22/06/2026
একবার ছবিটার দিকে তাকান।
এটা কোনো গাছের শিকড় নয়, কোনো শিল্পীর তৈরি নকশাও না,
এটা আপনার, আমার, আমাদের মতো একজন মানুষের শরীরের ভেতরে থাকা সম্পূর্ণ স্নায়ুতন্ত্র।
মস্তিষ্ক থেকে বের হয়ে অসংখ্য স্নায়ু শরীরের প্রতিটি কোণে ছড়িয়ে গেছে। চোখের পাতা ফেলা থেকে শুরু করে হৃদপিণ্ডের স্পন্দন, হাতের স্পর্শ অনুভব করা থেকে মায়ের কণ্ঠস্বর চিনতে পারা, সিজদায় মাথা নত করা থেকে চোখের পানি ঝরানো, সবকিছুর পেছনেই কাজ করছে এই বিস্ময়কর ব্যবস্থা।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখনও চলমান...
আপনি ঘুমাচ্ছেন, কিন্তু আপনার হৃদপিণ্ড চলছে।
আপনি কিছু ভাবছেন না, কিন্তু আপনার ফুসফুস শ্বাস নিচ্ছে।
আপনি কাউকে নির্দেশ দিচ্ছেন না, কিন্তু কোটি কোটি স্নায়ুকোষ প্রতি সেকেন্ডে অসংখ্য বার্তা আদান-প্রদান করছে।
কে শিখিয়ে দিল এই স্নায়ুগুলোকে তাদের কাজ?
মায়ের গর্ভে যখন একটি শিশুর আকার ছিল মাত্র কয়েক মিলিমিটার, তখনই তার স্নায়ুতন্ত্র গঠিত হতে শুরু করে।
কোনো প্রকৌশলী ছিল না, কোনো ডাক্তার ছিল না, কোনো ল্যাবরেটরি ছিল না।
তবুও নির্দিষ্ট জায়গায় চোখ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গায় কান। নির্দিষ্ট জায়গায় মস্তিষ্ক। নির্দিষ্ট জায়গায় স্নায়ুর শাখা-প্রশাখা।
একটুও এদিক-সেদিক হয়নি।
মানবদেহে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ রয়েছে। প্রতিটি কোষ আবার হাজার হাজার সংযোগ তৈরি করতে পারে। এমন এক জটিল নেটওয়ার্ক, যার সম্পূর্ণ রহস্য আজও বিজ্ঞান পুরোপুরি উন্মোচন করতে পারেনি।
বিজ্ঞান বলে "কীভাবে" অনেক কিছু ঘটে।
কিন্তু,
"কেন এমন নিখুঁতভাবে ঘটে?" "কে এই নিয়ম নির্ধারণ করলেন?" "কে এই ভারসাম্য বজায় রাখছেন?"
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন:
"আর তোমাদের নিজেদের মধ্যেও রয়েছে বহু নিদর্শন। তবুও কি তোমরা লক্ষ্য করবে না?" (সূরা আয-যারিয়াত: ২১)
আমরা আকাশের তারা দেখে মুগ্ধ হই, সমুদ্র দেখে বিস্মিত হই, পাহাড় দেখে অভিভূত হই।
কিন্তু আমাদের নিজেদের শরীরের ভেতরে যে মহাবিশ্ব লুকিয়ে আছে, সেটার কথা খুব কমই ভাবি।
এই স্নায়ুতন্ত্রের একটি ক্ষুদ্র অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মানুষ তার স্মৃতি হারাতে পারে। একটি ছোট্ট রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে!!
একটি স্নায়ুর সমস্যা মানুষের জীবনকে অন্ধকার করে দিতে পারে।
তবুও প্রতিদিন আমরা সুস্থভাবে হাঁটছি, কথা বলছি, সন্তানকে আদর করছি, নামাজে দাঁড়াচ্ছি।
এগুলো আমাদের প্রাপ্য নয়। এগুলো আল্লাহর দান।
হয়তো আমরা অনেকেই ভাবি, আল্লাহর নিদর্শন দেখতে হলে আকাশের দিকে তাকাতে হবে।
না।
আপনার হাতের দিকে তাকান। আপনার চোখের দিকে তাকান। আপনার মস্তিষ্কের দিকে ভাবুন। আপনার শরীরের ভেতরে ছড়িয়ে থাকা এই স্নায়ুর জালের কথা কল্পনা করুন।
তাহলেই বুঝতে পারবেন, আল্লাহর কুদরতের সবচেয়ে বড় নিদর্শনগুলোর একটি আপনি নিজেই।
একদিন এই স্নায়ুগুলো থেমে যাবে। মস্তিষ্কের সব সংকেত নিস্তব্ধ হয়ে যাবে। হৃদপিণ্ডের স্পন্দনও থেমে যাবে।
সেদিন পৃথিবী থেকে আমাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হবে, কিন্তু শুরু হবে আখিরাতের অনন্ত জীবন।
আমরা সৃষ্টি, স্রষ্টা নই। আমরা ক্ষণস্থায়ী, আল্লাহ চিরস্থায়ী। আমরা তাঁর দিকে ফিরে যাবই।
হে আল্লাহ, আপনার সৃষ্টি দেখে যেন আমরা শুধু বিস্মিত না হই, বরং আপনার প্রতি আরও বিনম্র হই, আপনার নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নিই। আমিন
Dr-Abdur Rahman ©
#বনশ্রী