19/11/2024
শিশুদের চোখের চশমার পাওয়ার নির্ণয় কিছুটা দুরূহ কাজ। বিশেষ করে সাত - আট বছরের নিচের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে।
কারণ:
অত্যধিক একোমোডেশন।
Accommodation মানে হচ্ছে নিকটের বস্তু দেখার জন্য চোখের লেন্সের আকার গত পরিবর্তন যার ফলে লেন্সের ডায় অপ্টার পাওয়ার বেড়ে যায়।
একজন চল্লিশ বছরের মানুষ সাধারণত চোখ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার দূরের বস্তু স্বাভাবিক ভাবে দেখতে পারে।
সেখানে একটি শিশু ৬-৭ সেন্টিমিটার কাছের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে শিশুদের চশমার পাওয়ার নির্ণয়ে একোমোডেশন এর ভূমিকা কি?
তিনটি অবস্থা বিবেচনা করুন
১. আপনার শিশু মায়োপিক। এখন তার রেটিনোস্কোপি বা রিফ্রাকশন করে পাওয়া গেল -4DSP. কিন্তু এই পাওয়ারের চশমা শিশুটি সহ্য করতে পারে না। কারণ কি হতে পারে। কারণ হতে পারে যখন তার পাওয়ার পরিমাপ করা হচ্ছিল তখন সে চোখের লেন্সের একোমোডেশন ব্যবহার করেছে। ফলে চোখের মাইনাস পাওয়ার বেশি পাওয়া গেছে। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় শিশুর একোমোডেশন এটা রেস্ট এ থাকছে। তাই চশমা দিয়ে শিশুটি ব্লার দেখছে।
২. আপনার শিশুর হাইপারমেট্রোপিয়া আছে। কিন্তু পরীক্ষা করতে গেলে কোনো পাওয়ার পাওয়া যায় না। কারন যখন তার রিফ্রাকশন করা হয় তখন সে একোমোডেশন করে চোখের হাইপারমেট্রোপিয়া হাইড করে ফেলে।
৩। অথবা ধরুন, আপনার শিশুর চোখে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু পরীক্ষা করতে গেলে চোখে মাইনাস পাওয়ার চলে আসছে। এর কারণ ১ নং পয়েন্টের মতো। শিশুটির যখন রিফ্রাকশন করা হচ্ছে তখন সে একোমোডেশন ব্যবহার করে চোখের পাওয়ার মাইনাস করে ফেলছে।
স্বাভাবিক ভাবে ধরা হয় চোখের টোটাল রিফ্রাকটিভ পাওয়ার 60 D.
কিন্তু একটা শিশু তার একোমোডেশন ব্যবহার করে চোখের পাওয়ার 70-74 D বানিয়ে ফেলতে পারে।
এজন্য মায়োপিয়া বা হাইপারমেট্রোপিয়া এর সংগায় বলা হয় 'When the accommodation is at rest'
Accommodation at rest এ রাখতে হলে সাধারণত চোখ কে ছয় মিটার বা বিশ ফুটের দূরের কোনো বস্তুর দিকে টার্গেট করতে হয়। শিশুদের জন্য এই টার্গেট নির্ধারণ করা যেমন কঠিন, উপরন্তু চোখের একোমোডেশন এম্প্লিটিউড অনেক বেশি। প্রায় 14D, যা একজন চল্লিশ বছরের মানুষের মাত্র 4 D.
এক্ষেত্রে করণীয় কি?
এক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে সিলিয়ারী মাসল অবস করা। যাকে বলে cycloplegic Refraction. অর্থাৎ শিশুদের চোখের সঠিক পাওয়ারের জন্য cycloplegia করে করতে হবে।
সাধারণত atropine eye drop /ointment, cyclopentolate eye drop, tropicamide eye drop দিয়ে এই cycloplegia করা হয়।
শুধু শিশুদের না। অনেক সময় টিনেজদের ক্ষেত্রেও এমন হতে পারে। যার নাম Pseudo Myopia. অর্থাৎ রিফ্রাকশন করে মাইনাস পাওয়ার পাওয়া যায় কিন্ত বাস্তবে তার কোনো চশমা বা Correction লাগে না।
ডাঃ মোঃ মাকসুদে মাওলা
এমসিপিএস, আইসিও,
এফসিপিএস ফাইনাল পার্ট,
এফআরসিএস ফাইনাল পার্ট।
সহকারী রেজিস্ট্রার
চক্ষু বিভাগ
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল