11/10/2026
কেস স্টাডি–০১
ছদ্মনাম:- উমর ফারুক
বয়স:-১৯
দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা ও অস্বাভাবিক কিছু প্রতিক্রিয়া.
তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাথায় প্রচণ্ড চাপ অনুভব করেন , রাতে ঘুমাতে পারছিলেন না এবং ঘুমিয়ে পড়ার পর বারবার ভয় পেয়ে জেগে ওঠার সমস্যায় ভুগছিলেন। দিনের বেলাতেও অস্বস্তি ও দুর্বলতা অনুভব করতেন। অনেকদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকায় রুকইয়াহর উদ্দেশ্যে আমাদের সেন্টারে আসেন।
রোগীর সমস্যার বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়ার পর ডায়াগনসিস রুকইয়াহ সেশন শুরু করা হয়।
শুরুতে তিনি স্বাভাবিকভাবেই বসেছিলেন।
ডায়াগনসিস রুকইয়াহ চলাকালীন
কিছু সময় পর নির্দিষ্ট আয়াত পাঠের সময় হঠাৎ রোগীর চোখ ভারী হয়ে আসে।
এরপর তিনি মাথা ধরে বসে পড়েন। শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তি অনুভব করেন এবং প্রচণ্ড মাথা ঘোরার কথা জানান।
কিছুক্ষণ পর বমি করেন এবং কান্নাকাটি শুরু করেন।
রুকইয়াহর সময়কার প্রতিক্রিয়া এবং রোগীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে জ্বিনের সমস্যা ধরা পড়ে,,
রোগীকে নিয়মিত রুকইয়াহ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সকাল-সন্ধ্যার যিকির, আয়াতুল কুরসি এবং ঘুমের পূর্বের আমল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আলহামদুলিল্লাহ, কয়েকটি সেশন ও তাদমীর নেওয়ার পর রোগী জানান—
আগের মতো রাতে ঘুম ভাঙছে না এবং মাথার চাপ ও অস্বস্তিও অনেকটাই কমেছে।
রুকইয়াহ কেস স্টাডি–০২
ছদ্মনাম:- তনিমা
বয়স ২২
তার জীবন যাপন স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল কিন্তু
হঠাৎ কিছু দিন যাবত তার আচরণ পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক কান্নার সমস্যা শুরু হয় তিনি হঠাৎ করেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দেন। কোনো কারণ ছাড়াই একা একা কান্না করতেন, রাতে ঘুমাতে চাইতেন না এবং মাঝে মাঝে বলতেন—“মনে হচ্ছে কেউ আমাকে দেখছে।” এবং আমার শরীর স্পর্শ করছে,বাজে ভাবে ধরছে,
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তাকে রুকইয়াহর জন্য নিয়ে আসেন আমাদের সেন্টারে..,
পরিবারের কাছ থেকে পূর্বের আচরণ ও সমস্যার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। এরপর রোগীকে সরাসরি ডায়াগনসিস রুকইয়াহ সেশনে নেওয়া হয়।
ডায়াগনোসিস রুকইয়াহ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর রোগী হঠাৎ প্রচণ্ড কান্না শুরু করেন। এরপর চোখ বন্ধ করে অস্থিরভাবে শরীর নাড়াচাড়া করতে থাকেন। বুকে চাপ অনুভব করতে থাকেন।
কিছু আয়াত পাঠের সময় কান্নার মাত্রা বেড়ে যায় এবং পরবর্তীতে বমি করেন। সেশন শেষে তিনি প্রচণ্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
রোগীর পূর্বের আচরণগত পরিবর্তন, দীর্ঘদিনের সমস্যা এবং ডায়াগনোসিস রুকইয়াহ সময়কার প্রতিক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করে আসক্ত জিন ও সিহরের সমস্যা ধরা পড়ে।
অতঃপর:-- রোগীকে ধারাবাহিক কিছু রুকইয়াহ সেশন, তাদমীর ইস্তেফরাগ ও নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত, সকাল-সন্ধ্যার মাসনূন যিকির এবং ঘুমের পূর্বের আমল চালিয়ে যেতে বলা হয়।
আলহামদুলিল্লাহ, নিয়মিত রুকইয়াহ সেশন ও তাদমীর ইস্তেফরাগ চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পাশাপাশি তার আমলের মাধ্যমে পরবর্তী সেশনগুলোতে প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা কমতে থাকে।
পরিবারের সদস্যরাও জানান, রোগীর আচরণে আগের তুলনায় অনেক পরিবর্তন এসেছে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে ফিরতে শুরু করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ ❤️🤲
আল্লাহ তাআলা সকল অসুস্থ ব্যক্তিকে পূর্ণ শিফা দান করুন। আমিন।
Quranic Treatment BD - Live & Discussion