Dr. Saifur Rahman Fahad

Dr. Saifur Rahman Fahad Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. Saifur Rahman Fahad, Medical and health, Dhaka.

আলহামদুলিল্লাহ। স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে গেজেটেড হলাম।
25/08/2026

আলহামদুলিল্লাহ। স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে গেজেটেড হলাম।

ইমপেটিগোশিশুর ত্বকে কি লালচে ঘা বা মধু রঙের ক্ষত দেখছেন?  এটি ইমপেটিগো (Impetigo) হতে পারে।ইমপেটিগো হলো শিশুদের মধ্যে খু...
29/07/2026

ইমপেটিগো

শিশুর ত্বকে কি লালচে ঘা বা মধু রঙের ক্ষত দেখছেন? এটি ইমপেটিগো (Impetigo) হতে পারে।
ইমপেটিগো হলো শিশুদের মধ্যে খুব সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত ত্বকের সংক্রমণ।এটি একটি ছোঁয়াচে রোগ।

ইমপেটিগো কী এবং এর লক্ষণ

এটি Staphylococcus aureus বা Streptococcus pyogenes ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

১. ত্বকে লালচে ঘা বা ক্ষত।
২. ক্ষতের ওপর মধু রঙের আবরণ (crusts) তৈরি হওয়া।
৩.চুলকানি হওয়া।
সাধারণত নাক, মুখ, হাত বা ডায়াপার এলাকায় এটি বেশি দেখা যায়।

✅ কী করবেন?

১.পরিচ্ছন্নতা: আক্রান্ত স্থানটি হালকা সাবান ও পানি দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার রাখুন।

২. চিকিৎসা: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ক্রিম ব্যবহার করুন, প্রয়োজনে ওরাল অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।

৩. নখ ছোট রাখা: নখ ছোট রাখুন যাতে চুলকানোর সময় সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।

৪. ব্যক্তিগত সামগ্রী: তোয়ালে, কাপড় বা বিছানার চাদর অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

১. যদি শিশুর জ্বর আসে।
২. র‍্যাশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকলে।
৩. ক্ষতস্থানে পুঁজ জমে, ফুলে যায় বা ব্যথা বাড়ে।
৪.২-৩ দিনের চিকিৎসাতেও কোনো উন্নতি না হলে।

প্রতিরোধের উপায়:

১.হাত নিয়মিত ধোয়া,
২. ক্ষতস্থান ঢেকে রাখা
৩. শিশু অন্তত ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন না থাকা পর্যন্ত তাকে বাড়িতে রাখা, সংক্রমণ ছড়ানো রোধ করতে সাহায্য করে।

27/07/2026

দাদ / দাউদ কি?

দাদ বা দাউদ (Ringworm) হলো এক ধরনের ছত্রাকজনিত চর্মরোগ, যার মূল কারণ হলো ফাঙ্গাল ইনফেকশন।

এই রোগে ত্বকে সাধারণত বৃত্তাকারে লালচে দাগ দেখা যায়, যার চারপাশে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। দাদের কেন্দ্র অংশ সাধারণত তুলনামূলক ফ্যাকাশে থাকে এবং চারপাশের দাগ ঘন লালচে রঙের হয়, যেটা দেখতে আংটির মতো লাগে।

দাউদ এর প্রধান কারণ

১.অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্রতা

২.অপরিষ্কার পোশাক বা তোয়ালে ব্যবহার

৩.অন্যের ব্যবহৃত জিনিস ব্যবহার: সংক্রমিত ব্যক্তির পোশাক, চিরুনি, বালিশ, বা তোয়ালে ব্যবহার করলে দাদ সরাসরি ছড়িয়ে পড়ে।

৪.দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

৫.ত্বকের আর্দ্র অংশে বাতাস না পৌঁছানো

৬.শিশু ও কিশোরদের মধ্যে সংক্রমণ: স্কুল, খেলার মাঠ বা হোস্টেলে একসাথে থাকা ও জিনিস শেয়ার করার কারণে শিশুদের মধ্যে দাদ সহজে ছড়ায়।

দাদ এর সাধারণ লক্ষণ (Ringworm Symptoms)

এটি শরীরের হাত, পা, ঘাড়, কোমর, মাথা বা নখে যে কোনো অংশে হতে পারে।

১.গোলাকার ফুসকুড়ি: সবচেয়ে স্বতন্ত্র লক্ষণ হলো ত্বকের উপর লাল, বাদামী বা বেগুনি রঙের চাকার মতো ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া। সাধারণত এর কিনারা স্পষ্ট ও সামান্য উঁচু থাকে।

২.চুলকানি ও জ্বালা

৩.উঁচু কিনারা ও পরিষ্কার কেন্দ্র

৪.শুকনো ও খসখসে ত্বক

৫.ধীরে ধীরে আকার বৃদ্ধি

স্থানভেদে দাদ এর লক্ষণের ভিন্নতা:

