Dr. Saifur Rahman Fahad

Dr. Saifur Rahman Fahad Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr. Saifur Rahman Fahad, Medical and health, Dhaka.

পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজপেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ (PVD) হলো এক ধরনের রক্তনালীর সমস্যা যা শরীরের পেরিফেরাল বা প্রান্তীয় অ...
03/07/2026

পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ (PVD) হলো এক ধরনের রক্তনালীর সমস্যা যা শরীরের পেরিফেরাল বা প্রান্তীয় অংশের ধমনী এবং শিরাগুলিতে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। এটি সাধারণত পায়ে বেশি প্রভাব ফেলে এবং প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা, ক্লান্তি বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। যদি সময়মতো এই রোগের প্রতিকার না করা হয়, তাহলে এটি গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। PVD সাধারণত ধমনীতে পুরু প্লাক বা চর্বির আবরণ জমার কারণে ঘটে, যা ধমনী সংকুচিত করে এবং রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগের কারণ

১.এথেরোস্ক্লেরোসিস: ধমনীর অভ্যন্তরে চর্বি ও কোলেস্টেরল জমে ধমনী সংকুচিত হয়, যার ফলে রক্তপ্রবাহ কমে যায়।

২.ধূমপান: ধূমপান ধমনীর ক্ষতি করে এবং রক্তপ্রবাহের জন্য বাধা সৃষ্টি করে।

৩.ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করার উচ্চমাত্রা ধমনীর প্রদাহ বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।

৪.উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ ধমনীগুলির প্রাচীর ক্ষতি করতে পারে, যা PVD এর ঝুঁকি বাড়ায়।

৫.উচ্চ কোলেস্টেরল: রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমে ধমনীগুলিতে প্লাক তৈরি করতে পারে, যা রক্তপ্রবাহকে বাধা দেয়।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগের লক্ষণ

১.পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি: বিশেষ করে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি অনুভব করা।

২.পায়ের ঠান্ডা হয়ে যাওয়া: পায়ের চামড়া শীতল হয়ে পড়ে এবং রক্তপ্রবাহ কমে যায়।

৩.পায়ের রং পরিবর্তন: পায়ের চামড়া ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যেতে পারে।

৪.পায়ের ঘা বা ক্ষত: পায়ে ক্ষত বা ঘা সৃষ্টি হলে তা সহজে সারতে চায় না।

৫.পায়ের লোম ঝরে যাওয়া: রক্তপ্রবাহ কমে গেলে পায়ের চামড়া শুষ্ক হয়ে যায় এবং লোম ঝরে যেতে পারে।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগের চিকিৎসা
PVD-এর চিকিৎসা করা হয় রোগের তীব্রতা, রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সমস্যার উপর ভিত্তি করে। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করা এবং রোগের লক্ষণগুলো উপশম করা।

১. জীবনযাত্রার পরিবর্তন:
জীবনযাত্রার পরিবর্তন PVD-এর চিকিৎসার একটি মূল অংশ। এটি শুধুমাত্র রোগের লক্ষণগুলো উপশম করতে সাহায্য করে না, বরং রোগের অগ্রগতি রোধ করতেও কার্যকর। কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো:

ধূমপান ত্যাগ করা: ধূমপান ধমনীর ক্ষতি করে এবং রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। ধূমপান ত্যাগ করলে PVD-এর ঝুঁকি কমে যায় এবং ধমনীতে প্লাক জমার প্রক্রিয়া ধীর হয়।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: উচ্চ ফাইবার, কম চর্বি এবং কম কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, এবং পূর্ণ শস্যজাত খাবার খাওয়া উচিত।

ব্যায়াম করা: নিয়মিত ব্যায়াম, বিশেষ করে হাঁটাহাঁটি, পায়ের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। দৈনিক ৩০-৪০ মিনিট ব্যায়াম করলে PVD-এর লক্ষণগুলো কমতে পারে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন PVD-এর ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

২. ওষুধ:
PVD-এর লক্ষণ এবং রোগের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহৃত হতে পারে।

অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ: যেমন অ্যাসপিরিন বা ক্লপিডোগ্রেল (Clopid), ধমনীগুলিতে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

স্ট্যাটিনস: রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং ধমনীগুলিতে প্লাক জমার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
হাইপারটেনশন ওষুধ: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ওষুধ গ্রহণ করতে হতে পারে, যা ধমনীগুলির উপর চাপ কমায় এবং রক্তপ্রবাহ সহজ করে।

ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ: যদি রোগীর ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ওষুধ বা ইনসুলিন গ্রহণ করতে হতে পারে।
৩. নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি:
যেসব রোগী জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং ওষুধের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফলাফল পান না, তাদের ক্ষেত্রে নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতি গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন:

এঞ্জিওপ্লাস্টি: এঞ্জিওপ্লাস্টি পদ্ধতিতে ধমনীতে বেলুন ঢুকিয়ে সংকুচিত অংশটি সম্প্রসারিত করা হয় এবং কখনও কখনও একটি স্টেন্ট বসানো হয়, যা ধমনীর সংকোচন রোধ করে।

