29/08/2026
প্রজেস্টেরন কম থাকলে কী কী লক্ষণ দেখা যেতে পারে?
প্রজেস্টেরনকে “প্রেগন্যান্সি হরমোন” বলা হয়।
কারণ ওভ্যুলেশনের পর প্রজেস্টেরনের মাত্রা বাড়ে এবং জরায়ুর ভেতরের আবরণকে ভ্রূণ স্থাপনের জন্য উপযোগী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুধু তাই নয়, প্রজেস্টেরন—
• ভ্রূণ জরায়ুতে সঠিকভাবে স্থাপনে সহায়তা করে
• গর্ভাবস্থার শুরুটা ধরে রাখতে সাহায্য করে
• মাসিক চক্র নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে
• স্বাভাবিক প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
তাই পর্যাপ্ত প্রজেস্টেরন না থাকলে গর্ভধারণ করা বা গর্ভধারণের পর তা ধরে রাখা কিছু ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে। এবং কিছু ক্ষেত্রে গর্ভধারনে প্রথম দিকে যে মিছক্যারেজ হয় তা প্রজেস্টেরন ঘাটতির কারনেই হয়ে থাকে।
প্রজেস্টেরন কম থাকলে কী কী লক্ষণ দেখা যেতে পারে?
• মাসিকের কয়েকদিন আগে বাদামি রঙের স্পটিং
• মাসিক চক্র অস্বাভাবিকভাবে ছোট হওয়া
• নিয়মিত ওভ্যুলেশন না হওয়া
• ওভ্যুলেশনের পর শরীরের তাপমাত্রায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন না দেখা
• গর্ভধারণে সমস্যা হওয়া
• গর্ভধারণের পর বারবার সমস্যা হওয়া
প্রজেস্টেরন সাপোর্ট করতে কী কী বিষয় গুরুত্বপূর্ণ?
১। প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে ওভ্যুলেশন হচ্ছে কি না।
কারণ প্রজেস্টেরন মূলত ওভ্যুলেশনের পর তৈরি হয়। তাই শুধু প্রজেস্টেরন বাড়ানোর চেষ্টা না করে, ওভ্যুলেশন ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেটি বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
২। পর্যাপ্ত ক্যালরি গ্রহণ করুন।
অতিরিক্ত কম খাওয়া, দীর্ঘদিন খুব কম ক্যালরির ডায়েট করা বা শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার গ্রহণ হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। আমি আমার প্র্যাক্টিসে অনেক আপুকে দেখতে পাই যে তারা ডায়েট করতে গিয়ে এতো কম ক্যালোরি ইন্টেক করে যে তা তাদের পরবর্তীতে হরমোন কে ইমব্যালেন্স করে দেউ
তাই পর্যাপ্ত—
• প্রোটিন
• গুশ ফ্যাট
• কার্বোহাইড্রেট
• ভিটামিন ও মিনারেল নিশ্চিত করা জরুরি।
৩। ঘুম ও স্ট্রেসকে গুরুত্ব দিন।
নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম এবং দীর্ঘমেয়াদি স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ করা সামগ্রিক হরমোনাল স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত কঠোর ব্যায়াম—বিশেষ করে পর্যাপ্ত খাবার না খেলে—প্রজনন হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
৪। প্রজেস্টেরন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করুন।
খাদ্যতালিকায় ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, জিঙ্ক, কপারসহ বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
একজন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্টের সাহায্যে এসব নিউট্রিয়েন্ট খাবারে যুক্ত করতে হবে / সাপ্লিমেন্ট আকারে নিতে হবে।
৫। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে প্রজেস্টেরন ব্যবহার করা যেতে পারে।
কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রজেস্টেরন সাপোর্ট দিতে পারেন।
কিন্তু নিজে থেকে প্রজেস্টেরন শুরু করা উচিত নয়।
কখন শুরু করতে হবে, কত ডোজে নিতে হবে এবং আদৌ প্রয়োজন আছে কি না—এসব নির্ভর করে ব্যক্তির ওভ্যুলেশন, মাসিক চক্র, গর্ভধারণের ইতিহাস এবং অন্যান্য হরমোনাল ও মেডিকেল অবস্থার ওপর।
এবং চেষ্টা করুন লক্ষণ মিলে গেলে গর্ভধারন প্ল্যানের আগেই প্রজেস্টেরন টেস্ট করার।
শাইমা জাহান
ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট এন্ড ডায়েটেশিয়ান
সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাস্পাতাল, ওয়ারী
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যাত্রাবাড়ী