১.মাথার ত্বকে (Tinea Capitis)

২.নখে (Tinea Unguium)

৩.পায়ের পাতায় (Athlete’s Foot / Tinea Pedis)

৪.কোমর বা ঘাড়ে (Tinea Corporis)

দাউদ এর চিকিৎসা

দাউদ বা দাদ থেকে মুক্তি পেতে ত্বক পরিষ্কার ও শুকনো রাখা সবচেয়ে জরুরি।

দাউদের ক্ষেত্রে সাধারণত নিচের অ্যান্টিফাঙ্গাল মলমগুলো ভালো কাজ করে—

১.টারবিনাফিন ১% (Terbinafine cream)

২.ক্লোট্রিমাজল ১% (Clotrimazole cream)

৩.মাইকোনাজল (Miconazole cream)

৪.মেডিকেটেড শ্যাম্পু (মাথার দাদ হলে)

দাদ সম্পূর্ণ সারাতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

১.প্রতিদিন গোসল করুন এবং ত্বক শুকনো রাখুন

২.নিজের তোয়ালে, পোশাক ও চিরুনি ব্যবহার করুন

৩.আক্রান্ত স্থান স্পর্শ করার পর হাত ধুয়ে ফেলুন

৪.চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ বা ক্রিম নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ব্যবহার করুন

৫.ঘাম জমে এমন পোশাক এড়িয়ে চলুন

৬.দাদের চিকিৎসায় ধৈর্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

দাউদ রোগ প্রতিরোধের জন্য কিছু করণীয়ঃ

১.প্রতিদিন গোসল করে শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।

২.নিজের তোয়ালে ও পোশাক আলাদা ব্যবহার করুন

৩.ঘাম জমে এমন পোশাক এড়িয়ে চলুন।

৪.নিয়মিত পোশাক ও বিছানার চাদর ধুয়ে রোদে শুকান।

৫.পোষা প্রাণীর ত্বকে দাগ দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

৬.স্টেরয়েডযুক্ত ক্রিম নিজে থেকে ব্যবহার করবেন না।

৭.পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শুকনো পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন।

24/07/2026

মাইগ্রেন

মাথা ব্যথা কখনো হয় নি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া ভার। আমাদের সবারই কম বেশি মাথা ব্যথা হয়। মাথা ব্যথা হলেই আমরা ওষুধ কিনে খেয়ে ফেলি। যা করা মোটেই উচিত নয়। ভেবে নিই মাথা থাকলে মাথা ব্যথা তো হবেই। আপনি যদি মেয়ে হয়ে থাকেন তবে আপনার মাথা ব্যথার প্রধান কারণটি হতে পারে মাইগ্রেন।

মাইগ্রেন বিশেষ ধরনের এক মাথাব্যথা। মাইগ্রেনে সাধারণত মাথার একদিকে ব্যথা হয় ।মাইগ্রেন সমস্যায় কখনো ব্যথা মাথার যেকোনো এক পাশ থেকে শুরু হয়ে অনেক সময় পুরো মাথা ব্যথা করে। মাইগ্রেনে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয়। মাথাব্যথার সঙ্গে বমি এবং বমি বমি ভাব, রোগীর দৃষ্টিবিভ্রম মাইগ্রেনের অন্যতম লক্ষণ।

মাইগ্রেনের লক্ষণগুলো-
১.মাথার যেকোন অংশ থেকে ব্যথা শুরু হয়ে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যথার তীব্রতা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

২. মাথা ব্যথার সঙ্গে বমি ভাব এ রোগের অন্যতম লক্ষণ।

৩.অতিরিক্ত হাই তোলা, অস্বস্তিবোধ করা, কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার মতোও উপসর্গগুলো সাধারনত মাথাব্যথা শুরুর আগে শুরু হয়।

৪.চোখের পেছনেও ব্যথা হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত শব্দ ও তীব্র আলোয় মাথা ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

মাইগ্রেনের কারণ
অনেক কারণেই মাইগ্রেন হতে পারে। যেমন-

১) বংশগত বা জেনেটিক।

২) দুশ্চিন্তা/ অস্থিরতা।

৩) জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি।

৪) পরিবেশের প্রভাব।

৫) চকোলেট।

৬) পনির।

৭) মদ্যপান।

৮) কোমল পানীয়।

৯) পিরিওডের সময়।

১০) অতিরিক্ত গরম, প্রচণ্ড শীত।

১১) বেশি সময় ধরে কম্পিউটারের মনিটর ও টিভির সামনে থাকা।

১২) অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ করা

যে সব খাবারে মাইগ্রেন বাড়তে পারে-
কিছু খাবার মাথা ব্যথার তীব্রতা বাড়িয়ে দিতে পারে। যেসব খাবার মাথা ব্যথায় প্রভাব ফেলে তার মধ্যে দুগ্ধজাত খাবার, চকলেট, ডিম, টকজাতীয় ফল, পাস্তা, বাদাম, টমেটো, পেঁয়াজ, আপেল, কলা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে ব্যক্তি বিশেষে এই খাবারের প্রভাবে ভিন্নতা থাকতে পারে।

