01/09/2026
চীনের জিয়াংসু প্রদেশের সুকিয়ানে দরিদ্র পরিবারে বড় হয়েছেন চেন সি। কৈশোরেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয় তাকে। জীবনের একপর্যায়ে তিনি গৃহহীনও ছিলেন, কখনো ওভারপাসের নিচে ঘুমিয়েছেন। পরে একটি ফলের দোকান খুলে কিছুটা স্থিতিশীল জীবন পান।
নিজের সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই হয়তো তাকে অন্য মানুষের কষ্টের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
২০০০ সালে প্রথমবার আ_হ/ত্যার চেষ্টা করা এক তরুণীকে বাঁচান চেন। নানজিং ইয়াংজি রিভার ব্রিজের কিনারা থেকে তাকে ফিরে আসতে বোঝাতে সক্ষম হন তিনি।
এরপর ২০০৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে প্রায় প্রতি সপ্তাহান্তেই সেই একই সেতুতে যেতে শুরু করেন চেন। কখনো হেঁটে, কখনো মোটরসাইকেলে সেতু ঘুরে দেখেন। লক্ষ্য একটাই, এমন কাউকে খুঁজে বের করা, যার আচরণ দেখে মনে হচ্ছে তিনি হয়তো সব শেষ করার কথা ভাবছেন।
প্রায় দুই মাইল দীর্ঘ নানজিং ইয়াংজি রিভার ব্রিজ আ_হ/ত্যার ঘটনাগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কুখ্যাত। বিভিন্ন প্রতিবেদনে একে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আ_হ/ত্যার ঘটনা ঘটেছে এমন স্থানগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুই দশকের অভিজ্ঞতায় চেন মানুষের আচরণের কিছু সংকেত চিনতে শিখেছেন। তিনি বিশেষভাবে লক্ষ্য করেন এমন মানুষকে, যাদের হতাশ দেখাচ্ছে, উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটছেন বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে মনে হচ্ছে।
কাউকে সন্দেহ হলে তিনি কাছে গিয়ে কথা বলেন। প্রথমে বোঝার চেষ্টা করেন, সমস্যাটা কোথায়। কখনো শুধু কথা বলেই কাউকে সিদ্ধান্ত বদলাতে রাজি করাতে পেরেছেন।
আবার কখনো পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়েছে যে সেতুর রেলিং পেরিয়ে যাওয়া মানুষকে শারীরিকভাবে ধরে টেনে তুলতে হয়েছে। চেন নিজেই এমন মুহূর্তকে জীবন-মৃত্যুর লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
২১ বছরের বেশি সময়ে প্রায় ৪৭০ জনকে এমন পরিস্থিতি থেকে ফিরিয়ে আনার কৃতিত্ব দেওয়া হয় তাকে।
তবে এই কাজ মানসিকভাবে তাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। যাদের বাঁচাতে পারেননি, তাদের কথা দীর্ঘদিন স্বপ্নে ফিরে আসত বলে জানিয়েছেন চেন।