লেজার থেরাপি: কিছু ক্ষেত্রে, লেজার থেরাপি ব্যবহার করে ধমনীতে জমে থাকা প্লাক সরিয়ে রক্তপ্রবাহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যায়।

৪. সার্জারি:
যদি রোগটি অত্যন্ত জটিল এবং অন্যান্য পদ্ধতিগুলি কার্যকর না হয়, তবে সার্জারি প্রয়োজন হতে পারে। কিছু সাধারণ সার্জিক্যাল পদ্ধতি হলো:

বাইপাস সার্জারি: এই পদ্ধতিতে, সংকুচিত বা অবরুদ্ধ ধমনীর পাশ দিয়ে নতুন একটি রক্তনালী তৈরি করা হয়, যা রক্তপ্রবাহকে সুগম করে।

এন্ডার্টেকটমি: এই পদ্ধতিতে, সরাসরি ধমনীর অভ্যন্তর থেকে প্লাক অপসারণ করা হয়।

থ্রম্বেকটমি: রক্তনালী থেকে জমাট বাঁধা রক্ত সরিয়ে ফেলার জন্য এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধের উপায়

১. ধূমপান ত্যাগ করা:
ধূমপান PVD-এর প্রধান ঝুঁকিগুলির একটি। তাই ধূমপান ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।

২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
ফাইবার সমৃদ্ধ এবং কম চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে। উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার যেমন ভাজা খাবার, ফাস্ট ফুড, এবং লাল মাংস এড়িয়ে চলতে হবে।

৩. নিয়মিত ব্যায়াম:
নিয়মিত ব্যায়াম রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রক্তপ্রবাহের গতি বৃদ্ধি করে।

৪. ওজন নিয়ন্ত্রণ:
অতিরিক্ত ওজনের কারণে ধমনীগুলিতে চাপ বাড়ে এবং রক্তপ্রবাহে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৫. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা:
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, এবং ব্লাড সুগার নিয়মিত পরীক্ষা করে রাখলে রোগের ঝুঁকি কমে যায়।

শেষকথা
পেরিফেরাল ভাস্কুলার রোগ একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যা সময়মতো সনাক্ত এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যায়। যদি PVD-এর লক্ষণগুলি অনুভূত হয়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত। প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং জীবনযাত্রার অভ্যাস পরিবর্তন করে এই রোগ থেকে সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব।

25/06/2026

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস হল শরীরের এমন একটি গুরুতর অবস্থা, যখন আমাদের শরীর নিজে থেকে ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা তৈরি হওয়া ইনসুলিন দক্ষতার সঙ্গে (কার্যকরভাবে) ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে রক্তে শর্করার বা গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়।

ইনসুলিন মানুষের শরীরের কোষগুলি তে শর্করা প্রবেশ নিয়ন্ত্রন করে।এর দ্বারা আমাদের খাবার থেকে যে চিনি বা শর্করা (গ্লুকোজ) পাওয়া যায়, তা রক্তের মধ্য দিয়ে বাহিত হয়ে কোষের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। তারপর, কোষ শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির জন্য সেই গ্লুকোজ ব্যবহার করে। ইনসুলিন তৈরি হয় অগ্ন্যাশয়ের বিশেষ কোষ দ্বারা তৈরি হরমোন আইলেটস (আই-লেটস) থেকে। ডায়াবেটিস-জনিত ইনসুলিনের তারতম্যের জন্য আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রার তারতম্য ঘটে। শরীরে বেশ কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়।

ডায়াবেটিসের ধরণ

১.টাইপ 1
২. টাইপ 2
টাইপ 1 এবং টাইপ 2 হল ডায়াবেটিসের দুটি সাধারণ রূপ। এছাড়া অন্যান্য ধরণেরও ডায়াবেটিস হতে পারে, যেমন গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, নিওনাটাল ডায়াবেটিস, জেসটেসানাল ডায়াবেটিস ইত্যাদি।

ডায়াবেটিস এর লক্ষণ

টাইপ 1 ডায়াবেটিসের লক্ষণ

টাইপ 1 ডায়াবেটিস-এর সূত্রপাত খুব দ্রুত ঘটে এবং নিম্নলিখিত উপসর্গ গুলি হঠাৎ দেখা দিতে পারে:

১.তীব্র তৃষ্ণা
২. অতিরিক্ত প্রস্রাবের প্রবণতা
৩. দ্রুত ওজন হ্রাস
৪.প্রচণ্ড ক্ষুধা
৫.দুর্বলতা বা ক্লান্তি
৬.অস্বাভাবিক বিরক্তি
৭.ঝাপসা দৃষ্টি
৮.বমি বমি ভাব
৯.পেটে ব্যথা
১০.অপ্রীতিকর গন্ধের অনুভূতি
১১.চুলকানি