মাইগ্রেনে করনীয়-
১.তীব্র রোদ বা ঠান্ডা এড়িয়ে চলুন। রোদে গেলে সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে।

২.চোখ ধাধানো কিংবা কম আলোতে কাজ কারা থেকে বিরত থাকুন।

৩.উচ্চশব্দের গান ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ মাইগ্রেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।

৪.দীর্ঘ সময় স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার ও টিভির মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা যাবে না।

৫.নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত সময় ঘুমাতে হবে।
৬.যাদের মাইগ্রেন আছে, তাদের ভালো ঘুম নিশ্চিত করা দরকার।

৭.দীর্ঘ সময় না খেয়েএকদমই থাকা যাবে না।

৮.মাইগ্রেন রোধে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
৯.মাইগ্রেনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে এমন সব খাবার যেমন কফি, চকলেট, পনির, আইসক্রিম, অ্যালকোহল ইত্যাদি বর্জন করুন।

সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়। উচ্চ রক্তচাপ, দৃষ্টিস্বল্পতা,সাইনোসাইটিস, দাঁতের সমস্যা, মস্তিষ্কের টিউমার ও রক্তক্ষরণসহ নানা কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। যে কোন মাথা ব্যথায় চিকিৎসকের পরামর্শমত মেনে ওষুধ খাওয়া উচিত। এছাড়া পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই মাইগ্রেনের মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব।

অন্ত্রে ছিদ্র(Intestinal perforation)অন্ত্রের ছিদ্র, একটি সম্ভাব্য জীবন-হুমকির অবস্থা(life threatening)।যখন গ্যাস্ট্রোইন...
10/07/2026

অন্ত্রে ছিদ্র(Intestinal perforation)

অন্ত্রের ছিদ্র, একটি সম্ভাব্য জীবন-হুমকির অবস্থা(life threatening)।যখন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের দেয়ালে একটি গর্ত তৈরি হয়। যা গুরুতর সংক্রমণ এবং অন্যান্য জটিলতার দিকে পরিচালিত করে।

অন্ত্রের ছিদ্রের কারণ

অন্ত্রের ছিদ্র বিভিন্ন কারণে হতে পারে:
১.পেপটিক আলসার

২.গ্যাস্ট্রিকের কারণে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত রোগ, যেমন:ক্রোনস ডিজিজ (Crohn's disease) বা ডাইভার্টিকুলাইটিস (diverticulitis)

৩.পেটে কোনো ধরনের আঘাত বা ছুরিকাঘাত (trauma)

৪.কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার

৫. টাইফয়েড জ্বর থেকে অনেক সময় অন্ত্রে ছিদ্র হতে পারে

অন্ত্রের ছিদ্রের লক্ষণ
অন্ত্রের ছিদ্রের লক্ষণগুলি ছিদ্রের অবস্থান এবং তীব্রতার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু সাধারণ লক্ষণ অন্তর্ভুক্ত:

১.তীব্র পেটে ব্যথা, প্রায়ই আকস্মিক এবং তীব্র
পেটের ফাঁপা
২.জ্বর এবং ঠান্ডা
৩.বমি বমি ভাব এবং বমি
৪.টাকাইকার্ডিয়া (দ্রুত হৃদস্পন্দন)
৫.অন্ত্রের অভ্যাসের পরিবর্তন, যেমন ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
এই উপসর্গগুলির জন্য অবিলম্বে চিকিৎসার প্রয়োজন, কারণ বিলম্বিত চিকিৎসা পেরিটোনাইটিস, সেপসিস এবং এমনকি মৃত্যু সহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

অন্ত্রের ছিদ্র নির্ণয়

ইমেজিং কৌশল
১.এক্সরে: একটি সাধারণ পেটের এক্স-রে প্রায়শই ডায়াফ্রামের নীচে মুক্ত বাতাস প্রকাশ করতে পারে, এটি একটি ছিদ্র নির্দেশ করে।
২.সিটি স্ক্যান : পেটের আরও বিশদ সিটি স্ক্যান ব্যাপক চিত্র প্রদান করতে পারে, ছিদ্রের অবস্থান এবং ব্যাপ্তি সনাক্ত করে।
৩.আল্ট্রাসাউন্ড: কিছু ক্ষেত্রে পেটের আল্ট্রাসাউন্ড ব্যবহার করা যেতে পারে, বিশেষ করে শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে, তরল জমে থাকা বা ফোড়ার গঠন শনাক্ত করতে।

