31/08/2026
যে পাপের কারণে মানুষ রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়
আমরা যখন রিজিকের সংকটে পড়ি, তখন সাধারণত বাইরের কারণ খুঁজি। বলি—সময় খারাপ, ব্যবসা খারাপ, মানুষ খারাপ, ভাগ্য খারাপ। কিন্তু খুব কম সময়ই নিজের দিকে তাকিয়ে ভাবি, আমার কোনো গুনাহ কি আমার জীবনের বরকত নষ্ট করছে?
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
«إِنَّ الرَّجُلَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ»
“নিশ্চয়ই একজন মানুষ তার কৃত গুনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।”
— সুনান ইবনু মাজাহ: ৪০২২
হাদিসটা একটু চিন্তা করার মতো। আমরা রিজিক বলতে শুধু টাকা-পয়সা বুঝি। অথচ রিজিকের মধ্যে সুস্থতা, শান্তি, ভালো পরিবার, নেক সন্তান, সময় এবং ঈমানের মতো নিয়ামতও রয়েছে।
তাই জীবনে বরকত কমে গেলে নিজেকে কয়েকটি প্রশ্ন করা দরকার।
১. আমি কি গোপনে কোনো গুনাহ করছি?
মানুষের কাছ থেকে অনেক কিছু লুকানো যায়, কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে কিছুই লুকানো যায় না।
আল্লাহ বলেন,
أَلَمْ يَعْلَمْ بِأَنَّ اللَّهَ يَرَىٰ
“সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন?”
— সূরা আল-আলাক: ১৪
গোপনে করা গুনাহকে ছোট মনে করবেন না। যে জায়গায় মানুষ নেই, সেখানেও আল্লাহ আছেন—এই অনুভূতিটা অন্তরে রাখা জরুরি।
২. আমার উপার্জন কি হালাল?
সুদ, ঘুষ, প্রতারণা, মানুষের টাকা আত্মসাৎ—এসব থেকে উপার্জিত অর্থ যতই বেশি হোক, তাতে বরকত থাকে না।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন এমন এক ব্যক্তির কথা, যে সফর করে, হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করে; অথচ তার খাবার, পানীয় ও পোশাক হারাম এবং সে হারাম দ্বারা লালিত। এরপর নবী ﷺ প্রশ্ন করেছেন, তার দোয়া কীভাবে কবুল হবে?
— সহিহ মুসলিম: ১০১৫
তাই নিজের উপার্জনের দিকে একবার তাকানো দরকার। টাকা কত আছে—তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, টাকাটা কোথা থেকে আসছে।
৩. নামাজের ব্যাপারে আমি কেমন?
রিজিকের পেছনে ছুটতে ছুটতে যদি রিজিকদাতাকেই ভুলে যাই, তাহলে আমাদের অবস্থাটা একবার ভেবে দেখা দরকার।
আল্লাহ বলেন,
وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا ۖ لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا ۖ نَّحْنُ نَرْزُقُكَ
“তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং তাতে অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে রিজিক চাই না; আমিই তোমাকে রিজিক দিই।”
— সূরা ত্ব-হা: ১৩২
তাই নামাজকে পিছনে রেখে শুধু রিজিকের জন্য দৌড়ানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।