01/10/2026
ডেঙ্গু নিয়ে এবারের মাঠ পর্যায়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা সম্পর্কে বলা হতো এরা দিনের বেলা বিশেষ করে সন্ধায় এবং ভোরে বেশি কামড়াতো।কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে এরা রাতের বেলাতেও কামড়াচ্ছে।
ডেঙ্গু হলে সাধারণত আমরা জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা—এই লক্ষণগুলোর কথা চিন্তা করি। কিন্তু এবার রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গুর কিছু ভিন্ন ধরনের লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডেঙ্গুর পরীক্ষা নেগেটিভ আসলেই যে ডেঙ্গু নেই, এমনটা সবসময় নয়।
বিশেষ করে অসুস্থ হওয়ার একেবারে শুরুর দিকে পরীক্ষা করলে রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে পারে। পরে আবার পরীক্ষা করলে পজিটিভ হতে পারে।
তাই শুধু একটা রিপোর্ট দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, রোগীর কী কী লক্ষণ আছে এবং রক্তের পরীক্ষায় সময়ের সঙ্গে কী পরিবর্তন হচ্ছে—সেটাও দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
আরেকটা বিষয় এবার বেশ দেখা যাচ্ছে—
ডেঙ্গুতে শুধু জ্বর নয়, পেটের সমস্যাও হতে পারে।
অনেক রোগীর পাতলা পায়খানা, বারবার বমি, পেট ব্যথা বা পেটে অস্বস্তি দিয়ে ডেঙ্গু শুরু হচ্ছে।
কারও কারও জ্বরের সঙ্গে এসব হচ্ছে, আবার কারও ক্ষেত্রে জ্বর আসার আগেও পেটের সমস্যা দেখা যাচ্ছে।
বিশেষ করে বারবার বমি বা প্রচুর পাতলা পায়খানা হলে বিষয়টাকে হালকা করে দেখবেন না।
কারণ শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বেরিয়ে গেলে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে রক্তচাপ কমে গিয়ে কিডনির ওপরও চাপ পড়তে পারে এবং গুরুতর অবস্থাও তৈরি হতে পারে।
আরেকটা বিষয়—
ডেঙ্গুতে প্লাটিলেট কমলেই যে রক্তপাত হবে, এমন নয়।
অনেক রোগীর প্লেটলেট দ্রুত কমে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের রক্তপাত হচ্ছে না।
আবার শুধু প্লেটলেটের সংখ্যা দেখেই রোগী কতটা ঝুঁকিতে আছেন, সেটাও বোঝা যায় না।
তাই একবার রক্ত পরীক্ষা করেই বসে না থেকে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বারবার রক্ত পরীক্ষা করে পরিবর্তনটা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
এবার কিছু রোগীর মধ্যে ডেঙ্গুর আরও কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।
যেমন—
অনেক বেশি মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, কোমর বা শরীরের প্রচণ্ড ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, খেতে ইচ্ছা না করা।
কিছু গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্র, মস্তিষ্ক, ফুসফুস বা অন্যান্য অঙ্গেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তাই শুধু “জ্বর আছে, ওষুধ খেলে কমে যাচ্ছে”—এটা দেখে নিশ্চিন্ত হওয়া ঠিক নয় যে ডেংগু নেই।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
ডেঙ্গুতে সবার গায়ে লাল দাগ(র্যাশ) উঠবে—এমন কোনো কথা নেই।
অনেক রোগীর কোনো র্যাশই থাকে না।
আবার কারও জ্বর কমে যাওয়ার কয়েকদিন পর র্যাশ দেখা দিতে পারে।
জ্বরের ধরনও সবার একরকম নয়। কারও কয়েকদিন জ্বর থেকে ভালো হয়ে যাওয়ার পর আবার জ্বর আসতে পারে। কারও অনেকদিন ধরে জ্বর থাকতে পারে।
এমনকি একই পরিবারের একজনের ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর অন্য সদস্যেরও একই ধরনের লক্ষণ থাকতে পারে, কিন্তু তার প্রথম পরীক্ষাটি নেগেটিভ আসতে পারে।
আর ডেঙ্গুর পাশাপাশি অন্য সংক্রমণও একই সময়ে থাকতে পারে। তাই শুধু ডেঙ্গু ধরে নিয়ে অন্য সম্ভাবনাগুলো বাদ দেওয়া ঠিক নয়।
সবশেষে একটা কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ—
ডেঙ্গু শুধু একটা পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়ে বোঝার রোগ নয়।
রোগীর লক্ষণ কী, কতদিন ধরে অসুস্থ, রক্ত পরীক্ষায় কী পরিবর্তন হচ্ছে—সবকিছু মিলিয়ে চিকিৎসককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তাই জ্বরের সঙ্গে যদি বারবার বমি, প্রচুর পাতলা পায়খানা, তীব্র পেট ব্যথা, খুব বেশি দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, রক্তপাত, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডেঙ্গুর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে—এই একটা কারণে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন না। রোগীর পুরো অবস্থাটাই দেখতে হবে।
মহিউদ্দিন আহমেদ