স্বাস্থ্য পরামর্শ

স্বাস্থ্য পরামর্শ সবার মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী। (আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনা)
(2)

ডেঙ্গু আবারও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক থাকলেও, এ বছর ঢাকার পাশাপাশি...
08/07/2026

ডেঙ্গু আবারও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক থাকলেও, এ বছর ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায়ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মনে রাখা জরুরি, এ বছর অনেক ক্ষেত্রেই রোগের শুরুর দিকে NS1 পরীক্ষা নেগেটিভ আসলেও রোগীর ক্লিনিক্যাল লক্ষণ ও CBC পরীক্ষায় প্লেটলেট কাউন্ট কমে যেতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া আগের বছরের তুলনায় এটিপিক্যাল (Atypical) Presentation ও তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে।

তাই উচ্চমাত্রার জ্বরের সঙ্গে

* তীব্র মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা
* খেতে না পারা, বমি ভাব বা বমি
* অতিরিক্ত দুর্বলতা
* শরীরে র‍্যাশ

এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এছাড়া বিপদজনক (Warning signs) উপসর্গের বিষয়েও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে যেমন:

* তীব্র পেটব্যথা
* বারবার বমি
* নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া
* কালো পায়খানা বা রক্তবমি
* অতিরিক্ত ঝিমুনি বা অস্থিরতা
* শ্বাসকষ্ট
* প্রস্রাব কমে যাওয়া

মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে, মশারী টাঙাতে হবে, বাচ্চাদের মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

সচেতনতা, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসাই ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে পারে।

🖋️ডা. মুয়াজ রহমান

২৮ জুন, ২০২৬ ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য🟢 যেসব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে:* ৬–১১ ম...
27/06/2026

২৮ জুন, ২০২৬

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

🟢 যেসব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে:

* ৬–১১ মাস বয়সী শিশু: ১টি নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল
* ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশু: ১টি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

🔴 যেসব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না:

* ৬ মাসের কম বয়সী শিশু
* ৫ বছরের বেশি বয়সী শিশু
* গত ৪ মাসের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেয়ে থাকলে
* অসুস্থ শিশু (যেমন: বমি, তীব্র পেটব্যথা বা জ্বর থাকলে)

⚠️ যা করা যাবে না:

* খালি পেটে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।
* ক্যাম্পেইনে যাওয়ার আগে অবশ্যই শিশুকে খাবার খাইয়ে নিয়ে যাবেন।

🖋️ কলমে: ডা. মুয়াজ রহমান

27/06/2026
ইনসুলিন রেজিস্টেন্স — শয়তানের আধুনিক ফাঁদ, দেহের অপবিত্রতা আর আত্মার ভারী হওয়া…আমরা আজকাল নতুন নতুন নাম শিখছি —ডায়াবেটিস...
22/06/2026

ইনসুলিন রেজিস্টেন্স — শয়তানের আধুনিক ফাঁদ, দেহের অপবিত্রতা আর আত্মার ভারী হওয়া…

আমরা আজকাল নতুন নতুন নাম শিখছি —
ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড, ইনফার্টিলিটি, হার্টের সমস্যা…
আসলে এসব অনেক রোগের পেছনে লুকিয়ে আছে একটা মূল কথা — ইনসুলিন রেজিস্টেন্স।

এই ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কী?

এটা শুরু হয় আমাদের প্রতিদিনের অতিরিক্ত খাওয়া দিয়ে।
প্রসেসড খাবার, চিনিযুক্ত খাবার, মিষ্টি পানীয়, ময়দা, ফাস্টফুড — এসব খেতে খেতে দেহের ভেতরে আস্তে আস্তে চিনির বোঝা জমতে থাকে।

প্রতিটা কোষের ভেতরে বেশি বেশি ফ্যাট জমে জমে কোষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
শরীর তখন ইনসুলিনের কথা শুনতে চায় না। ইনসুলিন তার কাজ ঠিকমত করতে পারে না।

এটাকে বলে — ইনসুলিন রেজিস্টেন্স।

👉 এভাবে দেহের ভেতর শুরু হয়:
• টক্সিন জমা
• স্নায়ু দুর্বলতা
• chronic inflammation (অন্তর্দাহ, প্রদাহ)
• হরমোনের গোলমাল
• রোগের মিছিল

✅ সমস্যা এখানেই শেষ না…
এই দেহের ভারী হওয়া আসলে আত্মার ওপরও প্রভাব ফেলে।
শরীর ক্লান্ত → নামাজে মন বসে না
মাথা ভার → কুরআন পড়তে ইচ্ছে করে না
অশান্ত মন → দোয়া করতেও অলসতা লাগে।

কিন্তু আল্লাহ আমাদের আগেই বলে দিয়েছেন:

وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا
“তোমরা খাও, পান কর, কিন্তু সীমালঙ্ঘন করোনা।”
(সূরা আরাফ ৩১)

✅ আমাদের রাসূল ﷺ-ও বারবার বুঝিয়েছেন:

“কেউ তার পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র ভর্তি করে না। সামান্য কয়েক লোকমা আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট।”
(তিরমিজি)

এই সীমালঙ্ঘনটাই আসলে শয়তানের ফাঁদ।
শয়তান চায় আমরা লোভ করি, বেশি খাই, শরীর ভারী হই, যেন ইবাদতে অলসতা আসে।

কিন্তু আল্লাহর রাস্তা খুব সুন্দর:
• রোজা → কোষ থেকে টক্সিন বের করে
• হালাল-পরিমিত খাবার → কোষের ভার লাঘব করে
• হাঁটা → রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়
• ঘুম → শরীর রিপেয়ার করে
• প্রশান্তি → কর্টিসল কমিয়ে আত্মা শান্ত করে

এই হলো প্রকৃত “কোষের পবিত্রতা”।

✅ দেহ পবিত্র → আত্মা হালকা
✅ আত্মা হালকা → ইবাদতে মজা
✅ ইবাদত মিষ্টি → দোয়া কবুল

💡 আজ নিজেকে প্রশ্ন করি:
আমি কি শুধু খাবারের স্বাদ নিচ্ছি?
নাকি আল্লাহর ইবাদতের স্বাদ খুঁজছি?

যারা নিজের কোষকে পবিত্র রাখে, তারা দুনিয়া ও আখিরাতে সফল।

সংগৃহীত

আসসালামু আলাইকুম,📌 দীর্ঘদিনের হাঁটু ও কোমর ব্যথা কেন ভালো হয় না? কী আমাদের ভুল আর কী করণীয়?অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ও ক...
21/06/2026

আসসালামু আলাইকুম,

📌 দীর্ঘদিনের হাঁটু ও কোমর ব্যথা কেন ভালো হয় না? কী আমাদের ভুল আর কী করণীয়?

অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে হাঁটু ও কোমরের ব্যথায় ভুগছেন। ওষুধ খেয়ে সাময়িক কমলেও কিছুদিন পর ব্যথা আবার ফিরে আসে। কেন এমন হয়? চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর পেছনের মূল কারণ এবং আমাদের জীবনযাত্রায় কী পরিবর্তন আনা জরুরি, তা সহজ ভাষায় নিচে আলোচনা করা হলো।

🦴 ১. জয়েন্টের কার্টিলেজ (Cartilage) বা তরুণাস্থির ক্ষয়-

আমাদের প্রতিটি জয়েন্টে বা হাড়ের জোড়ে কার্টিলেজ (Cartilage) থাকে, যা মূলত একটি প্রাকৃতিক 'শক অ্যাবজর্বার' (Shock Absorber) হিসেবে কাজ করে। এটি হাঁটার সময় বা লাফানোর সময় হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে দেয় না।

🔸বয়সজনিত কারণ: বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রাকৃতিকভাবে এই কার্টিলেজ ক্ষয় হতে শুরু করে, যাকে আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অস্টিওআর্থ্রাইটিস (Osteoarthritis) বলি।

🔸অকাল ক্ষয় (Early Degeneration): তবে বর্তমান যুগে কেবল বয়স্করাই নন, অনেক তরুণ-তরুণী এমনকি ৩০ বছর বয়সের দিকেও এই কার্টিলেজ ক্ষয়ের সমস্যায় পড়ছেন। এর মূল কারণ ত্রুটিপূর্ণ লাইফস্টাইল। এবং অনেক ক্ষেত্রেই উচ্চতার তুলনায় অতিরিক্ত ওজন অন্যতম একটি কারণ।

💧 ২. পানি ও প্রোটিনের অভাব-

কার্টিলেজ মূলত পানি, কোলাজেন (এক ধরণের প্রোটিন) এবং প্রোটিওগ্লাইকান দিয়ে গঠিত।

▪️ডিহাইড্রেশন: আমরা যদি নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি না পান করি, তবে কার্টিলেজ তার আর্দ্রতা ও স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) হারিয়ে ফেলে এবং দ্রুত শুকিয়ে ক্ষয় হতে থাকে।

▪️পুষ্টির অভাব: দৈনিক খাবারে পর্যাপ্ত মানসম্মত প্রোটিন না থাকলে শরীর কার্টিলেজ মেরামত বা নতুন কোষ তৈরি করতে পারে না।

