স্বাস্থ্য পরামর্শ

স্বাস্থ্য পরামর্শ সবার মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। (আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা)
(2)

মুখের ভেতর 'ব্যাঙের পেট'র‍্যানুলা (Ranula)  🖊️ কলমে, ডা: মুয়াজ রহমান আজ আপনাদের মুখের ভেতরের এমন একটি সমস্যা নিয়ে জানাব,...
30/05/2026

মুখের ভেতর 'ব্যাঙের পেট'

র‍্যানুলা (Ranula)

🖊️ কলমে, ডা: মুয়াজ রহমান

আজ আপনাদের মুখের ভেতরের এমন একটি সমস্যা নিয়ে জানাব, যা দেখতে অদ্ভুত হলেও সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় **র‍্যানুলা (Ranula)**।

ল্যাটিন শব্দ 'Rana' মানে ব্যাঙ। এই রোগটি হলে জিহ্বার নিচে যে ফোলা অংশ তৈরি হয়, তা দেখতে অনেকটা ব্যাঙের পেটের মতো বা স্বচ্ছ পানির ফোসকার মতো দেখায় বলেই এর এমন নাম।

❓ র‍্যানুলা আসলে কী?

আমাদের মুখের ভেতরে, বিশেষ করে জিহ্বার নিচে লালা গ্রন্থি (Sublingual Salivary Gland) থাকে। কোনো কারণে যদি এই লালা গ্রন্থির নালী বা পথ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা আঘাতের কারণে ফেটে যায়, তখন লালা (Saliva) বাইরে বের হতে না পেরে চামড়ার নিচে জমতে শুরু করে। এই জমে থাকা লালাই ধীরে ধীরে একটি সিস্ট বা ফোলা পিণ্ডের রূপ নেয়, যাকে আমরা র‍্যানুলা বলি।

🔍 এর লক্ষণগুলো কী কী?

* জিহ্বার নিচে একপাশে নরম, ব্যথাহীন এবং নীলচে বা স্বচ্ছ রঙের ফোলা ভাব।
* এটি সাধারণত ধীরে ধীরে আকারে বড় হতে থাকে।
* আকারে খুব বেশি বড় হয়ে গেলে খাবার গিলতে, কথা বলতে বা চিবানোতে অসুবিধা হতে পারে।

⚠️ সাধারণ মানুষের কিছু ভুল ধারণা ও সতর্কতা

অনেকেই মুখের ভেতর এমন ফোলা দেখলে আতঙ্কে একে 'ক্যান্সার' ভেবে বসেন। আবার অনেকে সুই বা সূক্ষ্ম কিছু দিয়ে এটি গলিয়ে পানি বের করার চেষ্টা করেন। **মনে রাখবেন, সুই দিয়ে এটি ফাটানো চরম বিপজ্জনক!** এতে ইনফেকশন হয়ে মুখ ও গলা ফুলে যেতে পারে এবং সাময়িকভাবে কমে গেলেও কয়েকদিন পর এটি আবার দ্বিগুণ আকারে ফিরে আসে।

🩺 এর সমাধান কী?

র‍্যানুলা পুরোপুরি নিরাময়ের একমাত্র উপায় হলো সঠিক সার্জারি।

- Marsupialization: সিস্টের দেয়াল কেটে লালা বের হওয়ার বিকল্প পথ তৈরি করে দেওয়া।

- সিস্ট ও লালাগ্রন্থি অপসারণ: বারবার ফিরে আসলে পুরো সাবলিঙ্গুয়াল গ্ল্যান্ডসহ সিস্টটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়, যা অত্যন্ত নিরাপদ।

মুখের ভেতরের যেকোনো অস্বাভাবিক ফোলা ভাবকে অবহেলা করবেন না। নিজের বা পরিবারের কারও এমন সমস্যা দেখা দিলে ঘরোয়া টোটকা পরিহার করে একজন অভিজ্ঞ ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন বা ইএনটি (ENT) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।

📌 হঠাৎ পায়ের বুড়ো আঙুলে তীব্র ব্যথা? আজকের আলোচনা  ‘একিউট গাউট’ বা গেঁটে বাত সম্পর্কে!কলমে, ডা. মুয়াজ রহমান (MBBS, DU)আস...
30/05/2026

📌 হঠাৎ পায়ের বুড়ো আঙুলে তীব্র ব্যথা?

আজকের আলোচনা ‘একিউট গাউট’ বা গেঁটে বাত সম্পর্কে!
কলমে, ডা. মুয়াজ রহমান (MBBS, DU)

আসসালামু আলাইকুম। আশা করি সবাই ভালো আছেন।
আজকাল আমাদের চেম্বারে প্রায়ই এমন কিছু রোগী আসেন, যারা মধ্যরাতে বা ভোরে পায়ের বুড়ো আঙুলের তীব্র জয়েন্ট ব্যথায় ঘুম থেকে জেগে ওঠেন। ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে, সামান্য কাপড়ের স্পর্শও সহ্য করা যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় **একিউট গাউট (Acute Gout Attack)** বা সাধারণ ভাষায় গেঁটে বাত।

🔍 একিউট গাউট কেন হয়?

