22/07/2026
জামে তিরমিযির একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও সহিহ হাদিসে (হাদিস নম্বর: ২৩৩২) প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আনাস ইবনু মালিক (রা. ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা. ) বলেছেন: ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না সময় সংকুচিত হয়ে যাবে। এক বছর এক মাসের মতো হয়ে যাবে, এক মাস এক সপ্তাহের মতো, এক সপ্তাহ এক দিনের মতো, এক দিন এক ঘণ্টার মতো, আর এক ঘণ্টা একটি খেজুর পাতা পুড়ে ছাই হতে যতটুকু সময় লাগে, ঠিক ততটুকু হয়ে যাবে।
শত শত বছর ধরে ইসলামি স্কলার এবং সাধারণ মানুষ এই হাদিসটি পড়েছেন। আজ থেকে এমনকি ৫০ বছর আগেও মানুষ মনে করত এটি হয়তো কেবলই একটি রূপক (Metaphorical) কথা, অথবা হয়তো পৃথিবীর ঘূর্ণন গতি জাদুকরীভাবে বেড়ে যাবে। কারণ ফিজিক্সের সাধারণ নিয়মে ঘড়ির কাঁটার তো আর দ্রুত ঘোরার সুযোগ নেই। এক দিনে ২৪ ঘণ্টাই থাকে।
কিন্তু একজন অ্যানালিস্ট হিসেবে যখন আমি এই ডেটাটি বর্তমান গ্লোবালিস্টদের তৈরি করা ইনফরমেশন এইজ বা তথ্যের যুগের সাথে মেলাই, তখন এর পেছনের রিয়েলিটি দেখে আক্ষরিক অর্থেই শিউরে উঠতে হয়। রাসূলুল্লাহ (সা. ) এখানে ঘড়ির কাঁটার মেকানিক্যাল গতির কথা বলেননি, তিনি কথা বলেছেন মানুষের পারসেপশন অফ টাইম বা সময় অনুধাবন করার সাইকোলজিক্যাল ক্ষমতা নিয়ে। আর আধুনিক বিজ্ঞান এবং দাজ্জালিয়া সিস্টেমের অ্যালগরিদম ঠিক এই জায়গাতেই আঘাত হেনেছে।
একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন তো, আপনার নিজের জীবনের সময়গুলো কীভাবে পার হচ্ছে? আমরা সবাই, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের মানুষ বর্তমানে একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের মনে হচ্ছে দিন, মাস, বছর চোখের পলকে যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার পেরোতে না পেরোতেই আবার শুক্রবার চলে আসছে। আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠছেন, দু-চারটে কাজ করছেন, আর হঠাৎ দেখছেন রাত হয়ে গেছে! সময় যেন আর আগের মতো নেই। এর মধ্যে কোনো বারাকাহ বা স্থায়িত্ব নেই।
গ্লোবালিস্টরা শুধু জিওপলিটিক্যাল বা ইকোনমিক মনোপলি তৈরি করছে না, তারা আমাদের অ্যাটেনশন বা মনোযোগকেও হাইজ্যাক করেছে। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো জিওপলিটিক্যাল রুল হলো, যে জাতির চিন্তা করার ক্ষমতা নেই, যে জাতির মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তাদের দাস বানানো সবচেয়ে সহজ।
দাজ্জালিয়া সিস্টেম খুব ভালো করেই জানে যে, আপনি মানুষকে বন্দুকের জোরে বেশিদিন আটকে রাখতে পারবেন না। মানুষ একসময় ঠিকই বিদ্রোহ করবে। কিন্তু আপনি যদি এমন একটি অদৃশ্য শেকল তৈরি করতে পারেন, যা মানুষের ব্রেইনের ভেতরে থাকে, তবে সেই দাসেরা আর কখনোই বিদ্রোহ করবে না। কারণ তারা জানবেই না যে তারা একটি ম্যাট্রিক্সে বন্দি। এই অদৃশ্য শেকলটির নাম হলো দ্য ডোপামিন ম্যাট্রিক্স বা কগনিটিভ ইম্পেরিয়ালিজম। তারা আমাদের সময় এবং মনোযোগকে চুরি করে তাদের অ্যালগরিদমের Fuel বা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে।
কীভাবে এটি সায়েন্টিফিকভাবে প্রমাণিত? আসুন পিয়ার-রিভিউড জার্নালের হার্ড ডেটায় প্রবেশ করি।
আমরা যে বলছি আমাদের সময় দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে এবং আমরা কোনো কিছুতে ফোকাস করতে পারছি না, এটি কি শুধুই আমাদের মনের ভুল? নাকি এর পেছনে সলিড কোনো সায়েন্টিফিক ডেটা আছে?
