15/08/2026
জীবন থেকে নেয়া সমাচার :
আমি যখন ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়ি, তখন আমাদের স্কুল থেকে বিশেষ বিশেষ দিনে যেমন স্বাধীনতা দিবস , বিজয় দিবস , একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সিনেমা দেখাতে নিয়ে যেতো।
আমি বাংলাদেশ নেভী স্কুলে পড়তাম। আর আমাদের নেভি ক্যাম্পাস এর ভিতরে ছিলো সাগরিকা সিনেমা হল।
আমাদের শিক্ষকরা দলবেধে আমাদের সিনেমা দেখাতে নিয়ে যেতো।
আহা সেইসব ঝলমলে দিন!
জীবন থেকে নেয়া আমাদেরকে সবচেয়ে বেশি বার দেখিয়েছে।
আলোর মিছিল, ছুটির ঘন্টা , ওরা ১১ জন, আবার তোরা মানুষ হ, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী এগুলো আমার দেখা হয়েছে স্কুলের কল্যাণে।
এবার আসি জীবন থেকে নেয়া মুভির কথায়।
১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়েছে।
৯.৩ IMDB রেটিং।
ডিরেক্টর: জহির রায়হান
সংলাপ : জহির রায়হান , আমজাদ হোসেন
সংগীত পরিচালক: খান আতাউর রহমান +আলতাফ মাহমুদ
কালজ্বয়ি আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো, আমার সোনার বাংলা, কারার ওই লৌহকপাট , এ খাচা ভাঙবো আমি কেমন করে এইসব গান ছিলো এই মুভি তে।
একদিকে কাজি নজরুলের বিদ্রোহী গান, অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ এর দেশাত্মবোধক গান।
এই মুভিতেই প্রথম আমার সোনার বাংলা গানটি ব্যবহার করা হয়, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসাবে প্রতিস্ঠিত হয়।
অভিনয় করেছেন আনোয়ার হোসেন , খান আতাউর রহমান , আমজাদ হোসেন , রাজ্জাক , সুচন্দা, রোজী সামাদ, এবং রওশন জামিল।
আহা
কি স্মার্ট প্লট!
কী গভীর চিন্তাধারা
কি চমৎকার উপস্থাপনা।
কি অদ্ভুত দেশপ্রেম।
এই মুভি যেনো বাংলাদেশের জন্ম নেয়ার আগ মুহূর্তে তৈরী এক ইতিহাসের সাক্ষী।
সমস্ত লিজেন্ডস একসাথে এই মাস্টারপিস তৈরী করেছেন।
আমি ইউকেতে এসে হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরে মেয়ের সঙ্গে কোন মুভি নিয়ে বসি।
ভাত খেতে খেতে মুভি দেখি।
আজকে কি মনে করে মেয়েকে বললাম , মামনি চলো আমার অসম্ভব পছন্দের একটা মুভি তোমাকে দেখাই।
সাদাকালো আলোকচিত্র বলে ও প্রথমে একটু গাইগুই করছিলো।
কিন্তু একটু পর ও কাহিনির ভিতর ঢুকে গেলো।
এই বিদেশ বিভুইয়ে এসে আমার সোনার বাংলা, আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো শুনে আমরা একদম ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছিলাম।
এই জেনারেশন এর এই মুভি দেখা উচিত।
আমাদের দায়িত্ব ওদের এইসব মুভি দেখানো।
আমার বারবার চোখ ভিজে উঠছিলো।
এতো সুন্দর মুভি হয় না।
ভাবতে অবাক লাগে ওই সময়ে এরকম প্রচন্ড আধুনিক চিন্তা ভাবনার মুভি , যেনো কয়েকশো বছর এগিয়ে ছিলো।
আসলেই 'জীবন থেকে নেয়া' র থেকে অনেক কিছু নেয়ার আছে।