১৬) রোগীর রোগের কষ্টকর অবস্হা বিবেচনায় ৭দিন বা ১০দিন বা ১৫দিন বা ২০দিন বা এক মাসের জন্য ঔষধ দিবেন। নির্ধারিত তারিখে পুনরায় ঔষধ নেয়ার জন্য পরামর্শ দিবেন।
১৭) তাড়াতাড়ি রোগ ভালো করার চেষ্টা করবেন না। ঔষধকে কাজ করার সময় দিন। ঔষধে কাজ করতে থাকলে অন্য ঔষধ দিয়ে প্রথম ঔষধের কাজে বাঁধা দিবেন না।
এভাবে চিকিৎসা শেষ করবেন। দেখবেন আপনি সফল চিকিৎসকদের একজন হবেন ইনশাআল্লাহ।
゚