03/05/2026
*Scrofolosos*
এই শ্রেণির ওষুধসমূহকে Stottmittle এবং Antilinfatices প্রতিকার নামেও পরিচিত করা হয়, যা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে এগুলো লসিকাতন্ত্র (Lymphatic system)-এর বিভিন্ন রোগে উপযোগী। এদের মূল উদ্দেশ্য হলো লসিকার স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় যে ভারসাম্যহীনতা বা ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়, তা পুনরুদ্ধার করে পুনরায় একটি সুষম ও কার্যক্ষম অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।
যখন লসিকাগত রোগসমূহ দীর্ঘস্থায়ী রূপ ধারণ করে এবং ধীরে ধীরে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে প্রভাবিত করতে শুরু করে, অথবা যখন টিস্যুর ধ্বংস (Tissue degeneration) প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত অঙ্গসমূহ এবং ক্ষয়প্রাপ্ত টিস্যুকে লক্ষ্য করে তৈরি ওষুধ প্রয়োগ করতে হয়, যা Canceroso গ্রুপের প্রস্তুতির সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবহার করা উচিত।
সাধারণভাবে, যেখানে টিস্যুর অবক্ষয় বা ক্ষয়জনিত পরিবর্তন বিদ্যমান, সেখানে লসিকাগত ওষুধের পাশাপাশি আক্রান্ত অঙ্গকে কেন্দ্র করে প্রয়োগযোগ্য ওষুধ এবং টিস্যু-রেমেডি (Cancerosos) একত্রে ব্যবহার করা উচিত, যাতে একদিকে শারীরিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং অন্যদিকে কার্যগত ভারসাম্যও পুনঃস্থাপিত হয়।
সাধারণভাবে, চিকিৎসাগত সংমিশ্রণগুলো নিম্নরূপভাবে নির্ধারিত থাকে: S-1 এর সঙ্গে C-1; S-2 এর সঙ্গে C-2; S-3 এর সঙ্গে C-3; S-4 এর সঙ্গে C-4; S-5 এর সঙ্গে C-5; S-6 এর সঙ্গে C-6; S-10 এর সঙ্গে C-10 এবং এভাবেই ধারাবাহিকভাবে।
তবে কিছু জটিল বা তীব্র রোগাবস্থা এই প্রচলিত নির্ধারিত জোড়াগুলোর সঙ্গে সহজে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। যখন রোগ আক্রমণাত্মক রূপ ধারণ করে এবং একটি নির্দিষ্ট অঙ্গের সীমা অতিক্রম করে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সিস্টেমকেও প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন শরীরের একাধিক স্থানে বিভিন্ন ধরনের রোগজনিত পরিবর্তন সৃষ্টি হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে সাধারণ সংমিশ্রণ (যেমন S-1 + C-1) পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে উপযুক্ত নয়, সেখানে চিকিৎসককে পূর্বনির্ধারিত জোড়ার প্রতি কঠোরভাবে অনুগত না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বরং রোগের প্রকৃত অবস্থা এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক পরিস্থিতিকে ভিত্তি করে ওষুধ নির্বাচন করা উচিত।
এই কারণে, ক্লিনিক্যাল বিবেচনার ভিত্তিতে বিকল্প সংমিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে; যেমন S-1 এর সঙ্গে C-5 অথবা S-5 এর সঙ্গে C-2 প্রয়োগ করা সম্ভব।
স্টটমিটেল সিরিজের (Stottmittle series) ওষুধসমূহ—S-1, S-2, S-3, S-4 এবং S-5—কে লসিকাগত সঞ্চালন ও লসিকা গঠনের উপর ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব বিস্তারকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, S-6, S-10, S-11, S-12 এবং SLASS / S-13 লসিকার গতি ও উৎপাদনের উপর নিম্নমুখী বা অবরোহী (Descending) প্রভাব প্রদর্শন করে বলে উল্লেখ করা হয়।
