Dr.Afrin Akter- kidney Specialist

Dr.Afrin Akter- kidney Specialist Dr. Afrin Akter
MBBS, BCS (Health)
MD (Nephrology)
National Institute of kidney disease and Urology, sher e bangla nagar, Dhaka

 #কিডনিকথন   ৩— “পাথরটা তো ছোটই ছিল!”রাত তখন প্রায় ২টা।হঠাৎ তীব্র কোমর ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেল রাফির।ব্যথাটা যেন কোমর থেকে প...
21/08/2026

#কিডনিকথন ৩— “পাথরটা তো ছোটই ছিল!”
রাত তখন প্রায় ২টা।
হঠাৎ তীব্র কোমর ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেল রাফির।
ব্যথাটা যেন কোমর থেকে পেটের নিচের দিকে ছুটে যাচ্ছে।
একবার আসে… আবার একটু কমে… তারপর আরও ভয়ংকরভাবে ফিরে আসে।
রাফি ভাবল,
“গ্যাস হবে মনে হয়!গ্যাসের ওষুধ খেল।কাজ হলো না।
কিছুক্ষণ পর বমি শুরু হলো।
শেষ পর্যন্ত পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার বললেন—
“কিডনিতে পাথর আছে।”
রাফি অবাক!
“পাথর? কিন্তু আমি তো আগে কোনোদিন বুঝতেই পারিনি!”
ডাক্তার বললেন—
“কিডনির পাথর সবসময় ব্যথা দিয়ে জানান দেয় না।”
কখনো ছোট পাথর কোনো সমস্যা ছাড়াই পড়ে থাকতে পারে।
আবার সেই পাথর যদি মুত্রনালি তে আটকে যায়, তখন শুরু হতে পারে—
🔹 তীব্র কোমর বা পাশের ব্যথা
🔹 ব্যথা পেটের নিচে বা কুঁচকিতে ছড়িয়ে যাওয়া
🔹 প্রস্রাবে রক্ত
🔹 প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
🔹 বমি বমি ভাব বা বমি
🔹 বারবার প্রস্রাবের বেগ
আর একটা বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
পাথরের সঙ্গে যদি প্রস্রাবের পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং infection থাকে, সেটা জরুরি অবস্থা হতে পারে।
রাফি জিজ্ঞেস করল,
“তাহলে পাথর হলেই কি অপারেশন করতে হয়?”
ডাক্তার বললেন—
“না। সব পাথরের চিকিৎসা একরকম নয়।”
পাথরের আকার, অবস্থান, obstruction আছে কি না, infection আছে কি না এবং kidney function কেমন—এসব দেখে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তাই শুধু কারও কথা শুনে
“ওই ওষুধ খেলে পাথর গলে যাবে”
—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
আর যদি হঠাৎ তীব্র কোমর ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া শুরু হয়—
🚨 দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যান।
কারণ ছোট একটা পাথরও কখনো কখনো বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
আপনার বা পরিচিত কারও কিডনিতে পাথর আছে?
পাথরটা কত mm—জানেন? 👇
কমেন্টে লিখুন।
পরের #কিডনিকথন এ বলব—কোন kidney stone নিজে থেকে বের হওয়ার আসম্ভাবনা বেশি, আর কখন intervention দরকার। 🩺💙

ডা: আফরিন আক্তার
কিডনি বিশেষজ্ঞ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কিডনি ডিজিজেজ এন্ড ইউরোলজি,শেরে বাংলা নগর, ঢাকা

 #কিডনিকথন ২"আপু, আমি তো শুধু বারবার প্রস্রাব করছি… এতে ভয় পাওয়ার কী কিছু আছে?”২৮ বছরের মেয়ে।গত কয়েকদিন ধরে বারবার প্রস্...
20/08/2026

