17/05/2026
মানুষ ভাবে ডাক্তার মানেই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী কেউ—হাসপাতালে ঢুকলেই মৃত্যু হার মেনে যাবে। অথচ বাস্তবতা হলো, ডাক্তাররা মানুষ, ফেরেশতা না। পৃথিবীর কোনো ডাক্তার রোগীকে কষ্ট দিতে চায় না, কোনো ডাক্তার চায় না তার রোগী মারা যাক। একজন মানুষ বছরের পর বছর ঘুমহীন রাত, অসীম চাপ, পরিবার থেকে দূরে থাকা, মানসিক যন্ত্রণা আর কঠিন অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে ডাক্তার হয়ে ওঠেন। একটা প্রেসক্রিপশনের পেছনে থাকে হাজারো রাতের পড়াশোনা, ওয়ার্ডে দৌড়াদৌড়ি, জরুরি মুহূর্তে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধ।
কিন্তু আজ এমন এক সমাজ তৈরি হয়েছে, যেখানে রোগী মারা গেলেই বিচার শেষ—“ডাক্তারের ভুল”। যেন ডাক্তার মানেই শতভাগ নিশ্চয়তা! যদি সব রোগের ফল আগেই সবাই বুঝে ফেলতে পারেন, যদি সবাই জানেন কোন চিকিৎসা ঠিক ছিল আর কোনটা ভুল ছিল, তাহলে হাসপাতাল, আইসিইউ, মেডিকেল কলেজ—এসবেরই বা প্রয়োজন কী?
সব রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। মৃত্যু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যর্থতা নয়, অনেক সময় সেটাই প্রকৃতির নির্মম বাস্তবতা। কিন্তু সেই বাস্তবতা মেনে নেওয়ার মানসিকতা আমাদের সমাজ হারিয়ে ফেলছে। এখন চিকিৎসার ফল খারাপ হলেই শুরু হয় গালাগালি, ভাঙচুর, হামলা, অপমান। একজন ডাক্তার, যিনি কয়েক ঘণ্টা আগেও জীবন বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করছিলেন, তিনিই মুহূর্তে হয়ে যান “অপরাধী”।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা আজ বিলাসিতা নয়, মৌলিক অধিকার। হাসপাতাল কোনো যুদ্ধক্ষেত্র না, ডাক্তার কোনো punching bag না। যারা জীবন বাঁচানোর জন্য নিজের যৌবন, ঘুম, মানসিক শান্তি বিসর্জন দেয়, তাদের ওপর হামলা সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না।
সমালোচনা হোক, জবাবদিহি হোক, অবহেলা প্রমাণিত হলে বিচারও হোক—কিন্তু উন্মত্ততা, সহিংসতা আর জনতার আদালত কখনোই সমাধান নয়। কারণ ডাক্তারদের ভয় দেখিয়ে, অপমান করে, মারধর করে কোনো জাতি উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়তে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।