আমাদের রক্তে যখন **ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid)** এর মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়, তখন এই অ্যাসিডের ক্রিস্টাল বা দানাগুলো জয়েন্টের (বিশেষ করে পায়ের বুড়ো আঙুল, গোড়ালি বা হাঁটুতে) ভেতরে জমা হতে থাকে। এর ফলে জয়েন্টে হঠাৎ তীব্র ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ তৈরি হয়।

🚨 প্রধান লক্ষণসমূহ:

১। হঠাৎ তীব্র ব্যথা: সাধারণত মাঝরাতে বা ভোরে হঠাৎ করে ব্যথা শুরু হয়।
২। জয়েন্ট ফুলে যাওয়া ও লাল হওয়া: আক্রান্ত জয়েন্টটি মারাত্মকভাবে ফুলে যায়, লাল হয়ে যায় এবং ছোঁয়ালেই গরম অনুভূত হয়।
৩। হাঁটাচলায় তীব্র কষ্ট: জয়েন্ট নাড়াচড়া করা বা ওজন নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

🚫 যেসব কারণে গাউটের ঝুঁকি বাড়ে (Risk Factors):

- অতিরিক্ত পিউরিন (Purine) সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া (যেমন: লাল মাংস/Beef, খাসির মাংস, কলিজা, পুঁইশাক, ডাল)।
- পর্যাপ্ত পানি পান না করা।
- শরীরের অতিরিক্ত ওজন।

🩺 আক্রান্ত হলে করণীয় ও প্রাথমিক চিকিৎসা:

যদি আপনার হঠাৎ এমন তীব্র অ্যাটাক হয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে প্রাথমিকভাবে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:

1. জয়েন্টকে বিশ্রামে রাখুন:* আক্রান্ত জয়েন্টটির ওপর বাড়তি চাপ দেবেন না। পা কিছুটা উঁচুতে (বালিশের ওপর) রাখতে পারেন।
2. আইস প্যাক (Ice Pack): ব্যথার জায়গায় ১০-১৫ মিনিট বরফ কাপড়ে পেঁচিয়ে সেঁক দিতে পারেন। এটি ফোলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।
3. পর্যাপ্ত পানি পান করুন: শরীর থেকে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড বের করে দিতে পানি পানের বিকল্প নেই।
4. স্বেচ্ছাচারী ওষুধ পরিহার: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুট করে কোনো ব্যথানাশক (NSAIDs) বা ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ওষুধ (যেমন: Allopurinol) শুরু করবেন না। ভুল সময়ে ওষুধ খেলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।

💡 প্রতিরোধ:

- দৈনিক অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন।
- রেড মিট (গরু ও খাসির মাংস) খাওয়া সীমিত করুন।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

🚨 অত্যন্ত জরুরি সতর্কবার্তা (ওষুধ সেবনের নিয়ম):

গাউটের একিউট অ্যাটাকের সময় ওষুধের সঠিক ব্যবহার জানা অত্যন্ত জরুরি, কারণ একটি ছোট ভুল আপনার ব্যথা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে:

* নিজে নিজে অ্যালোপিউরিনল (Allopurinol) শুরু করবেন না। তীব্র ব্যথার সময় (Acute Attack) ভুলেও নতুন করে ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ওষুধ (যেমন: Allopurinol বা Febuxostat) শুরু করা যাবে না। যদি আপনি আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে এই ওষুধটি নিয়মিত খেয়ে থাকেন, তবে অ্যাটাকের সময় তা হঠাৎ বন্ধ করবেন না, যেভাবে চলছিল সেভাবেই চালিয়ে যান। কিন্তু নতুন করে হুট করে শুরু করলে জয়েন্টে জমে থাকা ক্রিস্টালগুলো আরও বেশি নাড়াচড়া করে এবং ব্যথা ও প্রদাহের তীব্রতা (Acute Phase) অনেক দীর্ঘস্থায়ী করে ফেলে।

* কিডনি ও গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা সাবধান: যাদের কিডনির সমস্যা, লিভারের রোগ বা গ্যাস্ট্রিক আলসারের ইতিহাস আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যেকোনো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন।

★ বিশেষ দ্রষ্টব্য: একিউট গাউটের তীব্র কষ্ট সঠিক চিকিৎসায় খুব দ্রুতই উপশম সম্ভব। তাই ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে ওষুধ কিনে বিপদ না বাড়িয়ে, লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন এবং সঠিক নিয়মে ওষুধ সেবন করুন।

"সচেতন থাকুন, সুস্থ থাকুন"

দাদ রোগ  (Ringworm বা Tinea) কলমে, ডা. মুয়াজ রহমানআমাদের দেশে বিশেষ করে বর্ষা আর গরমের এই সময়ে ত্বকের একটি অত্যন্ত পরিচি...
30/05/2026

দাদ রোগ (Ringworm বা Tinea)

কলমে, ডা. মুয়াজ রহমান

আমাদের দেশে বিশেষ করে বর্ষা আর গরমের এই সময়ে ত্বকের একটি অত্যন্ত পরিচিত এবং বিরক্তিকর সমস্যা হলো "দাদ রোগ (Ringworm)"। এটি কোনো পোকা মাকড়ের কারণে হয় না, এটি মূলত এক ধরণের **ফাঙ্গাল ইনফেকশন (Fungal Infection)**।

সঠিক সময়ে সচেতন না হলে এবং ভুল চিকিৎসার কারণে এই রোগ সহজে সারতে চায় না এবং পরিবারের অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে।

🔍 দাদ রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ:

১। ত্বকের ওপর গোল চাকার মতো লালচে দাগ, যার চারপাশটা কিছুটা উঁচু ও খসখসে হয় (দেখতে অনেকটা রিং বা আংটির মতো)।
২। আক্রান্ত স্থানে তীব্র চুলকানি এবং জ্বালাপোড়া হওয়া।
৩। মাথায় দাদ হলে আক্রান্ত স্থানের চুল ঝরে যেতে পারে।

📍 শরীরের কোথায় কোথায় দাদ বেশি হয়?

