20/02/2026
জাদু তুলে নষ্ট না করলে মানুষ কখনোই সুস্থ হবে না"—এই কথাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইসলামী আকিদার পরিপন্থী।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, রোগ এবং শিফা (আরোগ্য) একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে। জাদুর বস্তু (তাবিজ, পুতুল, চুল ইত্যাদি) খুঁজে বের করে নষ্ট করাটা জাদুর প্রভাব কাটানোর একটি কার্যকরী বা সহজ উপায় ঠিকই, কিন্তু এটিই একমাত্র উপায় নয়। জাদুর বস্তু খুঁজে না পেলেও পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আমলের মাধ্যমে (রুকইয়াহ) যেকোনো শক্তিশালী জাদু নষ্ট করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ...
এবং নিজের ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা করব...
নিচে কুরআন, হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ইসলামী কিতাবের দলিলসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
প্রথম অংশ: "জাদু তুলে নষ্ট না করলে সুস্থ হবে না"—কথাটি কতটুকু সত্য?
এই ধারণাটি ভুল। কারণ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন:
"আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্টে নিপতিত করেন, তবে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই।" (সূরা আনআম: ১৭)
রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে যখন ইহুদি লবীদ ইবনে আসেম জাদু করেছিল, তখন জাদুর বস্তু একটি কূপের নিচে পাথরের তলায় রাখা ছিল। রাসূল (সা.) সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে জাদুর প্রভাব নষ্ট করেছিলেন। অনেক বর্ণনায় এসেছে জাদুর বস্তু তোলা হয়েছিল, তবে ইসলামী স্কলাররা একমত যে, জাদুর বস্তু যদি সাগরের তলদেশেও থাকে বা আগুনে পুড়িয়েও ফেলা হয়, তবুও কুরআনের আয়াতের তেলাওয়াতের মাধ্যমে তার প্রভাব শরীর থেকে সম্পূর্ণ নষ্ট করা যায়।
দ্বিতীয় অংশ: জাদু তোলা ছাড়া কীভাবে জাদু নষ্ট করা যায়? (দলিলসহ পদ্ধতি)
জাদুর বস্তু খুঁজে না পেলে 'রুকইয়াহ শারইয়াহ' (কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ঝাড়ফুঁক) এর মাধ্যমে জাদু নষ্ট করতে হয়। বিখ্যাত ইসলামী স্কলার আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহ.), শাইখ ইবনে বাজ (রহ.) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এ বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
নিচে জাদু নষ্ট করার প্রমাণিত এবং সুন্নাহ সম্মত উপায়গুলো দেওয়া হলো:
১. সূরা বাকারার তেলাওয়াত
জাদু নষ্ট করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো সূরা বাকারা।
দলিল: রাসূল (সা.) বলেছেন, "তোমরা সূরা বাকারা তেলাওয়াত করো। কেননা এটি গ্রহণ করা বরকতের কাজ এবং বর্জন করা পরিতাপের কাজ। আর জাদুকরেরা এর মোকাবিলা করতে পারে না।" (সহিহ মুসলিম: ৮০৪)
পদ্ধতি: প্রতিদিন ঘরে সূরা বাকারা তেলাওয়াত করবেন (অডিও চালালেও ফায়দা হবে, তবে নিজে পড়া উত্তম)। এতে জাদুর প্রভাব কেটে যায়।
২. মুআউবিযাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) এবং সূরা ইখলাস
রাসূল (সা.)-এর ওপর করা জাদু নষ্ট করার জন্য আল্লাহ তায়ালা সরাসরি এই দুটি সূরা নাজিল করেছিলেন।
দলিল: মা আয়েশা (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) যখন অসুস্থ হতেন, তখন তিনি সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে নিজের ওপর ফুঁ দিতেন। (সহিহ বুখারি: ৫০১৬)
পদ্ধতি: প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায়, এবং প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস ৩ বার করে পড়ে দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে মুছবেন।
৩. ৭টি কাঁচা বরই পাতা (Sidr leaves) ব্যবহার
জাদু নষ্ট করার জন্য এটি সালাফদের (পূর্বসূরী আলেমদের) একটি পরীক্ষিত এবং অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি। বিখ্যাত তাবেয়ী ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ (রহ.) এই পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন এবং আল্লামা ইবনে বাজ (রহ.) একে জাদুর শ্রেষ্ঠ চিকিৎসা বলেছেন।
পদ্ধতি: ৭টি কাঁচা বরই পাতা (কুল পাতা) নিয়ে দুটি পাথরের মাঝে বা পাটায় বেটে পেস্ট করে নেবেন। এরপর একটি বালতিতে গোসলের পরিমাণ পানিতে সেই পাতা মেশাবেন। তারপর ওই পানিতে মুখ কাছাকাছি নিয়ে নিচের আয়াতগুলো পড়বেন এবং ফুঁ দেবেন:
আউযুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহসহ সূরা ফাতিহা (১ বার)।
আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫)।
সূরা আল-আরাফ এর ১১৭-১১৯ নং আয়াত।
সূরা ইউনুস এর ৭৯-৮২ নং আয়াত।
সূরা ত্বোয়া-হা এর ৬৫-৬৯ নং আয়াত।
সূরা কাফিরুন, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস (প্রতিটি ৩ বার করে)।
ব্যবহার: এরপর ওই পানি থেকে ৩ ঢোক পান করবেন এবং বাকি পানি দিয়ে গোসল করবেন। জাদুর প্রভাব পুরোপুরি নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত কয়েকদিন এই আমল চালিয়ে যাবেন। (তথ্যসূত্র: ফাতাওয়া ইবনে বাজ, ৩/২৭৪)।
৪. সুন্নাহ সম্মত দোয়া দিয়ে ঝাড়ফুঁক
রাসূল (সা.) অসুস্থতা ও জাদুর প্রভাব কাটাতে কিছু বিশেষ দোয়া পড়তেন।
দলিল ও পদ্ধতি: জিবরাইল (আ.) রাসূল (সা.)-কে এই দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করেছিলেন:
"বিসমিল্লাহি আরক্বীকা, মিন কুল্লি শাইয়িন ইয়ু’যীকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীকা, বিসমিল্লাহি আরক্বীকা।" (সহিহ মুসলিম: ২১৮৬)
অর্থ: আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি, এমন সব কিছু থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয়। প্রত্যেক ব্যক্তি ও হিংসুটে চোখের অনিষ্ট থেকে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিন। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি।
৫. হিজামা (Cupping Therapy) করানো
জাদুর প্রভাব অনেক সময় মানুষের রক্তে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আটকে থাকে।
দলিল: আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'যাদুল মাআদ' (৪/১২৬) এ বলেছেন, "জাদুগ্রস্ত স্থানে হিজামা করা বা শিঙা লাগানো জাদুর সবচেয়ে কার্যকরী চিকিৎসাগুলোর একটি।"
পদ্ধতি: কোনো অভিজ্ঞ ও সুন্নাহ মেনে চলা হিজামা থেরাপিস্টের কাছ থেকে মাথায় এবং পিঠে (সুন্নাহ পয়েন্টগুলোতে) হিজামা করালে জাদুর বিষাক্ত প্রভাব শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
জরুরি শর্তাবলি:
জাদু নষ্ট করার জন্য এই আমলগুলো তখনই কাজে আসবে যখন রোগীর মধ্যে নিচের বিষয়গুলো থাকবে:
১. আকিদা ঠিক রাখা: বিশ্বাস রাখতে হবে কুরআন বা পাতার নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই, শিফা দেওয়ার মালিক কেবল আল্লাহ।
২. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ: নামাজ ছাড়া কোনো রুকইয়াহ বা আমল কাজে আসবে না।
৩. হারাম থেকে বেঁচে থাকা: গান-বাজনা, সুদ, বেপর্দা চলাফেরা ইত্যাদি পরিহার করতে হবে।
৪. শিরক ও বিদআত মুক্ত থাকা: জাদুর কাটানোর জন্য অন্য কোনো জাদুকর, গণক বা কুফরি তাবিজ-কবজ ব্যবহার করা যাবে না। এটি শিরক এবং এর দ্বারা ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম: ২২৩০)।
আমি একজন পেসেন্ট এর ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করি... যদিও এমন কেইস বহু রয়েছে।
ঘটনা -০১
একজন পরিচিত ভাই এর রিযিকের উপর জাদু করা হয়েছে জাদু ফেলে এসেছে সাগরে.... সাগরে জাদু ফেলে আসছে তার মানে কি এটা উঠাতেই হবে??
এটা কি আধো সম্ভব যে সরাসরি কই না কই আছে এটা তুলব??
তখন আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইলাম রাকী হিসেবে ও পেসেন্টকে বললাম খুব আকুতি মিনুতি করে আল্লাহর দরবারে কান্না কাটি করে হলেও জাদু ধ্বংসের দোয়া করুন আল্লাহ পরিপূর্ণ ধ্বংস করে দিবেন ইনশাআল্লাহ...
আলহামদুলিল্লাহ মাস না যেতেই পেসেন্ট সুস্থ.. সব কিছু ঠিক ঠাক..
ঘটনা -০২..
একজন বোন যাকে কিনা কুফরি করা হয়েছে সন্তান যাতে না হয়... তার জাদু কবরে পুতে রাখা আগের স্বামীর বাড়ির কবরস্থানে ...
আলহামদুলিল্লাহ ২-৩ মাস রুকইয়াহ চিকিৎসা জাদু ধ্বংস হয়ে ৫ বছর পর তার সন্তান কসনিভ করল পেসেন্ট সুস্থ আলহামদুলিল্লাহ...
আশা করি আপনাদের বুঝতে বাকি নেই যে জাদু উঠানো বাধ্যতামূলক নয়.. পেলে ভাল ধ্বংস করা সহজ... না পেলে আল্লাহর কাছে দোয়া আমল চালিয়ে যেতে হবে ইনশাআল্লাহ আল্লাহ সাহায্য করবেন...
সারসংক্ষেপ: জাদুর বস্তু খুঁজে পাওয়া গেলে তা নষ্ট করে দেওয়া ভালো। কিন্তু খুঁজে না পেলেও হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সূরা বাকারা, সূরা ফালাক, সূরা নাস তেলাওয়াত, বরই পাতার গোসল এবং রুকইয়াহ শারইয়াহর মাধ্যমে রাকীর পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে চলুন... আল্লাহর রহমতে যেকোনো জাদুর প্রভাব শতভাগ নষ্ট করা সম্ভব। ইনশাআল্লাহ।
🖋️Md,Rashedul islam
01888123657(WhatsApp)
Gopibag jame mosjid
গুপিবাগ ঢাকা ১২০৩