২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে বিজ্ঞানীদের কাছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং মর্যাদাপূর্ণ পিয়ার-রিভিউড জার্নাল Nature Communications-এ একটি যুগান্তকারী গবেষণা প্রকাশিত হয়। গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল: Accelerating dynamics of collective attention। এই বিশাল গবেষণার নেতৃত্বে ছিলেন ডেনমার্কের টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষক ফিলিপ লরেঞ্জ-স্প্রিন এবং ইউরোপের আরও কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ম্যাক্রো-ডেটা সায়েন্টিস্ট।
এই বিজ্ঞানীরা কোনো ছোটখাটো জরিপ করেননি। তারা ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী টুইটার (বর্তমানে X)-এর বিলিয়ন বিলিয়ন টুইট, গুগল সার্চের ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডেটা, রেডিট-এর আলোচনা এবং উইকিপিডিয়া-এর ডেটা অ্যানালাইসিস করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল এটা দেখা যে, একটি নির্দিষ্ট টপিক বা বিষয়ের ওপর মানুষের মনোযোগ বা অ্যাটেনশন কতক্ষণ স্থায়ী হয়।
গবেষণার ডেটা ছিল মাইন্ড-ব্লোয়িং। তারা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেছেন যে, বৈশ্বিক স্তরে মানুষের কালেক্টিভ অ্যাটেনশন স্প্যান বা সমষ্টিগত মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা জ্যামিতিক হারে কমে যাচ্ছে।
আগে একটি বৈশ্বিক খবর বা ট্রেন্ডিং টপিক মানুষের মনোযোগ ধরে রাখত কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস। কিন্তু ডেটা দেখাচ্ছে, ইনফরমেশন ওভারলোডের কারণে মানুষ এখন একটি বিষয়ে কয়েক ঘণ্টার বেশি ফোকাস করতে পারে না। ব্রেইন ক্রমাগত এক টপিক থেকে অন্য টপিকে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। আপনি সকালে একটি নিউজ দেখে উত্তেজিত হচ্ছেন, দুপুরে একটি ফানি মিম দেখে হাসছেন, আর বিকেলে আরেকটা নতুন ট্রেন্ডে গা ভাসাচ্ছেন। এই যে অতিরিক্ত ইনফরমেশন প্রসেস করার চাপ, এর ফলেই আমাদের টাইম বা সময় অনুধাবনের রেট অবিশ্বাস্যভাবে ফাস্ট বা দ্রুত হয়ে গেছে।
গবেষক ফিলিপ লরেঞ্জ-স্প্রিন তার পেপারে সরাসরি বলেছেন যে, কনটেন্টের এই প্রবল স্রোত আমাদের সমাজের কালচারাল ট্রানজিশনকে এত দ্রুত করে দিয়েছে যে, মানুষের ব্রেইন আর প্রাকৃতিকভাবে সময় মাপতে পারছে না। হাদিসে বলা সময় সংকুচিত হয়ে যাওয়া-র প্রথম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এটিই, তথ্যের আধিক্যে আমাদের ব্রেইনের প্রসেসিং ক্ষমতা ওভারলোড হয়ে যাওয়া।
এখন প্রশ্ন হলো, ফিজিক্যালি সময় কেন দ্রুত পার হচ্ছে বলে মনে হয়? এক ঘণ্টা কেন এক ঘণ্টার মতো ফিল হয় না? এর নিউরোসায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা লুকিয়ে আছে আমাদের ব্রেইনের একটি বিশেষ কেমিক্যাল বা নিউরোট্রান্সমিটারের মধ্যে, যার নাম ডোপামিন।