ফাঙ্গাস সাধারণত শরীরের উষ্ণ ও ঘর্মাক্ত স্থানে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। বিশেষ করে:

- শরীরের উন্মুক্ত ত্বকে (Tinea Corporis): পিঠ, বুক, পেট, হাত বা পায়ে গোল চাকার মতো আকারে।
- কুঁচকিতে ও উরুর চিপায় (Tinea Cruris): গরম ও ঘামের কারণে এই অংশে দাদ সবচেয়ে বেশি হয়।
- আঙুলের ফাঁকে (Athlete's Foot): পায়ের আঙুলের ফাঁকে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় জুতো-মোজা পরে থাকেন বা ওজু করার পর পা ভালো করে মোছেন না।
- মাথায় (Tinea Capitis): মাথার ত্বকে দাদ হলে গোল হয়ে চুল উঠে যেতে পারে।
- নখে (Onychomycosis): নখ মোটা, ভঙ্গুর বা বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে।

🚫 ভুলেও যা করবেন না (সবচেয়ে জরুরি সতর্কবার্তা):

**ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে স্টেরয়েডযুক্ত মলম (যেমন: Clobetasol, Betamethasone বা তথাকথিত "মিশ্রণ" ক্রিম) কিনে ব্যবহার করবেন না।** এই মলমগুলো সাময়িকভাবে চুলকানি কমালেও ফাঙ্গাসকে ত্বকের আরও গভীরে নিয়ে যায় এবং রোগটিকে জটিল করে তোলে।

🛡️ দাদ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় করণীয়:

১। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: প্রতিদিন গোসল করুন এবং শরীর সবসময় শুকনো রাখার চেষ্টা করুন।
২। কাপড় ও তোয়ালে: আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত তোয়ালে, বিছানার চাদর, বা জামাকাপড় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না। কাপড় ধোয়ার পর কড়া রোদে শুকিয়ে নিন বা ইস্ত্রি (Iron) করে পরুন।
৩। ঢিলেঢালা পোশাক: গরমের দিনে সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন, যাতে ঘাম জমে না থাকে।
৪। চিকিৎসা সম্পন্ন করা: চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুসারে যে ওষুধ (Antifungal Cream বা Tablet) এর সম্পূর্ণ কোর্স সম্পন্ন করবেন, চুলকানি কমে গেলেও কোর্স সম্পূর্ণ শেষ করুন। মাঝপথে চিকিৎসা ছেড়ে দিলে রোগটি আবার ফিরে আসতে পারে।

🩺 পরামর্শ:

দাদ কোনো লজ্জার রোগ নয়, এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। লোকলজ্জার ভয়ে কবিরাজি বা ভুল চিকিৎসা নিয়ে রোগটি না বাড়িয়ে, প্রাথমিক অবস্থাতেই একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন।

"সচেতনতাই সুস্থতার চাবিকাঠি"

*পোস্টটি শেয়ার করে আপনার প্রিয়জনদের সচেতন করুন। আপনার কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন।

🔴 সচেতন হোন, যক্ষ্মা (টিবি) মুক্ত বাংলাদেশ গড়ুন! 🔴 # # # কলমে: ডা. মুয়াজ রহমানআমাদের সমাজে যক্ষ্মা বা টিবি নিয়ে এখনো অনে...
24/05/2026

🔴 সচেতন হোন, যক্ষ্মা (টিবি) মুক্ত বাংলাদেশ গড়ুন! 🔴

# # # কলমে: ডা. মুয়াজ রহমান

আমাদের সমাজে যক্ষ্মা বা টিবি নিয়ে এখনো অনেক ভুল ধারণা এবং সামাজিক কুসংস্কার রয়েছে। কিন্তু সঠিক তথ্য জানা থাকলে এই রোগ থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। আসুন, আজ যক্ষ্মা সম্পর্কে ৫টি জরুরি বিষয় সংক্ষেপে জেনে নিই:

# # # ১. যক্ষ্মা (TB) আসলে কী?

যক্ষ্মা বা টিবি (Tuberculosis) একটি সংক্রামক রোগ। এটি প্রধানত ফুসফুসকে আক্রমণ করে, তবে ফুসফুসের বাইরে শরীরের অন্যান্য অংশেও (যেমন- হাড়, গ্রন্থি বা মগজে) এটি হতে পারে।

* **লক্ষণ:**
- ২ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি,
- সন্ধ্যার দিকে জ্বর আসা,
- ওজন কমে যাওয়া বা
- কাশির সাথে রক্ত যাওয়া।

# # # ২. যক্ষ্মা কেন হয়?

এটি **'মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস' (Mycobacterium tuberculosis)** নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়।

# # # ৩. কীভাবে এটি ছড়ায়?

- যক্ষ্মা মূলত বাতাসের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায়। তবে এটি কেবল ফুসফুসের যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগীর মাধ্যমেই ছড়াতে পারে।

- হাঁচি ও কাশি: আক্রান্ত ব্যক্তি যখন খোলামেলা জায়গায় হাঁচি, কাশি, কথা বলে বা থুতু ফেলে, তখন বাতাসের সাথে এই সূক্ষ্ম জীবাণুগুলো (Droplets) ছড়িয়ে পড়ে।

- আশেপাশের সুস্থ মানুষ যখন সেই বাতাসে শ্বাস নেয়, তখন জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করে।

# # # ৪. ধূমপায়ীদের ঝুঁকি কেন বেশি?

ধূমপান ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বা কার্যক্ষমতা একদম ধ্বংস করে দেয়। ফলে, **একজন ধূমপায়ীর যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি।** শুধু তাই নয়, ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে যক্ষ্মার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদী এবং জটিল হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও থাকে। তাই ফুসফুস ভালো রাখতে আজই ধূমপান বর্জন করুন।

# # # ৫. সঠিক চিকিৎসায় যক্ষ্মা সম্পূর্ণ নিরাময় হয়!

> "কাশি হলে রক্ষা নাই, এই কথার ভিত্তি নাই। নিয়মিত ওষুধ খেলে, যক্ষ্মা ভালো হয়।"
> যক্ষ্মা নিয়ে সবচেয়ে আশার কথা হলো—এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

🛡️ প্রতিরোধে আমাদের করণীয়

১. দ্রুত পরীক্ষা: লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে কফ পরীক্ষা করান।
২. কোর্স সম্পূর্ণ করা: যক্ষ্মার ওষুধ সাধারণত ৬ থেকে ৯ মাস খেতে হয়। একটু সুস্থ বোধ করলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। কোর্স অধরা রাখলে রোগটি আরও বিপজ্জনক (MDR-TB) হয়ে উঠতে পারে।
৩. হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার: আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি বা কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করুন এবং যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা থেকে বিরত থাকুন।
৪. পুষ্টিকর খাবার: রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে রোগীকে প্রোটিন ও ভিটামিনযুক্ত খাবার দিন।
৫. বিসিজি (BCG) টিকা: শিশুদের জন্মের পরপরই যক্ষ্মা প্রতিরোধী বিসিজি টিকা নিশ্চিত করুন।

💡 কিছু জরুরি তথ্য (যা আমাদের জানা দরকার)

- এটি ছোঁয়াচে, কিন্তু বংশগত নয়: যক্ষ্মা একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। এটি বংশগত কোনো রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে এর জীবাণু ছড়ায়।

- শুধু ফুসফুসেই নয়: যক্ষ্মা কেবল ফুসফুসেই হয় না; এটি হাড়, লিম্ফ নোড, মস্তিস্ক বা কিডনিতেও হতে পারে। তবে ফুসফুসের যক্ষ্মাই সবচেয়ে বেশি ছড়ায়।

- বিনামূল্যে চিকিৎসা: আমাদের দেশে সরকারি হাসপাতাল ও ব্র্যাকের (BRAC) ডটস (DOTS) সেন্টারে যক্ষ্মার পরীক্ষা এবং সম্পূর্ণ মেয়াদের ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়।

**বার্তা:** লক্ষণ দেখা দিলে লুকিয়ে না রেখে দ্রুত পরীক্ষা করান। আপনার সচেতনতাই পারে একটি সুস্থ ও যক্ষ্মামুক্ত সমাজ গড়তে। পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন করুন।

#যক্ষ্মামুক্ত_বাংলাদেশ_গড়ি

সিএনজি অটোরিকশায় যাচ্ছিলাম। পেছনে ৩ জন। মাঝে আমি,দুপাশে এক ভদ্রমহিলা আর এক ভদ্র লোক। সামনে ড্রাইভার, আর দুপাশে দুই জন।কথ...
22/05/2026

সিএনজি অটোরিকশায় যাচ্ছিলাম। পেছনে ৩ জন। মাঝে আমি,দুপাশে এক ভদ্রমহিলা আর এক ভদ্র লোক।
সামনে ড্রাইভার, আর দুপাশে দুই জন।

কথাবার্তায় বুঝলাম ভদ্রমহিলা একজন শিক্ষিকা। তার জামাইকে ভারতে চিকিৎসার জন্য নিবেন। বাংলাদেশের চিকিৎসক বা চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর তাঁর অনেক ক্ষোভ। ভারতে নিলে কোথায় কিভাবে নিবেন এনিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে, সেই সাথে আমি ছাড়া বাকি পাঁচ জন এদেশের চিকিৎসকদের গুষ্টি উদ্ধার করে যাচ্ছেন। মনে মন খুশি হলাম যে এখানে আমাকে কেউ চিনেনা। চিন্তায় বাধ সাধলো ড্রাইভার, হঠাৎ সে বলে বসলো ম্যডাম আপনার পাশেইতো একজন ডাক্তার বসে আছেন, উনার কাছেই জেনে নিন কোথায় আপনার জামাইরে নিলে ভাল হবে।