চিকিৎসা

১.অন্ত্রের ছিদ্রের চিকিৎসা সাধারণত অস্ত্রোপচারের(operation) মাধ্যমে করতে হয়।

২.অ্যান্টিবায়োটিক: সংক্রমণ মোকাবেলা এবং সেপসিস প্রতিরোধ।
৩.অন্ত্রের বিশ্রাম: রোগীদের খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে, যাতে অন্ত্রগুলি বিশ্রাম পায়।
৪.পুষ্টি সহায়তা: অন্ত্র নিরাময় করার সময় শিরায় খাওয়ানো প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে।

অস্ত্রোপচার পরবর্তী যত্ন
অন্ত্রের ছিদ্র অস্ত্রোপচার থেকে রিকোভার করার জন্য সতর্ক পর্যবেক্ষণ এবং ফলো-আপ যত্ন জড়িত। রোগীদের প্রয়োজন হতে পারে:

১.ব্যথা ব্যবস্থাপনা(pain management)
২.মুখে খাবার গ্রহণের ধীরে ধীরে পুনঃপ্রবর্তন(re-establishment of oral feeding)
৩.সংক্রমণ বা জটিলতার লক্ষণগুলির জন্য পর্যবেক্ষণ
৪.স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সাথে নিয়মিত ফলো-আপ
৫.পুনর্বাসন,
৬.পুষ্টির পরামর্শ
৭.জীবনধারা পরিবর্তন সহ, পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক হজম স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে।

প্রতিরোধ
১.আলসার জাতীয় রোগের চিকিৎসা নেয়া
২.দীর্ঘদিন ব্যথার ওষুধ বা স্টেরওয়েড জাতীয় ওষুধ না খাওয়া।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজপেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ (PVD) হলো এক ধরনের রক্তনালীর সমস্যা যা শরীরের পেরিফেরাল বা প্রান্তীয় অ...
03/07/2026

পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ (PVD) হলো এক ধরনের রক্তনালীর সমস্যা যা শরীরের পেরিফেরাল বা প্রান্তীয় অংশের ধমনী এবং শিরাগুলিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। এটি সাধারণত পায়ে বেশি প্রভাব ফেলে এবং প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, ক্লান্তি বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। যদি সময়মতো এই রোগের প্রতিকার না করা হয়, তাহলে এটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। PVD সাধারণত ধমনীতে পুরু প্লাক বা চর্বির আবরণ জমার কারণে ঘটে, যা ধমনী সংকুচিত করে এবং রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগের কারণ

১.এথেরোস্ক্লেরোসিস: ধমনীর অভ্যন্তরে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে ধমনী সংকুচিত হয়, যার ফলে রক্তপ্রবাহ কমে যায়।

২.ধূমপান: ধূমপান ধমনীর ক্ষতি করে এবং রক্তপ্রবাহের জন্য বাধা সৃষ্টি করে।

৩.ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার উচ্চমাত্রা ধমনীর প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।

৪.উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ ধমনীগুলির প্রাচীর ক্ষতি করতে পারে, যা PVD এর ঝুঁকি বাড়ায়।

৫.উচ্চ কোলেস্টেরল: রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমে ধমনীগুলিতে প্লাক তৈরি করতে পারে, যা রক্তপ্রবাহকে বাধা দেয়।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগের লক্ষণ

১.পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি: বিশেষ করে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি অনুভব করা।

২.পায়ের ঠান্ডা হয়ে যাওয়া: পায়ের চামড়া শীতল হয়ে পড়ে এবং রক্তপ্রবাহ কমে যায়।

৩.পায়ের রং পরিবর্তন: পায়ের চামড়া ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যেতে পারে।

৪.পায়ের ঘা বা ক্ষত: পায়ে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হলে তা সহজে সারতে চায় না।

৫.পায়ের লোম ঝরে যাওয়া: রক্তপ্রবাহ কমে গেলে পায়ের চামড়া শুষ্ক হয়ে যায় এবং লোম ঝরে যেতে পারে।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগের চিকিৎসা
PVD-এর চিকিৎসা করা হয় রোগের তীব্রতা, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সমস্যার উপর ভিত্তি করে। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করা এবং রোগের লক্ষণগুলো উপশম করা।

১. জীবনযাত্রার পরিবর্তন:
জীবনযাত্রার পরিবর্তন PVD-এর চিকিৎসার একটি মূল অংশ। এটি শুধুমাত্র রোগের লক্ষণগুলো উপশম করতে সাহায্য করে না, বরং রোগের অগ্রগতি রোধ করতেও কার্যকর। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো:

ধূমপান ত্যাগ করা: ধূমপান ধমনীর ক্ষতি করে এবং রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। ধূমপান ত্যাগ করলে PVD-এর ঝুঁকি কমে যায় এবং ধমনীতে প্লাক জমার প্রক্রিয়া ধীর হয়।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: উচ্চ ফাইবার, কম চর্বি এবং কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, এবং পূর্ণ শস্যজাত খাবার খাওয়া উচিত।