টাইপ ২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ : ডায়াবেটিসের সবচেয়ে সাধারণ রূপটি কে টাইপ 2 ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন-অনির্ভর ডায়াবেটিস বলা হয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় 90% লোকের টাইপ 2 ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। টাইপ 2 ডায়াবেটিস কে প্রাপ্তবয়স্ক সূচক (adult-onset) ডায়াবেটিস-ও বলা হয়, কারণ এটি সাধারণত 35 বছর বয়সের পরে প্রকাশ পায়। তবে, ইদানিং ক্রমবর্ধমান সংখ্যক অল্পবয়স্ক মানুষদের-ও টাইপ 2 ডায়াবেটিস হচ্ছে। টাইপ 2 ডায়াবেটিস সাধারণত স্থূলকায় ব্যাক্তি এবং ব্যায়াম-রহিত (sedentary) জীবনধারার অভ্যস্ত ব্যাক্তি দের হয়ে থাকে।

টাইপ 2 ডায়াবেটিস-এর লক্ষণ গুলি টাইপ 1 ডায়াবেটিস এর মতোই। কিন্তু টাইপ 2 ডায়াবেটিসের সূত্রপাত সাধারণত ধীর গতিতে হয়। লক্ষণগুলিইও টাইপ 1 ডায়াবেটিসের মতো স্পষ্ট ভাবে লক্ষণীয় হয় না। এই কারণে, অনেকে ভুলবশত অসতর্ক হন।

টাইপ 2 ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:
১.ধীরে গতিতে ক্ষতস্থান নিরাময়
২.তীব্র তৃষ্ণা
৩.অতিরিক্ত প্রস্রাবের প্রবণতা
৪. দ্রুত হারে ওজন হ্রাস
৫.অপ্রীতিকর গন্ধের অনুভূতি
৬.হাতে এবং পায়ে ঝিনঝিন চুলকানি
৭. মূত্রনালীতে সংক্রমণ
৮.ঝাপসা দৃষ্টি
৯.মেজাজ পরিবর্তন
১০.মাথাব্যথা,মাথা ঘোরা
১১.বগল এবং ঘাড়ের কাছে কালচে ছাপ

টাইপ 1 ডায়াবেটিস চিকিৎসা

টাইপ 1 ডায়াবেটিস ইনসুলিন ইনজেকশন গ্রহণ করে বা ইনসুলিন পাম্প বা অন্য ডিভাইস ব্যবহার করে চিকিৎসা করা হয়। বাইরে থেকে প্রয়োগ করা (ইঞ্জেকটেড) ইনসুলিন কোষে শর্করা যাতায়াতের চাবি হিসাবে কাজ করে। শরীরের কোষগুলিতে গ্লুকোজ প্রবেশ করে। অবশ্য ইনসুলিন নেওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হল কতটা ইনসুলিন নিতে হবে তা সঠিকভাবে জানা কঠিন। এর পরিমাণ অনেক কারণের উপর নির্ভর করে, যেমন-

খাদ্যাভাস ব্যায়াম মানসিক চাপ আবেগ এবং সাধারণ স্বাস্থ্য ইনসুলিনের কী ডোজ গ্রহণ করা হবে তা নির্ধারণ করা একটি জটিল কাজ। যদি কেউ অত্যধিক ইনসুলিন গ্রহণ করেন, তাহলে তার রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনক ভাবে নিম্ন স্তরে নেমে যেতে পারে। এটিকে হাইপো-গ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একই ভাবে যদি প্রয়োজনের থেকে খুব কম পরিমাণ ইনসুলিন গ্রহণ করা হয় তবে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু কোষগুলিতে শর্করার অভাব দেখা দেয়। একে হাইপার-গ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এই অবস্থাতে-ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

টাইপ 2 ডায়াবেটিসের চিকিৎসা: এই ধরনের ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক করার জন্য শরীর দ্বারা উত্পাদিত ইনসুলিনকে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করার উপায় খুঁজে বের করা জড়িত। কার্ডিওলজি ডাক্তাররা ডায়েট, ব্যায়াম এবং ওজন কমানোর উপর জোর দেন। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে শরীরের ইনসুলিন ব্যবহারের ক্ষমতা বেড়ে যায়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রঃ ডায়াবেটিসে কি কি খাবেন না?
ডায়াবেটিসে কখনই শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া চলবে না। বিশেষত,

যেসব খাদ্য বা পানীয়তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে সেসব বর্জন করতে হবে। কাঁচা লবণ খাওয়া এড়াতে হবে। বেশি ভাজা ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। অতিরিক্ত চা বা কফি পান বারণ। ফ্যাট-যুক্ত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার বর্জন করতে হবে। ভাত, আলু, কলা এবং গাজরে শর্করা বেশি থাকে। সুতরাং এই খাবার গুলি খাওয়া নিয়ন্ত্রন করতে হবে। ডায়াবেটিসে কোন কোন ফল খাওয়া উচিত? নিম্নলিখিত ফলগুলো ডায়াবেটিসে খাওয়া চলে -

আপেল, অ্যাভোকাডো, পেঁপে, বেরি জাতীয় ফল কামরাঙা, নাশপাতি ,কমলা।

সুগার এবং ডায়াবেটিস-এর মধ্যে পার্থক্য কি?