২০১৬ সালে বিশ্বখ্যাত এবং সর্বাধিক সাইটেড (Cited) জার্নাল Science-এ একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়, যা পরবর্তীতে Journal of Neuroscienceসহ অসংখ্য জার্নালে এক্সপান্ড করা হয়। পর্তুগালের লিসবনে অবস্থিত চাম্পালিমৌড সেন্টার ফর দ্য আননোন (Champalimaud Centre for the Unknown)-এর নিউরোসায়েন্টিস্ট জোয়াও সোয়ারেস (Joao Soares) এবং তার দল এই যুগান্তকারী গবেষণাটি করেন। গবেষণার মূল ফোকাস ছিল: Midbrain dopamine neurons control judgment of time(মিডব্রেইন ডোপামিন নিউরন কীভাবে সময়ের বিচার বা হিসাব নিয়ন্ত্রণ করে)।
বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জানতেন যে ডোপামিন হলো আমাদের ব্রেইনের রিওয়ার্ড কেমিক্যাল বা আনন্দের হরমোন। কিন্তু সোয়ারেস এবং তার দলের গবেষণা প্রমাণ করে যে, ডোপামিনের আরেকটি অত্যন্ত ভয়ংকর কাজ আছে, এটি আমাদের ব্রেইনের ইন্টার্নাল ক্লক বা নিজস্ব ঘড়িকেনিয়ন্ত্রণ করে।
গবেষণায় দেখা যায়, যখন ব্রেইনের সাবস্টানশিয়া নিগ্রা (Substantia Nigra) বা মিডব্রেইনে ডোপামিনের রিলিজ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, তখন আমাদের ব্রেইনের ভেতরের ঘড়ির টিক-টিক করার স্পিড অনেক ফাস্ট হয়ে যায়। অর্থাৎ, আপনার ভেতরের ঘড়ি ফাস্ট চলছে, কিন্তু বাইরের ফিজিক্যাল জগতের ঘড়ি স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। এর ফলে কী হয়?
আপনি যখন টিকটক, রিলস, ইউটিউব শর্টস বা ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করেন, তখন অ্যালগরিদম আপনাকে প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একটি করে নতুন, আকর্ষণীয় এবং কালারফুল কনটেন্ট দেয়। প্রতিটি সোয়াইপ আপনার ব্রেইনে একটি করে ডোপামিনের হিট বা বন্যা বইয়ে দেয়। আপনার ডোপামিনের মাত্রা যখন এমন অস্বাভাবিকভাবে হাই হয়ে যায়, তখন ব্রেইনের ইন্টার্নাল ক্লক মনে করে যে অনেক অল্প সময় পার হয়েছে।
আপনি হয়তো রাত ১০টায় ফোন হাতে নিয়ে স্ক্রল করা শুরু করেছিলেন। আপনার ব্রেইন ডোপামিনের বন্যায় ভাসছে। আপনি ভাবছেন, এই তো মাত্র কয়েকটা ভিডিও দেখলাম, হয়তো ১৫-২০ মিনিট পার হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ আপনি বাইরের রিয়েল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন রাত ২টা বেজে গেছে! চার ঘণ্টা সময় আক্ষরিক অর্থেই আপনার জীবন থেকে ব্ল্যাকহোলের মতো গায়েব হয়ে গেছে।
হাদিসের সেই লাইনটি আবার স্মরণ করুন: এক দিন এক ঘণ্টার মতো মনে হবে, আর এক ঘণ্টা খেজুর পাতা পুড়ে ছাই হওয়ার মতো মনে হবে।
১৪০০ বছর আগে যখন কোনো এমআরআই (MRI) মেশিন ছিল না, নিউরোসায়েন্সের বিন্দুমাত্র অস্তিত্ব ছিল না, তখন একজন মানুষ কীভাবে ডোপামিন ওভারলোডের এই টাইম-কম্প্রেশন বা সময় সংকোচনের কথা এত নিখুঁতভাবে প্রেডিক্ট করতে পারেন? এটিই হলো ঐশী জ্ঞানের সবচেয়ে বড় এম্পিরিক্যাল বা ডেটা-ড্রিভেন প্রমাণ।