ব্যায়াম করা: নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষ করে হাঁটাহাঁটি, পায়ের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। দৈনিক ৩০-৪০ মিনিট ব্যায়াম করলে PVD-এর লক্ষণগুলো কমতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন PVD-এর ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

২. ওষুধ:
PVD-এর লক্ষণ এবং রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহৃত হতে পারে।

অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ: যেমন অ্যাসপিরিন বা ক্লপিডোগ্রেল (Clopid), ধমনীগুলিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

স্ট্যাটিনস: রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং ধমনীগুলিতে প্লাক জমার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
হাইপারটেনশন ওষুধ: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ গ্রহণ করতে হতে পারে, যা ধমনীগুলির উপর চাপ কমায় এবং রক্তপ্রবাহ সহজ করে।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ: যদি রোগীর ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করতে হতে পারে।
৩. নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি:
যেসব রোগী জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ওষুধের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফলাফল পান না, তাদের ক্ষেত্রে নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন:

এঞ্জিওপ্লাস্টি: এঞ্জিওপ্লাস্টি পদ্ধতিতে ধমনীতে বেলুন ঢুকিয়ে সংকুচিত অংশটি সম্প্রসারিত করা হয় এবং কখনও কখনও একটি স্টেন্ট বসানো হয়, যা ধমনীর সংকোচন রোধ করে।

লেজার থেরাপি: কিছু ক্ষেত্রে, লেজার থেরাপি ব্যবহার করে ধমনীতে জমে থাকা প্লাক সরিয়ে রক্তপ্রবাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।

৪. সার্জারি:
যদি রোগটি অত্যন্ত জটিল এবং অন্যান্য পদ্ধতিগুলি কার্যকর না হয়, তবে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। কিছু সাধারণ সার্জিক্যাল পদ্ধতি হলো:

বাইপাস সার্জারি: এই পদ্ধতিতে, সংকুচিত বা অবরুদ্ধ ধমনীর পাশ দিয়ে নতুন একটি রক্তনালী তৈরি করা হয়, যা রক্তপ্রবাহকে সুগম করে।

এন্ডার্টেকটমি: এই পদ্ধতিতে, সরাসরি ধমনীর অভ্যন্তর থেকে প্লাক অপসারণ করা হয়।

থ্রম্বেকটমি: রক্তনালী থেকে জমাট বাঁধা রক্ত সরিয়ে ফেলার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধের উপায়

১. ধূমপান ত্যাগ করা:
ধূমপান PVD-এর প্রধান ঝুঁকিগুলির একটি। তাই ধূমপান ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।

২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
ফাইবার সমৃদ্ধ এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার যেমন ভাজা খাবার, ফাস্ট ফুড, এবং লাল মাংস এড়িয়ে চলতে হবে।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম:
নিয়মিত ব্যায়াম রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্তপ্রবাহের গতি বৃদ্ধি করে।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ:
অতিরিক্ত ওজনের কারণে ধমনীগুলিতে চাপ বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা:
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, এবং ব্লাড সুগার নিয়মিত পরীক্ষা করে রাখলে রোগের ঝুঁকি কমে যায়।

শেষকথা
পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা সময়মতো সনাক্ত এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যায়। যদি PVD-এর লক্ষণগুলি অনুভূত হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং জীবনযাত্রার অভ্যাস পরিবর্তন করে এই রোগ থেকে সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব।

25/06/2026

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস হল শরীরের এমন একটি গুরুতর অবস্থা, যখন আমাদের শরীর নিজে থেকে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা তৈরি হওয়া ইনসুলিন দক্ষতার সঙ্গে (কার্যকরভাবে) ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে রক্তে শর্করার বা গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।

ইনসুলিন মানুষের শরীরের কোষগুলি তে শর্করা প্রবেশ নিয়ন্ত্রন করে।এর দ্বারা আমাদের খাবার থেকে যে চিনি বা শর্করা (গ্লুকোজ) পাওয়া যায়, তা রক্তের মধ্য দিয়ে বাহিত হয়ে কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। তারপর, কোষ শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য সেই গ্লুকোজ ব্যবহার করে। ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয়ের বিশেষ কোষ দ্বারা তৈরি হরমোন আইলেটস (আই-লেটস) থেকে। ডায়াবেটিস-জনিত ইনসুলিনের তারতম্যের জন্য আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রার তারতম্য ঘটে। শরীরে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।

ডায়াবেটিসের ধরণ

১.টাইপ 1
২. টাইপ 2
টাইপ 1 এবং টাইপ 2 হল ডায়াবেটিসের দুটি সাধারণ রূপ। এছাড়া অন্যান্য ধরণেরও ডায়াবেটিস হতে পারে, যেমন গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, নিওনাটাল ডায়াবেটিস, জেসটেসানাল ডায়াবেটিস ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