🏃‍♂️ ৩. জিমে ভুল ব্যায়াম (শুধুমাত্র কার্ডিও বা রানিং করা)-

অনেকেই ওজন কমাতে বা ফিট থাকতে জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেডমিলে দৌড়ান (Cardio)। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত এবং অনিয়ন্ত্রিত দৌড়াদৌড়ি জয়েন্টের ওপর **মেকানিক্যাল স্ট্রেস (Mechanical Stress)** বা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। পেশি শক্তিশালী না করে কেবল জয়েন্টের ওপর চাপ দিলে কার্টিলেজ দ্রুত ক্ষয়ে যায়।

💡 আমাদের করণীয় ও যেমন হওয়া উচিত জীবনযাত্রা (Lifestyle Modification)-

দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা থেকে বাঁচতে এবং জয়েন্ট ভালো রাখতে আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু বৈজ্ঞানিক পরিবর্তন আনা জরুরি:

🔹সঠিক পুষ্টি ও পর্যাপ্ত পানি: প্রতিদিন শরীরের ওজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। খাবার তালিকায় ডিম, মুরগির মাংস, মাছ, ডাল বা বাদামের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে, যা কার্টিলেজ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

🔹ভিটামিন-ডি ও সূর্যালোক: হাড়ের সুরক্ষায় ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য ভিটামিন-ডি অপরিহার্য। এর জন্য প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট শরীরের কিছু অংশে (যেমন: হাত ও পিঠে) সরাসরি সূর্যের আলো লাগাতে হবে (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যবর্তী সময় সবচেয়ে ভালো)।

🔹স্ট্রেন্থ ট্রেনিং বা ভারোত্তোলন (Strength Training): শুধু দৌড়াদৌড়ি না করে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করতে হবে। যখন আমরা রেজিস্ট্যান্স বা ওয়েট-ট্রেনিং করি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক (Brain) থেকে হাড়ে ও পেশিতে সিগন্যাল যায় যে "পেশি মজবুত রাখতে হবে এবং হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে হবে।" শক্তিশালী পেশি জয়েন্টের চারপাশের লোড বা ওজন নিজেরা বহন করে, ফলে কার্টিলেজের ওপর চাপ কমে যায়।

🔰শেষ কথা: হাঁটু ও কোমরের ব্যথা শুধু পেইন কিলার দিয়ে স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব নয়। জয়েন্টের যত্ন নিতে হলে আজ থেকেই সঠিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত পানি, সূর্যালোক এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়ামকে জীবনের অংশ বানিয়ে নিন।

🖋️পরামর্শে: ডা: মুয়াজ রহমান
এমবিবিএস (ডিউ)

 # # ডায়াবেটিস রোগীরা কি আম, কাঁঠাল বা লিচু খেতে পারবেন না? মিষ্টি ও রসালো এই ফলগুলোতে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি যেমন ফ্রুকটো...
19/06/2026

# # ডায়াবেটিস রোগীরা কি আম, কাঁঠাল বা লিচু খেতে পারবেন না?

মিষ্টি ও রসালো এই ফলগুলোতে রয়েছে প্রাকৃতিক চিনি যেমন ফ্রুকটোজ, গ্লুকোজ ও সুক্রোজ, যা রক্তে শর্করার মাত্রা (Blood Sugar) বাড়িয়ে দিতে পারে। এই ভয়ে অনেকেই পছন্দের ফল খাওয়া একদম বন্ধ করে দেন।

**কিন্তু আসলেই কি ডায়াবেটিস রোগীরা এই ফলগুলো খেতে পারবেন না?

💡উত্তর হচ্ছে: অবশ্যই খেতে পারবেন। কারণ এই ফলগুলোতে চিনির পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার (আঁশ), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও মিনারেলস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী। তবে খাওয়ার ক্ষেত্রে জানতে হবে সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক সময়।

# ১. ফলের পরিমাণ কতটুকু হবে?

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পরিমিতিবোধই আসল চাবিকাঠি। আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন (ADA) অনুযায়ী, ডায়াবেটিক রোগীরাও ফল খেতে পারবেন, তবে তা হতে হবে "কার্বোহাইড্রেট কাউন্টিং" বা শর্করার হিসাব মেনে। নিচে আম, কাঁঠাল ও লিচু খাওয়ার নিরাপদ পরিমাণ দেওয়া হলো:

* আম: প্রতিদিন মাঝারি থেকে ছোট সাইজের ১টি আম অথবা বড় আমের অর্ধেক অংশ।

* কাঁঠাল: মাত্র ৩ থেকে ৪ কোঁয়া।

* লিচু: মাঝারি সাইজের ৪ থেকে ৬টি।

⚠️ বিশেষ সতর্কবার্তা: দৈনিক এই ফলগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি ফল বেছে নিতে হবে। অর্থাৎ, কোনোদিন আম খেলে সেদিন আর কাঁঠাল বা লিচু খাওয়া যাবে না।

