Female Health Care By Dr. ZIA

Female Health Care By Dr. ZIA As a doctor I have some responsibility towards society.. that's why I am trying my best❤️❤️❤️

স্পাইনাল হেডেক সাধারণত সিজারের সময় কোমরে দেওয়া স্পাইনাল ইনজেকশনের পর হতে পারে। ইনজেকশনের কারণে মেরুদণ্ডের ভেতরের তরল (CS...
21/05/2026

স্পাইনাল হেডেক সাধারণত সিজারের সময় কোমরে দেওয়া স্পাইনাল ইনজেকশনের পর হতে পারে। ইনজেকশনের কারণে মেরুদণ্ডের ভেতরের তরল (CSF) অল্প পরিমাণে বের হয়ে গেলে মাথার ভেতরের চাপ কমে যায়, আর তখন মাথাব্যথা শুরু হয়। সাধারণত বসলে বা দাঁড়ালে ব্যথা বাড়ে এবং শুয়ে থাকলে কমে যায়।

চিকিৎসায় পর্যাপ্ত fluid intake, বিশ্রাম, caffeine জাতীয় পানীয় (চা/কফি), এবং প্রয়োজন হলে ব্যথার ওষুধ যেমন Paracetamol বা Ibuprofen ব্যবহার করা হয়। তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষেত্রে হাসপাতালে “epidural blood patch” করতে হতে পারে।স্পাইনাল হেডেক প্রতিরোধের জন্য অপারেশনের পর রোগীকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। স্পাইনাল দেওয়ার পর প্রথম 24 ঘণ্টা বেশি নড়াচড়া না করে বিশ্রামে থাকা ভালো। হঠাৎ উঠে বসা বা দাঁড়ানো উচিত না; আগে ধীরে কাত হতে হবে, তারপর আস্তে বসে পরে দাঁড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার খেতে হবে এবং সম্ভব হলে চা বা কফি খাওয়া উপকারী হতে পারে। অতিরিক্ত ঝুঁকে কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা বা বেশি চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। মাথাব্যথা হলে বেশি হাঁটাচলা না করে শুয়ে বিশ্রাম নিলে আরাম পাওয়া যায়।

20/05/2026

যেকোনো অপারেশন এর পর ইনফেকশন এর বড় কারণ রুগী কে দেখতে আসা মেহেমান 😒😒😒visitor allow না করলে visitor আবার আঙ্গুল তুলে ডাক্তার কে কথা শুনাতে আসে 🤣🤣🤣এটাই বাঙালি।।।এখানে রুগীদের নিজের জন্য হলেও টাকে দেখতে আসা মেহেমান কে " না " বলতে হবে।। দিন শেষে সব দোষ ডাক্তার কে দেওয়া খুবই সহজ।। কিন্তু একবারও কি ডাক্তার এর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন???

 #হেপাটাইটিস ই সংক্রমণে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মৃত্যু.......উনার আগে থেকেই অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ছিল...
16/05/2026

#হেপাটাইটিস ই সংক্রমণে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সারের মৃত্যু.......

উনার আগে থেকেই অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ছিল, ওজন বেশি, সাথে ফ্যাটি লিভারের সমস্যাও ছিল বলে জানা যায়।

হেপাটাইটিস ই সাধারণত দূষিত পানি আর অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকে ছড়ায়। আমরা অনেক সময় রাস্তার ধারের ফুচকা, চটপটি বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের খাবার খেয়ে ফেলি, ঝুঁকিটা ভাবি না।
আর যদি আগে থেকেই ফ্যাটি লিভার, ওজন বেশি বা লাইফস্টাইল খারাপ থাকে, তাহলে শরীর আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়ে।
সচেতন হওয়া দরকার নিজের জন্যই।

খাবার-দাবারে সাবধান থাকা, ওজন নিয়ন্ত্রণ করা, আর বদ অভ্যাস কমানো....