ব্লাড সুগার বা গ্লুকোজ হল আমাদের রক্তে অবস্থিত শর্করা বা চিনি। এই শর্করা আমাদের খাবার থেকে আসে এবং এটি শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। শরীরে শক্তির চাহিদা পূরণের জন্য, রক্ত শরীরের প্রত্যেকটি কোষে গ্লুকোজ বহন করে। ডায়াবেটিস হল এমন একটি রোগ যেখানে রক্তে এই শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকেনা।

ডায়াবেটিস কি পুরোপুরি সারানো সম্ভব?

টাইপ ১ ডায়াবেটিস বর্তমানে পুরোপুরি সারানো সম্ভব নয়, তবে টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়মিত ডায়েট, ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ডায়াবেটিসের প্রথম সতর্ক সংকেত কী কী?
বারবার প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, অযৌক্তিক ওজন কমে যাওয়া, এবং দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া ডায়াবেটিসের প্রাথমিক সতর্ক সংকেত।

ডায়াবেটিসের জটিলতা কী হতে পারে?
দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ডায়াবেটিস হৃদরোগ, কিডনি বিকল, চোখের রেটিনা ক্ষতি, স্নায়ুর সমস্যা এবং পায়ের ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য করণীয় কী? সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার, এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা প্রতিরোধে সহায়ক।

10/06/2026
হাঁটু ব্যথা মানবদেহে ওজন বহনকারী যে কটি অস্থিসন্ধি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাঁটু। হাঁটুর ব্যথা প্রধানত বয...
02/06/2026

হাঁটু ব্যথা

মানবদেহে ওজন বহনকারী যে কটি অস্থিসন্ধি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাঁটু। হাঁটুর ব্যথা প্রধানত বয়স্ক ব্যক্তিদের বেশি হয়ে থাকে। তবে এটি এমন এক সমস্যা, যেটা যে কারও যেকোনো সময় হতে পারে। সাধারণত পুরুষের তুলনায় নারীদের এ সমস্যা বেশি হয়ে থাকে। যাঁদের ওজন বেশি, তাঁরা হাঁটুর ব্যথায় বেশি ভোগেন। তবে সঠিক চিকিৎসা ও যত্নের মাধ্যমে হাঁটুব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
কারণ

১.অস্টিওআর্থ্রাইটিস: বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাঁটুর জয়েন্টের তরুণাস্থি ক্ষয় হয়ে যায়, যার ফলে ব্যথা হয়।

২.রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: এটি একটি অটোইমিউন রোগ যা হাঁটুর জয়েন্টসহ শরীরের অন্যান্য জয়েন্টগুলিকে প্রভাবিত করে।

৩.গাউট: রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে গাউট রোগ হয় এবং এর ফলে হাঁটুতে ব্যথা হতে পারে।

৪. হাঁটুর আঘাত: খেলাধুলা বা দুর্ঘটনায় হাঁটুতে আঘাত লাগলে ব্যথা হতে পারে।

৫. বার্সাইটিস: হাঁটুর জয়েন্টের চারপাশে থাকা বার্সা নামক থলি ফুলে গেলে ব্যথা হয়।

৬. মেনিস্কাস আঘাত: হাঁটুর মধ্যে থাকা মেনিস্কাস নামক তরুণাসথি ফেটে গেলে ব্যথা হয়।

৭. অতিরিক্ত ওজন: অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর জয়েন্টে চাপ বাড়িয়ে দেয় এবং ব্যথা সৃষ্টি করে।

চিকিৎসা ও করণীয়

১.হাঁটুব্যথা হঠাৎ শুরু হলে বিশ্রাম নিন। এতে হাঁটুর ওপর চাপ কমবে।

২.দিনে তিন–চারবার হাঁটুতে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বরফের প্যাক ব্যবহার করুন।

৩.হাঁটুর সাপোর্ট ব্যান্ডেজ ব্যবহার করুন।

৪.হাঁটু উঁচু করে রাখতে হবে। রাতে হাঁটুর নিচে একটা পাতলা বালিশ রাখতে পারেন। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে।

৫.হাঁটুব্যথার কারণ শনাক্ত করে এর চিকিৎসা নিতে হবে।

৬.হাঁটুব্যথা উপশমের জন্য বিশেষ ব্যায়াম ও কিছু থেরাপি কার্যকর। এ জন্য ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

৭.ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। চর্বি ও চিনিজাতীয় খাবার কম খান।

৮.বিশেষ ধরনের জুতা ও হাঁটুর জন্য সহায়ক ব্রেস ব্যবহার করুন। নরম ও আরামদায়ক জুতা পরিধান করুন।

৯.পেশির শক্তি বাড়াতে ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং গুরুত্বপূর্ণ। সাঁতার, সাইকেল চালানো বামৃদু স্ট্রেচিং ব্যায়াম ও হাঁটুর হালকা ব্যায়ামগুলো করুন।

