22/04/2025
আজকে সিসিউতে আকস্মিকভাবে একজন রোগী কার্ডিয়াক এরেস্টে চলে যায়। সিসিউর ভিতরেই যেহেতু আমাদের বসার জায়গা অনতিবিলম্বে আমরা তিনজন চিকিৎসক, পাঁচজন নার্স, দুজন ওয়ার্ড বয় রোগীর কাছে চলে যাই। অচেতন, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ, পালস নেই, ব্লাড প্রেশার নেই। সঙ্গে সঙ্গে আমরা সিপিআর শুরু করলাম। ত্রিশটি চেস্ট কম্প্রেশনের পর দুটো করে রেস্কিউ ব্রেথ আম্বু ব্যাগ দিয়ে। টানা কয়েক সাইকেল সিপিআর দিলাম আমরা। এর মধ্যে মধ্যে এড্রেনালিন ইনজেকশান। সিসিউতে শাউট শুনে ইমার্জেন্সি বুঝতে পেরে দ্রুত চলে এলেন আমাদের প্রফেসর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট। তারাও দিকনির্দেশনা দিতে থাকলেন। এরই মধ্যে রোগীর কাছে এসে উপস্থিত হয়েছেন হেড অফ দ্যা ডিপার্টমেন্ট।
বেশ কয়েক সাইকেল সিপিআর দেওয়ার পর চেক করে দেখা গেলো রোগীর পালস ফিরেছে, রোগী স্বাভাবিক শ্বাস নিচ্ছে, স্যাচুরেশন ৯৭%। আলহামদুলিল্লাহ। কার্ডিয়াক এরেস্ট ডেভেলপ করে গেলে সেখান থেকে ফিরে আসার হার সারা পৃথিবীতেই খুব কম। ভাগ্যবান এই রোগী।
তার এই রিসাসিটেশনের সময় ৭ জন কার্ডিওলজিস্ট উপস্থিত ছিলেন। আমিসহ আরেকজন কার্ডিওলজিস্ট পালাক্রমে সিপিআর দিতে থেকেছেন। রীতিমতো এসির মধ্যে আমরা ঘেমে গেছি ও হাঁপিয়ে গেছি। একজন ডিফিব্রিলেটর রেডি করে ফেলেছে্ন। একজন পালস চেক করতে থেকেছেন। একজন নার্সদের ইনজেকশন দিতে ইনস্ট্রাকশান দিচ্ছিলেন। একজন গ্লাভস পরে ল্যারিঙ্গোস্কোপ রেডি করে ফেলেছে ইনটিউবেশান করার জন্য। একজন তড়িৎ গতিতে উপরের তলায় আইসিইউতে কল পাঠিয়ে দিয়েছেন।
তবে এই রোগীর আবার ব্যাক করা সম্পূর্ণটাই আল্লাহর রহমতে হয়েছে। এমন বহু প্রচেষ্টা আমাদের ব্যর্থও হয়েছে। আল্লাহ যার হায়াত রাখেন না তাকে এক হাজার চিকিৎসক একত্রিত হয়ে চেষ্টা করলেও বাঁচাতে পারবে না। হায়াত-মউতের এখতিয়ার কেবলমাত্র আল্লাহ তা'আলার হাতে।
যারা বলেন সরকারি হাসপাতালে কোনো চিকিৎসাই হয় না তাদের সঙ্গে আমি একমত নই। প্রচুর সীমাবদ্ধতা আছে এতে কোনোরকম সন্দেহ নেই। অনেক উন্নতির স্কোপ রয়েছে তা ভীষণ সত্যি। তবে এক রোগীর এই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ৭ জন কার্ডিওলজিস্ট একত্রে চেষ্টা করা অধিকাংশ নামিদামি প্রাইভেট হসপিটালও এফোর্ড বা এরেঞ্জ করতে পারবে না।
ডা. মারুফ রায়হান খান
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