অন্যান্য ফলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য; যেমন একটি আপেলের অর্ধেক বা একটি মাল্টার অর্ধেক। দিনে যেকোনো একটি ফলই খাওয়া নিরাপদ।

# ২. ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন?

আমাদের দেশে প্রচলিত একটি অভ্যাস হলো ভারী খাবার (যেমন দুপুরের বা রাতের খাবার) শেষ করেই ফল খাওয়া। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাসটি রক্তের সুগার হুট করে অনেক বাড়িয়ে দেয় (Sugar Spike)।

🤔 তবে কখন খাবেন: ফল খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় হলো স্ন্যাক্স টাইম বা দুই ভারী খাবারের মধ্যবর্তী সময়। যেমন—সকাল ও দুপুরের খাবারের মাঝে (বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা) অথবা দুপুর ও রাতের খাবারের মাঝে (বিকেল ৪টা থেকে ৫টা)।

⏳কেন এই সময়ে খাওয়া উচিৎ: এই সময়ে ফল খেলে ফলের ফাইবার ও পুষ্টি উপাদান শরীর ভালোভাবে শোষণ করতে পারে এবং রক্তের সুগার হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

# ৩. চিকিৎসকের কিছু বাড়তি পরামর্শ (Medical Tips)

📌 গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI): আম, কাঁঠাল ও পাকা কলার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাঝারি থেকে উচ্চ সারিতে থাকে। তাই এগুলো খাওয়ার দিন খাবারে অন্যান্য শর্করার (যেমন ভাত বা রুটি) পরিমাণ সামান্য কমিয়ে ব্যালেন্স করতে পারেন।

📌 রস করে নয়, চিবিয়ে খান: ফল কখনো জুস বা রস করে খাবেন না। জুস করলে ফলের ফাইবার নষ্ট হয়ে যায়, ফলে সুগার খুব দ্রুত রক্তে মিশে যায়। ফল চিবিয়ে খেলে সুগার ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করে।

📌 টক ফলের অন্তর্ভুক্তি: মিষ্টি ফলের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় আমড়া, জামরুল, পেয়ারা বা পাতিলেবুর মতো কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ও ফাইবারসমৃদ্ধ টক ফল রাখতে পারেন, যা সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস মানেই জীবনের সব আনন্দ বা স্বাদ থেকে বঞ্চিত হওয়া নয়। সঠিক নিয়ম, পরিমিত পরিমাণ এবং নিয়মশৃঙ্খলাই সুস্থ থাকার আসল উপায়।

🖊️ কলমে,
ডা. মুয়াজ রহমান
এমবিবিএস (ডিউ)

16/06/2026

আজকে আরেকটা মেয়ের ধর্ষণের নিউজ আসছে। মেয়ে তার বাবার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিছে বান্ধবীর জন্মদিনে যাবে বলে। এরপরে রাত ৯টায় সে বাবাকে ফোন দিয়ে বলে সে আজ বান্ধবীর বাসায় থাকবে (and to my utter surprise মেয়ের বাবা এতে রাজিও হয়)

এরপরে সকালে পুলিশ মেয়ের বাবাকে ফোন করে বলে আপনার মেয়ের ধর্ষণ হইছে। কাহিনী ইন শর্ট: মেয়ে তার ছেলে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেসিলো বাসায় মিথ্যা বলে, এরপরে ৩ জন ছেলে মিলে ৩ ঘণ্টা যাবত রেইপ করে মেয়েটাকে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে মেয়েটা কথা গুলো হাসতে হাসতে বলতেসে। আর সবাই বেশ অবাক হচ্ছে কমেন্ট সেকশনে যে ও হাসতেই বা কেনো!

এইযে ফ্রি-মিক্সিং এটা নিয়ে কিছু বললে তো আবার আমার স্বজাতিরই ইগো হার্ট হয়ে যায়। তাই এই টপিকই বাদ, শুধু নিজের এক্সপেরিয়েন্স থেকে কিছু ঘটনা বলি (ধর্ষণের টপিকে না, এই ব্যাপারে আমি কিছু বলতেও চাইনা)