যেহেতু লসিকাগত কার্যকলাপের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পাকস্থলী (Stomach)-কে বিবেচনা করা হয়, তাই এই ওষুধসমূহের প্রধান কার্যও সেই স্থানের দিকেই কেন্দ্রীভূত। এই কারণে এগুলোকে বিপাক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান ওষুধ হিসেবে ধরা হয়, যা শরীরের মৌলিক প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করে—যার মাধ্যমে পুষ্টি রূপান্তরিত হয় এবং সমগ্র দেহে বণ্টিত হয়।
Antilinfatic (Antilinfatic) গ্রুপের ওষুধগুলোর চিকিৎসাক্ষেত্র শুরু হয় পুষ্টি গ্রহণের একেবারে সূচনালগ্ন থেকে—অর্থাৎ সেই মুহূর্ত থেকে, যখন জীবনধারণ ও শক্তি উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য উপাদানসমূহ শরীরে প্রবেশ করে। কোষের ভেতরে পুষ্টিজাত উপাদানের বিপাকীয় রূপান্তর একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা শুরু হয় খাদ্য মুখগহ্বর (Mouth cavity)-এ প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই। এই প্রাথমিক গ্রহণ পর্যায় থেকে শুরু করে, এই ওষুধসমূহ ধারাবাহিক রাসায়নিক ও ভৌত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্যকে শরীরের ব্যবহারের উপযোগী রূপে পরিবর্তিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে বলে বিবেচিত হয়।
এদের কার্যপরিধি বিস্তৃত থাকে হজম প্রক্রিয়া এবং লসিকা (Lymph) গঠনের পর্যায় পর্যন্ত। তবে একবার লসিকা গঠিত হয়ে গেলে, তার সঞ্চালন, বণ্টন ও সংগঠনের দায়িত্ব Lymphatico গ্রুপের ওষুধগুলোর আওতায় পড়ে। Scrofoloso শ্রেণির ওষুধসমূহ স্নায়ুতন্ত্রের (Nervous system) মাধ্যমে অঙ্গসমূহের উপর দ্রুত প্রভাব বিস্তার করে বলে বর্ণনা করা হয়।
নিচে লসিকা গঠন ও চলাচলে অংশগ্রহণকারী অঙ্গসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ উপস্থাপন করা হলো।
*১. মুখগহ্বর (Mouth Cavity)*
এর অন্তর্ভুক্ত জিহ্বা (Tongue), মাড়ি (Gums), দাঁত (Teeth), স্বাদগ্রন্থি (Taste buds), লালাগ্রন্থি (Salivary glands), প্যারোটিড গ্রন্থি (Parotid gland), সাবম্যান্ডিবুলার গ্রন্থি (Submandibular gland), সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থি (Sublingual gland), টিউবুলো-অ্যালভিওলার গ্রন্থি (Tubulo-alveolar glands), থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland), ক্ষুদ্র লালাগ্রন্থি (Minor salivary glands), লিঙ্গুয়াল গ্রন্থি (Lingual glands), মিউকাস গ্রন্থি (Mucous glands) এবং মিউকাস ঝিল্লি (Mucous membranes)।
২. অন্ননালী (Esophagus)
এর অন্তর্ভুক্ত খাদ্যবাহী পথ (Alimentary passage), লসিকাগত গঠন (Lymphatic structures), মিউকাস গ্রন্থি (Mucous glands) এবং মিউকাস ঝিল্লি (Mucous membrane)।
*৩. পাকস্থলী (Stomach)*
এখানে বিদ্যমান রক্তনালী (Blood vessels) ও লসিকানালী (Lymphatic vessels), কার্ডিয়াক ও পাইলোরিক ছিদ্র (Cardiac and pyloric openings), পাইলোরিক গ্রন্থি (Pyloric glands), কার্ডিয়াক গ্রন্থি (Cardiac glands) এবং গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি (Gastric glands)।
*৪. ক্ষুদ্রান্ত্র (Small Intestine)*
