25/06/2026
নাম : জাওয়াদ আল কবির
রোল : ৩১
ব্যাচ : TA-13
ঠিক যখন এই লেখাটা শুরু করতে যাচ্ছি , আমি ভাবছি কিছু কথা নাহয় না বলাই থাক। কিছু কথা আমার ঘরের চার দেওয়াল জানুক,পড়ার টেবিল জানুক, বিছানার পাশে থাকা বালিশ জানুক, আমি জানি আর আমার হৃদয় জানুক। তবুও, এক অদৃশ্য জোরে প্রযুক্তির কল্যাণে দুই হাতের দশ আঙুল দিয়ে লিখে চলেছি। গল্পটার বীজ কবে বপন করে হয়েছে জানিনা তবে কিছুটা আড়ম্বরে এই যাত্রার সমাপ্তি রেখার গাড় দাগ টেনে দেওয়া হয়েছে ডিসেম্বরের ১৪ তারিখে। এই যাত্রা আমার জীবন থেকে হিসেব করে গোটা তিনটি মাস কেড়ে নিয়েছে। আরো কত নির্ঘুম রাত নিয়েছে আর দিয়েছে বিষণ্নতা, অশ্রুজল, ভয় সেই হিসেব মেলানোর মতো সমীকরণ আবিষ্কার হয় নি। জীবনের সব থেকে ভয়ংকর সুন্দর সময় উপহার দিয়েছে এই এডমিশন জার্নি। সেই ক্লাস এইট মনের মধ্যে স্বপ্ন বুনতে শুরু করি, তার পরিপূর্ণতা পায় শতপথ হেটে এসে। একটা ডায়েরি নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতাম, উপরে লেখা ছিল “চেস ইউর ড্রিম টু বি এ ডক্টর”। মাঝে মধ্যে মন খারাপ থাকলে সেটি বের করে দেখতাম আর এমনই একদিনের কথা ভেবে, দিবাস্বপ্ন অতলে হারিয়ে যেতাম। এডমিশনের নাভিশ্বাস সময়টা চোখের পলকে পার হয়ে গেলো হাসি ঠাট্টা কান্নার তেঁতো মিষ্টির গল্পের বুননে। মহাভারতের মহাযুদ্ধেও নিয়ম অনুযায়ী মাত্র কুরূক্ষেত্রেই সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত যুদ্ধ হয়েছিল আঠারো দিন। তবে আমার যুদ্ধ যেন তার চেয়েও গুরূতর ছিল, একদিকে শরীর অসম্ভব দুর্বল হয়ে পড়লো, অন্যদিকে পড়ালেখার চাপ আরো কত ফ্রন্টে কত যুদ্ধ মগজে-মস্তিষ্কে চলেছিল তার তালিকা করার উপায় আমার নেই। ছয় ঘন্টা পর পর প্যরাসিটামল, ফার্মগেট-মিরপুরের যাতায়াত এবং দিন শেষে নম্বর নিয়ে অসন্তোষ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। সবকিছু কাটিয়ে উঠে নিজেকে বারবার আশ্বাস দিয়ে মুষ্টিবদ্ধ প্রতিজ্ঞায় নতুন দিন শুরু হতো। পড়ার টেবিলে বসলে, অঝরে ঝরতো অশ্রু, চোখ দুটো ঘোলা হয়ে আসতো, খাতা ভিজে যেতো, হাঁচি দিলে মনে হতো দুইশত ছয়টি হাড় যেনো ভেঙে আসছে তবু আমি থেমে যায়নি বয়ে চলেছিলাম। হয়তো সেই অক্লান্ত পরিশ্রম, আল্লাহপাকের কৃপায় আজ আমি শতামেকে দাঁড়িয়ে। তাই বলতে চাই,
শত বাঁধা পেরিয়ে
শত কাঁদা মাড়িয়ে
আজ মুই রয়েছি শতামেকে দাঁড়িয়ে
মুখখানা উঁচিয়ে
ঝনঝা ঝাঁটিয়ে
আজ মুই রয়েছি শতামেকে দাঁড়িয়ে
গেড়ে বসে মাটিতে
হাকিমের ঘাঁটিতে
একটিই স্বপ্ন কাঁধেতে চাপিয়ে
আজ মুই রয়েছি শতামেকে দাঁড়িয়ে