#কিডনিকথন ২
"আপু, আমি তো শুধু বারবার প্রস্রাব করছি… এতে ভয় পাওয়ার কী কিছু আছে?”
২৮ বছরের মেয়ে।
গত কয়েকদিন ধরে বারবার প্রস্রাবের বেগ হচ্ছে।
অফিসে বসে থাকতে পারছে না।
একটু পরপর বাথরুমে যেতে হচ্ছে।
প্রস্রাব করতে গেলেই জ্বালা করছে।
কিন্তু সে কাউকে কিছু বলছে না।
ভাবছে—
“পানি কম খাওয়ার জন্যই হয়তো এমন হচ্ছে।”
দুই দিন পর রাতে হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর।
তারপর শুরু হলো কোমরের একপাশে তীব্র ব্যথা।
সকালে হাসপাতালে এসে বলল,
— “ডাক্তার আপু, আমি তো শুধু একটু প্রস্রাবের সমস্যা নিয়ে এসেছি…”পরীক্ষা করে দেখা গেল, সাধারণ bladder infection থেকে সংক্রমণ কিডনির দিকে ছড়িয়ে গেছে।
মেয়েটা অবাক হয়ে বলল—
“UTI থেকেও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে?”
হ্যাঁ, পারে।তাই প্রস্রাবের জ্বালা বা বারবার প্রস্রাবকে সবসময় “সামান্য সমস্যা” ভেবে ফেলে রাখা ঠিক নয়।
🚨 এই লক্ষণগুলো থাকলে সতর্ক হোন:

🔸 প্রস্রাবের সময় জ্বালা
🔸 ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
🔸 অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া
🔸 তলপেটে ব্যথা
🔸 প্রস্রাব ঘোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া
🔸 প্রস্রাবে রক্ত
আর যদি এর সঙ্গে থাকে—
🌡️ জ্বর বা কাঁপুনি
😣 কোমর/পিঠের পাশে ব্যথা
🤢 বমি বা বমি ভাব
তাহলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
আর একটা ভুল একদম করবেন না—
❌ পরিচিত কারও antibiotic দেখে নিজে থেকে শুরু করবেন না।
কারণ কোন antibiotic লাগবে, আদৌ লাগবে কিনা—তা রোগীর অবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে।
আপনার কি কখনও UTI হয়েছিল?
কমেন্টে জানাতে পারেন।
আর এই পোস্টটি এমন একজনের কাছে শেয়ার করুন, যিনি সামান্য প্রস্রাবের সমস্যাকেও “কিছু না” বলে এড়িয়ে যান।

ডা: আফরিন আক্তার
কিডনি বিশেষজ্ঞ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কিডনি ডিজিজেজ এন্ড ইউরোলজি,শেরে বাংলা নগর, ঢাকা
#প্রসাব #ইনফেকশন

18/08/2026

#কিডনিকথন ১
ডাক্তার, আমার তো কোনো সমস্যাই ছিল না!”
চেম্বারে বসে আছেন ৫২ বছরের একজন ভদ্রলোক।
হাতে রিপোর্টের ফাইল।চোখেমুখে চিন্তা।
-রিপোর্টটা
আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, ডাক্তার, একটু দেখবেন? Creatinine নাকি অনেক বেশি এসেছে।”
আমি রিপোর্ট দেখলাম।তারপর জিজ্ঞেস করলাম,
— “আগে কখনো কিডনির পরীক্ষা করেছিলেন?”
— “না।”
— “কোনো সমস্যা হচ্ছিল?”
একটু অবাক হয়ে তাকিয়ে বললেন,
না তো! আমি তো একদম ভালো আছি।”
— প্রস্রাব কম হচ্ছে?”
"না।”
-পা ফুলছে?”
-"না।”
— “বমি? খাবারে অরুচি? শ্বাসকষ্ট?”
“কিছুই না ডাক্তার।”
তারপর খুব স্বাভাবিক একটা প্রশ্ন—
“তাহলে কিডনি খারাপ হলো কীভাবে?”
এই প্রশ্নটাই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ কিডনি রোগের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো
অনেক সময় কিডনি নষ্ট হতে থাকে, কিন্তু মানুষ বুঝতেই পারে না।আপনি শুধু ধরে নেন—প্রস্রাব হচ্ছে,মানে কিডনি ঠিক আছে।এখানেই ভুলটা।