চলুন নিজেকে নিয়ে সচেতন হই,
ফ্যাটি লিভার, ওজন বেশি এগুলা নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবতে বসি..
ডা.আব্দুর রহমান

BLIGHTED O**M 😥(খালি গর্ভথলি / Empty Pregnancy)অনেক মা আছেন যাদের প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ আসে, কিন্তু পরে আল্ট্রাসনোগ্র...
15/05/2026

BLIGHTED O**M 😥
(খালি গর্ভথলি / Empty Pregnancy)

অনেক মা আছেন যাদের প্রেগনেন্সি টেস্ট পজিটিভ আসে, কিন্তু পরে আল্ট্রাসনোগ্রামে দেখা যায় বাচ্চা তৈরি হয়নি। এটাকেই Blighted O**m বলা হয়।

🔹 এটা কেন হয়?
আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না। সাধারণত ভ্রূণের শুরুতেই ক্রোমোজোমের সমস্যা হলে এমনটা হয়। এটা মায়ের কোনো দোষ না।

🔹 টেস্ট পজিটিভ আসে কেন?
কারণ শরীরে Pregnancy Hormone (HCG) তৈরি হয়। তাই ইউরিন টেস্টে দুই দাগ আসে, যদিও বাচ্চা ঠিকভাবে গড়ে ওঠে না।

🔹 কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
শুরুর দিকে সাধারণ প্রেগনেন্সির মতোই লক্ষণ থাকে:
• বমিভাব
• মাথা ঘোরা
• স্তনে ব্যথা
• খাবারে অরুচি

পরে যখন ভ্রূণের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় তখন:
• হালকা পেট ব্যথা
• রক্তপাত / spotting শুরু হতে পারে।

🔹 কিভাবে ধরা পড়ে?
আল্ট্রাসনোগ্রামে দেখা যায় জরায়ুতে শুধু গর্ভের থলি (Gestational Sac) আছে, কিন্তু বাচ্চা বা fetal pole নেই।

সাধারণত ৮ সপ্তাহের পরেও fetal pole না দেখা গেলে এবং sac বড় হয়ে গেলে Blighted O**m ধরা হয়।

🔹 তখন কী করতে হয়?
১️⃣ কিছু ক্ষেত্রে অপেক্ষা করলে নিজে নিজেই নষ্ট হয়ে বের হয়ে যায়।

২️⃣ কখনো ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।

৩️⃣ অনেক সময় হাসপাতালে গিয়ে D&C / ওয়াশ করতে হয়।

⚠️ অতিরিক্ত রক্তপাত, মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

🔹 এরপর কি আবার বাচ্চা হবে?
অবশ্যই ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে আবার স্বাভাবিকভাবে কনসিভ করা সম্ভব।
একবার এমন হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

তবে বারবার হলে ডাক্তার দেখিয়ে কিছু পরীক্ষা করতে হতে পারে।

13/05/2026
ফুচকা মামা,ময়লা হাতে ফুচকা না বানালে মজা লাগে না।এটা একটা কমন ডায়লগ। ৭ কোটি মলের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে ফুচকাতে।এতে আমরা...
10/05/2026

ফুচকা মামা,ময়লা হাতে ফুচকা না বানালে মজা লাগে না।এটা একটা কমন ডায়লগ। ৭ কোটি মলের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে ফুচকাতে।এতে আমরা অনেকে মজা পাইছি,হাস্যরস করেছি।কিন্তু কিন্তু কিন্তু ,
এটা আমাদের স্বাস্থ্যের উপর ভয়ংকর ক্ষতি করতে পারে।ফুচকার টক বানানোর পানি ,প্লেট ধোয়ার পানি এইগুলা বেশিরভাগ সময় অপরিস্কার থাকে ,ময়লা পানি দিতে ধোয়া হয়।
এই ময়লা পানি থেকে খুব কমন 4 টা রোগ হতে পারে
- Hepatitis A
- Hepatitis E
- Typhoid
- Cholera
এছাড়াও পেট খারাপ যাকে আমরা Gastroenteritis বা Food Poisoning বলে চিনি।