টাইপ 1 ডায়াবেটিসের লক্ষণ

টাইপ 1 ডায়াবেটিস-এর সূত্রপাত খুব দ্রুত ঘটে এবং নিম্নলিখিত উপসর্গ গুলি হঠাৎ দেখা দিতে পারে:

১.তীব্র তৃষ্ণা
২. অতিরিক্ত প্রস্রাবের প্রবণতা
৩. দ্রুত ওজন হ্রাস
৪.প্রচণ্ড ক্ষুধা
৫.দুর্বলতা বা ক্লান্তি
৬.অস্বাভাবিক বিরক্তি
৭.ঝাপসা দৃষ্টি
৮.বমি বমি ভাব
৯.পেটে ব্যথা
১০.অপ্রীতিকর গন্ধের অনুভূতি
১১.চুলকানি

টাইপ ২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ : ডায়াবেটিসের সবচেয়ে সাধারণ রূপটি কে টাইপ 2 ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-অনির্ভর ডায়াবেটিস বলা হয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় 90% লোকের টাইপ 2 ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। টাইপ 2 ডায়াবেটিস কে প্রাপ্তবয়স্ক সূচক (adult-onset) ডায়াবেটিস-ও বলা হয়, কারণ এটি সাধারণত 35 বছর বয়সের পরে প্রকাশ পায়। তবে, ইদানিং ক্রমবর্ধমান সংখ্যক অল্পবয়স্ক মানুষদের-ও টাইপ 2 ডায়াবেটিস হচ্ছে। টাইপ 2 ডায়াবেটিস সাধারণত স্থূলকায় ব্যাক্তি এবং ব্যায়াম-রহিত (sedentary) জীবনধারার অভ্যস্ত ব্যাক্তি দের হয়ে থাকে।

টাইপ 2 ডায়াবেটিস-এর লক্ষণ গুলি টাইপ 1 ডায়াবেটিস এর মতোই। কিন্তু টাইপ 2 ডায়াবেটিসের সূত্রপাত সাধারণত ধীর গতিতে হয়। লক্ষণগুলিইও টাইপ 1 ডায়াবেটিসের মতো স্পষ্ট ভাবে লক্ষণীয় হয় না। এই কারণে, অনেকে ভুলবশত অসতর্ক হন।

টাইপ 2 ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
১.ধীরে গতিতে ক্ষতস্থান নিরাময়
২.তীব্র তৃষ্ণা
৩.অতিরিক্ত প্রস্রাবের প্রবণতা
৪. দ্রুত হারে ওজন হ্রাস
৫.অপ্রীতিকর গন্ধের অনুভূতি
৬.হাতে এবং পায়ে ঝিনঝিন চুলকানি
৭. মূত্রনালীতে সংক্রমণ
৮.ঝাপসা দৃষ্টি
৯.মেজাজ পরিবর্তন
১০.মাথাব্যথা,মাথা ঘোরা
১১.বগল এবং ঘাড়ের কাছে কালচে ছাপ

টাইপ 1 ডায়াবেটিস চিকিৎসা

টাইপ 1 ডায়াবেটিস ইনসুলিন ইনজেকশন গ্রহণ করে বা ইনসুলিন পাম্প বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার করে চিকিৎসা করা হয়। বাইরে থেকে প্রয়োগ করা (ইঞ্জেকটেড) ইনসুলিন কোষে শর্করা যাতায়াতের চাবি হিসাবে কাজ করে। শরীরের কোষগুলিতে গ্লুকোজ প্রবেশ করে। অবশ্য ইনসুলিন নেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হল কতটা ইনসুলিন নিতে হবে তা সঠিকভাবে জানা কঠিন। এর পরিমাণ অনেক কারণের উপর নির্ভর করে, যেমন-

খাদ্যাভাস ব্যায়াম মানসিক চাপ আবেগ এবং সাধারণ স্বাস্থ্য ইনসুলিনের কী ডোজ গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারণ করা একটি জটিল কাজ। যদি কেউ অত্যধিক ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাহলে তার রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক ভাবে নিম্ন স্তরে নেমে যেতে পারে। এটিকে হাইপো-গ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একই ভাবে যদি প্রয়োজনের থেকে খুব কম পরিমাণ ইনসুলিন গ্রহণ করা হয় তবে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু কোষগুলিতে শর্করার অভাব দেখা দেয়। একে হাইপার-গ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এই অবস্থাতে-ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

টাইপ 2 ডায়াবেটিসের চিকিৎসা: এই ধরনের ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক করার জন্য শরীর দ্বারা উত্পাদিত ইনসুলিনকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করার উপায় খুঁজে বের করা জড়িত। কার্ডিওলজি ডাক্তাররা ডায়েট, ব্যায়াম এবং ওজন কমানোর উপর জোর দেন। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা বেড়ে যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রঃ ডায়াবেটিসে কি কি খাবেন না?
ডায়াবেটিসে কখনই শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া চলবে না। বিশেষত,