একটা ছোট্ট গল্প ভাবুন।
ধরুন আপনার কিডনির মোট কাজের ক্ষমতা ১০০%।
কোনো কারণে কিডনির কিছু অংশ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করল।
১০% গেল।
আপনি কিছুই বুঝলেন না।
২০% গেল।
তবুও আপনি স্বাভাবিক।
৩০% গেল।
অফিস করছেন, বাজার করছেন, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন।
৪০% গেল।
তবুও হয়তো কোনো বিশেষ উপসর্গ নেই।
কারণ শরীরের বাকি সুস্থ অংশগুলো অতিরিক্ত কাজ করে ঘাটতিটা সামলে নিচ্ছে।
আপনি ভাবছেন—
“আমি তো একদম ঠিক আছি!”
কিন্তু ভেতরে ভেতরে কিডনি বলছে—
“আমি আর আগের মতো পারছি না।”
আর সেই কথাটা অনেক সময় আপনি শুনতে পান না।

তারপর একদিন হঠাৎ…
রুটিন health check-up।
সাথে ছিল—
Serum Creatinine
Urine test
Blood pressure
রিপোর্ট হাতে নিয়ে ডাক্তার বললেন,
আপনার কিডনির function কিছুটা কম।”
আপনি অবাক।
কিন্তু আমার তো কোনো কষ্ট নেই!”
এটাই Chronic Kidney Disease বা CKD-এর বড় সমস্যা।এটা অনেক সময় ধীরে ধীরে আসে।চুপচাপ আসে।ব্যথা না দিয়েই আসে।আর আমরা যখন বুঝতে পারি, তখন কখনো কখনো রোগ অনেকটা এগিয়ে গেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—কিডনি নষ্ট হয় কেন?
এই গল্পের সবচেয়ে বড় দুই চরিত্র—
ডায়াবেটিস আর উচ্চ রক্তচাপ।ধরুন, আপনার ১০ বছর ধরে ডায়াবেটিস।কিন্তু আপনি ভাবছেন,“Sugar একটু বেশি থাকলেই বা কী?”
অথবা—
Pressure ১৬০/৯৫ থাকলেও আমার তো মাথা ঘোরে না!” কিন্তু কিডনি আপনার মাথার মতো করে ব্যথা দিয়ে প্রতিবাদ করে না।বছরের পর বছর অনিয়ন্ত্রিত blood sugar ও blood pressure কিডনির সূক্ষ্ম
রক্তনালীগুলোর ওপর চাপ ফেলতে থাকে।ধীরে ধীরে ফিল্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।প্রথমে সামান্য albumin প্রস্রাবে বের হতে শুরু করতে পারে।আপনি সেটা দেখতে পাবেন না।প্রস্রাবের রংও হয়তো একই থাকবে।পরিমাণও স্বাভাবিক থাকবে।
কিন্তু একটি সাধারণ পরীক্ষা—
Urine ACR
সেই নীরব পরিবর্তনটা ধরে ফেলতে পারে।

তাই “প্রস্রাব ঠিক আছে” মানেই “কিডনি ঠিক আছে”—এটা নয়।
আরেকটা ভুল ধারণা—
Creatinine একটু বাড়লেই বুঝি ডায়ালাইসিস!”
না।
Creatinine একটা সংখ্যা।কিডনির অবস্থা বুঝতে আমরা eGFR, urine albumin/protein, রোগের কারণ, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন—সবকিছু একসঙ্গে দেখি।
অনেক CKD রোগী সঠিক চিকিৎসা ও lifestyle modification-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন stable থাকতে পারেন।অর্থাৎ—
CKD মানেই dialysis নয়।বরং CKD যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, কিডনিকে রক্ষা করার সুযোগ তত বেশি।

তাহলে কিডনি বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ কী?
সবসময় বড় কোনো পরীক্ষা নয়।
অনেক সময় শুরুটা খুব সাধারণ—

🩺 Blood pressure মাপুন।
🩸 Serum creatinine ও eGFR দেখুন।
🧪 Urine ACR/urine protein পরীক্ষা করুন।
🩸 Diabetes থাকলে blood glucose/HbA1c নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
💊 নিজের ইচ্ছায় painkiller বা অন্য ওষুধ দীর্ঘদিন খাবেন না।
🧂 অতিরিক্ত লবণ কমান।
🚭 ধূমপান বন্ধ করুন।
⚖️ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—

