13/05/2026
"১৫ বছরের সম্পর্ক ছিল আমাদের। সেই ২০১২ থেকে। খুব ভালোবাসতাম তাকে। এখনো বাসি। সেও ভালোবাসতো। এখন হয়তো আর ভালোবাসে না। দুজনের পড়ালেখা শেষ হওয়ার পর Establish হয়ে পরিবারে জানাই বিয়ে করার জন্য। আমার বাড়িতে সহজ ভাবে মেনে নিলেও তার বাড়িতে মেনে নেয়নি। তার মা কে কোনোভাবেই মানানো যায় নি। অনেক ভাবে বিগত ৩বছর ধরে চেষ্টা করা হয়েছিল। মানে নি। তাকে বললাম দুজনই যখন Establish এখন, চলো নিজেরাই বিয়ে করে সংসার শুরু করি, পরে মা কে মানিয়ে নিবো নে। না সে রাজি হয় নাই, ১৫ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে আমার হাত ছেড়ে দেয়। বয়স এখন আমার ২৭ চলে। এমন বয়সী একটা অবিবাহিতা মেয়ে বাড়িতে থাকলে মা বাবা কে সমাজের লোকজন কি কি কথা বলে কল্পনাও করা যায় না। কেউ কেউ তো এটাও বলে আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ কি না। খুব পাগলামি করেছি, কান্নাকাটি করেছি, মরে যেতেও চেয়েছি।
পরে নিজেকে খুব করে বুঝিয়ে নিলাম, "কার জন্য করবো এসব, আমি মরে গেলে কার কি যাবে আসবে। সে তো কবেই চলে গিয়েছে। তাই বলে আমি কেন বাকিটা জীবন ধ্বংস করবো। সুইসাইড করলে ইহকাল পরকাল সব হারাবো। দুনিয়ায় এত এত কষ্ট ভোগ করে আবার আখিরাতেও আর। শাস্তি পেতে চাই না আর।
মন কে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। আল্লাহর কাছে মাফ চাইলাম, তওবা করলাম, উল্টা পাল্টা ভাবনা মাথা থেকে দূর করতে রেগুলার বাসায়ই নিজে নিজে রুকাইয়া করলাম। চাকরি করতেছি, তাই আলহামদুলিল্লাহ কারো উপর Depended না। নিজেকে, পরিবার কে, আর কিছু close friends দেরকে নিয়ে চেষ্টা করতেছি যতটা পসিবল নিজেকে happy রাখার। এখনো অনেক struggle করতেছি। এখনো অনেক সময় Panic Attack হয়। নিজেকে Control করতে পারি না, হাত-পা ছুড়াছুঁড়ি করে কান্না করি। একটু পর আবার নিজেকেই নিজে সামলাই। ১৫টা বছরের স্মৃতি তো এত সহজে মুছতে পারবো না, ভুলতেও পারবো না। তবে আমি নতুন নতুন স্মৃতি তৈরী করার চেষ্টা করছি।"
[নিজের জীবনের এই গল্পটি আমাদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন সুমাইয়া চৌধুরী (ছদ্মনাম)]