অন্ত্রের ভাঁজ ও ভিলাই (Intestinal folds and villi), অন্তর্নিহিত গ্রন্থি (Intrinsic glands), অন্ত্রগ্রন্থি (Intestinal glands), শোষণকারী কোষ (Absorptive cells), গবলেট কোষ (Goblet cells), আর্জেন্টাফিন কোষ (Argentaffin cells) এবং মিউকাস ঝিল্লি (Mucous membranes)।
*৫. বৃহদান্ত্র (Large Intestine)*
লসিকানালী (Lymphatic channels), মূত্রথলি (Urinary bladder) (প্রাসঙ্গিক শারীরস্থানগত সংযোগ হিসেবে), রক্তনালী (Blood vessels), রেকটাম (Re**um) এবং মিউকাস ঝিল্লি (Mucous membrane)।
*৬. যকৃত (Liver)*
নিঃসরণকারী ও নির্গমনকারী গ্রন্থি (Secretory and excretory glands)।
*৭. অগ্ন্যাশয় (Pancreas)*
অন্তঃস্রাবী (Endocrine) ও বহিঃস্রাবী (Exocrine) উভয় উপাদান, টিউবুলার গ্রন্থি (Tubular glands), অ্যালভিওলি (Alveoli), বেসমেন্ট মেমব্রেন (Basement membrane), মিউকাস গ্রন্থি (Mucous glands), সাইটো-মেট্রিক গঠন (Cytometric structures) এবং আলফা ও বিটা কোষ (Alpha and beta cells)।
*৮. পিত্তথলি (Gallbladder)*
পিত্তনালী ও কেশিকা (Bile ducts and capillaries), পিত্তথলির সম্পূর্ণ কার্যকরী ব্যবস্থা, হেপাটিক ও সিস্টিক ডাক্ট (Hepatic and cystic ducts) এবং অ্যাম্পুলা (Ampulla)।
*৯. মূত্রতন্ত্র (Urinary Organs)*
নির্গমন নালী (Excretory ducts), মূত্রথলি (Urinary bladder), ইউরেটার (Ureters), কিডনি (Kidneys), মেডুলা (Medulla), নেফ্রন (Nephrons), প্যাপিলারি ডাক্ট (Papillary ducts) এবং ইউরেথ্রা (Urethra)।
*১০. লসিকানালী (Lymphatic Vessels)*
পরিপাক প্রক্রিয়ার ফলে খাদ্য থেকে প্রাপ্ত পুষ্টিজাত উপাদানসমূহ অন্ত্রের মাধ্যমে লসিকা (Lymph)-এর আকারে শোষিত হয়। এই লসিকা লসিকানালী পথে উপরে উঠে বৃহৎ শিরা (Great veins)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়। সেখান থেকে এটি সমগ্র শরীরে সঞ্চালিত হয় এবং এর একটি অংশ পুনরায় ফিরে আসে।
ডিম্বাশয় (Ovaries), শুক্রাশয় (Te**es), ত্বকের গ্রন্থি (Cutaneous glands), ঘামগ্রন্থি (Sweat glands) এবং নির্গমন গ্রন্থি (Excretory glands) সহ অসংখ্য গ্রন্থি এই বিস্তৃত লসিকাগত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করে, যা দেহের সকল গ্রন্থি ও লসিকাগত অঙ্গকে অন্তর্ভুক্ত করে।
পরিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত পুষ্টিসার, যা লসিকায় (Lymph) রূপান্তরিত হয়, তা দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বণ্টিত হয়। যতক্ষণ এই লসিকাগত উপাদান শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত অবস্থায় থাকে, ততক্ষণ শরীর ভারসাম্য ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। কিন্তু কোনো কারণে যদি লসিকা দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তবে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে নানা ধরনের রোগ ও ব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে। ধীরে ধীরে এসব অস্বাভাবিকতা গুরুতর রূপ ধারণ করতে পারে, যা শরীরের সামগ্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে দেয় এবং অবহেলিত থাকলে গভীর অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যায়।