১০.চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে পারেন।

১১.হাঁটুর ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই একজন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। পরামর্শ অনুযায়ী কিছুদিন প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন–জাতীয় ব্যথানাশক সেবন করা যেতে পারে। এ ছাড়া কার্টিলেজ রক্ষাকারী ওষুধ যেমন গ্লুকোসামিন খাওয়া যেতে পারে।

১২.গুরুতর ক্ষেত্রে জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বা লিগামেন্ট রিপেয়ার সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন

১.হাঁটুর জয়েন্টগুলোতে চাপ কমাতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

২.দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা ভারী কাজ এড়িয়ে চলুন।

৩.প্রতিদিন হালকা ব্যায়াম করতে পারেন।

৪.সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।

৫.পুষ্টিকর খাবার (ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি) খেতে হবে।

৬. পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

দুঃখজনক।
29/05/2026

দুঃখজনক।

কোরবানির মাংস খাওয়ায় যেসব নিয়ম মানবেনকোরবানির মাংস খাওয়া হয় অনেক বেশি। বিরামহীন মাংসভোজন চলে অন্তত পাঁচ-সাত দিন। নিজ বাড়...
28/05/2026

কোরবানির মাংস খাওয়ায় যেসব নিয়ম মানবেন

কোরবানির মাংস খাওয়া হয় অনেক বেশি। বিরামহীন মাংসভোজন চলে অন্তত পাঁচ-সাত দিন। নিজ বাড়িতে প্রতিবেলা যেমন মাংস খাওয়া হয়, তেমনই কোনো আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গেলেও খাবারে মাংস থাকে অবধারিতভাবে।

মাংস খান, তাতে বাধা নেই। কিন্তু পরিমাণটাও বিবেচনায় রাখুন। অল্প কয়েক দিনে এত বেশি পরিমাণে মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। মাংসের অতিভোজনে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বা ডায়রিয়া হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের পাশাপাশি শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণও বেড়ে যায়। এসব ছাড়া আরও বড় বড় রোগের সূত্রপাত ঘটতে পারে। ঈদের সময় সাধাণত গরু, মহিষ, খাসিসহ বিভিন্ন ধরনের লাল মাংসই বেশি খাওয়া হয়।

• এসব লাল মাংস হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
• বেড়ে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকি।
• পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদান্ত্র, কোলন, প্রোস্টেট ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়।
• নানা ধরনের রোগে ফুসফুস আক্রান্ত হতে পারে।
• আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
• পিত্তথলিতে পাথর, পেপটিক আলসারসহ কিডনির জটিলতা হতে পারে।

এ সময় মাংস খাওয়ার উচ্ছ্বাসে সুষম খাবারের কথা যেন ভুলে না যাই। এ ছাড়া এই ঈদ মৌসুমে খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন।

• শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন।
• যথাযথ পদ্ধতিতে মাংস রান্না করুন। চর্বি বাদ দিয়ে, অল্প তেলে, উচ্চ তাপে রান্না করুন।
• লেবুর রস, টক দই, ভিনেগার, পেঁপে প্রভৃতি মাংসকে নরম করে, যা হজমে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই রান্নার সময় এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
• মাংস খাওয়ার সময় সালাদ খাবেন।
• রাতে মাংস না খাওয়াই ভালো।
• যখনই মাংস খাবেন, এক বেলায় দুই থেকে তিন টুকরার বেশি খাবেন না।
• উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনির সমস্যার মতো জটিল রোগ আছে যাঁদের, তাঁরা মাংস এড়িয়ে চলুন।

গলায় কিছু আটকে গেলে কি করবেন 🤔চোকিং বা গলায় কিছু আটকে যাওয়া দৈনন্দিন একটি ঘরোয়া সমস্যা। প্রাপ্তবয়স্ক হোক আর শিশু-কিশোর হ...
27/05/2026

গলায় কিছু আটকে গেলে কি করবেন 🤔

চোকিং বা গলায় কিছু আটকে যাওয়া দৈনন্দিন একটি ঘরোয়া সমস্যা। প্রাপ্তবয়স্ক হোক আর শিশু-কিশোর হোক, যে কোনো বয়সের যে কারও এমনটি হতে পারে। এমনটি হলে প্রথম যে সমস্যাটি হয়, তা হলো-খানিক সময়ের জন্য দম বন্ধ হয়ে যায়। শ্বাস নেওয়া থেকে গলায় কিছু আটকে যাওয়া, অনেক কিছুই হতে পারে। কোনো বস্তু, কিংবা কোনো খাদ্য, বা খাদ্য টুকরা গলা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের নালিতে কোনো কারণে আটকে গেলে এমন হয়। তখন বস্তুটি বাহির থেকে নাক-মুখ দিয়ে ফুসফুসের ভেতর বাতাসের প্রবাহকে বাধা দেয়। এমন মুহূর্তে গলা বা শ্বাসনালি দ্রুত পরিষ্কার না করা হলে জীবননাশের কারণ হতে পারে। এক কথায় এটি একটি ইমার্জেন্সি সিচুয়েশন।