যেসব খাদ্য বা পানীয়তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে সেসব বর্জন করতে হবে। কাঁচা লবণ খাওয়া এড়াতে হবে। বেশি ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত চা বা কফি পান বারণ। ফ্যাট-যুক্ত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার বর্জন করতে হবে। ভাত, আলু, কলা এবং গাজরে শর্করা বেশি থাকে। সুতরাং এই খাবার গুলি খাওয়া নিয়ন্ত্রন করতে হবে। ডায়াবেটিসে কোন কোন ফল খাওয়া উচিত? নিম্নলিখিত ফলগুলো ডায়াবেটিসে খাওয়া চলে -

আপেল, অ্যাভোকাডো, পেঁপে, বেরি জাতীয় ফল কামরাঙা, নাশপাতি ,কমলা।

সুগার এবং ডায়াবেটিস-এর মধ্যে পার্থক্য কি?

ব্লাড সুগার বা গ্লুকোজ হল আমাদের রক্তে অবস্থিত শর্করা বা চিনি। এই শর্করা আমাদের খাবার থেকে আসে এবং এটি শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। শরীরে শক্তির চাহিদা পূরণের জন্য, রক্ত শরীরের প্রত্যেকটি কোষে গ্লুকোজ বহন করে। ডায়াবেটিস হল এমন একটি রোগ যেখানে রক্তে এই শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকেনা।

ডায়াবেটিস কি পুরোপুরি সারানো সম্ভব?

টাইপ ১ ডায়াবেটিস বর্তমানে পুরোপুরি সারানো সম্ভব নয়, তবে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়মিত ডায়েট, ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ডায়াবেটিসের প্রথম সতর্ক সংকেত কী কী?
বারবার প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অযৌক্তিক ওজন কমে যাওয়া, এবং দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া ডায়াবেটিসের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।

ডায়াবেটিসের জটিলতা কী হতে পারে?
দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ডায়াবেটিস হৃদরোগ, কিডনি বিকল, চোখের রেটিনা ক্ষতি, স্নায়ুর সমস্যা এবং পায়ের ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য করণীয় কী? সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার, এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা প্রতিরোধে সহায়ক।

10/06/2026
হাঁটু ব্যথা মানবদেহে ওজন বহনকারী যে কটি অস্থিসন্ধি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাঁটু। হাঁটুর ব্যথা প্রধানত বয...
02/06/2026

হাঁটু ব্যথা

মানবদেহে ওজন বহনকারী যে কটি অস্থিসন্ধি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাঁটু। হাঁটুর ব্যথা প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি হয়ে থাকে। তবে এটি এমন এক সমস্যা, যেটা যে কারও যেকোনো সময় হতে পারে। সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। যাঁদের ওজন বেশি, তাঁরা হাঁটুর ব্যথায় বেশি ভোগেন। তবে সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে হাঁটুব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কারণ

১.অস্টিওআর্থ্রাইটিস: বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর জয়েন্টের তরুণাস্থি ক্ষয় হয়ে যায়, যার ফলে ব্যথা হয়।

২.রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: এটি একটি অটোইমিউন রোগ যা হাঁটুর জয়েন্টসহ শরীরের অন্যান্য জয়েন্টগুলিকে প্রভাবিত করে।

৩.গাউট: রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গাউট রোগ হয় এবং এর ফলে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে।

৪. হাঁটুর আঘাত: খেলাধুলা বা দুর্ঘটনায় হাঁটুতে আঘাত লাগলে ব্যথা হতে পারে।

৫. বার্সাইটিস: হাঁটুর জয়েন্টের চারপাশে থাকা বার্সা নামক থলি ফুলে গেলে ব্যথা হয়।

৬. মেনিস্কাস আঘাত: হাঁটুর মধ্যে থাকা মেনিস্কাস নামক তরুণাসথি ফেটে গেলে ব্যথা হয়।

৭. অতিরিক্ত ওজন: অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর জয়েন্টে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং ব্যথা সৃষ্টি করে।

চিকিৎসা ও করণীয়

১.হাঁটুব্যথা হঠাৎ শুরু হলে বিশ্রাম নিন। এতে হাঁটুর ওপর চাপ কমবে।

২.দিনে তিন–চারবার হাঁটুতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বরফের প্যাক ব্যবহার করুন।

৩.হাঁটুর সাপোর্ট ব্যান্ডেজ ব্যবহার করুন।

৪.হাঁটু উঁচু করে রাখতে হবে। রাতে হাঁটুর নিচে একটা পাতলা বালিশ রাখতে পারেন। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে।

