10/08/2025
⚠️অনেক সময়; সিভিয়ার লেভেলের কিছু কিছু পেশেন্টের ক্ষেত্রে, রুকইয়াহর সময় রিঅ্যাক্ট হয় না..! কিন্তু কেন❓
কিছু কিছু জ্বিন জাদুর পেশেন্ট আছেন, যাদেরকে রুকইয়াহ করলেও তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না। কিন্তু তার মানে এই নয়,যে! তারা সুস্থ!! বরং এই পেশেন্ট গুলোই মারাত্মক লেভেলের জাদু বা বদনজরের হুসুনে আক্রান্ত।
হুসুন কি?
রুকইয়াহর পরিভাষায় হুসুন বলা হয়,আত্মিক/বায়োলজিক্যাল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যাকে আরবিতে বলা হয় "হুসুন''(الحصن) অর্থাৎ শয়তান/জাদু /বদনজরের,নিরাপত্তা প্রাচীর।
এই হুসুনের কারণেই সাধারণত রুকইয়াহর সময় শরীরে কোন ধরনের রিঅ্যাকশন একটিভ হয় না। ফলে পেশেন্ট ভাবতে শুরু করে সে সুস্থ প্যারা-নরমাল কেন্দ্রিক তার কোন প্রবলেমেই নেই। প্রবলেম থাকলেও সেটা মেডিকেল ইস্যু। কিন্তু মেডিকেলে গিয়েও কোন প্রবলেম ধরা পড়ছে না, ফলশ্রুতিতে এই পেশেন্টগুলো কোন এক সময় ওয়াসওয়াসা/ওসিডিতে ভুকতে থাকে।
রুকইয়াহর বাস্তব-অভিজ্ঞতায়:
বহু বছরের রুকইয়াহ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে,এই ধরনের রোগীরা সাধারণতঃ
1️⃣ছোটবেলা থেকে তাবিজ, ঝাড়ফুঁক, মাজার বা শিরকি রুকইয়াহ করে এসেছে।
2️⃣দীর্ঘদিন কোনো বদ আমল বা যাদুকরদের আমল অনুসরণ করেছে।
3️⃣অসুস্থত হাওয়া সত্ত্বেও কখনো রুকইয়াহ, শরঈ চিকিৎসা গ্রহণ করেনি।
4️⃣ দীর্ঘদিন যাবত জ্বিন জাদুর প্রবলেম, কিন্তু এর জন্য কোন সঠিক চিকিৎসা নেয়নি।
ফলে ভিতরে ভিতরে গড়ে ওঠে এক "শয়তানি প্রতিরক্ষা বলয়।
চিকিৎসাগত ভাষায়:
এই ধরনের মানুষদের উপর সরাসরি চিকিৎসা না করে আগে করতে হয় প্রাক-রুকইয়াহ প্রস্তুতি।যেমন: রুকইয়াহর পানি খাওয়।
পিত্ত বা টক্সিন বের করতে হিজামা, মাঝেমধ্যে গরম পানি/ঠান্ডা পানির গোসল করা, বড়ই পাতার সংমিশ্রণে।
অতিরিক্ত ঘুম কমানো, ভারী খাবার পরিহার, এবং আত্মবিশ্লেষণ খুবই জরুরী, তবে অতিরিক্ত না।
হুসুন;ভাঙ্গার ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো ফলো করতে পারেন।
১/৭দিনের প্রি-রুকইয়াহ রুটিন তৈরি করতে পারেন।
প্রতিদিন ৩ বার করে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক-নাস তিলাওয়াত করে পানিতে ফুঁ দিয়ে খেতে পারেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ রাকির
পরামর্শে,রুকইয়াহর অডিও হেডফোন দিয়ে শুনতে পারেন। (যে কোন অডিও শুনলেই হবে না, স্পেসিফিক ভাবে হুসুন ভাঙ্গার অডিও শুনতে হবে)
ঘুমানোর আগে, সূরা ফাতিহা,আয়াতুল কুরসি,ও তিন কুল পড়ে নিজেকে ফুঁ দেয়া, পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ও।
হালকা উপবাস/ডায়েট রুকইয়ার ৩ ঘণ্টা আগে কিছু না খাওয়া।
::একগ্লাস গরম পানিতে লবণ ও কালিজিরা, বড়ই পাতা মিশিয়ে খাওয়া
শারীরিক স্পর্শ ও ফোকাসড রুকইয়াহ,মাথা, বুক, পেট, ও পায়ের তলায় সরাসরি হাত রেখে ফুঁ দেয়া।
প্রথম ১৫ মিনিট "আযাবের আয়াত" জোরে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করা।
যথা: সুরা হাক্কাহ ৬৯:৩০-৩২, সুরা মুমিনুন ২৩:৯৭-৯৮, সুরা সাফফাত ৩৭:১-১০
ঘরের পরিবেশ তৈরি।যেকোনো গান, ছবি, জিনিস সরিয়ে ঘর পবিত্র করা,
সুগন্ধি জিনিষ (রুহ্, লবঙ্গ,আতর আগরবাতি) ব্যবহার করা।
ফ্যান বন্ধ রেখে নীরব পরিবেশে তেলাওয়াত করা, যেন প্রচুর গরম লাগে। এতেও অনেক সময় রিয়েকশন হয়।
মাঝে মধ্যে হারকের রুকাইয়াহ শোনা।
🔰প্রথম দিন না হলেও ৭ দিনের মধ্যে রিয়েকশন নিশ্চিত ইনশাআল্লাহ!
⚠️বিশেষ দ্রষ্টব্য:-সবগুলো পয়েন্ট ফলো করতে না পারলেও কিছু কিছু বিষয় ফলো করা যেতে পারে,সেটি অভিজ্ঞ রাকির মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নেবেন ইনশা-আল্লাহ।
📌সারবস্তু
“রুকইয়াহ না কাজ করলে সমস্যাটা রুকইয়ায় নয়, বরংচ রাকির অনভিজ্ঞতা কিংবা রোগীর ভিতরের হুসুন। সুতরাং ফাস্টোফল আগে হুসুন ভেঙে দিন, তারপর ইনশাআল্লাহ রিয়েক্ট শুরু হবে। আর যখন একজন পেশেন্টের শরীরে রিয়েকশন একটিভ হবে, ঠিক তখনই ব্যক্তি আস্তে আস্তে সুস্থ হতে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
রুকইয়াহ কখনোই তাবিজ/তান্ত্রিকতা নয়, বরঞ্চ একটি ধৈর্যের ও পদ্ধতির নাম,একজন ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার জন্য,প্রকৃত চিকিৎসক বা রাকী এই বিষয়গুলো ভালোভাবে বোঝেন এবং ধাপে ধাপে কাজ করেন।