রমাযান মাসে গাইনীতে ১৬ বছরের একটা মেয়ে আসছিলো। ২ মাস পিরিয়ড হয়না। কল আস জাজমেন্টাল বাট সাধারণত (পিসিওডি ছাড়া) এরা ইললিগ্যাল প্রেগন্যান্সি নিয়ে আসে। USG & urine PT করতে দিলাম। সে করাবেনা, তার কথা এমনেই ওষুধ লিখে দেন। সাথে মা আসছে, তার কথাও সেইম & মেয়েটা "আল্ট্রা করবো না" এই কথাটা বেশ খুশি হয়ে (?) হেসে হেসে বলতেসিলো। তারপরে মোটামুটি জোর করেই আল্ট্রাতে পাঠানো হইলো। রিপোর্টে দেখা গেলো সে আসলেই প্রেগন্যান্ট। এটা দেখে আমি ইচ্ছা করেই জিগেস করসি- 'আপনার বিয়ে হইছে কত বছর আর হাজব্যান্ড কোথায়?' এটা বলা মাত্র মেয়ে আবার হাসি। পরে বলছে বয়ফ্রেন্ড এর দ্বারা মিউচুয়ালি সব হইছে। এরপর মেয়ে বলে এই বাচ্চা রাখবো না, বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ দেন। আমার মেজাজ তখন আসমানে। আমরা বলছি- "বাচ্চা নষ্ট করার ওষুধ মানে?! আমরা এসব করিনা। উলটা পালটা কাজ করে এসে এসব চাইতেসেন আবার" এরপরে ওর মায়ের পক্ষ থেকে আমি যা রিপ্লাই পাইছি আমি আকাশ থেকে পড়ছি "উল্টাপাল্টা কাজ করসে মানে কী? আপনারা ডাক্তার, ডাক্তারি করেন। উলটা সিধা কাজ শিখানো লাগবেনা"
ভাবতেসেন? একটা ১৬ বছরের মেয়ে উইথ-আউট ম্যারেজ সেক্সুয়াল রিলেশনশিপে ছিলো, তার পেটে বাচ্চাও চলে আসছে অথচ তার অথবা তার ফ্যামিলির এটা নিয়ে কোনো এম্ব্যারেসমেন্ট-ই নাই।

আরেকটা ক্লাস ১০ এ পড়া মেয়ে আসছিলো post- co**al bleeding নিয়ে। তাকে আলাদা করে ডেকে জিগেস করছিলাম কীভাবে হইছে? সে এত্ত উৎফুল্লভাবে হেসে হেসে সব বলতেছিলো- আমি অবাক হয়ে তাকায়ে ছিলাম। সে আবার প্রাউডলি এটাও বলসে যে 'ওই (বয়ফ্রেন্ড) তো সবসময় ফোনে আমার খোজখবর নিতেসে ম্যাডাম। আমারে ৫ হাজার টাকাও দিছে ট্রিটমেন্ট এর জন্য" আরেকদফা অবাক হয়ে আমি জিগেস করলাম 'তুমি যে কাজটা করছো এতে তোমার গিলটি ফিল হচ্ছেনা?' সে কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে- 'এখন তো সবাই এগুলা করেই। আর আমার বয়ফ্রেন্ড তো আমাকে বিয়ে করবেই' that was it. I lost it there, এরপরে কথার মাধ্যমে কিছু উত্তম- মধ্যম দিয়ে DOR দিয়ে বিদায় করে দিছি।

আমার এক ফ্রেন্ড (সে নিজেও ডাক্তার)। ওদের কাছে এমন ধর্ষণের পেশেন্ট আসছিলো। তিনজন ছেলে মিলে একটা মেয়েকে রেইপ করছে। সাথে আরেকটা মেয়ে ছিলো কিন্তু সে রেইপ এর ক্লেইম করেনাই। যে মেয়েটা রেইপড সে ঘটনাগুলো হেসে হেসে বলতেছিলো। পরে সেকেন্ড মেয়েকে চাপ দেয়ার পরে জানা যায়- ওরা ৫ জন মিলেই ঠিক করে যে তারা ওসব করবে একসাথে জাস্ট ফর ফান (!) কিন্তু যখন মেয়েটা বুঝছে যে এগুলোর প্রমাণ ওরা রাখতেসে তখন সে পুলিশে কেইস করে। কী চালাক!
PS: আমি বলতেছিনা আজকের মেয়েটাও এরকম কিছু করছে। আমি জাস্ট এইযে হেসে হেসে বলার মতো কিছু এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করলাম।

এটাতো মাত্র দুইটা/তিনটা উদাহরণ দিলাম। এরকম শত শত ঘটনা আছে। একটা মেয়ে তার নিজেকে বোথ রিলিজিয়াসলি & সোশ্যালি প্রতিষ্ঠিত করার বয়সে সে উইথ- আউট ম্যারেজ ফিজিক্যাল রিলেশনশিপে যাচ্ছে এন্ড টু মাই সারপ্রাইজ তারা এটা নিয়ে বিন্দুমাত্র গিল্টে নাই!+ তাদের ফ্যামিলি এই খোজটাও রাখতেসেনা তারা কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশতেসে, বাসায় সত্য নাকি মিথ্যা বলতেসে। যাদের ফ্যামিলির মেন্টালিটি এমন তারা তো হাসবেই- অবাক হওয়ার কিছু নাই। পাপী আমরা সবাই, ভুল মানুষ করবেই কিন্তু সেটা নিয়ে তার মধ্যে অনুশোচনা না থাকাটা+ গার্ডিয়ান লেভেল থেকে শাসনা-বারণ না থাকাটা সিম্পলি মোরাল ডিগ্রেডেশন এবং ধর্ম চর্চার মারাত্মক অভাব।

Now don't come and tell me 'it's their choice'
No it is not. Morals are morals. There is no place for "choices" for anyone. Even if it is- then I vomit upon your rotten choices.