গ্লোবালিস্টরা এবং জায়নবাদী টেক-এলিটরা এই সায়েন্সটা খুব ভালো করেই জানে। সিলিকন ভ্যালিতে বসে তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে এমন সব অ্যালগরিদম ডিজাইন করেছে, যা আক্ষরিক অর্থেই মানুষের ব্রেইনকে হ্যাক করে ফেলে। দাজ্জালিয়া সিস্টেম কেন এই ১৫ থেকে ৬০ সেকেন্ডের শর্ট-ভিডিও (Short-form video) ফরম্যাট সারা বিশ্বে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে দিচ্ছে? এর পেছনের নিউরো-অ্যানাটমি বা ব্রেইনের গঠনতন্ত্রটি বোঝা আমাদের জন্য ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমাদের ব্রেইনের একেবারে সামনের অংশকে বলা হয় প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স। মানুষের ডিপ থিংকিং, লজিক্যাল অ্যানালাইসিস, ভালো-মন্দের বিচার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ধৈর্য, এই সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয় প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দিয়ে। আপনি যখন একটি জিওপলিটিক্যাল আর্টিকেল পড়েন বা কোনো জটিল কোরআনের তাফসির শোনেন, তখন আপনার এই অংশটি কাজ করে।
অন্যদিকে, ব্রেইনের একদম ভেতরের দিকে রয়েছে VTA (Ventral Tegmental Area)এবং রিওয়ার্ড সেন্টার, যা আদিম প্রবৃত্তি এবং ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন বা তাৎক্ষণিক আনন্দ নিয়ন্ত্রণ করে।
দাজ্জালিয়া সিস্টেমের তৈরি করা টিকটক, রিলস বা শর্টসের অ্যালগরিদম এমনভাবে ডিজাইন করা যে, এটি আপনার প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে সম্পূর্ণ বাইপাস বা ইগনোর করে সরাসরি আপনার VTA বা রিওয়ার্ড সেন্টারে আঘাত করে। আপনি যখন প্রতি ১৫ সেকেন্ডে স্ক্রিন সোয়াইপ করেন, তখন আপনার ব্রেইন লজিক্যালি কিছু চিন্তা করার বা অ্যানালাইজ করার সময় পায় না। ব্রেইন শুধু ডোপামিন ট্রিগার করে।
এর ফলে যা হচ্ছে তা এক কথায় ভয়াবহ। পুরো বিশ্বের একটি জেনারেশনের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স আক্ষরিক অর্থেই প্যারালাইজড বা অবশ হয়ে যাচ্ছে। তাদের বড় কোনো বই পড়ার, গভীর কোনো রিসার্চ করার বা জিওপলিটিক্স বোঝার মতো ব্রেইন ক্যাপাসিটি আর অবশিষ্ট নেই। তারা ইল্যুশন অফ নলেজ বা জ্ঞানের মরীচিকায় ভুগছে। সারাদিন হাজার হাজার ছোট ছোট ভিডিও দেখে তারা ভাবছে তারা পৃথিবীর সব জানে, কিন্তু দিন শেষে তাদের ব্রেইন একটি ইনফরমেশনও মেমোরিতে ধরে রাখতে পারছে না। এই যে কগনিটিভ প্যারালাইসিস বা চিন্তাশক্তি ভোঁতা হয়ে যাওয়া, এটি দাজ্জালের সিস্টেমকে এস্টাবলিশ করার জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