প্রথমে কী করে বুঝবেন গলায় কিছু আটকে গেছে! দম বন্ধ হওয়ার লক্ষণগুলো শনাক্ত করুন। যেমন-কথা বলতে বা চিৎকার করতে না পারা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, দুর্বল কাশি হওয়া, ঠোঁট, মুখ বা আঙুলের ডগা নীল রঙের হয়ে যাওয়া। এবং সর্বশেষে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।

এমন হলে কী করবেন ? প্রাপ্তবয়স্ক হলে তারা শ্বাসকষ্ট ফিল করছে কিনা, জিজ্ঞাসা করুন। যদি তারা মৌখিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, তাহলে বস্তুটিকে গলা থেকে বের করার জন্য জোর করে কাশি দিতে বলুন।

একটা বিশেষ পদ্ধতি এমন পরিস্থিতিতে কাজ করে ভালো। এটিকে বলে হেইমলিচ ম্যানুভার বা অ্যাবডোমিনাল থ্রাস্টস। এ পদ্ধতিতে ব্যক্তির পেছনে দাঁড়িয়ে তাদের কোমরে আপনার হাত দিয়ে জড়িয়ে রাখুন। এক হাত দিয়ে মুষ্টি তৈরি করে তাদের নাভির ঠিক ওপরে রাখুন। আপনার অন্য হাত দিয়ে মুষ্টিটি আঁকড়ে ধরুন এবং ওপরের দিকে চাপ দেন। যতক্ষণ না বস্তুটি বের হয় বা ব্যক্তি অজ্ঞান না হয়, ততক্ষণ চালিয়ে যান।

যদি বস্তুটি বের না হয় এবং আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে বা অজ্ঞান হয়ে যায়, সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে কল করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। চেষ্টার পরও যদি বস্তুটি না বের হয়, তবে দ্রুত সিপিআর শুরু করা প্রয়োজন হতে পারে।

অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে আঙুল দিয়ে গলার ভেতরে বস্তুটি বের করতে চেষ্টা করেন অনেকসময়। এতে বস্তুটি আরও গভীরে চলে যেতে পারে। এ সময় পানি বা তরল কিছু পান করার চেষ্টা করাও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই আতঙ্ক না হয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি এবং শরীরের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন।

শিশুদের গলায় কিছু আটকে গেলে কী করবেন? শিশুদের, বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সি শিশুদের গলায় কিছু আটকালে এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন? প্রথমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করুন। প্যানিক না হয়ে বোঝার চেষ্টা করুন। শিশু যদি কাশি বা শব্দ করতে পারে, তবে তাকে কাশি চালিয়ে যেতে বলুন। পিঠে আঘাত করুন এবং বুকে হালকা চাপ দিন। আপনার হাতের সাহায্যে শিশুর মাথা এবং ঘাড়কে সাপোর্টে রেখে শিশুর মুখটি আপনার বাহুতে রাখুন। হাতের গোড়ালি দিয়ে শিশুর কাঁধে এবং পিঠে চাপ দেন। যদি বস্তুটি সরে না যায়, তাহলে শিশুর মুখ উঁচু করে ধরে পায়ের উপর বসান। শিশুর বুকের মাঝখানে দুটি আঙুল রেখে চাপ দেন। বস্তুটি বের না হওয়া পর্যন্ত বা শিশু অজ্ঞান না হওয়া পর্যন্ত এমন করে পিঠে আঘাত এবং বুকে চাপ প্রয়োগ বারবার করুন।

শিশুরা যাতে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়, পরিস্থিতিকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন অবস্থা থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। এর জন্য শিশুদের খাবারকে সবসময় ছোট ছোট টুকরো করে দেবেন। খাবার খাওয়ার সময় গিলে ফেলার আগে বারবার খাবারটি চিবাতে শিশুকে উৎসাহিত করুন। এটি বার বার করতে বললে তার মধ্যে একটি অভ্যাস গড়ে তুলুন। খাওয়ার সময় শিশুদের সঙ্গে অতিরিক্ত কথা বলা বা হাসা এড়িয়ে চলুন। হাসতে হাসতে খেতে বা দৌড়ে দৌড়ে খাওয়াতে অভ্যাস করবেন না বাচ্চাদের। ঘরের ছোট ছোট বস্তুকে শিশুটির নাগালের বাইরে রাখুন। বিশেষ করে কয়েন, বোতাম এবং ছোট খেলনাগুলোর মতো ছোট জিনিসগুলো বাচ্চাদের থেকে দূরে রাখুন।

03/04/2026

হাম বা Measles এর চিকিৎসা 🏠 বাসায় নাকি 🏥 হাসপাতালে—কোনটি ভালো?
হাম বা এর চিকিৎসা 🏠 বাসায় নাকি 🏥 হাসপাতালে—কোনটি ভালো?