যাদের CKD-এর ঝুঁকি আছে, তারা উপসর্গ আসার অপেক্ষা করবেন না।
আজ আপনার কোনো উপসর্গ নেই?
ভালো কথা। ❤️
কিন্তু যদি আপনার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, হৃদরোগ, recurrent kidney stone/urinary problem, দীর্ঘদিন painkiller ব্যবহারের ইতিহাস বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকে—
একবার কিডনির screening করিয়ে নিন।
কারণ—
🌿 কিডনি রোগকে চিকিৎসা করার চেয়ে, সময়মতো চিনে ফেলা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।আপনার কিডনি আপনার জন্য প্রতিদিন নীরবে কাজ করে।এবার আপনার পালা—তার একটু খোঁজ নেওয়ার।

ডা: আফরিন আক্তার
কিডনি বিশেষজ্ঞ
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ কিডনি ডিজিজেজ এন্ড ইউরোলজি,শেরে বাংলা নগর, ঢ়াকা

আজকের " আমার বার্তা" ও " বাংলাদেশের আলো " তে আমার লেখা  কিডনি সুরক্ষা নিয়ে।  #সুরক্ষা  #কিডনি
04/08/2026

আজকের " আমার বার্তা" ও " বাংলাদেশের আলো " তে আমার লেখা কিডনি সুরক্ষা নিয়ে। #সুরক্ষা #কিডনি

03/08/2026

🦟 ডেঙ্গু: জ্বর কমলেই কি বিপদ কেটে যায়?

বর্ষার এই সময়ে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে নতুন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন, আর আমাদের চেম্বার ও হাসপাতালেও প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের দেখা যাচ্ছে।

দুঃখজনক বিষয় হলো, এখনও অনেকেই ডেঙ্গু সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানেন না। বিশেষ করে, জ্বর কমে গেলে অনেকেই মনে করেন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। অথচ ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় অনেক ক্ষেত্রেই শুরু হয় জ্বর কমার পরের ২৪–৪৮ ঘণ্টায়।

তাই আজকের বিষয়—

🚨 জ্বর কমলেই কি বিপদ কেটে যায়?

উত্তর হলো : না এই সময় শরীরে কিছু বিপদসংকেত দেখা দিতে পারে ( warning sign) যেমন—

🔴 তীব্র পেটব্যথা
🔴 বারবার বমি
🔴 নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া
🔴 অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্থিরতা
🔴 শ্বাসকষ্ট
🔴 প্রস্রাব কমে যাওয়া

⚠️ এসব লক্ষণের যেকোনো একটি দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যান।

🥺 যা করবেন না-

* আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন বা অ্যাসপিরিন নিজে থেকে খাবেন না।
* অযথা অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
* প্লেটলেট কমেছে বলে শুধুমাত্র সেই কারণে প্লেটলেট দেওয়ার দাবি করবেন না।

মনে রাখবেন—
✅ শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
✅ রোগীর সামগ্রিক অবস্থা, রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

🌿 পর্যাপ্ত তরল পান করুন, বিশ্রাম নিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

#ডেঙ্গু ডেঙ্গুসচেতনতা

🌿 সুস্থ ও ভালো থাকার ১০টি সহজ অভ্যাসভালো থাকা শুধু রোগমুক্ত থাকার নাম নয়; বরং সুস্থ শরীর, প্রশান্ত মন এবং স্বাস্থ্যকর জী...
31/07/2026

🌿 সুস্থ ও ভালো থাকার ১০টি সহজ অভ্যাস

ভালো থাকা শুধু রোগমুক্ত থাকার নাম নয়; বরং সুস্থ শরীর, প্রশান্ত মন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সমন্বয়ই প্রকৃত সুস্থতা।

১. 🛏️ পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম

• প্রতিদিন ৭–৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের চেষ্টা করুন।
• ভালো ঘুম শরীরকে সতেজ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মনকে প্রফুল্ল রাখে।



২. 🥗 সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন

• প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
• খাদ্যতালিকায় ফল, শাক-সবজি, ডাল, মাছ ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখুন।
• অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব সীমিত রাখুন।



৩. 🚶‍♀️ প্রতিদিন শরীরচর্চা করুন

• প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
• এটি হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে, ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।



৪. 🌤️ সকালের রোদে কিছুটা সময় কাটান

• প্রতিদিন কিছুক্ষণ সকালের সূর্যের আলো গ্রহণ করুন।
• এটি ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করে এবং মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।