তাই বাইরে খাওয়ার বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকা উচিত। একপ্লেট ফুচকা খেয়ে ফেললাম ,চটপটি খেয়ে ফেললাম খুশিতে খুশিতে - আরো কিছু হবে না বলে। কিন্তু যখন হবে তখন আর হয়ত সুযোগ পাবেন না।

কারিনা কায়সারের বয়স বেশি না। তার আগে থেকে হয়ত Fatty liver ছিলো এবারের Hepatitis A হয়ে লাইফ সাপোর্ট এ সে। তার লিভার ফেইলিউরের দিকে।

ফুচকা,পানিপুড়ি,ভেলপুরি খুব জনপ্রিয় খাবার।রাস্তার ধারের মামারা কম ইনকাম করে না। চোখবন্ধ করে একেকজনের মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম আছে। তাদের মানুষের হেলথ নিয়ে কম্প্রোমাইজ করার সুযোগ দেওয়াটা উচিত না। আর আমরা যারা খাই হয় বাসায় বানিয়ে বা হাইজেনিক অপশন চুজ করা উচিত।

সবাই নিজের হেলথের বিষয়ে সচেতন হন।

গর্ভাবস্থায় কেন এত বেশি গরম লাগে?গর্ভাবস্থায় অনেক মা-ই হঠাৎ করে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম অনুভব করেন। চারপাশের আবহাওয়া...
28/04/2026

গর্ভাবস্থায় কেন এত বেশি গরম লাগে?

গর্ভাবস্থায় অনেক মা-ই হঠাৎ করে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি গরম অনুভব করেন। চারপাশের আবহাওয়া খুব বেশি গরম না হলেও শরীর ঘেমে যায়, অস্বস্তি লাগে এবং সবসময় গরম গরম মনে হয়। এটি কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়, বরং শরীরের ভেতরে চলা কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফল।

কেন এমন হয়?

১. হরমোনের পরিবর্তন 🌡️
গর্ভাবস্থায় প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এই হরমোন শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে দেয়, ফলে মা সারাক্ষণ গরম অনুভব করতে পারেন।

২. রক্তের পরিমাণ বৃদ্ধি ❤️
গর্ভের শিশুর পুষ্টি ও অক্সিজেন ঠিকভাবে পৌঁছে দিতে মায়ের শরীরে রক্তের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এতে হৃদপিণ্ডকে বেশি কাজ করতে হয় এবং শরীর আরও উষ্ণ লাগে।

৩. বিপাক প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়া 💧
এখন মায়ের শরীর দুজনের জন্য শক্তি তৈরি করছে। এই অতিরিক্ত কাজের ফলে শরীরে বেশি তাপ তৈরি হয় এবং গরম বেশি লাগে।

৪. শিশুর শরীর থেকেও তাপ আসে 👶
গর্ভের ভেতরে বেড়ে ওঠা শিশুটিও নিজের শরীরের তাপ তৈরি করে। সেই তাপও মায়ের শরীরে প্রভাব ফেলে।

৫. ওজন বৃদ্ধি ও দ্রুত ক্লান্তি
গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়ার কারণে অল্প কাজেই ক্লান্তি আসে, বেশি ঘাম হয় এবং শরীর দ্রুত গরম হয়ে যায়।

এই সময় কী করলে আরাম পাবেন?

✅ হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন
সুতির, ঢিলেঢালা এবং হালকা রঙের পোশাক শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।

✅ প্রচুর পানি পান করুন
পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা তাজা ফলের রস শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।

✅ ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় থাকুন
প্রয়োজনে ফ্যান বা এসি ব্যবহার করুন এবং গরম পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।

✅ দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন
বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস বা ক্যাপ ব্যবহার করুন।

✅ ঝাল ও অতিরিক্ত মশলাদার খাবার কম খান
এসব খাবার শরীরের তাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা ❗

যদি অতিরিক্ত গরম লাগার সঙ্গে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা জ্ঞান হারানোর মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

মায়ের শরীরের এই পরিবর্তনগুলো স্বাভাবিক, তবে সচেতন থাকলে এই সময়টা আরও আরামদায়ক ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।

🩺 ১৭ সপ্তাহে Grade-1 বা ২৬ সপ্তাহে Grade-2 placenta — চিন্তার কারণ কি?অনেক মা আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে placental grade দেখ...
23/04/2026

🩺 ১৭ সপ্তাহে Grade-1 বা ২৬ সপ্তাহে Grade-2 placenta — চিন্তার কারণ কি?