হাম বা Measles একটি ভাইরাসজনিত অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, এটি এতটাই সংক্রামক যে, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ৯০% পর্যন্ত অরক্ষিত মানুষ সংক্রমিত হতে পারে, তাই রোগীকে কোথায় রাখা হবে এবং কীভাবে যত্ন নেওয়া হবে—এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

#কিভাবে_ছড়ায়?

১। #আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে (droplet infection)
২। #বাতাসে ভেসে থাকা ভাইরাস শ্বাসের মাধ্যমে
৩। #আক্রান্ত ব্যক্তির নাক-মুখের স্রাবের সংস্পর্শে

#বাসায়_চিকিৎসা উপযুক্ত যখন:

* রোগের লক্ষণ হালকা (জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি)
* শ্বাসকষ্ট বা মারাত্মক দুর্বলতা নেই
রোগী পানি ও খাবার নিতে পারছে
* পরিবারের কেউ সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারছে

👉 এ ক্ষেত্রে সাধারণত বাসায়ই বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি, পুষ্টিকর খাবার, এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিলেই ভালো হয়।

#হাসপাতালে_নেওয়া জরুরি যখন:

১। #শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া বা খিঁচুনি দেখা দেয়
২। #প্রচণ্ড দুর্বলতা বা পানিশূন্যতা হয়
৩। #রোগী কিছু খেতে বা পান করতে পারছে না
৪। #ছোট শিশু (বিশেষ করে ৫ বছরের নিচে) বা অপুষ্ট শিশু
৫। #রোগ জটিল আকার নিচ্ছে

👉 এসব ক্ষেত্রে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া নিরাপদ।

😷 হামের রোগীকে অন্য রোগীদের সাথে রাখলে কী সমস্যা?

১। #হাম খুব দ্রুত #বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় (কোভিডের চেয়ে দ্রুত ছড়ায়)
২। ুমে থাকলে #অন্য_রোগীরা সহজেই সংক্রমিত হতে পারে
৩। বিশেষ করে #শিশু, #গর্ভবতী_নারী বা দুর্বল রোগীদের জন্য ঝুঁকি বেশি
৪। হাসপাতালে থাকলেও রোগীকে #আইসোলেশন (আলাদা কক্ষে) রাখা উচিত

👉 তাই হামের রোগীকে সাধারণ রোগীদের সাথে রাখা ঠিক নয়।
থাকুন

🏥 IPC কেন অতি গুরুত্বপূর্ণ?

Infection Prevention and Control = সংক্রমণ ঠেকানোর শক্তিশালী ঢাল ⚔️

✔️ মাস্ক ব্যবহার
✔️ রোগী আলাদা রাখা
✔️ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা
✔️ পরিবেশ পরিষ্কার রাখা

✔️ সংক্ষেপে
১। হালকা হলে বাসায় যত্ন নেওয়া যায়
২। গুরুতর হলে হাসপাতালে নেওয়া উচিত
৩। অন্যদের থেকে আলাদা রাখা খুবই জরুরি
৪। বাসা এবং হাসপাতাল সবখানেই IPC অতি গুরুত্বপূর্ণ।

02/04/2026

হাম একটি ভাইরাস জনিত রোগ। এর নির্দিষ্ট কোন প্রতিষেধক (antiviral) নাই, সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা নিয়মিত টীকা গ্রহণের মাধ্যমে হাম প্রতিরোধ। যেহেতু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে শিশুরা হামে আক্রান্ত বেশি হচ্ছে।

তাই হামের টীকা সংক্রান্ত কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর।

১) প্রশ্ন:বাংলাদেশে হামের কয় ধরণের টীকা পাওয়া যায়?

উত্তর: দুই ধরণের টীকা পাওয়া যায় (MR সরকারীভাবে ও MMR বেসরকারীভাবে)।

২) প্রশ্ন: শিশুদেরকে হামের টীকা সাধারণত কয় ডোজ ও কত বয়সে দেওয়া হয়?

উত্তর: সরকারী ভাবে ই.পি.আই সিডিউল অনুযায়ী দুই ডোজ টীকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ ৯ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে।

৩) প্রশ্ন: হাম প্রতিরোধে এই টীকার কার্যকারিতা কত?

উত্তর: নিয়মিত ২ ডোজ টীকা নিলে, হাম রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টীকা ৯৭-৯৯% কার্যকরী।

৪) প্রশ্ন: ৯ মাস বয়সের আগে শিশুকে হামের টীকা দেওয়া হয় না কেন?

উত্তর: মায়ের শরীর থেকে প্রাপ্ত (প্যাসিভ/পরোক্ষ) অ্যান্টিবডির মাধ্যমে নবজাতকের শরীরে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, শিশুকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

৫) প্রশ্ন: ৯ মাস বয়সের আগে শিশুকে হামের টীকা দেওয়া যাবে কি?

