29/07/2026
প্যালিয়েটিভ মেডিসিন (Palliative Care) এমন একটি বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি, যা দুরারোগ্য বা নিরাময়-অযোগ্য রোগে (যেমন: ক্যান্সার, কিডনি ফেইলিওর) আক্রান্ত রোগীদের শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক কষ্ট প্রশমন করে। এর মূল লক্ষ্য রোগ সারানো নয়, বরং ব্যথামুক্ত রেখে যত্নের সাথে রোগীকে একটু আরামদায়ক ও সম্মানজনক জীবনাবসানের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করা।
সোজা কথায়, যখন ডাক্তার বলে দেন–'আমাদের আর কিছু করার নাই রোগীকে বাড়ি নিয়ে যান' সেই অবস্থায় এই প্যালিয়েটিভ কেয়ার শুরু। বাংলাদেশে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ডাক্তার নিজামুদ্দিন আহমেদ এর একটা ভিডিও দেখলাম।
ভাবালো বিষয়টা।
মৃত্যু পথযাত্রীকে আমরা জেনে-বুঝে মিথ্যে স্বান্তনা দেই–সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সত্যিটা জানিয়ে দেয়া হয়?
যতদূর জানি, সাবেক রাস্ট্রপতি ডাঃ এ, কিউ, এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী জানতেন তার সময় শেষ। সমস্ত চিকিৎসা এখন অকার্যকর। তখন তিনি তার ছাত্রদের ডেকে বলেছিলেন, আমার ব্যথা শুধু কম করে দাও আর কিছু দরকার নাই।
সবাই উনার মত জ্ঞানী বা মানসিক শক্তির অধিকারী না, তাই বলে তাদের কি জানানো উচিৎ না?
আমার মনে হয় জানিয়ে দেয়া উচিৎ। ওই গানের মতন– যা কিছু দেখার নাও দেখে নাও, যা কিছু বলার যাও বলে যাও, পাবে না সময় আর হয়তো....
হতে পারে মানুষটি তার অনেকদিন দেখা না হওয়া প্রিয়জনকে শেষবারের মতন দেখে নিতে পারে। যা বলা হয়নি সেটা বলে যেতে পারে। ক্ষমা চেয়ে নিতে পারে।
আমরা এমনভাবে বাঁচি যেন আজীবন বেঁচে রইবো। মৃত্যুর কথা শুনতেও ভাল্লাগে না। ধর্মীয় আলোচনার মধ্যে ছাড়া খুব একটা শোনাও যায় না। কাছের কেউ মারা গেলে কয়েকদিন হাহুতাশ করি দুই দিন পর আবার সব ভুলে আগের মতো হয়ে যাই।
মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করা দরকার। 'প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে' শুধুমাত্র এই একটা আয়াত দিনে একবার মনে করলেই মানুষের পক্ষে যাবতীয় কুকর্ম করার পরিমাণ কমে যায়।
'মরেই তো যাব' মনে করলে তো আরেকটু ভালোবাসতে ইচ্ছে করে মানুষকে।
'শুন্য হাতেই তো চলে যাব' ভাবলে তখন আর ইচ্ছে করেনা অন্যের সম্পদ দখল করতে।
অন্যের কাঁধে ভর করেই পারি দিতে হবে পরপারে ভাবলেই সহমর্মি হতে ইচ্ছে করে।
প্রায় পঁচাশি ভাগ মৃত্যুই আসে না-কি সংকেত দিয়ে বাকী পনেরো ভাগ আকস্মিক দুর্ঘটনায়। পরিসংখ্যান যেটাই বলুক একমাত্র সত্য হচ্ছে –মৃত্যু আসবেই। আকস্মিক নাকি আগাম বার্তা দিয়ে সেটা খুব একটা বিবেচ্য না আসলে। জীবনের শেষ সময়টুকুও জীবনকে উদযাপন করে অন্য যাত্রার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবার মতন প্রস্তুতি আমাদের সবার থাকা দরকার। গুছিয়ে নেবার সময় তো না-ও পেতে পারি!
_ সংগৃহীত