04/12/2025
একটু আগে বাসার পাশের জসিম ভাইয়ের দোকানে গিয়েছিলাম ওষুধ কিনতে। একজন ভদ্রমহিলা এসে বললো, "আমার ৫ বছরের ছেলের পেটের সমস্যা (এক্সাক্টলি বুঝি নাই)। কিছু ওষুধ দেন।"
জসিম ভাই উত্তর দিলো, "তাকে মিরপুর ২ এর এম আর খান শিশু হাসপাতালে দেখাও। ওখানে ভালো ডাক্তার বসে।"
তারপরও ওষুধ দেওয়ার অনুরোধ করলে আমি তাকে বললাম, "জসিম ভাই কিন্তু পল্লীচিকিৎসক, কোন ডাক্তার না। সেজন্য শিশু হাসপাতালেই যান, যেহেতু ছোট বাচ্চার ব্যাপার।"
তখন সে মন খারাপ করে উত্তর দিলো, "সে ডাক্তার না, সেটা জানি। কিন্তু তার কাছ থেকেই সবসময় ওষুধ নিই, পরামর্শ নিই।"
যাইহোক, সে চলে যাওয়ার পরে জসিম ভাই আমাকে বললো, "ভাই, এদের কি দোষ? শিশু হাসপাতালে ভিজিট কম। কিন্তু টেস্ট দিতে পারে। সেই টাকা নেই এদের কাছে। গরীব মানুষ তো।" 😒
আমি আর কিছু বলি নাই। তবে অনেকের আর্থিক সামর্থ্য থাকলেও পল্লীচিকিৎসকের কথার বাইরে যেতে চায় না। সেজন্যই ৪ দিন আগে শুরু করেছি আমার চতুর্থ কোম্পানি 'স্বাস্থ্যসেতু'র কার্যক্রম।
কো-ফাউন্ডার সুমন'দা চট্টগ্রামের ডাবল মুরিং এলাকায় কাজ শুরু করে দিয়েছেন। গতকালকেও অনেকগুলো ফার্মেসীর মালিকের সাথে কথা বলেছেন।
আপাতত আমাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠান 'সুস্থ জীবন ক্লিনিক' এ বিকেলে বসা কনসাল্টেন্টদের কাছে রোগী পাঠাবেন তারা। রোগীর সাথে ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট ও ফলোআপ করাবে আমাদের স্বস্তি ওয়েবসিস্টেমের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে অন্যান্য হাসপাতাল ও ল্যাবের সাথে আমাদের চুক্তি হবে।
অনিয়ন্ত্রিত রেফারেল সিস্টেমকে স্বচ্ছ, অডিটেবল এবং প্রফেশনাল হেলথ রেফারেল নেটওয়ার্কে রূপান্তর করতেই স্বাস্থ্যসেতু।
যেখানে সবাই লাভবান:
✔ ডাক্তার — যাচাইযোগ্য রোগী পাবেন।
✔ রোগী — ফলোআপসহ ধারাবাহিক চিকিৎসা নিশ্চিতভাবে পাবে।
✔ পল্লীচিকিৎসক — কমিশন নয়, বৈধ আয়, রেকর্ডসহ। সাথে নিজেদের ওষুধ বিক্রি বাড়বে।
চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু অসম্ভব নয়। সিস্টেম গড়তে হলে আগে সাহসী হতে হয়। আমরা সেই কাজটাই করছি।
ইঞ্জি: শরিয়ত রহমান
সিইও ও কো-ফাউন্ডার
আমার আস্থা লি:
শান মেডিকেল টেকনোলজি
স্বস্তি
স্বাস্থ্যসেতু