উত্তর: ক্ষেত্র বিশেষে ৬ মাসের পর হতে হামের টীকা দেওয়া যেতে পারে (যেমন: হামের প্রার্দুভাবের সময়, যখন শিশুদের ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইনের সময়)। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই পরবর্তীতে ৯ মাস এবং ১৫ মাসে বয়সে যথারীতি ২ ডোজ টীকা দিতে হবে।

৬) প্রশ্ন: যদি কেউ ই.পি.আই সিডিউল অনুযায়ী টীকা না দিয়ে থাকেন, তবে করণীয় কি?

উত্তর: সর্ম্পূণ ২ ডোজ টীকা দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রথম ডোজের ন্যূনতম ১ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে।

৭) প্রশ্ন: আমার শিশুর বয়স ৩ বছর কিন্তু তাকে হামের টীকা দেওয়া হয়নি, সেক্ষেত্রে করণীয় কি?

উত্তর: সর্ম্পূণ ২ ডোজ টীকা দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে প্রথম ডোজের ন্যূনতম ১ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে।

৮) প্রশ্ন: আমার শিশুর বয়স ২ বছর কিন্তু তাকে হামের ১ম ডোজ টীকা দেওয়ার পর দ্বিতীয় ২য় ডোজ টীকা দেওয়া হয়নি, সেক্ষেত্রে করণীয় কি?

উত্তর: যত দ্রুত সম্ভব ২য় ডোজ টীকা দিতে হবে।

৯) প্রশ্ন: হামের ২ ডোজ টীকা দেওয়ার পর, বুস্টার ডোজ টীকা দেওয়ার প্রয়োজন আছে কি?

উত্তর: সর্ম্পূণ ২ ডোজ হামের টীকা দেওয়া থাকলে, বুস্টার ডোজ দেওয়ার দরকার নেই।

১০) প্রশ্ন: কিশোর-কিশোরি অথবা বড়রা কি হামের টীকা নিতে পারবেন?

উত্তর: নিতে পারবেন, যদি ইতিপূর্বে হামের কোন টীকা গ্রহণ না করে থাকেন এবং Measles Serology test Negative হয়।

১১) প্রশ্ন: কোন কোন ক্ষেত্রে হামের টীকা দেওয়া যাবে না ?

উত্তর: Severe Immunocompromised patient, pregnant woman

১২) প্রশ্ন: হামের টীকা দেওয়ার পরেও কি হাম হতে পারে?

উত্তর: ২ ডোজ হামের টীকা নেওয়ার পরে, হাম হওয়ার সম্ভাবনা খুবই খুবই কম বা অতি দূলর্ভ, তবে যদি হয়েও থাকে তবে সেটি খুব স্বল্প মাত্রায় হয়।

১৩) প্রশ্ন: ভিটামিন-এ ক্যাপসুল কি হামের চিকিৎসা?

উত্তর: হাম হলে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিতে হবে। WHO এর নিয়ম অনুযায়ী হামের রোগীকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দিলে রাতকানা রোগ ও শিশু সংক্রামক ব্যাধির কারনে মৃত্যু হার অনেক কমে আসে।

১৪) প্রশ্ন: হামের রোগির সংস্পশে আসলে post-exposure prophylaxis ভূমিকা আছে কি?

উত্তর: কিছু কিছু ক্ষেত্রে হামের রোগির সংস্পশে (প্রথম বার) আসলে post-exposure prophylaxis (৬ দিনের মধ্যে) দিতে হয় এবং MMR Vaccine ও Immunoglobin ব্যবহার করা হয়।

১৫) প্রশ্ন: কোন কোন ক্ষেত্রে post-exposure prophylaxis দিতে হয়?

উত্তর:
# Severe Immunocompromised ক্ষেত্রে Immunoglobin দিতে হবে

# বয়স: জন্ম থেকে ৫ মাস পযর্ন্ত Immunoglobin দিতে হবে, যদি মায়ের ২ ডোজ টীকা না দেওয়া না থাকে এবং মায়ের ইতোঃপূর্বে কখনো হাম না হয়ে থাকে, মায়ের measles IgG Negative হয়।

# বয়স: ৬ থেকে ১৮ মাস (ইতোঃপূর্বে হামের কোন টীকা দেওয়া হয়নি)- MMR Vaccine (৭২ ঘণ্টার মধ্যে) অথবা Immunoglobin (৭২ ঘণ্টা থেকে ৬ দিনের মধ্যে)

# গর্ভবতী মহিলা (ইতোঃপূর্বে হামের কোন টীকা দেওয়া হয়নি/হাম হয়নি )- Immunoglobin (৬ দিনের মধ্যে)।

আপনার শিশুকে নিয়মিত টীকা দিন ও যত্ন নিন এবং হামের কোন লক্ষণ দেখা দিলে অতি সত্তর নিকটস্থ হাসপাতাল অথবা শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন।

Ref:
1.EPI_Guide book DGHS
2.World Health Organization (2020). The immunological basis for immunization series: module 7: measles: update 2020
3.Guidance UK Complete routine immunization Schedule 2026
4.Australian immunisation Handbook, 2022
©

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Saifur Rahman Fahad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share