অনেক মা আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্টে placental grade দেখে দুশ্চিন্তায় পড়েন।
আসুন সহজভাবে বুঝি—কখন স্বাভাবিক, আর কখন নজরদারি দরকার।

🔹 ১৭ সপ্তাহে Grade-1 placenta হলে

সাধারণত ১৮ সপ্তাহের আগে Grade-0 বেশি দেখা যায়।
তাই ১৭ সপ্তাহে Grade-1 হলে—

✔ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক variation
✔ সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না
✔ নিয়মিত follow-up যথেষ্ট

তবে সতর্ক থাকতে হবে যদি থাকে:

• উচ্চ রক্তচাপ (Hypertension)
• ডায়াবেটিস (Diabetes)
• আগের pregnancy-তে baby growth কম ছিল (IUGR history)

এক্ষেত্রে anomaly scan (১৮–২২ সপ্তাহ) সময়মতো করা গুরুত্বপূর্ণ।

🔹 ২৬ সপ্তাহে Grade-2 placenta হলে

সাধারণত Grade-2 placenta দেখা যায় ৩০ সপ্তাহের পরে।
তাই ২৬ সপ্তাহে Grade-2 হলে—

✔ অনেক ক্ষেত্রে শুধু closer follow-up প্রয়োজন
✔ সবসময় বিপদের লক্ষণ নয়

কিন্তু নিচের সমস্যা থাকলে বাড়তি নজরদারি দরকার:

• বেবির growth কম হওয়া
• পানির পরিমাণ কম (Low AFI)
• Doppler report abnormal হওয়া

এক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে:

✔ follow-up growth scan
✔ Doppler study
✔ নিয়মিত BP ও blood sugar monitoring

📌 মনে রাখবেন:

Placental grade একা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।
Baby growth, AFI ও Doppler report একসাথে বিবেচনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Collected

নতুন শিশুর মা-বাবা যা জানতে চায়এমবিবিএস পড়ার সময় পেডিয়াট্রিক্সের প্রফেসর ম্যাডামকে আমি বেশ ভয় পেতাম। এতে উপকার যেটি হয়েছ...
23/04/2026

নতুন শিশুর মা-বাবা যা জানতে চায়

এমবিবিএস পড়ার সময় পেডিয়াট্রিক্সের প্রফেসর ম্যাডামকে আমি বেশ ভয় পেতাম। এতে উপকার যেটি হয়েছে সবচেয়ে ভালো পড়া হয়েছিল পেডিয়াট্রিক্সই।

আবিদ হোসেন মোল্লা স্যারের একটি লাল বই ছিল তখন, যেটির প্রায় পুরোটাই মেমোরাইজ হয়ে গিয়েছিল। যতোদূর মনে পড়ে, ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষায় পেডিয়াট্রিক্স থেকে কোনো প্রশ্নেই আটকাইনি।

পরবর্তী সময়ে ম্যাডামের মাতৃসুলভ স্নেহ ও আন্তরিকতা কখনও ভোলার না।

আমার কন্যা ইনশিরাহ মেহরিশ খান-এর জন্মের আগ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত নিওন্যাটালজির (নবজাতক) দেশ-বিদেশের অথেন্টিক সোর্সের কতো আর্টিকেল যে পড়েছি তার কোনো হিসেব নেই!

নতুন শিশু যেমন অনেক আনন্দ আর উত্তেজনা নিয়ে আসে, আবার তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তারও অন্ত থাকে না নতুন প্যারেন্টের।

ভাবছি নন-ডক্টর প্যারেন্টদের জন্য যদি বাংলা ভাষায় কিছু সাধারণ বিষয় ধারাবাহিকভাবে লিখি তো কেমন হয়? মনে হয় তারা দু'আ করবে।

১. গোল্ডেন আওয়ার বলে একটা টার্ম শোনা যায়। বিষয়টি আসলে কী?