_Dr. Nura K. Swarno

🩺 ঠোঁটের কোণে বা পাশে ঘন ঘন পানির মতো ফুসকুড়ি বা 'জ্বরঠোসা' হচ্ছে?আসসালামু আলাইকুম, আমি ডা: মুয়াজ রহমান।আমাদের মধ্যে অন...
08/06/2026

🩺 ঠোঁটের কোণে বা পাশে ঘন ঘন পানির মতো ফুসকুড়ি বা 'জ্বরঠোসা' হচ্ছে?

আসসালামু আলাইকুম, আমি ডা: মুয়াজ রহমান।

আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রায়ই একটা সমস্যায় ভোগেন- হঠাৎ করেই ঠোঁটের কোণে বা চারপাশে ছোট ছোট, ব্যথাদায়ক এবং তরলপূর্ণ ফুসকুড়ি বা ব্লিস্টার দেখা দেয়। লোকমুখে আমরা একে 'জ্বরঠোসা'বলে থাকি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ওরোলেবিয়াল হারপিস (Orolabial Herpes)।

আজকাল এই সমস্যাটি ঘরে ঘরে দেখা যায়, অথচ সঠিক সচেতনতার অভাবে এটি একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই একজন চিকিৎসক হিসেবে এই বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

🔍 এটি কেন হয়?

ওরোলেবিয়াল হারপিস মূলত **Herpes Simplex Virus-1 (HSV-1)** নামক একটি ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে।
অনেকের ধারণা, শুধু জ্বর হলেই এটি হয়। আসলে তা নয়! এই ভাইরাসটি একবার শরীরে প্রবেশ করলে আমাদের স্নায়ুকোষে আজীবন সুপ্ত বা ঘুমন্ত অবস্থায় থেকে যায়। পরবর্তীতে নিচে উল্লেখিত কিছু কারণে ভাইরাসটি পুনরায় সক্রিয় (Reactivate) হয়ে ওঠে:
* অতিরিক্ত মানসিক বা শারীরিক চাপ (Stress)
* শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) কমে যাওয়া
* তীব্র রোদ বা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি
* ঠান্ডা লাগা, জ্বর বা অন্য কোনো সংক্রমণ
* পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব বা ক্লান্তি

⚠️ কীভাবে ছড়ায়? (সতর্কতা জরুরি!)

মনে রাখবেন, ওরোলেবিয়াল হারপিস অত্যন্ত ছোঁয়াচে। ফুসকুড়িগুলো যখন ফেটে যায় বা তরল বের হয়, তখন এটি সবচেয়ে বেশি সংক্রামক থাকে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির ঠোঁটের স্পর্শ, লালা বা ওরাল কন্ট্যাক্টের মাধ্যমে।
* আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত গ্লাস, চামচ, তোয়ালে বা লিপস্টিক শেয়ার করলে।

💡 এই সময়ে করণীয় ও ঘরোয়া যত্ন:

১. ফুসকুড়িতে হাত দেওয়ার পর অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলবেন। ভুলেও সেই হাত চোখে বা শরীরের অন্য কোথাও দেবেন না।

২. ফুসকুড়িগুলো টেনে তোলা বা ফাটানোর চেষ্টা করবেন না। এতে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হতে পারে এবং দাগ বসে যেতে পারে।

৩. আপনার ব্যবহৃত তোয়ালে, রুমাল, গ্লাস বা প্লেট পরিবারের অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।

৪. কড়া রোদে বের হওয়ার সময় ঠোঁটে এসপিএফ (SPF) যুক্ত লিপবাম ব্যবহার করতে পারেন।

🩺 চিকিৎসা কখন প্রয়োজন?

সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এটি নিজে নিজেই ঠিক হয়ে যায়। তবে যদি:
* ব্যথা তীব্র আকার ধারণ করে,
* ফুসকুড়ি সহজে না শুকায়,
* বা আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে (যেমন: ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো ক্রনিক রোগ),
তবে ঘরে বসে না থেকে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রয়োজনবোধে আমরা চিকিৎসকরা কিছু অ্যান্টিভাইরাল ক্রিম বা ওষুধ দিয়ে থাকি, যা দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে।

নিজে সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন।

📌 নারীদের নীরব শত্রু PCOS বা PMOS: কী, কেন এবং আপনার করণীয়?আসসালামু আলাইকুম। আমি ডা: মুয়াজ রহমান, আজ আলোচনা করবো PCOS বা...
31/05/2026

📌 নারীদের নীরব শত্রু PCOS বা PMOS: কী, কেন এবং আপনার করণীয়?