এখন আমরা মূল জিওপলিটিক্যাল পিকচারে আসব। গ্লোবালিস্টরা কেন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে এই ডোপামিন ম্যাট্রিক্স তৈরি করেছে? কেন তারা আমাদের সময় এবং মনোযোগকে এই অ্যালগরিদমিক প্রিজনে বন্দি করে রাখছে?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের আগের পর্বগুলোর ডেটাসেটে। একটু ম্যাক্রো-স্কেলে চিন্তা করুন। গ্লোবাল এলিটরা বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ট্রান্সফরমেশনগুলো ঘটাচ্ছে: ১. তারা পেট্রো-ডলার ধ্বংস করে সিবিডিসি (CBDC) বা ডিজিটাল দাসত্বের দিকে এগোচ্ছে। ২. তারা কৃষকদের পথে বসিয়ে আর্টিফিশিয়াল ফেমিন বা কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ তৈরি করছে। ৩. তারা মিডল ইস্টে মালহামা আল কুবরা বা গ্লোবাল নিউক্লিয়ার কনফ্লিক্টের গ্রাউন্ড জিরো সেট করছে। ৪. তারা ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (WHO)-এর মাধ্যমে গ্লোবাল প্যান্ডেমিক ট্রিটি করে স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিচ্ছে।
এত বড় বড় এজেন্ডাগুলো বাস্তবায়নের সময় যদি পৃথিবীর শত কোটি মানুষ সজাগ থাকে, তারা যদি লজিক্যালি চিন্তা করতে পারে, তবে তারা বিদ্রোহ করবে। তারা রাস্তায় নামবে। গ্লোবালিস্টরা এটা কোনোভাবেই চায় না।
তাই তারা এই শর্ট-কনটেন্ট এবং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে আমাদের ব্রেইনে একটি ভার্চুয়াল অ্যানেসথেসিয়া (Virtual Anesthesia) বা মানসিক অবশীকরণ পুশ করছে। একটি ডোপামিন-অ্যাডিক্ট এবং ফোকাসহীন জেনারেশন হলো দাজ্জালিয়া সিস্টেমের পারফেক্ট দাস। সাধারণ মানুষ যখন টিকটকে কে কার সাথে ঝগড়া করল বা কে কোন ট্রেন্ডে নাচলো, তা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করছে, ঠিক সেই পেছনের দরজা দিয়ে গ্লোবাল এলিটরা পুরো পৃথিবীর ইকোনমি, রিসোর্স এবং পলিসি নিজেদের পকেটে পুরে নিচ্ছে।
সময় সংকুচিত হয়ে যাওয়ার এই হাদিসটি শুধু একটি মিরাকল বা অলৌকিক ঘটনা নয় এটি মূলত শেষ জামানার মানুষের চূড়ান্ত মানসিক ট্র্যাজেডির একটি সতর্কবার্তা। আমরা আমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, আমাদের সময় এবং আমাদের মনোযোগ, সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে গ্লোবালিস্টদের হাতে তুলে দিচ্ছি।
চূড়ান্ত দাসত্ব সেটা নয়, যখন আপনার হাতে বা পায়ে লোহার শেকল পরানো থাকে। চূড়ান্ত দাসত্ব হলো তখন, যখন আপনার ব্রেইনকে হ্যাক করে ফেলা হয়, আপনার সময়কে চুরি করে নেওয়া হয়, আর আপনি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে মনে করেন যে আপনি সম্পূর্ণ স্বাধীন।
এসক্যাটোলজিক্যাল ডেটা এবং আধুনিক নিউরোসায়েন্স আমাদের সামনে পরিষ্কার প্রমাণ হাজির করেছে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার। আপনি কি এই ডোপামিন ম্যাট্রিক্সে সোয়াইপ করতে করতে নিজের জীবন এবং চিন্তাশক্তিকে শেষ করে দেবেন, নাকি এই অ্যালগরিদমিক প্রিজন থেকে নিজেকে আনপ্লাগ করে আসন্ন গ্লোবাল ক্রাইসিসের জন্য নিজের ফিজিক্যাল এবং ইন্টেলেকচুয়াল প্রস্তুতি শুরু করবেন? কারণ মনে রাখবেন, যে সময় একবার সংকুচিত হয়ে আপনার জীবন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তা আর কখনোই ফিরে আসবে না।
Touhidul Islam