জন্মের পরবর্তী প্রথম ৬০ মিনিট বা এক ঘণ্টাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে 'গোল্ডেন আওয়ার' বলা হয়। এই সময়টি শিশুর নতুন পৃথিবীর সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জন্মের পরপরই শিশুকে মায়ের পেটের ওপর বা বুকের ওপর রাখা হয়। স্কিন টু স্কিন কনটাক্ট। এতে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং সে মায়ের শরীরের পরিচিত গন্ধ ও হৃদস্পন্দনে নিরাপদ বোধ করে।

এই এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর চেষ্টা শুরু করতে হবে। এই সময়ে শিশু বেশ অ্যালার্ট থাকে, যা বুকের দুধ টানার অভ্যাস তৈরি করতে সাহায্য করে।

এটি শিশুর কান্নাকাটি কমায়, রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে এবং মা ও শিশুর মধ্যে গভীর বন্ধন তৈরি করে।

স্কিন-টু-স্কিন কন্টাক্টের ফলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন বাড়ে, যা দুধ নিঃসরণ সহজ করে এবং জরায়ুর রক্তক্ষরণ কমায়।

(National Strategy for Infant and Young Child Feeding in Bangladesh Guidelines)

২. শালদুধ কি ফেলে দিতে হবে?

প্রসবের পর প্রথম ২-৩ দিন মায়ের স্তন থেকে যে ঘন, আঠালো এবং কিছুটা হলুদ রঙের দুধ বের হয়, তাকেই শাল দুধ বলা হয়। অনেক জায়গায় ভুলবশত এটি ফেলে দেওয়া হয়, যা শিশুকে চরমভাবে বঞ্চিত করার নামান্তর।

এটিকে শিশুর প্রথম টিকা বলা হয়। শাল দুধে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি (Immunoglobulin A) থাকে, যা শিশুকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। এটি সরাসরি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

এটি সহজপাচ্য তো বটেই, ভীষণ পুষ্টিকরও। এতে প্রচুর প্রোটিন এবং ভিটামিন থাকে। কিন্তু চর্বি কম থাকে। যা নবজাতকের অপরিণত পাকস্থলীর জন্য একদম পারফেক্ট।

শাল দুধ একটি প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে। এটি শিশুর পেটের প্রথম মল (Meconium) পরিষ্কার করতে সাহায্য করে, যার ফলে নবজাতকের জন্ডিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

মনে রাখতে হবে, শুরুতে শাল দুধের পরিমাণ খুব কম মনে হতে পারে। মাত্র কয়েক চামচ। কিন্তু নবজাতকের পাকস্থলী তখন একটি ছোট মার্বেলের সমান থাকে, তাই এই সামান্য পরিমাণই তার জন্য যথেষ্ট। একটা মার্বেলের মধ্য আর কতোটুকুইবা দুধ ধরে?

(Baby-Friendly Hospital Initiative of WHO & UNICEF)

৩. বাচ্চা তো দেখি কি সারাক্ষণ ঘুমায়। চিন্তার বিষয় না?

নবজাতকের পৃথিবীটা সত্যিই আমাদের থেকে অনেক আলাদা। মায়ের জরায়ুর অন্ধকার ও নিরাপদ পরিবেশ থেকে বের হয়ে বাইরের উজ্জ্বল আলো এবং শব্দের সাথে মানিয়ে নিতে তার বেশ সময় লাগে।

একজন সুস্থ নবজাতক গড়ে দিনে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারে। তাদের ঘুমের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি থাকে না। তারা দিনের চেয়ে রাতে বেশি জাগতে পারে। এটিকে (Day-night reversal) বলে। যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

কেন এত ঘুমায়?