আসসালামু আলাইকুম। আমি ডা: মুয়াজ রহমান, আজ আলোচনা করবো PCOS বা PMOS নিয়ে।

বর্তমানে আমাদের দেশের তরুণীদের মধ্যে একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যার নাম **PCOS (Polycystic O***y Syndrome)**। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কেবল ডিম্বাশয়ের কোনো একক রোগ নয়; বরং এটি একাধিক এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ড ও মেটাবলিক (বিপাকীয়) জটিলতার একটি সমষ্টি। তাই আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটিকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে **PMOS (Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome)** হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

❓ PMOS বা PCOS কী?

এটি মূলত নারীদের একটি বহু-হরমোনজনিত (Polyendocrine) এবং বিপাকীয় (Metabolic) জটিলতা। এই রোগে শরীরের ইনসুলিনসহ বিভিন্ন হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ডিম্বাশয়ের চারপাশে ছোট ছোট সিস্ট (পানি জমে থাকা থলি) তৈরি হয় এবং নিয়মিত ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) ব্যাহত হয়।

🧬 কেন হয়?

PMOS বা Polyendocrine Metabolic Ovarian Syndrome হওয়ার পেছনে মূলত শরীরের পুরো এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের একটি চেইন রিঅ্যাকশন কাজ করে:

* **ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স:** শরীরের কোষগুলো ইনসুলিন হরমোন ব্যবহারে বাধা পায়। এই বাড়তি ইনসুলিন ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করে অতিরিক্ত অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ হরমোন) তৈরি করায়।

* **বহু-হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (Polyendocrine Dysregulation):** কেবল ইস্ট্রোজেন বা প্রজেস্টেরন নয়, পিটুইটারি গ্রন্থির LH ও FSH হরমোনের অনুপাত নষ্ট হওয়া এবং কর্টিসল (স্ট্রেস হরমোন) এর মাত্রার তারতম্য এর জন্য দায়ী।

* **বংশগত বা জেনেটিক কারণ:** পরিবারে মা, খালা বা বোনের এই সমস্যা থাকলে ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

* **লাইফস্টাইল বা জীবনযাত্রা:** অতিরিক্ত ওজন, রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট ও ফাস্টফুড গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং ক্রনিক মানসিক চাপ।

👥 কোন বয়সে বেশি হয় এবং কাদের হয়?

✔️ বয়স: এটি মূলত প্রজননক্ষম বয়সের (Reproductive age) রোগ। সাধারণত ১২ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যে এটি দেখা যায়। তবে **১৫ থেকে ৩০ বছর** বয়সী তরুণীদের মধ্যে বর্তমানে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

✔️ কাদের ঝুঁকি বেশি: যারা স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনে ভুগছেন, যাদের দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রম কম এবং যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সিন্ড্রোমের ইতিহাস রয়েছে।

⚠️ প্রধান লক্ষণসমূহ

* অনিয়মিত পিরিয়ড (দেরিতে হওয়া, অল্প হওয়া বা একেবারেই না হওয়া)।
* মুখে, বুকে বা পিঠে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক লোম গজানো (Hirsutism)।
* তৈলাক্ত ত্বক, তীব্র ব্রণ এবং চুল পড়ে যাওয়া।
* হঠাৎ দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পাওয়া এবং সহজে ওজন না কমা।
* ত্বক কালচে হয়ে যাওয়া (Acanthosis Nigricans - বিশেষ করে ঘাড়, বগল বা কুঁচকিতে)।

🩺 প্রতিকার ও করণীয় (Management)

যেহেতু এটি একটি Polyendocrine Metabolic সিন্ড্রোম, তাই কেবল সাময়িক ওষুধ খেয়ে এটি পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয়। এর মূল চিকিৎসা লুকিয়ে আছে আপনার প্রতিদিনের জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে।

১. খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন (Dietary Changes):

রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (চিনি, মিষ্টি, ময়দা, ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিঙ্কস) পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। হাই-ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার, সবুজ শাকসবজি, ফলমূল এবং চর্বিহীন প্রোটিন (Lean Protein) খাদ্যতালিকায় রাখুন।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম:

শরীরের মাত্র ৫-১০% ওজন কমাতে পারলে পিরিয়ড নিয়মিত হতে শুরু করে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ/দ্রুত হাঁটার অভ্যাস করুন।

৩. পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ মুক্ত থাকা:

এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের ভারসাম্য ঠিক রাখতে দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। মানসিক চাপ কমাতে ইয়োগা বা মেডিটেশন করতে পারেন।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ:

লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে একজন গাইনোকোলজিস্ট বা এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

💡 শেষ কথা:

PMOS বা PCOS কোনো সাধারণ ওভারির সমস্যা নয়, এটি ভবিষ্যৎ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, এবং বন্ধ্যাত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং লাইফস্টাইল মডিফিকেশনই পারে এই জটিল সিন্ড্রোমকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন।

ঘাড় বা বগলের কালো দাগ কি কেবলই ময়লা? নাকি কোনো রোগের সংকেত?আসসালামু আলাইকুম, আমি ডা: মুয়াজ রহমান,  আজ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ...
31/05/2026

ঘাড় বা বগলের কালো দাগ কি কেবলই ময়লা? নাকি কোনো রোগের সংকেত?

আসসালামু আলাইকুম, আমি ডা: মুয়াজ রহমান, আজ চিকিৎসা বিজ্ঞানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অবহেলিত একটি বিষয় নিয়ে আপনাদের জানাবো।

আমাদের অনেকেরই ঘাড়, গলা, বগল বা শরীরের ভাজ পড়া অংশের চামড়া হঠাৎ মোটা, খসখসে এবং কালচে বা মখমলের মতো (Velvety) হয়ে যায়। অনেকেই একে সাধারণ ময়লা বা রোদে পোড়া দাগ ভেবে স্ক্রাব করেন বা পার্লারে গিয়ে ফেশিয়াল করেন। কিন্তু মেডিকেল বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় **Acanthosis Nigricans (অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস)**।

এটি আসলে কোনো সাধারণ ময়লা নয়, বরং আপনার শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার বাহ্যিক লক্ষণ!

🔴 এটি কেন হয়?

এর পেছনে মূলত কয়েকটি প্রধান কারণ থাকে:

১। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (Insulin Resistance): এটি সবচেয়ে কমন কারণ। যখন শরীরে ইনসুলিন হরমোন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, তখন রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ইনসুলিন ত্বকের কোষগুলোকে দ্রুত বাড়তে বাধ্য করে, ফলে ত্বক মোটা ও কালো হয়ে যায়।

২। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: থাইরয়েডের সমস্যা (Hypothyroidism) বা পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) থাকলে এটি হতে পারে।

৩। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল বা কিছু স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ অতিরিক্ত সেবনের কারণেও এমনটা হতে পারে।

৪। বংশগত কারণ ও অন্যান্য: বিরল ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরে কোনো টিউমার বা ক্যান্সারের পূর্বাভাস হিসেবেও এই দাগ দেখা দিতে পারে।

⚠️ কাদের এই সমস্যা হবার সম্ভাবনা বেশি?

* যাদের শরীরের ওজন প্রয়োজনের চেয়ে বেশি (Obesity বা স্থূলতা)।
* যাদের পরিবারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস আছে।
* যাদের প্রি-ডায়াবেটিস (Prediabetes) বা ডায়াবেটিস রয়েছে।
* নারীদের ক্ষেত্রে যাদের অনিয়মিত পিরিয়ড বা PCOS-এর সমস্যা আছে।

✅ এমনটা হলে আপনার করণীয় কি?

যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারও এই লক্ষণটি দেখা দেয়, তবে প্যানিক বা আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:

১. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করা এই সমস্যা দূর করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায়।

২. খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: অতিরিক্ত মিষ্টি, ফাস্টফুড, কোল্ড ড্রিংকস এবং রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট (সাদা ভাত, ময়দা) খাওয়া কমিয়ে দিন। খাবারে শাকসবজি ও ফাইবার বাড়ান।

৩. ত্বকে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং বন্ধ করুন: অনেকে দাগ তোলার জন্য জোরে জোরে ঘষেন, এতে হিতে বিপরীত হয়ে ত্বক আরও কালো ও খসখসে হয়ে যেতে পারে।

৪. চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: ঘরে বসে কোনো ক্রিম না মেখে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। রক্তের গ্লুকোজ, ফাস্টিং ইনসুলিন বা থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করে মূল কারণটি চিহ্নিত করা জরুরি।

*মনে রাখবেন: অ্যাকান্থোসিস নাইগ্রিকানস নিজেই কোনো রোগ নয়, এটি শরীরের একটি সতর্কবার্তা (Warning Sign)। ভেতর থেকে রোগ ভালো হলে এই দাগ এমনিতেই হালকা হয়ে যায়।

নিজের যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। পোস্টটি শেয়ার করে অন্যদেরও সচেতন করুন।

*প্রয়োজনে যেকোনো প্রশ্ন নিচে কমেন্ট বক্সে জানান।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when স্বাস্থ্য পরামর্শ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share