উত্তপ্ত সিএনজিতে হঠাৎ নিরবতা নেমে এল।
একটু আগেই যারা এক হয়ে শোরগোল করছিলেন তারা পুনরায় পরস্পরের অচেনা যাত্রির মতো চুপ করে গেলেন। নিরবতা ভাংলেন সেই ম্যডাম। আমাকে বললেন, তুমি কিসের ডাক্তার। বললাম ' শিশু'র।

শিক্ষকদের এই এক সমস্যা। নিজের চাইতে কমবয়সী সবাইকে নিজের ছাত্র মনে করেন। আপনি থেকে তুমিতে চলে এলেন।

বললেন আমার হাসব্যন্ডের হার্টের সমস্যা। কোথায় নিলে তুলনামূলক ভালো হবে। ভারতে নাকি এইদেশে।

বললাম তুলনাটা কিসের সাথে কিসের।

এদেশের সরকারি বনাম ওদেশের সরকারি?
এদের প্রাইভেট বনাম ওদেশের সরকারি?
এদেশের সরকারি বনাম ওদেশের প্রাইভেট?
এদশের প্রাইভেট বনাম ওদেশের প্রাইভেট?

মেডাম আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কি চিন্তা করলেন কে জানে? তার দৃষ্টি বাইরে নিয়ে বললেন, কিন্তু আমরা টিভি খুললেই দেখি সরকারি - প্রাইভেট ; সবখানেই শুধু ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর মিছিল।

বললাম সেটা কখন দেখা শুরলেন?
রোগী কি গত একমাসেই হঠাৎ ভুল চিকিৎসায় মরা শুরু করলো।

করোনার সময় যখন আপনারা প্রতিবেশী দেশে যেতে পারেননি, তখন দুই বছর এদেশে এত রোগী মারা গেলেও ভুল চিকিৎসায় কেউ মরেনি।

৫ই আগস্টের পর যখন ওপারের দরজা হয়ে গেলো , অনেকদিন কেউ ভুল চিকিৎসায় মরেনি।

এখন ওদিকের দরজা আবার খুলার সাথে সাথে এদেশের পুত পবিত্র আত্মা মিডিয়া আবার দায়িত্ব নিয়েছেন আপনাদের মনে করিয়ে দিতে যে, এদেশে সবাই ভুল চিকিৎসায় মারা যায়।

ওদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা / চিকিৎসক অবশ্যই এদেশের চেয়ে ভাল, সেটা এদেশের কোন চিকিৎসক অস্বীকার করেনা। অফিসিয়াল নোটিশ পাবলিশ করলেইতো হয় এদেশের জন্য চিকিৎসার দরজা আবার তারা খুলে দিয়েছেন । বাংলাদেশের মানুষ এমিনিতেই হুমড়ি খেয়ে যার সামর্থ্য আছে যাবে। কিন্তু তাদের এদেশি দালাল পবিত্র আত্মাদের দিয়ে মিডিয়ায় এদেশের চিকিৎসকদের ভিলেন বানিয়ে কেন?

বলতে বলতে গন্তব্য স্থলে পৌঁছে গেলাম।
সবাই যার যার ভাড়া দিয়ে চলে গেলেও ড্রাইভার আমাকে অপেক্ষে করতে বলে চোখের আড়ালে চলে গেলো। একটু পর একটুকরো কাগজ আর কলম হাতে দিয়ে বললো, তার বাচ্চার জন্য একটা কৃমির ঔষধ আর ভিটামিন লিখে দিতে।

বললো আমরা আর যাব কই, আপনারাই আমাদের ভরষা।

ঔষধ লিখে দিয়ে বললাম, একটু আগে তো তুমিই সবার সাথে বেশি তাল মিলাচ্ছিলা, কিভাবে এদেশের ডাক্তারদের শায়েস্তা করা উচিৎ।

কিছু বলার জন্য তার ঠোঁট নড়ছিলো। অস্পষ্ট শব্দ।
তার উত্তর না শুনেই হাঁটা দিলাম।

-ঘটনাটি লিখেছেন DR. Arman Bin Abdullah

🚨 **জলাতঙ্ক (Rabies) নিয়ে অবহেলা ডেকে আনতে পারে মৃত্যু!**আসসালামু আলাইকুম, আজ এমন একটি রোগ নিয়ে কথা বলব, যা শতভাগ প্রতির...
22/05/2026

🚨 **জলাতঙ্ক (Rabies) নিয়ে অবহেলা ডেকে আনতে পারে মৃত্যু!**

আসসালামু আলাইকুম,

আজ এমন একটি রোগ নিয়ে কথা বলব, যা শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য, কিন্তু একবার লক্ষণ দেখা দিলে এর কোনো রক্ষা নেই- মৃত্যু অনিবার্য।

রোগটি হলো **জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস**

সচেতনতার অভাবে প্রতি বছর অনেকেই এই রোগে প্রাণ হারান। চলুন খুব সহজে জেনে নেওয়া যাক জলাতঙ্ক কী, কেন হয় এবং আমাদের করণীয় কী।

# # # 🐾 জলাতঙ্ক কীভাবে এবং কোন প্রাণীর মাধ্যমে হয়?

জলাতঙ্ক মূলত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত প্রাণীর লালা বা লালাগ্রন্থিতে এই ভাইরাস থাকে। যখন কোনো আক্রান্ত প্রাণী সুস্থ মানুষকে কামড়ায়, আঁচড় দেয় কিংবা শরীরের কোনো ক্ষত স্থানে চাটে, তখন লালার মাধ্যমে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করে।

✅ **যেসব প্রাণীর মাধ্যমে ছড়াতে পারে:**

১. কুকুর (আমাদের দেশে প্রায় ৯৫% জলাতঙ্ক কুকুরের কামড় থেকে হয়)
২. বিড়াল
৩. শিয়াল, বেজি বা খাটাশ
৪. বানর
৫. বাদুড়

❌ কোন প্রাণীর মাধ্যমে জলাতঙ্ক হয় না?