ঘুমের মধ্যেই শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সবচেয়ে দ্রুত ঘটে এবং শরীর বৃদ্ধির হরমোন নিঃসৃত হয়। তারা মূলত জেগে ওঠে ক্ষুধার তাড়নায়, পেট ভরে দুধ খাওয়ার পর আবার প্রশান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে।

কখন সতর্ক হতে হবে?

- যদি দেখা যায়, বাচ্চা দুধ খাওয়ার জন্য একেবারেই জাগছে নাশরীর একদম নিস্তেজ বা ঢিলেঢালা হয়ে আছে

- কান্না খুব ক্ষীণ বা দুর্বল

- বাচ্চার গায়ের রং ফ্যাকাশে বা নীল হয়ে যাচ্ছে।
এমন হলে দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

(American Academy of Pediatrics- Sleep in Newborns.)

৪. নবজাতককে কতবার এবং কেন ঘন ঘন দুধ খাওয়াতে হবে?

নবজাতকের পাকস্থলী ছোটো হওয়ায় একবারে খুব সামান্যই খেতে পারে এবং বুকের দুধ খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ শিশুকে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর দুধ খাওয়ানো উচিত। একে বলা হয় "Feeding on Demand" বা শিশু যখনই চাইবে তখনই খাওয়ানো।

কেন ঘন ঘন খাওয়ানো জরুরি?

-ওজন বৃদ্ধি: বাচ্চার সঠিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য নিরবচ্ছিন্ন পুষ্টি নিশ্চিত হয়।

-জন্ডিস প্রতিরোধ: ঘন ঘন দুধ খেলে বাচ্চার পায়খানা ও প্রস্রাব নিয়মিত হয়, যা শরীর থেকে বাড়তি বিলিরুবিন বের করে দিয়ে নবজাতকের জন্ডিস কমাতে সাহায্য করে।

- দুধের সরবরাহ বৃদ্ধি: বাচ্চা যতো বেশি দুধ টেনে খাবে, মায়ের শরীরে তত বেশি অক্সিটোসিন ও প্রোল্যাকটিন হরমোন তৈরি হবে, যা দুধের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।

প্রথম কয়েক সপ্তাহ যদি বাচ্চা ৩-৪ ঘণ্টার বেশি একটানা ঘুমায়, তবে তাকে হালকা সুড়সুড়ি দিয়ে বা শরীর মুছে জাগিয়ে তুলে দুধ খাওয়ানো দরকার।

(UNICEF - Infant and Young Child Feeding (IYCF) Guidelines.)

৫. জন্মের পর বাচ্চার ওজন না বেড়ে দেখি উল্টো কমে যাচ্ছে। এ কী হচ্ছে?

অনেক বাবা-মা ঘাবড়ে যান যখন দেখেন জন্মের দুই-তিন দিন পর বাচ্চার ওজন আগের চেয়ে কমে গেছে। কিন্তু এটি ফিজিওলজিক্যাল বা প্রাকৃতিক একটি প্রক্রিয়া।

ওজন কমার কারণ কী?

শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় তার শরীরে কিছু বাড়তি পানি বা ফ্লুইড থাকে। জন্মের পর প্রস্রাব ও প্রথম মল (Meconium) ত্যাগের মাধ্যমে সেই বাড়তি পানি বেরিয়ে যায়। এছাড়া প্রথম দিকে শাল দুধের পরিমাণ কম থাকায় ক্যালরি গ্রহণও কিছুটা কম হয়।

হিসাবটি কেমন আসলে?

বার্থ ওয়েটের ৫-১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বাভাবিক ধরা হয়।

সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে শিশু আবার তার জন্মের সময়ের ওজনে ফিরে আসে। এরপর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ গ্রাম করে ওজন বাড়তে থাকাটা স্বাভাবিক।

কখন চিন্তার বিষয়?

যদি ১০ দিন পার হওয়ার পরও ওজন না বাড়ে, অথবা ওজন কমার হার ১০ শতাংশের বেশি হয়, তবে বুঝতে হবে বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে না (Inadequate feeding)। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।

(NICE Guidelines)
.collected ❤️❤️

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Female Health Care By Dr. ZIA posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share