৫. 🙏 মানসিক প্রশান্তির জন্য সময় রাখুন

• নামাজ, মেডিটেশন বা নীরবভাবে কিছুক্ষণ আত্মচিন্তায় সময় দিন।
• নিয়মিত এই অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।



৬. 📴 স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন

• দীর্ঘ সময় মোবাইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে না থেকে নির্দিষ্ট সময় বিরতি নিন।
• পরিবার, বন্ধু, বই বা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।



৭. 🧠 ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তুলুন

• অতীতের ভুল বা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তায় না ডুবে বর্তমানকে গুরুত্ব দিন।
• প্রতিদিন ছোট ছোট ভালো কাজ ও ইতিবাচক অভ্যাস আপনার মানসিক সুস্থতা বাড়াবে।



৮. 💬 মনের কথা শেয়ার করুন

• মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা একা বহন করবেন না।
• প্রয়োজন হলে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।



৯. 🎯 প্রতিদিনের জন্য একটি লক্ষ্য রাখুন

• ছোট ছোট বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং ধাপে ধাপে এগিয়ে যান।
• লক্ষ্যপূর্ণ জীবন আত্মবিশ্বাস ও কর্মস্পৃহা বাড়ায়।



১০. ❤️ নিজের যত্ন নিন

• নিজের প্রতি সদয় হোন এবং নিজের ভালো দিকগুলোকে মূল্য দিন।
• মনে রাখবেন, সুস্থ জীবন শুরু হয় নিজের যত্ন নেওয়ার মধ্য দিয়েই।



🌼 মনে রাখবেন

“সুস্থ জীবন কোনো একদিনে গড়ে ওঠে না; প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন এনে দেয়।”

— ডা. আফরিন আক্তার
কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ

🚨 রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে (Hyperkalemia) কেন সতর্ক হবেন?⚠️ কিডনি রোগীদের জন্য এটি হতে পারে প্রাণঘাতী!কিডনির কাজ কমে গ...
30/07/2026

🚨 রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে গেলে (Hyperkalemia) কেন সতর্ক হবেন?

⚠️ কিডনি রোগীদের জন্য এটি হতে পারে প্রাণঘাতী!

কিডনির কাজ কমে গেলে শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের হতে পারে না। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়, যা হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।

❗ কেন এটি বিপজ্জনক?

❤️ হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে
💔 হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক বা Cardiac Arrest হতে পারে
💪 পেশিতে দুর্বলতা বা অবশভাব হতে পারে
😵 শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন
⚡ গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যুও হতে পারে



❌ Hyperkalemia-তে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

🍌 ফল

* কলা
* কমলা
* মাল্টা
* ডাবের পানি
* আম
* কাঁঠাল
* খেজুর
* কিসমিস

🥬 শাক-সবজি

* ডাটা শাক
* লাল শাক
* কচু
* মিষ্টি কুমড়া
* আলু
* মিষ্টি আলু
* টমেটো

🫘 ডাল ও বাদাম

* সব ধরনের ডাল (অতিরিক্ত)
* ছোলা
* সয়াবিন
* বাদাম
* কাজুবাদাম
* পেস্তা

🥛 অন্যান্য

* চকলেট
* কোকো
* Potassium salt substitute
* কিছু এনার্জি ড্রিংক



✅ কম পটাশিয়ামযুক্ত খাবার (পরিমিত পরিমাণে)

🥒 শাক-সবজি

* লাউ
* ঝিঙা
* চিচিঙ্গা
* পটল
* শসা
* ফুলকপি
* বাঁধাকপি
* কাঁচা পেঁপে

🍎 ফল

* আপেল
* নাশপাতি
*পেয়ারা
* পেপে

🍗 প্রোটিন

* ডিমের সাদা অংশ
* মুরগির মাংস
* মাছ (পরিমিত পরিমাণে)



💡 গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

✔️ নিজের ইচ্ছায় খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করবেন না।
✔️ নিয়মিত রক্তে Potassium পরীক্ষা করুন।
✔️ কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকা Nephrologist-এর পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।
✔️ কিছু ওষুধ (ACEI, ARB, Spironolactone ইত্যাদি) পটাশিয়াম বাড়াতে পারে—চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ বা শুরু করবেন না।