১. ইঁদুর, কাঠবিড়ালি, খরগোশ, বা গিনিপিগ:** এদের কামড়ে জলাতঙ্ক হয় না। (তবে ইনফেকশন বা ধনুষ্টংকার রোধে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত)।
২. ছারপোকা বা সাপের কামড়ে জলাতঙ্ক হয় না।

⚠️ জলাতঙ্কের লক্ষণগুলো কী কী?

ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

* কামড়ের স্থানে তীব্র ব্যথা বা ঝিনঝিন করা।
* জ্বর, মাথাব্যথা এবং শরীর ম্যাজম্যাজ করা।
* **হাইড্রোফোবিয়া বা পানির আতঙ্ক:** পানি পান করতে গেলে বা পানির শব্দ শুনলেই গলায় তীব্র সংকোচন/ব্যাথার সৃষ্টি হওয়া।
* আলো বা কোলাহলে প্রচণ্ড বিরক্ত হওয়া, অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং আচরণে পাগলামি ভাব আসা।

🧼 আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে করণীয় (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ)

কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে প্যানিক বা আতঙ্কিত হবেন না। তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নের কাজটি করুন:

১. ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধোয়া: ক্ষতস্থানটি বানিজ্যিক ক্ষারযুক্ত সাবান যেমন: কাপড় কাচার সাবান (না পেলে যেকোনো লাইফবয়/ডেটল সাবান) এবং রানিং ওয়াটার (চলতি পানি) দিয়ে **কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট** ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ক্ষতের উপরিভাগে থাকা প্রায় ৮০% ভাইরাস ধ্বংস হয়ে যায়।

২. অ্যান্টিসেপটিক লাগানো:ধোয়ার পর ক্ষতস্থানে পোভিডোন আয়োডিন (যেমন: ভায়োডিন) বা ডেটল লাগিয়ে নিন।

৩. যা করবেন না:ক্ষতস্থানে বরফ, চুন, লবণ, মরিচ গুঁড়ো, তেল বা কোনো কবিরাজি জড়িবুটি লাগাবেন না। ক্ষতস্থানটি ভুলেও ব্যান্ডেজ বা সেলাই করবেন না (খুব বেশি রক্তপাত না হলে)।

🩺 চিকিৎসা কী?

মনে রাখবেন, জলাতঙ্কের কোনো কার্যকর "চিকিৎসা" বা নিরাময় নেই। লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে বাঁচানো অসম্ভব। তাই একমাত্র চিকিৎসা হলো **প্রতিরোধ বা ভ্যাকসিন**।

🔰 পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (PEP):কামড় বা আঁচড় খাওয়ার পর দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী **র‍্যাবিস ভ্যাকসিন (Rabies Vaccine)** নিতে হবে।
* ক্ষতের গভীরতা বেশি হলে ভ্যাকসিনের পাশাপাশি **RIG (Rabies Immunoglobulin)** ইনজেকশন দেওয়া লাগতে পারে।

💡পরামর্শ:

আপনার পোষা বিড়াল বা কুকুরকে সময়মতো ভ্যাকসিন দিয়ে রাখুন। আর যেকোনো অপরিচিত প্রাণীর কামড় বা আঁচড়কে হালকাভাবে না নিয়ে দ্রুত সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

ডা. মুয়াজ রহমান
এমবিবিএস (ডিউ)

**অ্যাঞ্জিওএডিমা (Angioedema)** # # ১. অ্যাঞ্জিওএডিমা কী?সহজ কথায়, এটি এক ধরণের তীব্র শারীরিক প্রতিক্রিয়া বা অ্যালার্জিজ...
21/05/2026

**অ্যাঞ্জিওএডিমা (Angioedema)**

# # ১. অ্যাঞ্জিওএডিমা কী?

সহজ কথায়, এটি এক ধরণের তীব্র শারীরিক প্রতিক্রিয়া বা অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, যার ফলে রক্তনালী থেকে তরল উপাদান বের হয়ে আশেপাশের ত্বকের গভীর টিস্যুতে জমা হয় এবং জায়গাটি হঠাৎ করে ফুলে ওঠে।

এটি মূলত দুই ধরণের হতে পারে:

১. অ্যাকিউট বা তীব্র (Acute Angioedema): যা হঠাৎ করে শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এটিই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

২. ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদী (Chronic Angioedema): যা দীর্ঘদিন ধরে বারবার ফিরে আসে এবং এর নির্দিষ্ট কোনো বাহ্যিক কারণ খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।

# # ২. কেন হয়?

অ্যাঞ্জিওডিমা হওয়ার পেছনে বিভিন্ন উদ্দীপক বা কারণ কাজ করতে পারে। প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

