19/02/2026
রমজানে(রমাদানে) শয়তানকে বেঁধে রাখা হয়, তাহলে যাদু কীভাবে কাজ করে?
রমজান মাসে শয়তানকে শিকলবন্দি করা হয় – এটা সহীহ হাদীসে স্পষ্ট। তাহলে প্রশ্ন উঠে:
রমজানে যাদু/জিনের আছর কেন চলতে থাকে?
শয়তান বন্দি হলে মানুষের উপর যাদুর প্রভাব কেন থাকে?
রমজানে অসুস্থতা, ঝগড়া, রিজিক বন্ধ বা ভয়ঙ্কর স্বপ্ন দেখা যায় কেন?
এগুলো অনেক সময় খবিস জিন বা পূর্ব-নির্ধারিত যাদুর আছরের লক্ষণ, যা রমজানেও কাজ করে।
কুরআন-হাদীসে এই বিষয়ের ব্যাখ্যা
আল্লাহ তা’আলা বলেন (সূরা কাহফ: ৫০):
﴿وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ ۗ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ ۚ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا﴾
“আর যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, আদমকে সিজদা করো, তখন তারা সিজদা করল ইবলীস ছাড়া। সে ছিল জিনদের একজন, সে তার রবের আদেশ অমান্য করল। তবে কি তোমরা আমার পরিবর্তে তাকে ও তার বংশধরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে, অথচ তারা তোমাদের শত্রু? যালিমদের জন্য কত নিকৃষ্ট বিনিময়!”
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ»
“যখন রমজান আসে, জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শিকলবন্দি করা হয়।” (সহীহ বুখারী: ১৮৯৯, সহীহ মুসলিম: ১০৭৯)
আলেম ও সালাফদের ব্যাখ্যা
ইবনে হাজার আল-আসকালানী রহ. (ফাতহুল বারী) বলেন:
“রমজানে শয়তানদের শিকলবন্দি করা হয় মানে তাদের ক্ষমতা কমে যায়, কিন্তু সব শয়তান বন্দি হয় না। যারা যাদুকরদের সাথে কাজ করে বা যাদুতে বসানো হয়েছে, তারা বন্দি হয় না।”
ইবনে রজব আল-হাম্বলী রহ. (লাতাইফুল মা’আরিফ) বলেন:
“শয়তান বন্দি হলেও যাদু যদি রমজানের আগে করা হয়ে থাকে, তাহলে তার প্রভাব অব্যাহত থাকে। এছাড়া মানুষের নফস ও পাপাচার যাদুকে শক্তি দেয়।”
ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ. (মাজমূ’ ফাতাওয়া) বলেন:
“জিন জাতির মধ্যে অনেক প্রকার আছে। ইবলীসের অনুসারী কিছু শয়তান বন্দি হয়, কিন্তু যাদুকরদের সাথে চুক্তিবদ্ধ জিন বা খবিস জিনের অনেকগুলো মুক্ত থাকে এবং কাজ করে।”
উদাহরণস্বরূপ: আপনার দেওয়া উদাহরণের মতো – জিন জাতির মধ্যে অনেক প্রকার আছে (ইফরিত, মারিদ, শয়তান, জান, গুল, আওয়ামির, হুয়ান, কারিন, খান্নাস, হিন, সিলাত, পালিস, যাহুম, নাসনাস, শিক ইত্যাদি)। এদের মধ্যে দু’এক প্রজাতির জিন ইবলীসের অনুসারী, তারা বন্দি। বাকিরা মাঠে আছে – যেমন নির্বাচনের সময় বড় নেতারা জেলে থাকলে বাকিরা মাঠে নেমে কুকর্ম করে।
যাদুর লক্ষণসমূহ (রমজানেও দেখা যায়)
অকারণ শারীরিক অসুস্থতা বা ঔষধের কার্যকারিতা না হওয়া
পরিবারে অকারণ ঝগড়া, বিচ্ছেদ বা রিজিক বন্ধ হয়ে যাওয়া
ভয়ঙ্কর স্বপ্ন বা শয়তান দেখা
ইবাদতে অলসতা, কুরআন শুনলে অস্বস্তি বা রাগ হওয়া
শরীরে অদ্ভুত জ্বালা, দাগ বা দুর্বলতা অনুভব করা
শারঈ মুক্তির উপায় (রমজানে বিশেষ জোর দিয়ে)
১. প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা আয়াতুল কুরসি + সূরা ফালাক + সূরা নাস ৭ বার পড়ে নিজের ও পরিবারের উপর ফুঁ দিন।
২. ঘুমানোর আগে সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত পড়ে ফুঁ দিন (বালিশের নিচে বা বিছানার চারপাশে)।
৩. রুকইয়াহ পানি তৈরি করে পান করুন এবং গোসল করুন।
৪. ঘরে প্রতিদিন সূরা বাকারা পূর্ণ পাঠ করুন বা অডিও চালিয়ে দিন (শয়তান পালিয়ে যায়)।
৫. হারাম কনটেন্ট, অশ্লীলতা ও পাপ থেকে দূরে থাকুন – এগুলো যাদু ও জিনকে শক্তি দেয়।
৬. নিয়মিত সাদাকা দিন, তওবা করুন এবং কুরআন তিলাওয়াত বাড়ান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: লক্ষণ দেখা গেলে অবিলম্বে রুকইয়াহ শুরু করুন। তাবিজ-কবজ, ঝাড়ফুঁক বা জাদুকরের কাছে যাওয়া থেকে দূরে থাকুন – এটা শিরক ও কুফর। সমাধান শুধু কুরআন ও সুন্নাহতে।
📞 রুকইয়াহ অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে যোগাযোগ করুন
+8801716- 786214 (WhatsApp)
Quranic Ayat Tadbeer centre , দেবত্তর বাজার, পাবনা।
আল্লাহ রমজানে আমাদের যাদু, জিন ও শয়তানের সব আছর থেকে হেফাজত করুন। আমীন। 💚
#রমজান #শয়তান_বন্দি #যাদু_জিন #রুকইয়াহ