ডা. আফরিন আক্তার
এমবিবিএস, এমডি (নেফ্রোলজি)
কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়ালাইসিস বিশেষজ্ঞ

⚠️ নোট: CKD রোগীদের জন্য সব খাবারের নিষেধাজ্ঞা এক রকম নয়। রোগের স্টেজ, ডায়ালাইসিস এবং রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা অনুযায়ী খাদ্যতালিকা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ব্যক্তিভেদে চিকিৎসকের পরামর্শই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। #কিডনি

আলহামদুলিল্লাহ! 🤍চিকিৎসা শেষ করে রোগী যখন সুস্থ হয়ে আবার চেম্বারে ফিরে আসেন, তখন সত্যিই অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে।...
20/07/2026

আলহামদুলিল্লাহ! 🤍

চিকিৎসা শেষ করে রোগী যখন সুস্থ হয়ে আবার চেম্বারে ফিরে আসেন, তখন সত্যিই অন্যরকম একটা ভালো লাগা কাজ করে।

আজ একজন রোগী কিডনি থেকে বের হওয়া পাথরটা হাতে করে নিয়ে এসেছিলেন। বললেন,
“ম্যাডাম, এটা আপনাকে দেখাতেই নিয়ে আসলাম।” 😊

এই ছোট্ট পাথরটার পেছনে ছিল অনেক দিনের ব্যথা, অস্বস্তি আর দুশ্চিন্তা। আজ সেটাই অতীত।

এমন মুহূর্তগুলোই মনে করিয়ে দেয়—চিকিৎসা শুধু প্রেসক্রিপশন লেখার নাম নয়, একজন মানুষের কষ্ট কমিয়ে তার মুখে হাসি ফিরিয়ে দেওয়ারও নাম।

সবার কাছে অনুরোধ, কিডনিতে পাথরের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই অপারেশন ছাড়াই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

আলহামদুলিল্লাহ। সবার সুস্থতা কামনা করি। 🌿

(রোগীর সম্মতি নিয়ে ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

#কিডনি #পাথর

ইউরিক এসিড বেশি থাকলে যে যে খাবার গ্রহন পরিমিত করা উচিত -
15/07/2026

ইউরিক এসিড বেশি থাকলে যে যে খাবার গ্রহন পরিমিত করা উচিত -

আজ চেম্বারে এমন একটি মুহূর্ত এলো, যা সত্যিই মনে গেঁথে থাকবে অনেকদিন… ❤️আমার একজন রোগী, খুব সাধারণ একজন মানুষ… কিন্তু তাঁ...
20/04/2026

আজ চেম্বারে এমন একটি মুহূর্ত এলো, যা সত্যিই মনে গেঁথে থাকবে অনেকদিন… ❤️

আমার একজন রোগী, খুব সাধারণ একজন মানুষ… কিন্তু তাঁর মনের ভালোবাসাটা অসাধারণ। তিনি তাঁর নিজের ব্যবসার সবচেয়ে ভালো পণ্য—মামা ভাগনে গামছা, যা সিরাজগঞ্জ থেকে উদ্ভূত ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী তাঁতের একটি সুপরিচিত ব্র্যান্ড, আমাকে উপহার দিলেন। সাথে তাদের স্যার এর জন্য ও এক খানা❤️

এর ভেতরে আছে কৃতজ্ঞতা, বিশ্বাস, আর এক অদ্ভুত মায়া…

আমরা হয়তো প্রতিদিন অসংখ্য প্রেসক্রিপশন লিখি, রোগি দেখি… কিন্তু এই ছোট ছোট ভালোবাসা গুলোই আমাদের কাজকে অর্থপূর্ণ করে তোলে। এই ভালোবাসাই মনে করিয়ে দেয়—আমি শুধু একজন ডাক্তার না, আমি কারো ভরসা, কারো আশার জায়গা।

আলহামদুলিল্লাহ, এই ভালোবাসা পাওয়ার জন্য 🤍

বি দ্র: পেশেন্ট এর ছেলে বল্লো : ম্যাডাম আমাদের গামছার ছবি আপনার পেইজ এ দিয়েন🤭🤭

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Afrin Akter- kidney Specialist posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share