* **খাবারে অ্যালার্জি:**

বাদাম, সামুদ্রিক মাছ, ডিম, দুধ, গম বা নির্দিষ্ট কোনো ফল খাওয়ার ফলে তীব্র অ্যালার্জি থেকে এটি হতে পারে।

* **ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:**

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ, যেমন: উচ্চ রক্তচাপের জন্য ব্যবহৃত *ACE inhibitors* (যেমন: Enalapril, Lisinopril), অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন (NSAIDs) বা কিছু পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে এটি হতে পারে।

* **পোকার কামড়:**

মৌমাছি, বোলতা, পিঁপড়া বা বিষাক্ত কোনো পোকার কামড়ের ফলে হঠাৎ ফোলা ভাব দেখা দিতে পারে।

* **বংশগত কারণ (Hereditary Angioedema):**

এটি একটি বিরল জিনগত সমস্যা, যেখানে রক্তে একটি নির্দিষ্ট প্রোটিনের (C1 inhibitor) ঘাটতি থাকে। এর ফলে কোনো অ্যালার্জি ছাড়াই শরীর হঠাৎ হঠাৎ ফুলে ওঠে।

# # ৩. প্রধান লক্ষণসমূহ

অ্যাঞ্জিওডিমার লক্ষণগুলো সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ পায়:

১। হঠাৎ ফোলা ভাব: প্রধানত ঠোঁট (যেমনটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে), চোখের চারপাশ, জিহ্বা, হাত, পা বা গলা হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া।

২। ত্বকের ভেতরের অস্বস্তি: ফোলার জায়গায় তীব্র চুলকানি, জ্বালাপোড়া বা অবশ ভাব অনুভুত হতে পারে।

৩। ত্বকের লালচে ভাব: ফোলার সাথে সাথে ত্বকের উপরিভাগে লালচে চাকা চাকা দাগ (Hives) দেখা দিতে পারে।

⚠️ সবচেয়ে বিপজ্জনক লক্ষণ (অ্যানাফিল্যাক্সিস): ফোলা ভাব যদি গলার ভেতর বা জিহ্বায় ছড়িয়ে পড়ে, তবে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরানো বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একে মেডিকেল ইমার্জেন্সি বলা হয়।

# # ৪. করণীয় এবং চিকিৎসা

অ্যাঞ্জিওডিমা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এর তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে করণীয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

# # # সাধারণ বা মৃদু ফোলা ভাবের ক্ষেত্রে:
- অ্যালার্জির উৎস পরিহার: যদি বুঝতে পারেন কোন খাবার বা ওষুধের কারণে এটি হয়েছে, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করুন।
- ঠান্ডা সেঁক: ফোলা জায়গায় ঠান্ডা কাপড়ের কম্প্রেস বা বরফ বাটি দিয়ে সেঁক দিলে ফোলা ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
- অ্যান্টিহিস্টামিন: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সাধারণ অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ (যেমন: Cetirizine, Fexofenadine, Bilastine ইত্যাদি) খেলে চুলকানি ও ফোলা দ্রুত কমে যায়।

# # # তীব্র বা জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে (যখন শ্বাসকষ্ট হয়): যদি ঠোঁট ও মুখের ফোলা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হয়, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

* যদি এটি কোনো ওষুধের কারণে হয়ে থাকে, তবে ডাক্তারকে জানিয়ে সেই ওষুধ পরিবর্তন করে বিকল্প নিরাপদ ওষুধ গ্রহণ করুন।

# আসুন, নিজে সচেতন হই এবং অন্যকেও সচেতন করি।

ওটিতে ঢুকে রাব্বান স্যার বললেন,এই যে তোরা রোগীটা দেখছিস? এর স্বামী বেটাকে একটা নোবেল দেয়া উচিত।আমাদের সবার কৌতূহলটা বেড়ে...
06/05/2026

ওটিতে ঢুকে রাব্বান স্যার বললেন,
এই যে তোরা রোগীটা দেখছিস? এর স্বামী বেটাকে একটা নোবেল দেয়া উচিত।
আমাদের সবার কৌতূহলটা বেড়ে গেলো। কেন?
-স্যারের সামনে তখন অপারেশন বেডে শুয়ে আছে বছর ২৫ এর একটি মেয়ে। অজ্ঞান, নিস্তব্ধ। একটু পরেই অপারেশন শুরু হবে।
-এর হাসবেন্ড যখন ভালোবেসে একে বিয়ে করে তখন জানতো যে তার ভালোবাসার মানুষটির দুটো কিডনিই প্রায় নষ্টের পথে। বিবাহের ১ বছরের মাথায় দুটো কিডনি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলো। প্রস্রাব হতো না একটুও।
জীবন ঝুলে গেলো ডায়ালাইসিস মেশিনের সাথে।
দিনমজুর স্বামী নিজের ঘাম দিয়ে কিনে আনতে লাগলো স্ত্রীর জন্য বেঁচে থাকার সময়। টানা তিন বছর এই মানুষটা কোন অভিযোগ ছাড়াই ব্যায়বহুল এই ডায়ালাইসিস এর খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন নীরবে। এর
সাথে এসে জুটেছে Diabetes আর Hepatitis।
তারপরও জীবন থেমে থাকেনি। গত বছর তার স্ত্রী আশার আলো জ্বালিয়ে সন্তানসম্ভবা হলেন।
কিন্তু ৭ মাসে এসে সেই আলো নিভে গেলো।শিশুটাকে বাঁচানো গেল না।
আবারো ধাক্কা!
এর পরপরই ধরা পড়লো Ovarian টিউমার। আবার অপারেশন। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হলো না। কিছুদিনের মধ্যেই পেটে পানি জমতে শুরু করলো। পেট ফুলে গেছে অস্বাভাবিক রকম।আজকে তার জন্যই আবার অপারেশনে এসেছে।কিন্তু স্যার পেট থেকে বের করলেন বড়ো গামলার আধা গামলা জমাট বাঁধা রক্ত(ছবিতে যেটা দেখা যাচ্ছে)।সবকিছু শুনে এর বেচারা স্বামীকে আমার দেখতে মন চাইলো।