৫.হাঁটুব্যথার কারণ শনাক্ত করে এর চিকিৎসা নিতে হবে।

৬.হাঁটুব্যথা উপশমের জন্য বিশেষ ব্যায়াম ও কিছু থেরাপি কার্যকর। এ জন্য ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

৭.ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। চর্বি ও চিনিজাতীয় খাবার কম খান।

৮.বিশেষ ধরনের জুতা ও হাঁটুর জন্য সহায়ক ব্রেস ব্যবহার করুন। নরম ও আরামদায়ক জুতা পরিধান করুন।

৯.পেশির শক্তি বাড়াতে ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং গুরুত্বপূর্ণ। সাঁতার, সাইকেল চালানো বামৃদু স্ট্রেচিং ব্যায়াম ও হাঁটুর হালকা ব্যায়ামগুলো করুন।

১০.চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন।

১১.হাঁটুর ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। পরামর্শ অনুযায়ী কিছুদিন প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন–জাতীয় ব্যথানাশক সেবন করা যেতে পারে। এ ছাড়া কার্টিলেজ রক্ষাকারী ওষুধ যেমন গ্লুকোসামিন খাওয়া যেতে পারে।

১২.গুরুতর ক্ষেত্রে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বা লিগামেন্ট রিপেয়ার সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

১.হাঁটুর জয়েন্টগুলোতে চাপ কমাতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২.দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন।

৩.প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।

৪.সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।

৫.পুষ্টিকর খাবার (ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি) খেতে হবে।

৬. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

03/04/2026

হাম বা Measles এর চিকিৎসা 🏠 বাসায় নাকি 🏥 হাসপাতালে—কোনটি ভালো?
হাম বা এর চিকিৎসা 🏠 বাসায় নাকি 🏥 হাসপাতালে—কোনটি ভালো?

হাম বা Measles একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, এটি এতটাই সংক্রামক যে, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ৯০% পর্যন্ত অরক্ষিত মানুষ সংক্রমিত হতে পারে, তাই রোগীকে কোথায় রাখা হবে এবং কীভাবে যত্ন নেওয়া হবে—এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

#কিভাবে_ছড়ায়?

১। #আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে (droplet infection)
২। #বাতাসে ভেসে থাকা ভাইরাস শ্বাসের মাধ্যমে
৩। #আক্রান্ত ব্যক্তির নাক-মুখের স্রাবের সংস্পর্শে

#বাসায়_চিকিৎসা উপযুক্ত যখন:

* রোগের লক্ষণ হালকা (জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি)
* শ্বাসকষ্ট বা মারাত্মক দুর্বলতা নেই
রোগী পানি ও খাবার নিতে পারছে
* পরিবারের কেউ সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারছে

👉 এ ক্ষেত্রে সাধারণত বাসায়ই বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার, এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিলেই ভালো হয়।

#হাসপাতালে_নেওয়া জরুরি যখন:

১। #শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া বা খিঁচুনি দেখা দেয়
২। #প্রচণ্ড দুর্বলতা বা পানিশূন্যতা হয়
৩। #রোগী কিছু খেতে বা পান করতে পারছে না
৪। #ছোট শিশু (বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে) বা অপুষ্ট শিশু
৫। #রোগ জটিল আকার নিচ্ছে

👉 এসব ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া নিরাপদ।

😷 হামের রোগীকে অন্য রোগীদের সাথে রাখলে কী সমস্যা?

১। #হাম খুব দ্রুত #বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় (কোভিডের চেয়ে দ্রুত ছড়ায়)
২। ুমে থাকলে #অন্য_রোগীরা সহজেই সংক্রমিত হতে পারে
৩। বিশেষ করে #শিশু, #গর্ভবতী_নারী বা দুর্বল রোগীদের জন্য ঝুঁকি বেশি
৪। হাসপাতালে থাকলেও রোগীকে #আইসোলেশন (আলাদা কক্ষে) রাখা উচিত

👉 তাই হামের রোগীকে সাধারণ রোগীদের সাথে রাখা ঠিক নয়।
থাকুন

🏥 IPC কেন অতি গুরুত্বপূর্ণ?

Infection Prevention and Control = সংক্রমণ ঠেকানোর শক্তিশালী ঢাল ⚔️

✔️ মাস্ক ব্যবহার
✔️ রোগী আলাদা রাখা
✔️ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা
✔️ পরিবেশ পরিষ্কার রাখা

✔️ সংক্ষেপে
১। হালকা হলে বাসায় যত্ন নেওয়া যায়
২। গুরুতর হলে হাসপাতালে নেওয়া উচিত
৩। অন্যদের থেকে আলাদা রাখা খুবই জরুরি
৪। বাসা এবং হাসপাতাল সবখানেই IPC অতি গুরুত্বপূর্ণ।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Saifur Rahman Fahad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share