05/05/2026
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম Facebook-এ এক মমতাময়ী মায়ের লেখা একটি পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়েছে হাজারো মানুষের হৃদয়ে। আকলিমা জাহান—একজন শিক্ষক, একজন মা, আর এক গভীর অনুভূতির মানুষ—তার ছোট ছেলেকে নিয়ে লিখেছেন এমন কিছু কথা, যা শুধু গল্প নয়, যেন এক জীবন্ত অনুভব।
তিনি পরিচয় করিয়ে দেন তার ছোট ছেলে আবরার বিন তাজকে—মরহুম তাজ উদ্দিন তাজের আদরের সন্তান, বর্তমানে মাইলস্টোন স্কুলের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। কিন্তু এই পরিচয়ের বাইরে, ছেলেটির আরেকটি পরিচয় আছে—দায়িত্ববোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ আর ধর্মীয় চেতনায় গড়া এক কিশোর।
মায়ের ভাষায়, খুব ছোট বয়সেই সে যুক্ত হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে। কিন্তু এখানে গল্পটা কোনো সংগঠনের নয়—এটা একজন সন্তানের ভেতরের পরিবর্তনের গল্প।
এক সকালে, কোনো ডাকাডাকি ছাড়াই ঘুম থেকে উঠে নিজের মতো প্রস্তুত হয়ে নেয় সে। মাকে অবাক করে দিয়ে জানায়—সে রোজা রেখেছে। শুধু তাই নয়, মায়ের জন্য নিজ হাতে বানিয়ে রেখেছে সকালের নাস্তা—ফ্রাইড রাইস, সিদ্ধ ডিম আর এক কাপ দুধ চা। যেন ছেলের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক দায়িত্বশীল অভিভাবক।
মায়ের বিস্ময় তখন আরও বাড়ে, যখন জানতে পারেন—ছেলেটি সারারাত জেগে পড়াশোনা করেছে, শুধু এই রোজার প্রস্তুতির জন্য। এমনকি মাকে না জানানোতেও তার যুক্তি ছিল—মা যেন কষ্ট না পান, জেগে না থাকেন।
একটা ছোট ভুলের জন্য সে নিজেই নিজের ওপর নিয়েছে শাস্তি—কাফফারা হিসেবে চারটি রোজা। নিজের টিফিনের টাকা থেকে সাদাকাও দিতে চায়। এই আত্মশুদ্ধির প্রয়াস, এই আত্মনিয়ন্ত্রণ—একজন মায়ের চোখে তা হয়ে ওঠে গর্ব আর বিস্ময়ের মিশেল।
বিকেলে ইফতারের আয়োজন করতে গিয়ে মা দেখেন—ছেলেটি চুল কেটে এসেছে, হাসিমুখে জানতে চায়, “কেমন লাগছে?”
সেই ছোট্ট কথোপকথনের মধ্যেও ফুটে ওঠে সম্পর্কের মায়া, স্নেহ আর এক অদৃশ্য বন্ধন।
শেষে, আকলিমা জাহানের সেই হৃদয়ছোঁয়া প্রশ্ন—
“আহা শিবির! কিসের র/গ কাটস? হাতের-পায়ের? ঘাড়ের নাকি নফসের?”
এই একটি লাইনই যেন পুরো গল্পটাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এখানে কোনো বাহ্যিক সংঘর্ষ নেই—আছে ভেতরের লড়াই, নিজের সঙ্গে নিজের যুদ্ধ, নফসের বিরুদ্ধে এক নীরব জিহাদ।
মন্তব্যে অনেকে দোয়া আর ভালোবাসা জানিয়েছেন। কেউ কেউ লিখেছেন—সমালোচনা যতই হোক, এমন চরিত্র আর আদর্শ মানুষকে আকৃষ্ট করেই।
সব মিলিয়ে, এটি শুধু একটি ভাইরাল পোস্ট নয়—এটি এক মায়ের চোখে তার সন্তানের বেড়ে ওঠার গল্প, আত্মশুদ্ধির গল্প, আর নীরব সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রকাশ।