-অপারেশন শেষে বাইরে বেরিয়ে দেখলাম তিনি
দাঁড়িয়ে আছে চোখে মুখে একরকম উৎকণ্ঠা নিয়ে। জিজ্ঞেস করে জানলাম তিনিই পেশেন্ট এর হাসবেন্ড।
বয়স ২৫/২৬ হবে।সুন্দর সুঠাম দেহ।পাশে দাড়ানো মহিলাটি তার শাশুড়ী।
আমি গল্পটা আবার শুনতে চাইলাম।
-সে আবারও বললো একইভাবে।
শেষে হাসীমুখে বললো,কি করি কন স্যার? নিজের মানুষ তো......
স্যার একটু দোয়া কইরেন।ওর এখন কি অবস্থা? ঠিক আছে তো?
-পাশে তার শাশুড়ী শূন্য দৃষ্টিতে চেয়ে আছে জামাইয়ের দিকে।
-আমি কিছু সান্ত্বনা দিয়ে চলে আসলাম।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে চিন্তা করলাম লোকটা যদি একটু বেশি শিক্ষিত হতো!
হয়তো নিজের জীবনের হিসাবটা একটু ভালো করে মিলাতে পারতো।
হয়তো এত কষ্ট নিজের কাঁধে তুলে নিত না।
এই মেয়েটাকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটা বিয়ে করতো।একটা সহজ, স্বাভাবিক জীবন বেছে নিত।
তারপরই আবার মনে হলো, তাহলে স্যার এই বোকা লোকটারে নোবেলটা কিসের জন্য দিতে চাইলেন? কি জানি.......!
হয়তো এই বোকা লোকটাই আসলে ভালোবাসার সবচেয়ে জটিল অঙ্কটা মেলাতে পেরেছে তাই। কিন্তু গনিতে তো নোবেল দেয় না।
নাকি জীবনকে কঠিন জেনেও পাশে থাকার সাহসের জন্য?
যেখানে লাভ-ক্ষতির হিসেব নেই,
শুধু আছে থেকে যাওয়ার মতো একগুঁয়ে এক টান।

~Dr. Sabwan

📢 হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬আগামী ২০শে এপ্রিল থেকে সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। এই উপ...
14/04/2026

📢 হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬

আগামী ২০শে এপ্রিল থেকে সারাদেশে শুরু হতে যাচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন। এই উপলক্ষে শিশুদের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

👶 যেসব পরিবারের ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে, তারা 🌐 vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন জন্মনিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

✅ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ঃ
যাদের জন্মনিবন্ধন নেই, তাদের জন্যও কোনো সমস্যা নেই — রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই টিকা দেওয়া হবে।
তবে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করে রাখলে একটি বৈধ ডকুমেন্ট থাকবে, যা ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে।

📌 বিশেষ নির্দেশনাঃ

🔹 শুধুমাত্র ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের এই ক্যাম্পেইনে টিকা প্রদান করা হবে।

🔹 ক্যাম্পেইনের সময়সূচিঃ
• উপজেলা পর্যায়ে: ২০ এপ্রিল – ১০ মে
• সিটি কর্পোরেশন এলাকায়: ২০ এপ্রিল – ২০ মে

💉 সবার প্রতি আহ্বান:
নিজের শিশুকে সময়মতো টিকা দিয়ে হাম ও রুবেলা থেকে সুরক্ষিত রাখুন।

হাম সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে কমেন্টে আপনার জিজ্ঞাসা জানাতে পারেন।

চলুন আমরা সবাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভেতে অংশ নিই-সম্প্রতি হামের (Measles) সংক্রমণ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। সচেতনতা বাড়ান...
06/04/2026

চলুন আমরা সবাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভেতে অংশ নিই-

সম্প্রতি হামের (Measles) সংক্রমণ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে। সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমাদের এই আয়োজ।

👉 আপনার পরিচিত যে শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, তাকে কি জন্মের পর নিয়ম অনুযায়ী টিকা (EPI vaccination) দেওয়া হয়েছিল?

আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলে আমরা বাস্তব চিত্রটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবো এবং সচেতনতা বাড়াতে পারবো।

💡 মনে রাখবেন:
হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, এবং সময়মতো টিকা দিলে এর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

📊 অনুগ্রহ করে কমেন্টে জানান:

✅ টিকা দেওয়া হয়েছিল
❌ টিকা দেওয়া হয়নি
⛔ নিশ্চিত নন

আপনার একটি তথ্য অনেক বড় সচেতনতার কারণ হতে পারে।

ধন্যবাদ সবাইকে ❤️

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when স্বাস্থ্য পরামর্শ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share